বাবা তোমাকে -২
![FatherAndDaughter-1[1].jpg](/sites/default/files/users/anamika/FatherAndDaughter-1%5B1%5D.jpg)
প্রিয় বাবা,
খুব মন খারাপ নিয়ে তোমাকে লিখছি, জগতে কত কারনে যে মন খারাপ হয়। এই সংসারে মন ভালো করার মানুষ খুব সামান্যই থাকে কিন্তু মন খারাপ করিয়ে দেবার মত লোকের অভাব নেই--- তাছাড়া একটা কারণে তোমার উপরও খানিকটা অভিমান জমে আছে।
অবশ্য আমি জানি, আমি অভিমান করলে, তুমি একটা কিছু করবেই। যাক এসব, আমি তোমার কাছে অন্য একটা চিঠি লিখি। এমন একটা চিঠি যেটা পড়লে খুব গোপনে আমার মনটা ভালো হয়ে যাবে। কারণ আমার চিঠিটাতো আর তুমি দেখতে পাচ্ছ না। তোমার কাছে না হয় আমার খানিকটা অভিমান জমা থাক। আমি চাইনা তুমি আমার অভিমানের আড়ালে ভালোবাসাটুকু দেখ।
এলোমেলো
১
পাখি শিকার আর মাছ ধরা ছিল তোমার প্রচণ্ড নেশা। সময় পেলেই চলে যেতে পাখি শিকারে অথবা মাছ ধরতে। একবার তুমি পাখি শিকার করতে যেতে চাইলে বাঘা মসজিদে (মাজার)। অনেকেই নিষেধ করলেন, ওখানে পাখি শিকারে যাবার জন্য। সবাই বলাবলি করছিলেন, ওখানকার পাখি কেউ শিকার করতে পারে না। শিকার করতে গেলেই কোন অনিষ্ট হয়। প্রথমে বাদই দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এসব শুনেই তোমার জেদ চেপে গেল...বললে,"এসব কুসংষ্কার, আমি এসব মানিনা।' সারাজীবনই তোমাকে দেখেছি, খুব জেদী মানুষ হিসেবে।
তারপর একদিন সকালবেলা একজনের মোটরসাইকেলে রওনা হলে বাঘা মসজিদে পাখি শিকারের জন্য এবং যথারীতি ঘন্টাখানেক পরে ফিরে এলে, অনেক বড় একটা এ্যক্সিডেন্ট করে। হাতটাত কেটে সে এক রক্তরক্তি কান্ড।
জগতটাকে কখনো কখনো আসলেই রহস্যময় মনে হয়। কতকিছু যে ব্যখ্যাতীত থাকে।
তবে মিসির আলী টাইপের কেউ এ ঘটনা শুনলে একটা সহজ ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেবেন।
২
তোমার মাছ মারার আয়োজনই ছিল অন্যরকম। কতরকমের খাবার যে তৈরী হত বাড়িতে। বড় বড় পাতার ওপর সংগ্রহ করা হত পিঁপরার ডিম। জয়ফল জয়ত্রী আর কি কি মিশিয়ে যেন রান্না হত মাছের জন্য ভাত। তার গন্ধে চারিদিক ম ম করত।
একবার নাটোরের কোন পুরোনো দিঘী কিম্বা বিল থেকে একবার ধরেছিলে বিশাল চিতল। রহমান দাদু বস্তায় ভরে সেই মাছ এনেছিলেন। আমার পরিস্কার মনে আছে, আম্মু রান্না ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল- রহমান দাদু বললেন, "আম্মা এই দেখেন, এটা এক মানুষ সমান লম্বা।" বলে- বস্তাটা শোওয়ানো অবস্থায় ছিল, সেটা সোজা করে ধরে আম্মুকে ডেখালেন।
কত মাছ যে তুমি ধরতে!!! সেগুলো কাটার জন্য বিশেষ বটি ছিল। আম্মু কুটত, আর তুমি পাশে বসে খুব আনন্দ নিয়ে দেখতে। আমি ছিলাম, মহা ফাঁকিবাজ। আম্মু ডেকে মাছ দেখানোর জন্য আমাদের ডেকে করত আর কোনরকম এক নজর দেখেই সরে যেতাম।
আম্মু মাঝে মাঝেই আমাদের নিয়ে চেঁচামেচি করত, "তোমারা কিছুই দেখতে চাও না। শ্বশুর বাড়িতে গেলে তো সবাই বলবে, বাবা কোন দিন বড়মাছ খাওয়ায়নি।" তখন তুমি একটা প্রবাদ মা'কে প্রায়ই বলতে।
চিন্তা করোনা, আমার ছেলেমেয়েদের বকো না, "মাছই ঘায়ের উদ্দেশ করবে।" মানে হল, ওদের প্রয়োজনই ওদের বলে দেবে জীবনে কি করতে হবে।
সত্যি বাবা, আজকাল তোমাকে ছাড়াই কত প্রয়োজনে যে একা একা সিদ্ধান্ত নিতে হ্য়!! তখন তোমার কঠা খুব মনে পড়ে।
তোমার সাথে যে কত জায়গায় ঘুরেছি। কারণ কোনজায়গায় তুমি বেশীদিন থাকটে পারতে না। কোথাও তিনমাস তো কোথাও ছ'মাস। তোমার বদলী মানেই স্ট্যন্ড রিলিজ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে টোপলাটুপলি গোছাও। আর তোমাকে বদলী করা হত সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অথচ আমরা তো জানি, কি নিষ্ঠার সাথেই না তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করতে। মফস্বঃল শহরে প্রায় তোমার সাথে তোমার অফিসে যেতাম। বেশীর ভাগ সময়ই দেখতাম, তোমার রুমের তালা খোলা হয়নি। সুইপার কেবল বারান্দা ঝার দিচ্ছে। প্রায় অফিস থেকে ফিরতে অনেক রাতে। সাথে সব সময় থাকতো একগাদা ফাইল। বাসায় বসে সেগুলো নিষ্ঠার সাথে দেখতে।
তবুও তোমাকে বার বার বদলী করা হত।
এটা লিখতে গিয়ে আরেকটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। তোমার গাফফারের কথা মনে আছে, বাবা? তোমার ড্রাইভার? আমি জানি, অবশ্যই তোমার মনে আছে। তুমি তো ওকে ভীষন স্নেহ করতে।
একদিন পিওন মুজিবর এসে খবর দিল, "আম্মা তাড়াতাড়ি আসেন, স্যার একটুর জন্য বেঁচে গেছেন।" আম্মুর সাথে আমরাও বেরুলাম। বাসা থেকে কয়েকগজ দূরে সুগারমিলের অনেক গভীর ক্যনালটার ধার ঘেঁষে একটা খেজুর গাছের সথে গাড়িটা কোনরকম আটকে আছে। আরেকটু হলেই তোমাকে সহ গভীর খাদে পড়ত।পড়লে তোমাকে আর ড্রাইভার কাউকেই বাঁচানো যেত না।
পরের দিন ভোর বেলা গাফফার এসে তোমার পা ধরে কি কান্না, "স্যার আমাকে মাফ করে দিন।" তুমি তো অবাক। আমরা চারিদিকে ঠিকই জুটে গেলাম। গাফফার যা বললো সেটা হল কোন এক চেয়ারম্যান ওকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়েছিল, তোমাকে মেরে ফেলবার জন্য। শেষ মুহুর্তে ও কাজটা করতে পারেনি।
এরকম কতবার যে তুমি বেঁচে গেছ...... তখন মনে হত, সত থাকলে, কারো ক্ষতি না করলে কেউ কখনো মরে না।
কিন্তু আজ বুঝি সত থাকলে, কারো ক্ষতি না করলে মানুষ তার কর্মে বেঁচে থাকে, কখনই মরে না। কিন্তু দেহের মৃত্যুটা বুঝি কিছু দিয়েই ঠেকানো যায় না।
বাবা আজকাল তোমার জন্য বড্ড চিন্তা হয়। সব সময়ই প্রার্থনা করি, আমার জীবনে সেই দিন না আসুক, যেদিন শুনতে হবে, 'তুমি নেই।' তুমি সারাজীবন আমাকে তোমার ছায়াতেই রাখ।
আজ আর লিখতে ইচ্ছা করছে না বাবা। তুমি ভালো থেক।
তোমার আদরের
শাপলা





সব সময়ই প্রার্থনা করি, আমার জীবনে সেই দিন না আসুক, যেদিন শুনতে হবে, 'তুমি নেই।' তুমি সারাজীবন আমাকে তোমার ছায়াতেই রাখ।
প্রার্থনা সবার একই এরকম হয়।
খুব ভালো লাগলো আবারো
আমারো খুব ভালো লাগছে এভাবে সঙগে আছেন বলে।
আমি সত্যি বিনীত।
বাবা ভালো থাকুন...
============================
নাহ্, আমার বাবাকে এরকম চিঠি লেখা আসলেই সম্ভব না
বস সেলাম।
তোমার প্রশ্রয়েই তো আমার এই দশা। এলেবেলে লেখার দূর্দান্ট সাহস দেখাই।
তবু সঙ্গে থাক, এইজন্যই সেলাম দিলাম।
আমার বাবা, আপনার বাবা, সবার বাবা ভালো থাকুক।
================================

এই টাইপের চিঠি আব্বাকে কেন আম্মাকেও কোনদিন লেখা সম্ভব না।
আমার বাবা, আপনার বাবা, সবার বাবা ভালো থাকুক।
সত্যিই তাই রাসেল ভাই। পৃথিবীতে সবার বাবা-মাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই কামনাই করি।
বাপরে বাপ। শাপলা'পু আর সহ্য হচ্ছে না তো। আপ্নে এইবার একটা হাসি-খুশি টাইপ লেখা দিন।
পাখি শিকার আর মাছ শিকারের গল্পগুলো ভালো লাগলো। আংকেলকে সেলাম।
আচ্ছা যা তোর কথাই সই!!!!!
দেখি একটা হাসিখুশী লেখা দেব।
তবে মাঝে মধ্যে কিন্তু আমার বাবার কাছে আমি লিখব।

তখন আমার বাড়িটে না এলে কিন্ত আড়ি
সেটা লেখা না দিলেও আসবো। বিন-টেনশন থাকতে পারেন।
ইয়ে আপু, ত' গুলো ট' হয়ে যাচ্ছে কেন? বিটিভিতে দ্য সোর্ড অভ টিপু সুলতান দেখেছিলাম। আপনার ট' পড়তে গিয়ে সেই সিরিয়ালটার ইংরেজগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
হা হা হা তিনটা সমস্যার জন্য রিতীমত বাংরেজ অথবা জগাখিচুরিরেজ হয়ে গেছি।
১। ফোনেটিকে ভালো টাইপ করতে পারি না।
২। লেখার পর রিভিশন দিতে পারি না, তার আগেই প্রকাশ করি। তারপর এডিট করতে থাকি। কেন যেন এই স্বভাবটা হাদ দিতে পারছি না। আমার লেখা এলোমেলো হবার আরেকটা কারণ আমি ভেবে লিখতে পারি না, যা মনে আসে তাই লিখি এবং নুশেরা আমার টাইপো নিয়ে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে ইদানীং কম বলে।
৩। স্বীকার করছি উপরের দুটো বিশেষ করে দু নম্বরটা আমার ভয়াবহ দোষ.....কিছুতেি কাটিয়ে উঠতে পারছি না।
আমি খুবই দুঃখিত।
এগুলা কুনো ব্যপার্স না।
u r cool enough
not to worry
এটাই হলো চাওয়া, সব সন্তানের। মায়াভরা লেখা শাপলাপু।
ধন্যবাদ জয়ি। অনেক অনেক ভালো থাকবেন।
বাবা নামের বিশাল বটবৃক্ষের ছায়াতলেই থাকুক পৃথিবীর তাবৎ সন্তানেরা! আপুরে অনেক শুভ কামনা থাকলো।
বাতিঘরকেও অনেক শুভকামনা রইল।
বাবা.........একটা ছায়া.....আর কিছু বলতে পারলাম না
বাবার ছায়াই অন্যরকম।
বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারছি বাবা কি করেছেন...
মাকে কি পরিমান পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাদের জন্য
মা ও বাবাকে ছালাম
হুম, পৃথিবীর সব বাবা-মা'কে শ্রদ্ধা।
মন-প্রাণ ছুঁয়ে গেল। বাবার জন্য শুভকামনা।
সত্যি আমার বাবার জন্য দোওয়া করবেন।
শাপলা, পড়তে পড়তে ভাবছিলাম বাবার কথা। কেমন চলে গেলেন হুট করে, অথচ এভাবে যাবার কথা ছিলো না।
আপনার বাবা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনি বাবার সাথে আনন্দে থাকার সুযোগ পান।
আপনার বাবাকে আল্লাহ বেহেশত নসিব করুন।
আর আমার জন্য , আমার বাবার জন্য অনেক অনেক বেশী করে দোওয়া করবেন।
আমার বাবা নেই। এখন বুঝি কি হারাইছি। আগে এতোটা বুঝতাম না।
অভিমানের আড়ালে ভালোবাসাটুকু ভাল লাগল।
মন্তব্য করুন