ছেঁড়া মেঘে ছেঁড়া রূপকথা... (১)

বুক পকেটে ঘামেভেজা রোদ আর গানের খাতায় ছেঁড়া-খোঁড়া মেঘ। ঝুলিতে তার পুরানো কিছু স্বপ্নও ছিলো আর ছিলো রং চটে যা্ওয়া বাঁশের বাঁশী। গান্ওয়ালা গান থামিয়ে দেখছিলো কৃষ্ণচূড়ার তলায় লাল রংএর ছড়িয়ে পড়ার উচ্ছ্বাস। বৈশাখের গর্মিকে একটুকু ভয় না পেয়ে একটা খয়েরেী শালিক ম্যাটম্যাটে সিরামিক ইটের রাস্তায় লাফিয়ে যাচ্ছিলো কেবল। পুকুরের নীলচে সবুজ জলের শেষে কলাপাতা রং এর শস্যভূমি, আর তারও পরে রোদের আঁচে সাদাটে হয়ে যা্ওয়া আদিগন্ত আকাশ। গান্ওলার বাঁশী কেবল বেজে উঠবে উঠবে করছে। ওমনি কোত্থেকে এক প্রজাপতি দৌড়ে এলো সামনে, পাখাদুটো বদলে গিয়ে বেরিয়েছে কোমল দুটি হাত, আর পাখার সব রং এসে উড়ে বসেছে তার ফিনফিনে সাদা জামায়। হাত বাড়িয়ে গান্ওয়ালার গলা জড়িয়ে গানের সুরের মতো রিনরিনে সুরে আব্দার, ''বাবা, একটা গল্প শোনা্ও না''। ঠোঁটের কোণায় হাসি বুলিয়ে ঝোলা থেকে গানের খাতাটা বের করে গান্ওয়ালা... ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছেঁড়া মেঘ জোড়াতালি দিয়ে শুরু হয় একটা রূপকথার...
'' অনেক অনেক দিন আগের কথা, এক ছিলো রাজার মেয়ে।''
প্রজাপতি রিনরিনিয়ে উঠে, '' কতো আগে বাবা? দাদুভাইয়ের ডালিমকুমারেও আগে?''
''হ্যাঁরে মা, শোনোই না। তো সেই রাজকুমারীকে এক ডাইনী আটকে রেখেছে একটা দ্বীপের ভেতর। মরুভূমির মতো সেই দ্বীপে আর কোন জনমনিষ্যি নেই।''
''জনমনিষ্যি কি বাবা?''
'' এর মানে মানুষ। দ্বীপে আর কোন মানুষ নেই, তাই বলছিলাম। কোন গাছপালা্ও নেই, আর তাই নেই কোন পশু বা পাখি। দ্বীপের ঠিক মাঝখানে একটা বিশাল পাহাড়ের উপরে মাথায় গোল টুপির মতো ছাদওয়ালা সাদা রং এর একটা বাতিঘর, গায়ে তার লাল ডোরাকাটা ''।
''বাতিঘর কোনটা বাবা? ওইযে ছোট কাকু ছবি পাঠিয়েছিলো আর মা বলছিলো, ''বাহ! কি সুন্দর বাতিঘর।''?
'' হুমম... এখন চুপ করে শোনো... রাতের বেলা বাতিঘরের জানালা দিয়ে আলো বেরিয়ে এসে ঘুরতে থাকে। ওইটেই রাজকুমারীর বাড়ি। রোজ ঘুম থেকে উঠে রাজকুমারী জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়, সামনের ঝকঝকে নীল আকাশ আর তার নীচে গাঢ় নীল সাগর দেখে মাঝেমাঝে তার খুব সেখানে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছেটা মরে যাবার আগেই ডাইনীর পোষা বাঁদরটা খাবার এনে দিয়ে যায়। এই বাঁদরটা ছাড়া আর কোন প্রাণীকে রাজকন্যা কোনদিনও দেখেনি।''
''আচ্ছা বাবা, রাজকন্যার একলা একলা মন খারাপ করবে না?''
''রাজকন্যা তো আর কোন মানুষকে কখনো দেখেনি, ও যে একলা আছে সেইটাই সে কখনও জানতো না।''
''ওকে দাদু কিংবা তোমার মতোন গল্প শোনাতো না বুঝি কেউ?''
''নারে, মামণি''
''কি মজা তাইনা, ওকে কক্ষণো স্কুলে যেতে হয়নি নিশ্চয়ই? ''
''তা যেতে হয়নি, কিন্তু ডাইনীর রোবট টা এসে ওকে রোজ অংক করিয়ে যেতো।''
''যাহ! তখন বুঝি রোবট ছিলো?''
''ওই ডাইনীটার ছিলো সবই। আর খালি কি অংক? রাজকন্যা ভূগোল, ব্যাকরণ, আরও কঠিন কঠিন সব পড়াও শিখেছিল, শুধু ওকে গল্প আর কবিতা কখনো পড়তে দেয়া হয়নি। গান কি জিনিস তা্ও সে জানতোনা। দিনরাত পড়াশুনা, খা্ওয়া আর ঘুম বাদে রাজকন্যার করার মতো ছিল শুধু জানালায় দাঁড়িয়ে সাগর আর আকাশ দেখা ।''
বুক পকেটে ঘামেভেজা রোদ আর গানের খাতায় ছেঁড়া-খোঁড়া মেঘ। ঝুলিতে তার পুরানো কিছু স্বপ্নও ছিলো আর ছিলো রং চটে যা্ওয়া বাঁশের বাঁশী। গান্ওয়ালা গান থামিয়ে দেখছিলো কৃষ্ণচূড়ার তলায় লাল রংএর ছড়িয়ে পড়ার উচ্ছ্বাস। বৈশাখের গর্মিকে একটুকু ভয় না পেয়ে একটা খয়েরেী শালিক ম্যাটম্যাটে সিরামিক ইটের রাস্তায় লাফিয়ে যাচ্ছিলো কেবল। পুকুরের নীলচে সবুজ জলের শেষে কলাপাতা রং এর শস্যভূমি, আর তারও পরে রোদের আঁচে সাদাটে হয়ে যা্ওয়া আদিগন্ত আকাশ। গান্ওলার বাঁশী কেবল বেজে উঠবে উঠবে করছে। ওমনি কোত্থেকে এক প্রজাপতি দৌড়ে এলো সামনে, পাখাদুটো বদলে গিয়ে বেরিয়েছে কোমল দুটি হাত, আর পাখার সব রং এসে উড়ে বসেছে তার ফিনফিনে সাদা জামায়। হাত বাড়িয়ে গান্ওয়ালার গলা জড়িয়ে গানের সুরের মতো রিনরিনে সুরে আব্দার, ''বাবা, একটা গল্প শোনা্ও না''। ঠোঁটের কোণায় হাসি বুলিয়ে ঝোলা থেকে গানের খাতাটা বের করে গান্ওয়ালা... ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছেঁড়া মেঘ জোড়াতালি দিয়ে শুরু হয় একটা রূপকথার...
'' অনেক অনেক দিন আগের কথা, এক ছিলো রাজার মেয়ে।''
প্রজাপতি রিনরিনিয়ে উঠে, '' কতো আগে বাবা? দাদুভাইয়ের ডালিমকুমারেও আগে?''
''হ্যাঁরে মা, শোনোই না। তো সেই রাজকুমারীকে এক ডাইনী আটকে রেখেছে একটা দ্বীপের ভেতর। মরুভূমির মতো সেই দ্বীপে আর কোন জনমনিষ্যি নেই।''
''জনমনিষ্যি কি বাবা?''
'' এর মানে মানুষ। দ্বীপে আর কোন মানুষ নেই, তাই বলছিলাম। কোন গাছপালা্ও নেই, আর তাই নেই কোন পশু বা পাখি। দ্বীপের ঠিক মাঝখানে একটা বিশাল পাহাড়ের উপরে মাথায় গোল টুপির মতো ছাদওয়ালা সাদা রং এর একটা বাতিঘর, গায়ে তার লাল ডোরাকাটা ''।
''বাতিঘর কোনটা বাবা? ওইযে ছোট কাকু ছবি পাঠিয়েছিলো আর মা বলছিলো, ''বাহ! কি সুন্দর বাতিঘর।''?
'' হুমম... এখন চুপ করে শোনো... রাতের বেলা বাতিঘরের জানালা দিয়ে আলো বেরিয়ে এসে ঘুরতে থাকে। ওইটেই রাজকুমারীর বাড়ি। রোজ ঘুম থেকে উঠে রাজকুমারী জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়, সামনের ঝকঝকে নীল আকাশ আর তার নীচে গাঢ় নীল সাগর দেখে মাঝেমাঝে তার খুব সেখানে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছেটা মরে যাবার আগেই ডাইনীর পোষা বাঁদরটা খাবার এনে দিয়ে যায়। এই বাঁদরটা ছাড়া আর কোন প্রাণীকে রাজকন্যা কোনদিনও দেখেনি।''
''আচ্ছা বাবা, রাজকন্যার একলা একলা মন খারাপ করবে না?''
''রাজকন্যা তো আর কোন মানুষকে কখনো দেখেনি, ও যে একলা আছে সেইটাই সে কখনও জানতো না।''
''ওকে দাদু কিংবা তোমার মতোন গল্প শোনাতো না বুঝি কেউ?''
''নারে, মামণি''
''কি মজা তাইনা, ওকে কক্ষণো স্কুলে যেতে হয়নি নিশ্চয়ই? ''
''তা যেতে হয়নি, কিন্তু ডাইনীর রোবট টা এসে ওকে রোজ অংক করিয়ে যেতো।''
''যাহ! তখন বুঝি রোবট ছিলো?''
''ওই ডাইনীটার ছিলো সবই। আর খালি কি অংক? রাজকন্যা ভূগোল, ব্যাকরণ, আরও কঠিন কঠিন সব পড়াও শিখেছিল, শুধু ওকে গল্প আর কবিতা কখনো পড়তে দেয়া হয়নি। গান কি জিনিস তা্ও সে জানতোনা। দিনরাত পড়াশুনা, খা্ওয়া আর ঘুম বাদে রাজকন্যার করার মতো ছিল শুধু জানালায় দাঁড়িয়ে সাগর আর আকাশ দেখা ।''





তারপর?
জানিনা এখনো...
তাপ্পর তাপ্পর?
খুব সুন্দর।
মরি মরি, কী সুন্দর পড়ন্ত বেলার রূপ!!! বাতিঘরও আছে দেখি গল্পে :\
) এককাজ করুন, বাতিঘরকে' অভিশাপে ওরকম বনে যাওয়া বলে চালিয়ে দিন..সে আসলে এক রাজকুমার..ওয়ান ফাইন মর্নিং সে অভিশাপ কাটিয়ে ঐ রাজকন্যাকে উদ্ধারে এসে উপস্হিত হবে...ভালো হবেনা বলুন
আমি কী আর জানিনা গল্পের এই বাতিঘর' আমি না
তাই কর্তব্যে কুনুই অবহেলা করছিনা বাপু, আপুমণি, শব্দটা কী 'গানওলা' না 'গানওয়ালা'?
বিনীত নিবেদন, বিরক্ত হলে প্রকাশ ঘটাবেন, ভুলেও ওসব বলবোনা কেমন? গল্পের পরের পর্ব পড়বার আগ্রহ জানিয়ে গেলাম। ভালো থাকা হোক 
" ওকে কেউ দাদু কিংবা তোমার মতোন গল্প শোনাতো না বুঝি কেউ" ....এটা একটু দেখবেন প্লিজ( আমি যে জটিল ধরনের মনযোগী পাঠক সেটা প্রাণপণে বুঝাতেই এরকম করি,
বাতিঘর সমীপেষু,
ভাই জটিল ধরনের মনযোগী পাঠক, আমি সিরিয়াসলি গল্প লিখতে চাচ্ছি। এতোদিন বুঝে, না বুঝে নিজের ইচ্ছামতো যাচ্ছেতাই লিখেছি, এবার আফরোজ ইজ এ সিরিয়াস গার্ল হয়ে যাচ্ছি। তো ভাই, আমি গল্প পোস্ট করলে মন দিয়ে পড়ে সমালোচনা লিখে দেবেন। বিনিময়ে আপনাকে ইগলু দুধমালাই আইসকৃম খাওয়ানো হবে ।
বাহ! আপনি আসলেই মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন... ধন্যবাদ... :)।
মোটেই রাগ করবো না, ভুল না ধরিয়ে দিলে শিখবো কি করে? ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করেছি... দেখে দিয়েন আবার।
রাজকুমার ছাড়া রাজকুমারীদের গতি নেই বুঝি?
ইসস! ভুল জায়গায় জবাব দিয়েছি!.. স্যরি ... এই কমেন্ট বাতিঘরের জন্...
অশেষ কৃতজ্ঞতা বইনটি
প্রথমতঃ আমার মনের সাথে যোগযোগে কিন্চিৎ গোলযোগ ছিলো বিধায় আমার 'মনযোগ' বানানটাই ভুল
একারণে কৃতজ্ঞতা জানালাম। এখন ব্যাপক দ্বন্দে আছি, 'শাবাশ' বানানটা নিয়ে।আসলেই কোনটা ঠিক গো আপুনি? 'শাবাশ'
হুম..কী জানি বাবা, কারে ছাড়া কার গতি নাই। তবে কবি বলেছেন, ' এক নয়নে যায় না কান্দোন, দুই নয়নে কান্দে
'সাবাশ' নাকি 'শাবাস'? এট্টু সাহায্য করবেন দয়া করে। একে অন্যকে সাহায্যের মাধ্যমে
আশা রাখি আমার বানানের দুর্বলতা কেটে যাবে
একজনা ঘর বান্ধে না রে দুইজনা ঘর বান্ধে :
আপনি বেশ ভালো লেখছেন, ধারাটা চালু থাকুক। শুভ কামনা। ভালো থাকা হোক।
আপু আনিকার লেখার ভক্ত হয়ে যাচ্ছি! এই লেখাটা পড়ে স্বপ্নকাতর হয়ে পড়েছি। আনিকা, অপেক্ষায় রাখবেননা, বাকিটুকু জলদি দেন।
অনেক সুন্দর একটি লেখা।
ভালো লাগলো আনিকার গল্প আর বাতিঘরের মন্তব্য।
এমন লেখক আর এমন পাঠকের যুগলবন্দী আরও দেখতে চাই।
ভালো লাগলো আনিকার গল্প আর বাতিঘরের মন্তব্য।
এমন লেখক আর এমন পাঠকের যুগলবন্দী আরও দেখতে চাই।
ভালো লাগলো আনিকার গল্প আর বাতিঘরের মন্তব্য।
এমন লেখক আর এমন পাঠকের যুগলবন্দী আরও দেখতে চাই।
মন্তব্য করুন