ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ৬
ডিসক্লেইমার: সফরের একটা ছবিও আমার ক্যামেরায় নাই, কারণ ক্যামেরা হারাইয়া ফেলছিলাম দুই সপ্তাহের জন্য। কিছু অন্য ক্যামেরার ছবি, আর কিছু কপিরাইট যোগ করে গুগল মামু থেকে পাওয়া ছবি দিচ্ছি। এই পর্বে তাই ছবির সংখ্যা খুবই কম... বেশিরভাগটাই আমার ব্যাগব্যাগানি।
----------------------------------------------------------------------
২০০৮ এ নরওয়ের বনবাস ছিলো তিন মাস ব্যাপী। নরওয়ের অসামান্য খরচের কথা মাথায় রেখে অফিসিয়াল মাগনা সাইক্লিং ট্রিপের বাইরে মেজর ঘোরাঘুরি কেবল তিনবার হইছিলো। এর মধ্যে প্রথমটা ছিলো বেশ শিক্ষাসফরমূলক। আটচল্লিশ ঘন্টার একটা প্যাকেজ কিইন্যা ঘোরাঘুরি করা হইসে, সেই প্যাকেজের নাম অসলো পাস। এইটাতে ছিলো মূলত অসলোর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা মিউজিয়ামস, আর্ট গ্যালারীতে ঘুরে বেড়ানো আর বোনাস হিসেবে ফেরীভ্রমণ। আমার সফরসংগী হইলো তিন বাংগালী আর দুইজন ফ্রেঞ্চ। ঠিক হলো সকাল সাড় নটায় সবাই ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনে দেখা করবো। আমি রোজ পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠি, সেদিন কেন জানি কিছুতেই ঘুম ভাঙ্গছিলো না। ঠেলেঠুলে নিজেকে উঠিয়ে নাস্তা সেরে আমরা থ্রি মাস্কেটিয়ার্স (আমি, ফাহদ আর তানভীর) ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনে গেলাম, বাকি দুই ফ্রেঞ্চ স্টুডেন্টও (একজনের নাম হাদ্রিয়ান, আরেকজনের নাম অনেক মাথা চুলকেও বের করতে পারলাম না... ) ওইখানে ছিলো। অপেক্ষা করছিলাম আমাদের গাইড টিপু'র জন্য। উনি আসার পরে প্রথমে ১৯ নম্বর ট্রামে করে সুল্লি, তারপরে ৩০ নম্বর বাসে করে বিগডয়ে (মিউজিয়াম পাড়া)।
প্রথমেই আমরা গেলাম ভাইকিং শিপ মিউজিয়ামে। ভাইকিং'রা কেউ মারা গেলে নাকি তাকে নৌকা সুদ্ধ কবর দিতো, ওইরকমই তিনটে নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে মাটি খুঁড়ে। দুটো নৌকা ঠিকঠাক, খালি একটা একটু বেশি ভাংগাচুরা। নৌকাগুলোকে নাকি বিশেষ ধরণের লাইনিং এ মুড়ে কবরে দেয়া হতো, যার কারণে নৌকা আর ভেতরের জিনিসপত্র অনেক বছরেও কিছু হয় নাই, অনেকটা নৌকার মমি বলা যেতে পারে। পুরো নৌকাগুলো আগে সেট করে পরে তার চারপাশে মিউজিয়াম বানিয়েছে। পুরো প্রসেসেটার ছবি তুলে রাখা হইসে, সেসব দেখে মনে হইলো বাপসরে! কি আইডিয়া মানুষের! নৌকাগুলাও দেখার মত বটে, বিশাল, দুটো কোণা বাঁকা হয়ে উঠে গেছে .. অনেকটা কিনা আমাদের ময়ূরপংখী নাও এর মতো... তবে সৌখিন গোছের না, জলদস্যুদের নৌকা যেমন হওয়া উচিত, ওইরকমই। মিউজিয়ামের ভেতরে ওই তিনটে বিশাল নৌকো (ওদেরকে আসলে জাহাজ বলাই ভালো) ছাড়াও ছোট-খাটো আরো নৌকা, কাপড়ের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া টুকরো, জুতো, আরো নানান ব্যবহার্য জিনিসের খণ্ডাংশ সাজানো। কেমন মিথিক্যাল মনো হচ্ছিলো সব। আমার এমনিতেই ইতিহাস আর মিথ কেমন ঘোরের মতো লাগে, আমি আপন মনে ডুবে গিয়ে সব ঘুরে দেখছিলাম আর ভাবার চেষ্টা করছিলাম কেমন ছিলো লোকগুলা, তাদের জীবন! ভাইকিং-দের জীবন পরম রোমাঞ্চময় হবার কথা! সমুদ্দুর, ঝড়, নৌকা, লুটতরাজ সব মিলিয়ে একটা এলাহী কাণ্ড বটে।
ভাইকিং শিপ:

ভাইকিং শিপের মাথা:
আমি আর হাদ্রিয়ান:

ভাংগা চিরুনী:

ভাইকিং মিউজিয়ামের বাইরে:

ভাইকিং মিউজিয়াম থেকে গেলাম হলোকাস্ট মিউজিয়ামে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে না'জীদের সাহায্যকারী কিসলিং এর বাড়িতেই এই মিউজিয়াম, কেমন জানি মন খারাপ করা পরিবেশ, এইখানে এখন একটা রিসার্চ সেন্টারও খোলা হইছে, মাইনরিটি রিলিজিয়ন এর উপরে। কোন কোন ইহুদীকে কিভাবে মারা হইছে, প্ল্যানিং, বন্দী শিবিরের অবস্থা, ছবি, বর্ণনা, মৃতদের নাম, ঠিকানা... সব দেখে কেমন জানি লাগে। মানুষ আসলেই অদ্ভুত, রেসিজম ব্যাপারটাই আমার কাছে আজব লাগে! অথচ আমি নিজেও সম্ভবত নিজের মনের ভিতরে কোন না কোন কোণায় রেসিজম লালন করি।
হলোকাস্ট মিউজিয়াম:

ওইখান থেকে বের হইয়া গেলাম মারিটিম মিউজিয়াম আর কন-টিকি মিউজিয়ামে। নানান জাতের জাহাজ, নৌকা'র ধংসাবশেষ, রেপ্লিকা, ইতিহাস, প্রামাণ্য চিত্র, বিভিন্নকালের আমদানী-রপ্তানীর নমুনা, পুরানা সোনা-রূপা আর তামার মুদ্রা, ইস্টার্ন আইল্যান্ডে খুঁজে পাওয়া বিশাল আকারের মূর্তি, একটা আস্ত জাহাজ (সাথে ওই জাহাজে ব্যবহৃত সব জিনিস-পত্র), পুরানকেলে ডুবুরী পোশাক (ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন বই এ যেমন দেখছিলাম, ঠিক তেমনি হলদে. সাথে বিশাল চশমা আর মাছের লেজের মতো লেজ... মারাত্মক নষ্টালজিক এফেক্ট ছিলো ওইটার), নৌকা বানানোর যন্তরপাতি, বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত জাহাজ আর নৌকা, আরো কতো কি! দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিলো এদের সাথে জড়িত মানুষগুলোকেও চোখের সামনে নড়ে-চড়ে উঠতে দেখছি।
কনটিকি মিউজিয়িমের সামনে:

ইস্টার আইল্যান্ডের বিশাল মূর্তি:

মিউজিয়ামের বাতাসে প্রাচীন গন্ধ, কেমন গা শিউরে উঠে! ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে মারিটিম মিউজিয়ামের এক কর্ণারে দেখলাম চেয়ার পাতা, সামনে কাঁচের ওপাশ জুড়ে যতোদূর চোখ যায় সাগর আর সাগর। কিছুক্ষণ বসে রইলাম। ডাক পড়লো বাইরে আসার, গিয়ে ঢুকলাম পোলার-বিয়ার মিউজিয়ামে... (তিনটে মিউজিয়ামই পাশাপাশি বাড়িতে)।
পোলার বিয়ার মিউজিয়ামের সামনে:

ঘোরাঘুরির শেষে ফেরীঘাটে গিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে আছি ফেরী'র জন্য। হঠাৎ শুরু হলো যাকে বলে তুমুল ঝড়। বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো একেকজনকে। কিছুক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে ঝড় দেখলাম, সমুদ্রের সে কি জোশ চেহারা... অসলোর বাধ দিয়ে রাখা শান্ত সমুদ্র আমাদের বংগোপসাগরের মতো সেই প্রথম উত্তাল হয়ে উঠতে দেখলাম। এরপরে বোঝা গেলো ফেরী-যাত্রা অসম্ভব। বৃষ্টির মধ্যে হুড়োহুড়ি করে বাসের জন্য দৌড় সবাই! রাস্তায় বীচের কাছাকাছি যেই বাস-স্টপটা ছিলো, ওইখানে লোকজন ভিড় করে দাঁড়িয়েছিলো । বেশিরভাগের জামাকাপড়ের সংক্ষিপ্ততায় বোঝা গেলো বেচারারা গেছিলো সাগরপাড়ে রৌদ্রস্নানে, শেষতক বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরছে....। অসলোতে সেই প্রথম বাসের জন্য মানুষের হুড়োহুড়ি, কাড়াকাড়ি, ঝগড়া, গালি-গালাজ দেখলাম। মনে পড়লো এক বড়ো ভাইয়ের কথা, ''দুনিয়ায় সবই দেখি বাংগালী''। শেষমেষ বাস-ড্রাইভার জোর করে কিছু মানুষ নামিয়ে দিলো কারণ বাসের দরোজা কিছুতেই লাগানো যাচ্ছিলো না... ওদের ওইখানে নাকি আবার কি নিরাপত্তাঘটিত ঝামেলার কারণে দরোজা বন্ধ না হলে বাস চালানো যায়না। আশেপাশের এলোমেলো হাউ-কাউয়ে আমরা সিটে যারা বসেছি তারা ব্যাপক আমোদ পাচ্ছিলাম অবশ্য। প্রথম দিনের জাদুঘর ভ্রমণ পর্ব ওইখানেই শেষ। সারাদিনের হাঁটাহাঁটিতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে যেই ঘুমটা দিছিলাম না ওই রাত্রে! একমাসের ঘুম পোষায়ে গেছিলো।:)
বৈদেশী ঝড়:

অসলো পাস যেহেতু কেনা হইছিলো ৪৮ ঘণ্টার জন্য, বাকি চব্বিশ ঘণ্টা শেষ করার জন্য রোববার সকাল দশটায় বাইর হইলাম আমরা, মিটিং টাইম সাড়ে দশটায়। সোয়া দশটায় যথারীতি মি: লেইট লতিফ টিপু'র ফোন, টাইম পাল্টাইয়া এগারটা। আমাদের অবশ্য মনে হইতাছিলো এই এগারটা ... বারোটা বাজতে বেশি সময় নিবেনা। আমরা তিনজনা হুদাই রাস্তায় বৃষ্টিতে হাঁইটা ন্যাশনাল থিয়েটার থেকে হাঁটতে হাঁটতে আকের ব্রিগ্যা'র কাছাকাছি গেলামগা , চরম ঠাণ্ডায় হি হি কইরা কাঁপতে কাঁপতে আমি এক দোকানে ঢুইকা আমার প্রিয়তম সোফটি'স খাইলাম। এরপরে হাঁটতে হাঁটতে আবার ন্যাশনাল থিয়েটার স্টেশন.. টিপু ওইখানে দাঁড়াইয়া ছিলো, এরপরে চাইরজনে নোবেল মিউজিয়ামে গেলাম, মাগার তেনারা ওইদিন বন্ধ ছিলেন। ঠিক হইলো যামু চিলড্রেন'স মিউজিয়াম ... বিশ মিনিট ট্রেনে চইরা গেলাম ফ্রইয়েন নামের এক জায়গায়। ওইখানে নাইমা অসলোর জালের মতো রাস্তায় কিছুক্ষণ চর্কিবাজির মতো ঘুরুণ্ডি খাইয়া এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় মিউজিয়ামটা খুঁইজা পাওয়া গেলো। মিউজিয়ামে ঢুইকা আত্মা ঠাণ্ডা হইয়া গেলো, বিভিন্নি দেশের বাচ্চাদের আঁকা ছবি, বানানো পুতুল, খেলনা। এমন রংগিন চারপাশ! তিনটা অডিটোরিয়াম জুড়ে খালি ছবি আর খেলনা সাজানো, রং এ ঝলমল করছিলো সব, যেন হাজার হাজার রংধনুর মেলা। এইটুক খানি ক্ষুদে মানুষদের কি অসাধারণ চিন্তাশক্তি আর দেখবার চোখ! মন ভরে গেলো। তিনতলার এক-কোণায় একচিলতে বারান্দায় সবুজ মাদুর পাতা, কিছুক্ষণ ওখানে বসে দুইটা কমলা বালিশ পেতে আমি আর ফাহদ ঘুমানোর চেষ্টা করবো কিনা ভাবছিলাম.. সময়ের কথা ভেবে উঠে পড়লাম। নিচে নেমে দেখি এক আফ্রিকান ভদ্রলোক সব বাচ্চাদের নিয়ে জংলী ঢোল বাজানোর এক রুমে ঢুকছেন, আমাদেরকে দেখে হাত নেড়ে ভেতরে ডাকলেন। সবার সামনে একটা করে ঢোলমতো জিনিস, সেই আফ্রিকান ভদ্রলোক শুরু করলেন... তার সাথে বাকি সবাই মিলে তালে-বেতালে সে কি বাজানি! একটা জংলী গানও গাইছিলাম সবাই.. সেই গানের মধ্যে আবার কেমনে জানি "আনিকা, আনিকা" বলে চিৎকার। যেই ওই অংশটা আসে, বাকি তিন পাণ্ডব আমার দিকে তাকাইয়া সে কি হাসি...(অবশ্য আমি নিজেই সবচে বেশি হাসছি)। কিছুক্ষণ ঢোল, জংলী গান আর বসে বসে নাচের পালা শেষ করে বেরিয়ে এলাম, রিসেপশনের ভদ্রমহিলা জিজ্ঞাসা করছিলেন আমরা কোন দেশের, বাংলাদেশ শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন বাংলাদেশের এক বাচ্চার আঁকা ছবিও আছে, এরপরে কেন জানি ৩০ ক্রাউনের (যা কিনা আমাদের টাকায় প্রায় চারশো টাকা) পোস্টার আমাদের তিন মাস্কেটিয়ার্সকে তিনটা দিয়ে দিলেন। দিল খুশ করা এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হয়ে এলাম। (পোস্টারটা মারাত্মক ছিলো, কিন্তু ঘোড়ার ডিমের লুৎফুন্নিসা [ লুফত-হানসা আসলে] এয়ারলাইনস সেইটা দেশে ফেরত আসার সময় হারাইয়া ফেলসিলো)।
বাচ্চাদের মিউজিয়ামের গুগল ছবি:

বাচ্চা-কাচ্চাদের আঁকি-বুকি দেইখা বাইর হওয়ার পরে গেলাম টেকনিক'স এন্ড সায়েন্স মিউজিয়াম । এইখানটাতে আগেও গেছি দুইবার, মাগার কোম্পানীর তত্ত্বাবধানে, তাই তেল-গ্যাসের প্যাকোড়-পাকোড় বাদে আর কিছু দেখাও হয় নাই, শুনাও হয় নাই। এইবার মনের সাধ মিটাইয়া ঘুরলাম। কতো যে আজীব আজীব যন্তরপাতি, আমি কি আর ছাই যন্তরপাতি কিছু বুঝি, আমি ঘুরতাছিলাম অন্য আবেশে, ওইগুলান সত্যিকারের কারখানা থাইকা তুইলা আনা জিনিস!! দেখতাছিলাম আর ভাবতাছিলাম, কতো লোকের কষ্টের ফসল এইগুলা, কতো মানুষের জীবন আবর্তিত হইছে এরা'রে ঘিরা। আস্ত একটা কাগজ মিল, ময়দা বানানের মেশিন, নানান জাতের জিনিসপাতি বানানের মেশিন- সব দেখতাছিলাম আর চোখ বন্ধ করলেই মনে মনে দেখতে পাইতেছিলাম কতো লোক এইগুলার আশেপাশে ব্যস্ত হইয়া ঘোরাঘুরি করতাছে, মালপত্র ভরতাছে, উঠাইতেছে, নামাইতেছে। ইশ! ভাবতেও কেমন লাগে।
এক জায়গায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়া ক্যাম্পেইন চালাইতাছিলো.. ঘরের মাঝখানে একটা ইয়াব্বড়ো বরফের টুকরা রাইখা, সেইটারে গলাইছে... রেইন বুট পইড়া ঢোকা লাগছে ওইখানে, আমি মনে মনে ভাবতাছিলাম এনার্জি এফিসিয়েন্সি -হাবি-জাবি নিয়া ক্যাম্পেইন করতে গিয়া যেই পরিমাণে এনার্জি মানুষে খরচ করে, সেইটা কে হিসাব করবে? যাউকগা, আমি আদার ব্যাপারী... জাহাজের খবরে কি করুম?
সবচে মজা লাগছে পুরান গাড়ি আর মোটরসাইকেলের সেকশনটা দেখতে, কি যে বাহারী সব গাড়ি আর তেমনি তাদের নাম! মনে হইতাছিলো ষাট-সত্তর বছর আগে চইলা গেছি। অস্টিন, ক্যাডিলাক, রোলস রয়েস!!
একদম নীচতলায় বাচ্চাদের সেকশান... বিভিন্ন জিনিসের ডেমনস্ট্রেশান, নানান রকমের খেলা - ইনফ্রারেড স্ক্রীনে নিজেদেরকে দেখা, থ্রিডি ইমেজ.... আরো মজার মজার জিনিস। আমার সবচেয়ে মজা লাগছে, মাইন্ড বল নামের একটা গেমস। একটা টেবিলের উপর স্ট্রেইট লাইনে একটা বল রাখা, ইচ্ছাশক্তির জোরে ওইটারে ঠেইলা অন্য পাশে পাঠানো যায়.. যে প্রতিপক্ষের পাশে পাঠাইয়া দিবে সেই জয়ী। আমার খুব ইচ্ছা করতেছিলো .. কিন্তু লাইনটা ছিলো ব্যাপক লম্বা। অতএব হা হতোস্মি! আরো অনেক কিছু দেখছি, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের ঘড়ি, টেলিফোন ইত্যাদি ইত্যাদি। মায়েরা বা বাবার বাচ্চাদেরকে কোলে বা সাথে নিয়ে ঘুরে ঘুরে সব দেখাচ্ছিলেন।
টেকনিক'স মিউজিয়াম থেকে সোজা হোমেনকলেন এর স্কি মিউজিয়াম, ট্রাম-ট্রেন বদল করে, বৃষ্টির মধ্যে আধা ভিজে শীতে কাঁপতে কাঁপতে মাইল দুয়েক হেঁটে ওইখানে যখন পৌঁছলাম, ততোক্ষণে সেইটা বন্ধ হবার মোটে আর আধঘন্টা বাকি, ঠিক হলো স্কি জাম্প এর টাওয়ারে উঠেই ফেরত আসবো, বাকিটা আর দেখবো না। টাওয়ারে উঠবার সিঁড়ি এমন খাড়া, উঠবার আর নামবার সময় বুক ধুকপুক করছিলো। কিন্তু উইঠা মনে হইলো এই কষ্ট সার্থক। চারপাশের কাঁচের জানালার মধ্যে দিয়া শুধু সবুজ পাহাড় আর তার গায়ে ছবির মতো বাড়ি। অদ্ভুত স্বপ্নের মতো দৃশ্য, ওইখানে বাকিরা ফটুক তুললো, আমার যেহেতু ক্যামেরা নাই, তাই আমার ফটুকও নাই
।
গুগল মামু থেকে নেওয়া টাওয়ারের উপর থেকে শহরের চেহারা:






য়ামি বৈদেশ যায়াম
য়ামি দেশে যায়াম।

আপ্নেরা দুইজনে জায়গা বদলাবদলি কইরালান... ঝামেলা খতম।
ও রাজন(আমার ছোটভাইয়েরও নাম রাজন) আসো বদলাবদলি করি।
ব্যাগব্যাগানি শব্দটা ভাল্লাগছে। হাফপ্যান্ট পরা পুলাডা কিডা?
মেয়েগুলো সৌন্দর্য্য আছে
এহন হইলো আপ্নের পুলার দেখনের বয়েস... আপ্নে নজর দেন কিল্লাই?
আমি তো এইখানে আনিকা আপু ছাড়া আর কুনো মাইয়ার চেহাড়া দেখি না। হাফ প্যান্ট পরলেই যদি সৌন্দর্য্য হওয়া যায়, তাইলে আমিও হাফ প্যান্ট পরা শুরু করুম
ভাবীসাব চোখের মাথা খাইছে নি?
ঝড়ের মধ্যে দুইটা হাফপ্যান্ট পরা বেডি দেখা যায়তেছে তো।
ভাবীর হাফপ্যান্ট পরা নিয়া আপনে মাছ ধরেন কিল্লাই?
পইড়া ফালাও... কি আছে দুইন্যায়...
দ্যাখো তুমার জামাইয়ের চরিত্তির সংশোধনী হয় কিনা?
( টুটুল ভাই, আমারে মাইরেন না... )
তুই আসলেই জ্ঞানী। আমি লেখাপড়া মানে মিউজিয়াম জাতিয় জিনিস থেকে শত হস্ত দূরে অবস্থান করি। রাজ রাজাদের লোটা বদনা দেইখা দেইখা মিউজিয়াম থেকে রুচি উইঠ্যা গেছে। আমি কোথায় বেড়াতে গেলে বেটার ম্যাক থেকে কফি নিয়ে গাছের নিচে বসে খাবো, রাস্তা দেখবো, মানুষে দেখবো কিন্তু বিছানা পত্র, মাইনষের বই খাতা, কলম থেকে দূরে
লেখা উপাদেয় হয়েছে
হেহ! তুমি মোটেই আমারে চিন নাই...
আমি কি আর মিউজিয়াম এম্নে গেসিলাম! আমার ক্রাশ গেসলো লগে...
... এইসব কথা জনসমক্ষে কওয়া যায় নাকি?
সব জ্ঞানবাণী তার মুখ থাইকা বাইর হইসিলো বইলাই না আমি অত মনোযোগ দিয়া ধারাবিবরণী শুনসি...
এই বিশাল বোরিং ব্যাগব্যাগানি আসলেই পড়সো পুরাডা?
মন্তব্য করুন