আজিরা দিনপঞ্জী... ১৬
এতো বেশি কিছু ভেবেই চলছি যে ভাবনার নৌকোটা কোথাও সুবিধেমতো নোংগর করানো যাচ্ছেনা। তিরতির করে চলছে তো চলছেই। অথচ কোন ভাবনাই আরেকটার সাথে কোন যোগাযোগ রাখছেনা... আপনমনে, কখনো সমান্তরালে আবার কখনো আড়াআড়ি যাচ্ছে... খেই হারিয়ে যাচ্ছে বারবার।
কোন দূরত্বটা বেশী? চার ইঞ্চির নাকি সাড়ে চার হাজার মাইলের? সেই শীতের রাতে সিএনজির ভেতরে কনকনে ঠাণ্ডায় নিজেকে আপাদমস্তক চাদরে মুড়ে বসে থেকে... পাশেই থাকা হাতটার দিকে তাকিয়ে এই ভাবনাটা আপনা থেকেই চলে আসছিলো মাথায়। একদম স্বাভাবিক কথা চালাতে চালাতে আমি কেবল প্রার্থনা করছিলাম ''প্রভু, দোহাই লাগে... একটিবারের জন্যেও যেন আমার গলা কেঁপে না উঠে। বোকামিই বলুক কেউ, আর ভালোবাসাই বলুক... আমার নিজের একান্ত এই ভাবনার তরংগ যাতে স্পর্শ না করে তাকে।''
ভালোবাসা লুকিয়ে রাখা যায় কিনা কিংবা লুকিয়ে রাখবার ব্যাপার কিনা সেইটা আমি জানিনা, কিন্তু যখন জেনেই গেছি আমি সেই উত্তরের দেশের কোথাও নেই, ছিলামও না কখনও... তখন সেই অনধিকারের রাজ্যে গোঁয়ার ষাঁড়ের মতো গুঁতোনো আমার কর্ম না। সময় সব ভুলিয়ে দেয় সবাই বলে... ভুলিয়ে কি দেয় আদৌ? নাকি চোখ বুঁজে থাকতে শেখায়? আর সেইভাবে ভেবে দেখতে গেলে ভুলবার মতো ছিলোই বা কি? স্বপ্নের তো স্মৃতি থাকেনা কখনো... আবছায়া একটা আলো-আঁধারীর রেশমতো থেকে যায় কোথাও। কেন তবু কোন কোন স্বপ্নের ছায়া জীবনের চেয়েও বড়ো বলে মনে হয়? এইটা কি আমার বিষাদ বিলাসিতা? অথচ আমি তো বিষন্ন থাকিনা সবসময়ে।
দিনের আলো যতোক্ষণ থাকে, সময় দিব্যি গড়িয়ে যেতে থাকে। রাত বাড়লেই অস্থিরতা বাড়তে থাকে... পুরো রাত জেগে বসে থাকতে থাকতে ভোরের আযান শুনি প্রায়ই... ব্যলকনিতে দাঁড়িয়ে হালকা হলুদ নিয়ন আলোয় ফ্যাকাশে সবজে অদ্ভুত রং এর পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত দুই টহল পুলিশকে দেখে নিজেকে কঠিন ঝাড়ি দিই, ''কিসের এতো ঢং তোমার? কতো আরামে আছো! তারপরেও নাকি কান্নাটা যাচ্ছেনা কেন?'' কিন্তু কিসের কি... মন একটা কঠিন অ্যাবস্ট্রাকশনে ঢুকে যায়... বলতে থাকে... ''কোন কিছুতেই কোন কিছুকে ঢাকেনা... সব কিছুর পরেও তুমি স্বপ্নের সেই দেশেই বারবার যেতে চাও... যদিও জানো ঘুমের দেশে ছাড়া তার অস্তিত্বই নেই, তবুও তুমি এইটাই ভাবো... ঘুমের ঘোরেই তো বেশ ছিলাম, চোখ বুঁজে বেশ খুশী হয়ে যাওয়া যেতো।''
“Who said that time heals all wounds? It would be better to say that time heals everything except wounds. With time, the hurt of separation loses its real limits. With time, the desired body will soon disappear, and if the desiring body has already ceased to exist for the other, then what remains is a wound... disembodied.” Samura Koichi





এতো কষ্ট কেন পৃথিবীতে?
আমরা জায়গা দেই যে!
এতো গভীরভাবে আর কিছুতেই ভাবতে ইচ্ছে করে না, কিছু নিয়েই না।
ভালো থাকিস।
তাতা'পু ভাববার দরকারও নাই... সব সময় আনন্দ আসুক সবার জীবনে।
পুরো লেখাই অনবদ্য। লিখতে থাকুন, আমরা পড়তে থাকি, লিখতে-পড়তে-পড়তে-লিখতে একসময় আলোর বেগুনী রস্মি আপনার অন্তর্গত সব বেদনা আকাশে মিলিয়ে দেবে।
কি জানি, আমি অনেক ইনস্টিংক্ট নির্ভর মানুষ... ভালোই থাকি বেশিরভাগ সময়ে... হঠাৎ করে শেষ রাতের কোন না হওয়া ঘুম... কিংবা একটা অনেক চেনা গন্ধের প্রাবল্য হুড়মুড় করে নেহায়েত অগুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিদের ফিরিয়ে আনে আর আমি কেমন চুপচাপ মন খারাপের ভেতরে ডুবে যাই।
অনবদ্য
সাবলীল লেখা। মন ছুঁয়ে গেল।
গৌতমের মত আমরো মনে হল, এত কষ্ট কেন পৃথিবীতে।
আল্লাহর কাছে এই জিনিসটাই মনে মনে হয় সবচে বেশি ছিলো, তাই চান্স পাইলেই ঢাইলা দেয়...
কথাটা মনে হয় সত্য ।
সময় ভুলিয়ে দেয় না, ওটার কাজ ভুলতে শেখানো ,
সময় কষ্ট মিলিয়ে দেয় না,কষ্টটা নিয়েই বাচতে শেখায়।(গভীর দার্শনিক ভাবের ইমো হইবে)
লেখা চরম
হুম...
জীবনের সব দিনরাতগুলো ২৪ তারিখের পিকনিকের আনন্দে ভরে থাকলে কি মজাই না হতো ?
ভালো
অসাধারন....
বরাবরের মতো, দারুণ
এই একটা নৌকাই জগতে আছে। আর সেইটা হইলো আপ্নের ভাবনার নৌকা। যেইটা তিরতির কইরা চলে।
ঠিক ধরছেন।
আনাকা, তোমার প্রতিটি লেখা (আজিরা সিরিজ) যেন মনখারাপের কাব্য। কষ্ট জাগায় প্রাণে। ভালো থেকো ।
আনিকা, তোমার প্রতিটি লেখা (আজিরা সিরিজ) যেন মনখারাপের কাব্য। কষ্ট জাগায় প্রাণে। ভালো থেকো ।
আপনিও ভালো থাকেন ভাইয়া।
মন্তব্য করুন