সুন্দরী ঢাকা
খুব ছোটবেলায় ঘরের বেহাল অবস্থা দেখে আম্মা বেশি ঝাড়িঝুড়ি দিলে যা কিছু অগোছালো সব চেপেচুপে ওয়া্র্ডরোবের ড্রয়ারে ঠেইলা ঢুকাইয়া ফেলতাম, ঢাকার বর্তমান সৌন্দর্য্যবর্ধনরেও সেইরকমের ধামাচাপা কিসিম মনে হইতেসে কিছু কিছু জায়গায়। শেরাটনের সামনের ফকিরগুলারে কি ট্রাকে তুলে গরু চালান দেওয়া হইসে কোথাও? হকার ফ্রি ঢাকা কি আমাদের রোজকার চিত্র? এতো ঝামেলার মধ্যেও যে আমরা টিকে আছি এই শহরে এইটাই কি এনাফ বিজ্ঞাপনযোগ্য না? অনেক জায়গার অনেক কিছু ভালো লাগতেসে, কিন্তু ল্যাম্পপোস্ট থেকে ঝুলে থাকা চাইনিজ ল্যান্টার্ন আমাদের কোনজায়গার সংস্কৃতিকে রিপ্রেজেন্ট করে?(তাও অনেক জায়গায় সেইগুলাও চুরি হয়ে গিয়ে ল্যাকপ্যাকা আধামরা কিছু বাত্তি ঝুলতেসে লাল-নীল স্কচটেপ প্যাঁচানো তার থেকে)। কোথাও কোথাও দেখলাম বিশাল সাইজের বলের গা থেকে মরিচ বাত্তি ঝুলতেসে, রাতে এখনো দেখি নাই, তাই সেইটা রাতে কতোখানি শোভা দিতে পারে মাথায় এখনো ঢুকতেসে না। আমার এক বন্ধু বললো মহাখালী ফ্লাই ওভারের কাছে একজায়গায় টাইমড মরিচ বাত্তি লাগানো হইসে, যেইগুলা অন আর অফ হইয়া একেকবার একেক রং এর বাত্তি জ্বালায়, ও কিছুতেই সেই কোডেড বাতির জ্বলা-নেভার রহস্য আবিষ্কার করতে পারে নাই। ভালো লাগসে মাঝরাস্তায় লাগানো নতুন গাছগুলা, যদিওবা ঘটনা ঘইটা যাওয়ার পরে তাদের বাঁইচা থাকার সম্ভাবনা নিয়া সন্দেহ আছে খানিক। আরো ভালো লাগসে দুইপাশে লাগানো বড়ো বড়ো ছবিগুলার মধ্যে কয়েকটা। রাস্তাঘাট পরিস্কার হয়ে যাওয়াটা দেইখা ভালোও লাগসে আর মনেও হইসে এইটুকু তো অন্তত চেষ্টা করলে পরেও ঠিক রাখা যায়।





লাখ কথার এক কথা।
চট্টগ্রামেও মোটামুটি কাছাকাছি অবস্থা। তবে বাঘ তিনটা সত্যিই দারুণ হৈছে, যদিও চেহারাসূরত ফ্রেন্ডলি না
। একটারে তো মনে হয় ঠিক টাইগার পাসের জংলা পাহাড় থেকে বের হয়ে আসছে।
হক কথা।
আগে আম্মি বকলে আমি সামনে ময়লা কাপড় যা পেতাম নিয়ে ওয়ারড্রোবে ঢুকাতাম আর আম্মি বকতে বকতে প্রথমে সেই ড্রয়ারেই হাত দিত। তোদেরও দেখি সেই কান্ড।
তাতাপুর হল্যান্ড মনে হয় হোটেল র্যাডিসনে থাকবে তাই ওখানে দেখলাম বিরাট বিলবোর্ডে আলুর ছবি।

এই লাইটিং রাতের নির্জনতায় না দেখলে মজা নাই।
কোনো কোনো জায়গায় জোক্স
কোনো কোনো জায়গায় রক্স
ঢাকা কিরাম সাজটা দিলো, কিছু ফটুক দিতেন দেখতাম
রাতে আলোকসজ্জা গুলো ভালোই লাগে।
কাল রাস্তার পাশে ইসলামি ব্যাঙ্কের এ্যড্ সহ অনেক বিলবোর্ড টাইপ দেখলাম। ওখানের কোন কোনটার কথা এবং ছবি গুলো বেশ ভালো লেগেছে। যেমন "লাল সবুজের দেশে স্বাগতম" তারপর "নদীর দেশে আয়"........
ইসলামী ব্যাঙ্কের নিশান গুলো সবচেয়ে ফালতু হয়ছে।
আরেকটা ব্যাপার বুঝলাম না এত বড় বড় বিলবোর্ডগুলো বাংলায় লেখা কেন?বিদেশীরা কি বাংলা পড়তে পারে??
মন্তব্য করুন