তুমি অশ্ম হও, তব স্তুতির বিন্যাসে তুমি অংশুমালা !

এক স্নিগ্ধ বিকেল বেলার সতেজ আবেশে তোমাকে খুব করে মনে পড়ছে.. বিশুদ্ধ হিমেল হাওয়ার ঝাপটা যেন কতশত তরীর পাল উড়িয়ে দিয়ে এসে এখন আমার ব্যালকনিতে ঝরে পড়ছে তীব্র আবেগে.. তপ্ত মরুর বুকে অনুতপ্তের গ্লানি টেনে নিয়ে উদাস চিত্তে এদিক সেদিক উদ্ভ্রান্তের মত নিরবিচ্ছিন্ন বিচরণে নির্বিঘ্নে আর্তচিৎকার করে যেতে পারি এখন আমি অনেকটা ক্ষণ ধরে..
“উজবুক কবির দল” বাক্যব্যয়ে আমার নিকটজনেরা যখন স্বীয় কন্ঠের কলকল আওয়াজে অনায়াসে আমার আত্মা চিরে যাওয়ার নির্বাক অনুভূতির দিকে একটুখানিও করুণ দৃষ্টিপাত না করেই একেকটা অপবাদের কালিমা লেপন করা তীর বিঁধিয়ে দিতে থাকে একে একে আমার চিন্তায়,কন্ঠে,দৃষ্টিতে,বুলিতে আর প্রিয় কলমটিতে তখন কেমন যেন মনমরা হয়ে যেতে ইচ্ছে করে.. মস্তিষ্কের ডর্সাল রুট গ্যাংগ্লিওনটিকে ইচ্ছে করে ছিঁড়ে খুঁড়ে বন্ধ করে ফেলি যাতে আর অপবাদের অভ্যর্থনাটুকুর স্নায়ুবিক অনুভূতি সাদরে রক্তগালিচা দিয়ে গ্রহণ করে নিতে না হয়..
ইচ্ছে করে কর্ণকুহূরের টিমপেনিক পর্দা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ছিন্ন-ভিন্ন নষ্ট-ভ্রষ্ট করে ফেলি যাতে আমার ম্যালিয়াস,ইনকাস আর স্টেপিস গুলো কর্মক্ষমতায় ভূয়সী ভূমিকা রাখতে না পারে কেননা আমি চাইনা আমার স্যাকুলাসে তাদের উচ্চারিত আর কোন শব্দ এসে পৌঁছুক আর আমার অর্গান অফ কটি সেগুলোকে আতিথেয়তা দিয়ে গ্রহণ করে ক্ষণে ক্ষণে যন্ত্রণায় পেষণ করে নিরন্তর লোহিত আঘাতে নীলাভ কষ্টে আমাকে বিষণ্ন আভায় বিদীর্ণ করে ফেলুক ...
সত্যি বিবেকে নিরাবেগ না থেকে চিৎকার করে বলতে চাই যে একরাশ অপবাদের গ্লানির ভার আমাকে ভারাক্লান্ত করে নিঃশেষ করতে উন্নাসিক উল্লাসে উদ্দীপ্ত হয়ে ধ্বংসের উগ্র চেতনায় আগ্রাসী হয়ে উঠেছে.. আমি এখন একটু নিরব নিস্তব্ধ নির্জন নিভৃত্ব আবেশে নিজেকে ঘোরটোপের শেকলে আটকে দিতে চাই আর একাকি থেকে একটুখানি মুক্তির আলো-বাতাসে নিজেকে স্নান করাতে চাই..
আমি তোমার উষ্ণ পরশের বিবাগী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মিথ্যে ভালবাসার বিবক্ষার বিবৃত্তে বিভোর হয়ে বিভ্রম বিভ্রাটে বিভঙ্গ এঁকে নিয়ে বিব্রত হয়ে বিবেকের বিরহের বিদ্রোহে বিবরে বিবর্তিত হতে চাইনি.. আমি বিভা চেয়েছিলাম, নিকষ বিভাবরীতে বিশ্লেষণে বিভাজিত হতে চাইনি.. অথচ আজ আমি বিশুদ্ধ বিমল বিমুক্ত না হয়ে বিলয়ে স্ব-বিম্ব অংকন করে বৈরাগ্য বিমর্ষতা বীতশ্রুদ্ধতা মেনে নিয়ে বিরূপ বিচ্ছিন্ন বিমূঢ় হয়ে পড়েছি.. কার দোষে বলতে পারো বিভাসিনী?
মানসপটে জমিয়ে রাখা তোমার স্মৃতিগুলো যখন ডানা মেলে দিয়ে ঝাপটা মেরে উড়তে আরম্ভ করে দেয়, তখন আমার ফাউন্টেন পেন টা হাতে তুলে নিই.. দোয়াত ভেজানো নিবটা দেখে কিছু স্মৃতি অন্তরে আঁচড় কেটে যায়.. আর আমি আগ্রহভরে একের পর এক আঁচড় কেটে যাই সফেদ পৃষ্ঠাগুলোতে.. রচনা করি কিছু উচ্ছন্নে যাওয়া শব্দগাঁথা.. সেগুলো’কে ‘কবিতা’ নাম দিয়ে আমাকে তারা আমাকে বলে “উজবুক কবির দল”.. এই সুশান্ত বিকেলের পড়ন্ত আলোয় ব্যালকনিতে পাতা চেয়ারে বসে কবিতা লিখার সময় ঐ অসহ্য ডাকটিকে আজ আর খুব খারাপ মনে হচ্ছেনা.. তোমার জন্য আমি তো তা ই, নই কি?





অওসাম!!! ফিদা হয়ে গেলাম কবিতা পৈড়ে
হা হা হা, ফিদা হলে তো ভালোই , হি হি।
শুভকামনা জানবেন ।

বেশ লিখেন তো!
------------------------------------------------
পুরুষের দশ দশা; কখনও হাতি, কখনও মশা।
ধন্যবাদ ধন্যবাদ --
পুরুষের বেহাল দশা নিয়ে আপনার অফুরান আফসোস দেখে আমারই আফসোস হচ্ছে...
লেখা এগিয়ে যাক। তার নিজের নিয়মে।
ধন্যবাদ আপনাকে... ইনশাল্লাহ চলবে নিজের নিয়মেই..
শব্দ নিয়ে খেলা... লেখার হাত কিন্তু বেশ আপনার। নিয়মিত লিখবেন। এবিতে স্বাগতম।
ধন্যবাদ লীনা আপু.. দোয়া রাখবেন।
অনেক কঠিন কঠিন কথা। কিছু বুঝলাম। কিছু বুঝি নি। লিখে যান ভাইয়া। পড়তে পড়তে পড়তে শিখব!
আর আপনাকে আমাদের এ/বি তে স্বাগতম! আপনি সহই এখন আমরা আমরা।
ধন্যবাদ ধন্যবাদ ধন্যবাদ! ইনশাল্লাহ সাথেই আছি।
অসাধারণ কবিতা। আরো চাই
পাবেন ইনশাল্লাহ ! একটু ওয়েটাইতে হবে আরকি ।। হি হি।
ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানবেন তানবীরা আপু।
মন্তব্য করুন