বন্ধু তোদের............
আমার ব্লগিং জীবন দুই বা আড়াই মাসের অন্যমানুষ হিসেবে আমার ব্লগে।বন্ধু মুক্ত বয়ানের সাথে থাকার লোভ সামলাতে না পেরে আমরা বন্ধুতে অনুপ্রবেশ।এমন এক সময়ে এ প্রবেশ যখন আর দিন সাতেক পর আমার শেষ সেমিস্টার ফাইনাল।আনুষ্ঠানিক ছাত্রজীবনে বাজছে বিদায়ের বাঁশি।হারিয়ে যাবে এ জীবন থেকে আমার অনেক বন্ধুরা।দেখা হবেনা অনেকের সাথে আর কখনও।আমি এ পর্যন্ত যত পোস্ট দিয়েছই তার সবই আগে লিখেছি তারপর শিরোনাম দিয়েছি ...।এ প্রথম একটা লেখা দিলাম যার শিরনামটা লিখলাম প্রথমে ...তারপর লিখে চলেছি লেখাটা ।।আজকের লেখাটা বন্ধু তোদের...।যারা ছিলি আমার সাথে স্কুল,কলেজ আর চুয়েটের ছাত্রজীবনে।।
****বন্ধু তোদের পেয়েছিলাম পথের ধারে...এল ডোরাডো’র সোনার খনির মত।তোরা ছিলি আমার সাথে আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে।স্কুল জীবনে তোরা ছিলি আমার টিচার এর মত।আমাকে কখনো পড়া বুঝিয়ে দিতি। কখনো ভাল স্যারদের বাসা চিনিয়ে দিতি।তোদের ই কারো কাছে আমার গালিগালাজ শেখা বা পরণোগ্রাফি দেখাতে হাতে খড়ি...।হিহিহহিহিহিই।মনে আছে প্রথম যখন স্কুল পালালাম,তখন পরের দিন আমাকে আর আরেক বন্ধুকে ক্লাশটিচার ডাক্লেন মারার জন্য।কিন্তু আমার সেই বন্ধু পুরা দোষ নিজের ঘাড়ে নিলো।স্কুল জীবন ছাড়ার পর তার সাথে আর দেখা হয়নি কখনও।কখনো সুধাইনি কেন সে এমন করলো???কেন সে পুরো মারটা একাই খেয়ে গেল।কখনো দেখা হয়নি আর ওর সাথে।
***বন্ধু তোদের হারাতে যাচ্ছি আমি।হারানোর ব্যাথা যে কি ভয়াবহ তা আমার ভালোই জানা আছে।মনে পড়ে বুয়েট Admission এর মিশন ফেল করে চুয়েটে আসলাম। কলেজ আর স্কুলের বন্ধুরা সব আলাদা হয়ে গেলাম।চুয়েটে হলে সিট পেলাম এক বড় ভাইয়ের রুমে।সেই বড় ভাই আবার কথিত আছে “জুনিয়র পেটানোয় ওস্তাদ”।রুমে সারাটা সময় আমার ভয়ে আর আতংকে সময় কাটে।আমি ভাবি বন্ধুরা আমার আমাকে কেন একা ফেলে চলে গেল?এই সময়ে আমি আবার কিছু বন্ধু পেলাম-প্রথমেই বলি নিরবের কথা।আমাকে সে তার রুমে নিয়ে আসে।বড় ভাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলাম।আস্তে আস্তে সময় যেতে লাগল।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা বন্ধুত্বে আর ভালো লাগায় ভরে উঠতে লাগল।কি করে ভুলি তোদের কথা বল?কি করে ভুলি আমার দুই রুমমেটের কথা?এক সাথে আমরা pL এর যে সময়টা কাটিয়েছি - টেবিলে বসে রাজ্যের আজাইড়া প্যাচাল । কোন টপিক্স একটু কঠিন হলেই স্যারের মুন্ডুপাত –অবশেষে “ইহা IMPORTANT নহে” বলে বাদ দেয়ার মজাই আলাদা।বিকালে নাস্তা করার পর আমাদের বিশাল মাঠে চলত আড্ডা।এমন আড্ডা এই দুনিয়ায় আর কেউ পাবেনা-চরম অশ্লীল থেকে অসাধারণ শ্লীল সব ই এই আড্ডার ভিতর আছে।কোন মেয়েকে কার সাথে কিভাবে দেখা গেছে? কোন স্যার কি করেছে।মেকানিকাল বিষয় নিয়ে আলোচনা। স্বপ্নের ফানুশ ওড়ানো কি নেই এই আড্ডায়।বন্ধু তোদের সাথে আড্ডাটা সেইরকম মিস করব।
** বন্ধু তোদের সাথে আর সেশনাল করা হবেনা।আর কোন দিন কেউ আমাকে বলবেনা “আশফাইক্কা আমার গ্রাফ প্রিন্ট করসিস?”আর কখনো আমরা সেশনাল এর আগের সেই অবস্থায় যাবনা-এর থেকে Theory, ওর থেকে Discussion,আরেক জন থেকে স্ট্যাপ্লার নিয়ে সে কি হইচই।অবশেষে যথা সময়ে Report তৈরি।কি অসাধারন TEAM WORK??মিস করবো এই সময়টা।এই সময়টা অসাধারন করে রাখার জন্য নেতা কায়সার আর জ্যোতির অবদান ভুলার না।মনে থাকবে তোদের কথা।
*** বন্ধু তোদের সাথে আর কখনো বাসে করে শহরে যাওয়া হবেনা।আর কখনো বসা হবেনা জি.ই.সির মোড়ে।ঝুপড়ি দোকানের চা হয়ত আর কখনই একসাথে পান করা হবেনা।
***বন্ধু তোদের কথা মনে রাখব সারাটা জীবন।সামুতে থাকার সময় আমার একটা কবিতা ছাপা হয়েছিল একটা কবিতা সংকলনে।আমার রুমমেট শুধু সেই বইটা কেনার জন্য ঢাকা চলে এসেছিল।যাকেই দেখত বলত আমি নাকি ভাল লিখি।সারাটা জীবন মনে থাকবে আমার দুই রুমমেটের কথা।
আজকের এই পোস্টটা অনেকের কাছে অসংলগ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু চারটা বছর একসাথে থাকার পর বিদায় বলাটা সহজ না।আমরা বলি পাশ করার পর নিয়মিত দেখা হবে।যোগাযোগ রাখবো।কিন্তু বাস্তবের ইট কাঠের দুনিয়ায় জীবন গড়ে তুলার সময় যোগাযোগ রাখাটা কঠিন।তাই অনেকের সাথে আর কখনো দেখা হবেনা। তাই আজকের পোস্টটা চুয়েটের চার বছরের বন্ধু তোদের জন্য।
****বন্ধু তুমি,তোমাকে দেখলেই ভালো লাগত।মাটির দিকে তাকিয়ে তুমি হাঁটতে।তোমায় দেখলে আমার কেমন কেমন লাগতো।ইচ্ছা হত দৌড়ে গিয়ে বলি “আমি তোমার মনের ভেতর একবার ঘুরে আসতে চাই....”।কিন্তু তুমি এসেছিলে পাহাড়ের বুক থেকে।আর আমি সমতলের এক মানুষ।তাই তোমাকে ছোঁয়া হয়নি।চার বছরে এই একটা অপ্রপ্তি থেকে যাবে। যদি কখন ও বলতে পারতাম!!তুমি রবে নিরবে আমার মনে।
***** বন্ধু তোদের কেউ কেউ কষ্ট ও দিয়েছিস খুব।মনে পড়ে একবার আমার সাথে এক কলেজ বন্ধুর দেখা হল।বাবাকে বললাম “আমার বন্ধু”।বন্ধু বললো “ক্লাস মেট।তবে খুব বেশি কথা হয়নি”।একটু খারাপ লেগেছিল।তবে সবাইকে বন্ধু হতে হবে এমন ত নয়।ক্লাস মেট হিসেবেই না হয় ত মনে থাকলাম...।।
চুয়েট জীবনের বন্ধুরা এমন করিস না। যে যেখানেই থাকিস অনেক ভাল থাকিস।মনে রাখিস – বন্ধু হিসেবে-ক্লাস মেট হিসাবে না।





ভাইরে কতোটাই যে আবেগ তাড়িত হলাম বলার না! 'বন্ধু' কেমন মায়ায় জড়ানো ছোট্ট শব্দ, যে জীবনের ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে থাকে । সবে মাত্র শিক্ষাজীবন শেষ করে, আপনি নতুন এক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন । সাতসতেরো তালে হয়ত এই আজকের বন্ধুদের সাথে আপনার সেভাবে দেখাই হবে না । তারপরও জীবন নামের ক্যানভাসে বন্ধু নামের আশ্চর্য মায়াময় মানুষগুলো হাজার তারার দ্যুতি নিয়ে আলো ছড়াবে ...।হঠাৎ চলতি পথে দেখা হয়ে গেলে মেঘের কোলে রোদ হেসে যাবার মত জাপটে ধরে ঠিক শুধাবে, 'বন্ধু কতোদিন পরে দেখা কী খবর বল!' .....আপনিসহ আপনার সব বন্ধুদের জন্য অনেকককক শুভ কামনা । পাঁজরজুড়ে থাকুক এইসব স্বর্ণালীদিন আর মায়াজড়ানো বন্ধুদের মুখগুলো । ভালো থাকবেন । শুভেচ্ছা নিরন্তর!!!
ধন্যবাদ ।আপনাকে,আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার, এই ক্ষেত্রে আমি খুবই সৌভাগ্যবান ।
ভালো থাকুক আপনার বন্ধুরা। আমরা বন্ধু তে স্বাগতম।
সত্য কথা।আমিও তা হলে লাকি।ধন্যবাদ।
'বন্ধু' হওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়। বন্ধুত্বকে কোন সহজ সম্পর্ক যারা ভাবেন তারা হয় সম্পর্কটির প্রতি আন্তরিক নন, না হয় তারা আবেগের চতুর দালাল। বন্ধুত্ব নিয়ে আর যাই হোক তামাশা করা ঠিক নয়।
বন্ধুদের প্রতি আপনার অকৃপণ ভাবনাগুলো ভাল লাগলো। বন্ধুত্বটা ধরে রাখুন, ছাড়বেন না!
বন্ধু পাওয়া কঠিন কি খুব?তবে আসলেই কঠিন ।আসলে "আবেগের চতুর দালাল " পাওয়াই সোজা।বন্ধুত্ব ছাড়তে চাইনা।কি বাস্তবতা যে বড় কঠিন।প্রতি পদে পদে লড়াই করে পারব কি জিইয়ে রাখতে আমার ভেতরের মানুষ টা কে????? ধন্যবাদ লিনা আপু।
আমরা বন্ধুতে স্বাগতম ....
এখানেও কিন্তু আমরা বন্ধুই.... আসেন গফ করি
ধন্যবাদ। আসেন গফ শুরু করা যাক...।কই হে মুড়ি চানাচুর নিয়ে আসো..
জয়তু বন্ধুত্ব .....
জয়তু বন্ধুতা..
লেখার মধ্যে নিজের নাম থাকলে সেখানে আর মন্তব্য না করে থাকা যায় না

যাউক্গা.. সবই হইল। মাগার আমাদের ধূমকেতু'র কাহিনী বাদ দিয়া দিলা, দুইন্যার চার বছরের ভার্সিটি লাইফ নিয়া কথা কইলা, দুই বছরের কলেজ লাইফ নিয়া কিছু কইলা না। বড়ই মাইন্ড খাইলাম।
এতগুলান ইস্টারের মাজেজা ধর্তার্লাম না।
এইটা কি জ্যাকেট কাহিনী নাকি??
তুই তো সেলিব্রেটি ব্লগাররে। এতদিন ধইরা ব্লগিং করি, আমগো একটা লেখাও ছাপার অক্ষরে দেখলাম না, তোর লেখা পয়সা খরচ কইরা কিনার জন্য মানুষ চিটাং থেকে ঢাকাও চলে আসে..

]
সিলাম সিলাম সিলাম উহারে [এইখানে একটা মাথা নত করার ইমো হবে। ]
[ইমোটা নাই ক্যান, মডু??
আমরা বন্ধুতে স্বাগতম।
ধুমকেতুর গপ হবে অবশ্যি ...সাথে তোর "জ্যাকেট স্টোরি"(চোখ টিপ মারার ইমো হবে..।)
নষ্টালজিক হলাম। বন্ধুত্ব আমার কাছে একটা অসাধারণ সম্পর্ক। গড়ে উঠা সম্পর্কগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব শ্রেষ্ঠ। কত কি মনে পড়ছে!
ভালো থাকেন। আমরা বন্ধুতে স্বাগতম।
জয়িতা আপনিও ভালো থাকবেন।সারা জীবন বন্ধুদের সাথে থাকবেন।মনে রাখবেন...বন্ধুদের আজীবন।
জয়তু বন্ধু----
জয়তু বন্ধুত্ব...
না।আমরা বলি পাশ করার পর নিয়মিত দেখা হবে।যোগাযোগ রাখবো।কিন্তু বাস্তবের ইট কাঠের দুনিয়ায় জীবন গড়ে তুলার সময় যোগাযোগ রাখাটা কঠিন।তাই অনেকের সাথে আর কখনো দেখা হবেনা।
আমরা বন্ধুতে স্বাগতম
ধন্যবাদ
মন্তব্য অর্ধেক আসে, বুঝি না ছাতা।
যাহোক, জীবনের চরম তম সত্যি কথাটাই উপলব্ধি করেছেন। ভালো থাকুন দুঃখ আর বেদনা নিয়েই
তানবীরা,
ধন্যবাদ।জীবন এত কঠিন কেন?
মন্তব্য করুন