কয়েকটা ভাল লাগা ছবি ও ক্ষয়ে যাওয়া আমি
কি জ্বালাতন বল দেখি? ঘন্টা খানেক ধরে কম্পিউটারের সামনে সিধা হয়ে বসে আছি। কিন্তু একটা লাইন ও বেরোচ্ছে না। অবশ্য আগেও যে খুব বেড়োত তাও না। কিন্তু বুঝলাম এফিসিয়েন্সি কমে গেছে। প্রাইমারী ইনপুটের এক বিশাল অংশ এখন চলে যায় এখন ইনার্টিয়া কাটাতে। সব কেটে ছিড়ে যা থাকে তা নিতান্তই অল্প। যাক সে কথা; আসলে মানুষ কি নিয়ে লেখে বা লিখতে পারে। আমি বলব মানুষ তাকে নিয়েই বেশি লেখে। যারা ছোট মানুষ যাদের চিন্তার দৌড় আমার মত চার দেয়ালে বন্দী তারা লেখে নিজেদের নিয়ে; নিজেদের অনুভুতি আর পাশে থাকা দৃষ্টিসীমার মাঝে পড়া কিছু লোক কে নিয়ে। আবার যাদের চিন্তা আরো বড় তারা তার দেশ , মাটি ও মানুষকে নিয়ে। যারা আরো বড় যারা মনীষি তারা লেখে তাঁদের বিশ্বকে নিয়ে, পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়ে। তাদের লেখা পৃথিবীর সকল মানুষকে ভালোবেসে। তাদের গল্পের যে নায়কেরা তারা যেন তাই হেঁটে বেড়ায় আমাদের পাশে পৃথিবীর পথে, পৃথিবীর পাঠশালায়। কিন্তু সে সব গল্পেও থাকে লেখকের স্বপ্নের মানুষ গুলো। সত্য বলতে কি- পৃথিবীতে কোন মানুষই তার গন্ডির বাইরে যেতে পারেনা। কেঊ সীমার মাঝেও অনেক বড়; অনেকটা সরলরেখার মত –সরলরেখা যেমন একটা বৃত্তের অংশ যার ব্যাসার্ধ অসীম।ঠিক তেমনই আমরা ও যখন যা কিছু ভাবি তা আমাদের একান্তই চারপাশকে নিয়েই ভাবি। যেমন আজকে লিখব কদিন দেখা চলচিত্র নিয়ে। আমি অবশ্য চলচিত্র নামক খোট্টা শব্দখানা ব্যবহার না করে বলব শুধুই ছবি। গত প্রায় মাস কয়েক ধরে আছিই এ নিয়ে। ছবি দেখি। এক ছবি বারবার।অফিস থেকে এসে ছবি দেখি। সকালে তাড়াতাড়ি উঠলে ছবি দেখি। অফিসে ম্যানেজারের চোখ আর সিসিটিভি পেড়িয়েও ছবি দেখি যদিও খুবই সামান্য। অত সাহস নাই। এর মধ্যে যে ছবিগুলা ভালো লাগসে বা মনে হয়েছে না খারাপ না সেগুলার কয়েকটা নিয়েই একটু কথা বলব।
১। Der Untergang (ইংলিশ-DOWNFALL)

ইতিহাস নাকি জয়ীদের জন্য।পরাজিতদের ইতিহাস নাকি ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। যদিও আমার সংশয় আছে এ ব্যাপারে। কারণ পরাজিতরা ঘুরে দাঁড়ায় আজ হোক কাল হোক।ডাস্টবিনে তাকে ইতিহাস ফেলে দেয় কিন্ত মানুষের উচিত পরাজিতদের মনে রাখা- তাদেরকে পর্যবেক্ষন করা। আর তা না হলে গতকালের জয়ীদের ইতিহাস আবার ছুড়ে ফেলে দিবে পরাজিতদের কাতারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা ধরা যাক। জার্মান নাতসি বাহিনী হেরে গেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিষয়ে কোন ছবি থাকলেই কমন কাহিনী একটা কন্সান্ট্রেশন ক্যাম্প, এক নির্মম জার্মান অধিনায়ক, কিছু হতভাগা ইহুদি, আর তাদের বাঁচাতে আগুয়ান ক্ষেত্র মতে সোভিয়েত বা ইংরেজ বা মার্কিন বাহিনী। এবার অভিনেতার অভিনয় দক্ষতার উপর নির্ভর করে অস্কার পাবে কি না বা লিজেন্ডারী ছবি হবে কিনা। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন একজন জার্মান কি ভাবে? তাদের ভিতর কি চলছিল? তারা কি করে সেই সময়কে মোকাবিলা করেছিল। অমানুষ এক রাষ্ট্রনেতার ভেতর এ পরাজয়ের আগমনী বার্তা কি জানাচ্ছিল। কিছু মানুষের ভুল, নিষ্ঠুরতা, হটকারিতার কারণে সমগ্র জাতির পতনের এক গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে জার্মান ছবি Der Untergang (ইংলিশ-DOWNFALL)। মূলত এ ছবিতে ফুটে উঠেছে যুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে সোভিয়েত রেড আর্মি যখন বার্লিনের দিকে এগিয়ে আসছিল, যখন হিটলার কার্যত বার্লিনে তার বাংকারে বন্দী সেই সময় টা। খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা বলতে যে আসলে কি বোঝায় তা সেই সময় টাকে দেখলে বোঝা যায়। চারপাশে পরাজয়ের সংবাদ। এর মাঝে টিকে থাকার প্রয়াস। হতাশ হয়ে কারো পক্ষ ত্যাগ। হিটলার নামক এক এক নিষ্ঠুর লোকের সময়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। ছবিটা জার্মান ভাষায়। সাবটাইটেলে কিছু গুণ হয়ত হারাতে পারে। কিন্তু কিছু সংলাপ অসাধারন। এরা যে কত নিষ্ঠুর অ উন্মাদ ছিল তা গোয়েবলসের এক সংলাপেই বোঝা যায়,
I feel no sympathy. I repeat, I feel no sympathy! The German people chose their fate. That may surprise some people. Don't fool yourself. We didn't force the German people. They gave us a mandate, and now their little throats are being cut!
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শেষ মুহুর্তে জার্মানদের পতনের এক অসাধারন ছবি। হাজারো একই কাহিনীর ছবি দেখে যারা বিরক্ত তারা দেখতে পারেন। আশা করি খারাপ লাগবেনা। সবচেয়ে অসাধারন দিক হিটলার চরিত্রে জার্মান অভিনেতা ব্রুনো গ্রাঞ্জের অসাধারন অভিনয়। অভিনয় বা অত কিছু বুঝি না। আমার মনে হইসে হিটলার ই।
২।SHERLOCK (SEASON 1 & 2)

শার্লক হোমস পৃথিবীর সবচেয়ে সফল এক সৃষ্টি, সবচেয়ে জীবন্ত চরিত্র। তার জন্ম তো সেই কবেকার ইংল্যান্ডে। যদি তার এখন জন্ম হত তাহলে সে কেমন হত। একবার ভাবুন কেমন লাগবে হোমসকে আইফোন ব্ল্যাকবেরী হাতে এভিডেন্সের ছবি তুলতে দেখলে। কেমন লাগবে মরিয়ার্টিকে অসাধারন সব প্রযুক্তি ব্যাবহার করতে দেখলে। কেমন লাগবে যদি ওয়াটসন শাররলক কে নিয়ে ব্লগ লেখে? প্রথাগতভাবে ছবি না সিরিয়াল। কিন্তু SHERLOCK আমার দেখা সেরা ছবি বা সিরিয়াল যাই বলেন না কেন? অসম্ভব স্নায়ুক্ষয়ী। এখানে ওয়াটসন আফগানিস্তান ফেরত ব্রিটিশ মিলিটারি ডাক্তার। একদিকে রহস্যের উদঘাটন আরেকদিকে পৃথিবীর সেরা কিন্ত একেবারেই বিপরীত কাজে ব্যস্ত দুই মস্তিস্কের মানসিক যুদ্ধ। অসাধারন। আর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কাহিনীকে মোটামুটি অক্ষত রেখে যেভাবে বানানো হয়েছে সিরিজ তা অসাধারন। দুইটা সিসন। প্রতি সিসনে তিনটা করে পর্ব।বাজারে সিডি পাওয়া যায় কিনা জানিনা। আমি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে পাইসিলাম। সিসন ১ অসাধারন। কিন্তু সিসন ২……………………………………………………..শ্বাসরুদ্ধকর।কাহিনী বলার ভাষা বা যোগ্যতা নেই। দেখে নেন। পারলে কেউ ডাউনলোড লিংক দিয়ে দেন। আমি ডাঊনলোদ করিনা কারণ এখণো জিপিতেই আছি।
৩। The Ides of March:

উপরের যে দুইটার কথা বললাম তার তুলনায় গুণে মানে ধারের কাছেও না।কিন্তু তবুও The Ides of March দেখা উচিত। কারন ছবিটা এক টুকরা আমেরিকার রাজনীতি। আমেরিকার রাজনীতি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলে প্রেসিডেন্ট পদে দাড়ানোর লড়াই। ছবিতে জর্জ ক্লুনি পেনসিল্ভানিয়া অংগরাজ্যের গভর্ণর মরিস। ডেমোক্রেটিক পারটির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার জন্য সে লরাই করছে। তার জন্য প্রচারণার কাজ করছে স্টিফেন মায়ার। তাদের সেই প্রচারনা দলে আছে মলি নামের এক মেয়ে। মায়া্র তার সাথে ঘনিষ্ঠ হয় এবং জানতে পারে মরিসের সাথে তার অবৈধ সম্পর্কের কথা।অনভিজ্ঞতা, কিছু ভুল আর প্রতারণার শিকার হয়ে সে তার পদ হারায়। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিপন্ন হয়। কিন্ত মলির সাথে মরিসের অবৈধ সম্পর্কের কথাকে পুঁজি করে সে আবারো ফিরে আসে। বলা যায় ঝানু মার্কিন রাজনীতিবিদ হবার পথে এগিয়ে যায় সত্য গোপণ যেখানে উন্নয়ন অ নিরাপত্তার হাতিয়ার। মোটামুটি ভাল অভিনয় ছবিটাকে একেবারে মরে যেতে দেয়নি। আর ছবির একটা সংলাপ তো পুরা আমেরিকার শাসন ব্যাবস্থার কথাই তুলে ধর, যেটা মায়ার মরিসকে উদ্দেশ্য করে বলে,
You can lie, you can cheat, you can start a war, you can bankrupt the country, but you can't fuck the interns. They get you for that.
ছবি রিভিউ আমার কাজ না। আমি ওটা পারিনা। আমি শুধু জানালাম আমি এ গুলা দেখছি। আমার এ রকম লাগছে। এই দুইটা ছবি ও শার্লক সিরিজটা গত এক মাস ধরে দেখলাম। এখন এসব দেখেই চলি। খাবি খাওয়া জীবনে এসব ছবি আর ফেসবুক কে নিয়ে বেঁচে আছি। ভাল আছি।আরো কিছু ছবি দেখেছি ও দেখছি। সেগুলা নিয়ে কথা বলব আরেকদিন।





একটাও দেখি দেখিনি,দেখার চেষ্টা করবো

ভুলে ওয়েলকাম ভুলে তান্ডব নৃত্যের ইমো।পরেরটাতে একটা ওয়েলকাম ব্যাক জাতীয় কিছু দিলে ভাল হত। যাই হোক ধন্যবাদ।
না নৃত্য করি আনন্দে
ওয়েল্কামের ইমো টা ভুলে চলে গেছে, আচ্ছা আমার ব্লগে স্বাগতম
অন্যন্যা, এটা "আমার ব্লগ" না "আমরা বন্ধু"।
অন্যন্যা'র জীবন দেখি ভুলে ভুলে ভরপুর

এইযে আমার ব্লগ www.amrabondhu.com/ananna/
আরে এ কে?
প্রথমটা একটু দেখেছি, সিনেমাগুলো দেখা লাগবে।
====================
লেখালেখি নিয়মিত শুরু করো।
জানিনা । মনে হয় আর আগের মত হতে পারবোনা। আমার জীবনটা আমার কারণেই আর আমার থাকছেনা।
ডাউনফল তো দারুণ, সিরিয়াল দেখা হয় না, এইটার জন্য আগ্রহ হচ্ছে। আর ক্লুনিরটা কেনা আছে, দেখতে হবে।
সিনেমা দেখা মানে সময়ের অপচয়
মন্তব্য করুন