ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ কইরা যখন ঢাকায় মেস এ উঠি, আবিস্কার করি মেস বাসিন্দা বিসিএস পরীক্ষার্থী বড় ভাইয়েরা মেসে দুই খান পত্রিকা রাখেন। পরবর্তীতে আমার বন্ধুরা যখন একের পর এক সেই মেস এ উঠতে থাকে পত্রিকার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় তিন খানে।
দুইখান বাংলা পত্রিকা নিয়াই মেসবাসিন্দারা টানাটানি বেশি করতো, ইংরাজি ডেইলি স্টার খান আমার মত কামছাড়া আঁতেলের বিছানাগত থাকতো। প্রত্যেকদিন বদলা খাইটা আইসা পড়তাম দৈনিক তারা নিয়া। এই পাতা-ঐ পাতা ঘুরাঘুরি কইরা শেষে স্থির হইতাম স্পোর্টস অংশে। ফুটবল/ক্রিকেট/টেনিস ছিলো প্রধান আকর্ষণ। নিয়মিত ইংরাজি পত্রিকা পাঠ করায় ভাষাজ্ঞানের কতখানি উন্নতি হইছে তা আল্লাহ মালুম। কিন্তু ফুটবল তথা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের প্রতি একটু একটু কইরা টান যে বাড়তেছিলো তা এখন মোটামুটি 'শিউর' কইরা কইয়া ফেলতে পারি। এই নিয়মিত ফুটবল সংবাদ পাঠের একটা বিরাট লাভ ছিলো। ফুটবল নিয়া যে যেখানেই যেই ধরনের আলাপ শুরু করতো, পাঁচ মিনিটের মাথায় আলাপ বাদ দিয়া হুঁ-হ্যাঁ করা শুরু করতো আমার জ্ঞানগর্ভ ত্যানা প্যাঁচানির ঠেলায়। ফলতঃ বন্ধুমহলে 'বিরাট' ফুটবল জ্ঞানী হিসাবে বিবেচিত হওয়া শুরু করলাম। এরপর আসলো ২০০৬ বিশ্বকাপ। ফুটবল জ্বরের ঠেলায় বন্ধুর কম্পিউটারের মনিটররে টিভি বানানো হইলো। ইতালী চ্যাম্পিয়ন হইলো। বাকী মেসবাসিন্দাগো থোতা মুখ ভোতা কইরা ইতালী জিতায় আমারে আর পায় কে?!
আমার লাফালাফিতে দুয়েকজন বিরক্ত হইয়া ঢিলা স্ক্রু টাইট দেয়ার লাইগা স্ক্রু-ড্রাইভার খুঁজতে বাইর হইছিলো। ডিশের লাইন পূর্বপ্রতিশ্রুতি মোতাবেক আর ফেরত গেলো না। বরং প্রিমিয়ার লীগের লাইভ খেলা দেখাটা একটা নতুন আকর্ষণ হিসাবে দাড়াইলো।
.
.
.
তারপর, তারপর দিন কাটিতে লাগিলো.........
প্রিয় বন্ধুরা একে একে চাকরি নিয়া মেস ছাড়িতে লাগিলো........
সময়ের প্রয়োজনে আমিও একদিন অফিসের কাছাকাছি থাকিবো বলিয়া, সকলের সম্মতিক্রমে সকলে মিলিয়া সেই মেস বিলুপ্ত করিয়া চলিয়া আসিলাম। সাথে সাথে হয়তো সকলে মিলিয়া ফুটবল দেখিবার সেই উন্মাদনাটাকেও চিরতরে কবর দিলাম। হয়তো এভাবেই চলিয়া যাইতো দিনগুলি........
.
.
.
কিন্তু না, এলো ২০১০ বিশ্বকাপ। আবার মনে জেগে উঠলো হারানো ফুটবল প্রেম। বিশ্বকাপ গেলো, কিন্তু ইএসপিএন সকারনেট সূত্রে ইউরোপিয়ান ফুটবলের ট্রান্সফার উইন্ডো অনুসরণ শুরু করলাম। অফুরন্ত অবসরে দিনের পর দিন পড়তে থাকলাম ফুটবল সংক্রান্ত সব খবর-গুজব-ব্লগ-কলাম-আলোচনা। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার মধ্যে চেষ্টা করছি ইএসপিএন এর সঙ্গে থাকার, বিশেষজ্ঞ মতামতগুলো শোনার, নিজের মতো করে বিশ্লেষণ করার। চেলসির দুর্দান্ত ফর্ম, ম্যানচেস্টার সিটির অনিঃশেষ অর্থ ব্যয়, আর্সেনালে ফ্যাব্রেগাস এর থাকা-না থাকা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খারাপ অ্যাওয়ে ফর্ম সঙ্গে রুনির দল পাল্টাতে চাওয়া, লিভারপুলের মালিকানা ও রেলিগেশন ফাইট, টটেনহ্যাম এর চ্যাম্পিয়নস লীগ অভিযান, ব্ল্যাকপুল আর ওয়েস্ট ব্রোম অ্যালবিয়ন- দুই দুর্বলের দারুণ ফুটবল, এভারটন আর ওয়েস্টহ্যাম- দুই মাঝারি দলের নিম্নমুখী যাত্রা - সব মিলিয়ে খারাপ চলছে না ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ। সময়টা আমারও কাটছে দারুন।
.
বি.দ্র. - ইহা একখানা আকামের ব্লগ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের দলগুলি সম্পর্কে সম্প্রতি কিছু লিখিতে ইচ্ছা করিতেছে। তাহার ভূমিকা হিসাবে এই ব্লগখানাকে বিবেচনা করা যাইতে পারে।





bhalo leksos re asif,
surjo
থ্যাংকু দোস্ত।
আমি পয়লা বুঝি নাই, তুই এইটা।
আপনে যে ইতালির সাপোর্টার এইটা আমি আগেই সন্দ' করসিলাম গো ভাইডি।
আর চেলসিরে ভালো পান দেইখা পুরান একটা কথাই খালি মাথায় আসছে, গ্রেট মেন থিংক এলাইক।
(ফার্স্টে লিখছিলাম, আরো সন্দেহ করতাসি চেলসিরেও ভালো পান।
। কিন্তু আগের পুস্টের কমেন্ট দেইখা এই কমেন্ট পুস্টানোর আগে ২য় লাইন এডিট কইরা দিলাম)
ইতালীর ছেলে সাপোর্টার পাওয়া খুব ভাইগ্যের ব্যাপার

আপনারে দেইখা বুকে সাহস পাইলাম।
বন্ধু-বান্ধব না বুইঝা কেবল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করে। আমার বন্ধু জিলানীরে এই বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের পাঁচটা খেলোয়াড়ের নাম কইতে কইসিলাম, আংকেল ছাড়া কারো নাম কইতে পারে নাই।

ক্যান?????
আরেকটা প্রশ্নঃ মীর আর আসিফ ভাইয়ের বাড়ি কি চট্রগ্রাম????

মেয়েরা ইতালী সাপোর্ট করে বেশি এইটা তো জানা সত্য।
চট্টগ্রাম শুনলে কি খুশি হন?


এই ব্লগের চাঁটগাইয়া পুলারা কিন্তু আপনার ইঙ্গিতে খুশি হবে না।
খেলাধূলা জিনিসটাই আকামের
লেখা ভালু পাইলাম
খেলাধুলা করাটা কামের মধ্যে পড়ে, ইদানীং ক্রিকেটারদের আয়-রোজগার দেখে টাশকি খাই।
আমার মতো খেলাধুলা দেখাটা অবশ্যই আকামের।

এইটা যদি ভূমিকা হয় তাইলে সূচিপত্র মিসগেছে
যাউকগা... আমরা কিন্তু বুইঝাই ব্রাজিলরে সাপুট করি :)। তবে ইতালির ডিফেন্সকে সব সময় সমীহ করতাম :)। এক সময় রবার্তো ব্যাজ্জিওর খেলায় মুগ্ধতা ছিল
চলুক
চুরানব্বই এর বিশ্বকাপে ব্যাজিও আট দিনে পাঁচটা গোল দিয়ে একা হাতে দলকে ফাইনালে তুলেছিলো। আমি ঐ সময় খেকে ইতালী সমর্থন করা শুরু করি।
সূচীপত্র এর আগে একটা কাভার পেজ এরও দরকার ছিলো মনে হয়।

আপনি ফুটবলের 'বিরাট জ্ঞানী লুক' জাইনা চুপ থাকলাম..কার নাম জিগান ঠিকাছেনি
ভূমিকা দেইখ্যা মনে বল পাইছি, আমার মতু কম কথার লুক আছে তাইলে
ভালো থাকা হোক।
তবে মীরের সাথে আমি একমত নহি..জ্ঞানীলুকেদের সাথে একটা/দুইটা বেক্কলও থাকে কিন্তু..তার নাম 'বাতিঘর'
খালি কলসি ছাড়া নিজেরে অন্য কিছু ভাবি নাই কখনো।
বাতিঘর মাঝে মাঝে ঝলক দেখায়, নিজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। আমরা যা বুঝার বুঝে নিয়ে চুপ থাকি।
লিখেন তাড়াতাড়ি। পাঠক হিসাবে নাম লিখায়লাম।
তানবীরার সেই আশির দশকের শেষে আর নব্বইয়ের শুরুতে ইটালিয়ান লিগের রমরমা দিনে বিটিভিতে পর্যন্ত সেগুলো দেখাতো (কয়েকমাস পরে আরকি)। জিলেট ওয়ারর্ল্ড স্পোর্টস স্পেশাল নামের একটা প্রোগ্রামে। সেই রামও নাই অযোধ্যাও নাই
। ফ্রাঙ্কো বারেসি নামের একজন সু্ইপার ব্যাক পজিশনে ম্যালাদিন ছিলো মনে পড়ে।
এখন খেলাধূলা আকামের লাগে
ইতালির এতো সুরুৎআলা প্লিয়ার থাকতে নুশেরার খালি বুইড়া আর টাক্কু বারেসির কতঅই মনে থাকলো?
বারেসি!!
ব্যাজিও এর মতো একজন কিউট, হ্যান্ডসাম ফুটবলার আপনার চোখে পড়ল না!!
আমার ইতালিয়ান লীগের কথা মনে নাই, তবে বিটিভিতে প্রতি সপ্তাহে ম্যান ইউ আর লিভারপুলের পুরনো খেলা দেখাতো নব্বই এর দশকের প্রথম দিকে এটা মনে আছে। প্রোগ্রামের নাম মনে হয় ঐটাই ছিলো।
আরেকজন ফুটবলভক্ত পাওয়া গেল
।
ওয়ান গেম, ওয়ান কমিউনিটি।

আগে কন এবার কি চেলসি চ্যাম্পিয়ন? রনি দল বদলাইতে চাইতাছে কেন? স্ক্যান্ডালের কারণে ইংল্যান্ড ছাড়তে চায়? ম্যান সিটির আশা কতখানি।
আপনে আমার দেখা বা জানা একমাত্র ইতালির ছেলে সাপোর্টার।
১) সাপোর্টার হিসাবে চাইবো চেলসি চ্যাম্পিয়ন হোক, কিন্তু চেলসি'র রিজার্ভের অবস্থা সুবিধার না এইবার। বালাক, ডেকো, কারভালহো, বেলেত্তি, জো কোল-এসব খেলোয়াড়দের বাদ দেবার পর নতুন সংগ্রহ তেমন নাই। চেলসি এবার নিজেদের একাডেমির তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চাইছে। কিন্তু কাকুতা, স্টারিজ, ভ্যান এনহাল্ট এরা এখনো সিনিয়র পর্যায়ের জন্য তৈরি বলে মনে হয়নি। বিশেষত দ্রগবা, মালুদা, এসিয়েন, মিকেল, টেরি আর চেক এ ছয়জন মূল খেলোয়াড়ের যেকোন দু'জনের দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরি হলে চেলসি ভুগবে। ইতিমধ্যে ল্যাম্পার্ড আর বেনাইয়ুন ইনজুরির জন্য দলের বাইরে আছেন। তাই দীর্ঘ মৌসুমের কথা মনে রেখে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে চেলসি'র দু'তিনজন নতুন খেলোয়াড় কেনা উচিত।
আমার ধারণা ম্যান সিটি এবার চ্যাম্পিয়ন হবে, জাস্ট টাকা দিয়ে তারা এবার ট্রফিটা কিনে নেবে।
২) রুনির ব্যাপারে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম মাঠের বাইরের ব্যাপার গুলো থেকে পাবলিক এটেনশন দূর করার জন্য ফার্গুসন আর রুনি মিলে এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এখন মনে হচ্ছে রুনি জানুয়ারিতেই দল ছাড়ছেন। সম্ভাব্য গন্তব্য ম্যান সিটি বা চেলসি (যে বেশি টাকা দেবে
)। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ব্যাপারটা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অনেক বছর ধরেই ম্যান ইউ রিয়াল এর ফিডিং ক্লাব হিসাবে কাজ করছে-বেকহ্যাম, নিস্তলরুই, ছোট রোনালদো।
টাকাটাই মনে হয় রুনির প্রধান লক্ষ্য। দুর্বল শক্তির দল ইত্যাদি সব বাজে কথা।
৩) আপনার ধারনা ইতালী দেশটাতে কোন ছেলে নাই!!

মানচেষ্টার ইউনাইটেড প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে চাই! ১৯৯৬ সালে মাঞ্চেষ্টারে মাঠে বসে ইংলিশ লীগের খেলা দেখেছিলাম - মানচেষ্টার ইউনাইটেড এবং লিভারপুল ক্লাবের। সেই থেকে আমি ক্লাব ফুটবলে মানচেষ্টার ইউনাইটেডের সমর্থক। যতদুর মনে পড়ে সে বছর মানচেষ্টার ইউনাইটেড ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জিতেছিল।


The Manchester United squad line up for the team group photo
at the start of the 1996/97 season
বর্তমান টিম।
"ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের দলগুলি সম্পর্কে সম্প্রতি কিছু লিখিতে ইচ্ছা করিতেছে। তাহার ভূমিকা হিসাবে এই ব্লগখানাকে বিবেচনা করা যাইতে পারে ।"
খেলাধুলা আকামের হোক আর কামের হোক তাতে কিচ্ছু যায় আসে না । বিবেচিত ভূমিকা সুন্দর হয়েছে । যার সম্পর্কেই লেখা হোক না কেন, তা এই ভূমিকার মত সহজ-সরল-সরস হলে আমরা পড়ে আনন্দ পাব । পাঠকদের জ্ঞানদানের চেয়ে আনন্দ দানেই লেখকের সার্থকতা ।
মন্তব্য করুন