বাঙ্গালীর জাতীয় প্রার্থণা
- ' আমাগো শেখ মজিব আইলে বেবাক ঠিক হ’য়া যাইব’ ! ফুটপাত ধরে হাঁটছিলাম, কচি কন্ঠের কথা ক’টি কানে এলো । দাঁড়ালাম । অপর্ণা চরণ গার্ল স্কুলের (নন্দন কানন) অপজিটে যেখানে এখন ইলেক্ট্রিক মার্কেটটি গড়ে উঠেছে, সেখানটা তখনো খালি । প্রকান্ড কড়াই গাছ ক’টি চার দিকে ডাল পালা মেলে দাঁড়িয়ে । ১ জানুয়ারী ’৭২ এর সকাল । হাড় কাঁপানো শীত । নব বর্ষের সোনা রোদ তখনো কোর্ট হিলের ওপারে আটকে আছে, এপাশে তার উষ্ণ সোনালী ছোঁয়া পৌঁছায়নি । ৮ / ১০ বছরের দু’টি বালক তখনো যাদের নাম পথকলি বা টোকাই হয়নি, কুড়িয়ে পাওয়া কাগজ, ঝড়া পাতা আর ছোট ছোট শুকনো ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বেলে শীত তাড়াবার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে । কাছে গেলাম । আগুনের দিকে হাত মেলে দিতে দিতে বল্লাম, ‘খুব শীত ! তাইনা’ ? ওরা এ ওর প্রতি তাকাল । তারপর আলতো মাথা দোলালো, যেন এ আপদ আবার কোত্থেকে !
- ' কি নাম’ ? তাদের পাশে বসতে বসতে জানতে চাইলাম ।
- ' আমি কালু’, একজন বলল, ‘ আর ও হচ্ছে আইজ্জা’ !
- ' খুব সুন্দর নাম’ ! আমি হাসলাম, ‘ তা তোমরা থাক কই’ ?
- ' এইহানে’ ! কালু আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ! কড়াই গাছের গোড়ায় ছেঁড়া চটের একটা স্তুপ । দুই পাশে ভাঙ্গা প্যাকিং বাক্স গাদা করে রাখা, রাতে হিমেল হাওয়ার কামড় থেকে নিজেদের বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা ! প্যাকিং বাক্স গুলো দেখে সুকান্তের একটি লাইন মনে পড়ে গেল । “ ছোট্ট মোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখে প্রসাদের ভিতর রাশি রাশি খাবার” ! এ বালক দু’টিও কি চটের বিছানায় শুয়ে স্বপ্ন দেখছিল তাগো মজিব এসে সোনার কাঠি ছুঁইয়ে সব দুঃখ-কষ্ট-অভাব-অনটন মুছে দেবেন ? ‘৭২ এর নব বর্ষে সমগ্র জাতিই একই রকম স্বপ্নে বিভোর ছিল ।
- বহুদিন কেটে গেছে অতঃপর । ৩৯ টি নব বর্ষ বরণ করেছে বাঙ্গালী ইতিমধ্যে । মানুষ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে । কালু আর আইজ্জাদের সংখ্যা ও । মুজিব, জিয়া, এরশাদের পর পর্যায়ক্রমে এসেছেন খালেদা, হাছিনা এবং খালেদা, হাছিনা । নব প্রজন্মের তারেক ও প্রায় এসে গেছিলেন যদি না এম ইউ, এফ ইউ’র ক্যামো সরকার আর দূদকের আচমকা ক্যাঁচকা মার খেয়ে কোমড় পাঁজর ভেঙ্গে পপাত ধরণী তল হতে হতে না হত ! জয় ও বাণী টানি দিচ্ছেন মাঝে সাঝে । মনে হয় আসি আসির ইউ টিউবে আছেন ।
- হাজার বছর ধরে বাঙ্গালী নূতন নেতৃত্বকে ঘিরে স্বপ্ন বুনে চলেছে, মুক্তির বেদিমূলে খুনের অর্ঘ্য ঢেলে আসছে ! খন্ডিত একটুকরো মানচিত্র ছাড়া কিছুই আর জোটেনি জাতির কপালে ! নূতন নূতন স্বপ্নের পসরা নিয়ে যেইই আসে, সিংহাসনে বসে একটুও দেরী না করে সে ও বনে যায় রাবণ কূলের কেঊ । তারপর গপাগপ গিলতে শুরু করে দলবল, চেলা চামুন্ডা নিয়ে । মায়ের ভাঁড়ার শূণ্য হতে থাকে ! কপালের দুঃখ আর মুচেনা ! বুকের জ্বালা ঘুচেনা !
- তবুও বাঙ্গালী স্বপ্ন দেখে ! নব বর্ষকে বরণ করে ! শুভ কামনা করে প্রিয়জনের, জাতির, দেশের । বাঙ্গালী জাতীয় সঙ্গীত আছে যা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বঙ্গীত । একটি জাতীয় প্রাথর্ণা ও কি থাকা উচিৎ না ? বৃটিশদের যেমন আছে ! যার প্রথম কলি, “ God save the Queen.”
- আমাদের যদি কোন জাতীয় প্রার্থণা হয়, তা কেমন হওয়া উচিৎ !
“ প্রভু তুমি আমদের এ সুন্দর দেশটাকে রক্ষা কর !
রাজনীতির সন্ত্রাস দূর্নীতি আর সর্বগ্রাসী ক্ষুধা থেকে” !
- এমনটা কি ?





আমি যোগ করতে চাই, প্রভু তুমি আমাদের এ সুন্দর দেশটাকে রক্ষা করো সুবিধাবাদীদের হাত থেকে।
যাক্ হ্যাপী নিউ ইয়ার ব্রাদার। আছেন কেমন?
সুবিধাবাদী নিপাত যাক !
ধন্যবাদ প্রথম মন্তব্যের জন্য । আপনাদের আশির্বাদে মোটামুটি আছি । সর্দিটা ছাড়ছেনা কিছুতেই । একেবারে নাকাল করে রেখেছে ।
শুভ নব বর্ষ এ বি 'র সকল বন্ধুর প্রতি ।
সহমত ? ধন্যবাদ !
সহমত ? ধন্যবাদ !
“প্রভু তুমি আমাদের সবসময় নিয়ম মেনে চলতে শিখাও” !
...বাকি সব এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে
~
রাজনীতিবাজদের কাছে অনিয়মই এখন নিয়ম !
অবশ্যই সহমত।

অবশ্য অবশ্যই ।
এতে কি কিছু লাভ হবে? প্রভুতো বলেছেন যে নিজেকে রক্ষা করে না, আমিও তারে রক্ষা করিনা
প্রভুর ইচ্ছা ছাড়া কোন কিছুতো হয়না বোন ! আর আমার মতো বয়স্করা প্রভুর কাছে হাত পাতা আর কিইবা করতে পারে এখন ! অস্ত্র দিয়ে দিয়েছি । নেতা ও চলে গেছেন । অন্যায়ের ,অসত্যের পূজারিরাই তো আজ হর্তা-কর্তা । আর তরুণরা যারা পারতো তারাতো দলবাজি টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত । দেশ যাহান্নামে গেলে তাদের কি ! অতএব প্রার্থনাই সই !
মন্তব্য করুন