ইউজার লগইন

বন্ধু- আড্ডা - গান, এরই মাঝে প্রাণ!

শেষমেশ ফিরেই এলাম আবার।
এক কুঁড়ি দুই পাতার দেশ, সিলেট থেকে।
আবারও শুরু আমার চিরাচরিত অলস হাবিজাবি দুষ্টামি দিন।

একবার ভেবেছিলাম এই লেখাটার নাম দিবো, 'সিলেট থেকে ফিরে - ট্রাভেলগ!'। পরে মনে হল, তাহলে কথাটা মিথ্যা বলা হতে পারে! এগারো দিন থেকে এলাম বটে সিলেট, কিন্তু ঘুরতে যাইনি কোন খানেই। কেবল, আদর্শও ছুটির মেজাজে বেড়িয়ে এলাম এই কয়টা দিন।

আচ্ছা, শুরু থেকেই বলি।

পরীক্ষা তো সেই কবেই শেষ, তারও আগে থেকে সিলেট যাবো যাবো করছিলাম। হবে হবে করেও হচ্ছিল না। ১০ তারিখ হঠাৎ করেই মনে হল, যাই গা!
বায়াকে বললাম, ও অফিস থেকে কমলাপুর স্টেশন গিয়ে পেয়ে গেল পরের দিনের টিকেট! এমনিতে যেখানে ৩/৪ দিন আগেও টিকেট কাটতে গিয়ে ফেরত আসতে হয়।

আমাকে আর পায় কে!

টুকটাক কেনাকাটা সেরে সন্ধ্যার পরপরই ব্যাগ গুছিয়ে রেডি।

সিলেট যেতে হলে আমি পারাবতেই যাই। কমলাপুর থেকে ছাড়া ৬:৪০ এর ট্রেন, ভোরে উঠতে হবে - এই টেনশনে কখনই ঘুম হয় না খুব একটা। ১১ তারিখ সকাল ৭টার মাঝেই আমি এয়ারপোর্ট ইস্টিশন। চমৎকার ভেজা বাতাসের দিন। একটু পড়েই ট্রেন এসে পড়ল, উঠে পড়লাম। সূর্যের দেখাই মিললো প্রায় দুই ঘণ্টা পর। তখন জানালায় মাথা রেখে বাতাসে ভেসে আসা সূর্যের আলোর সময়টা আসলেই খুব খুব চমৎকার লাগে। মুঠোফোন কিছু গান শুনলাম, লুপে ফেলে। কয়েক কাপ চা। সিলেটের ট্রেনে উঠলে টি ব্যাগের চা খেতে আমার সিরিয়াস বিরক্ত লাগে। বিশেষত শ্রীমঙ্গলের কাছাকাছি পোঁছে গেলে তো কথাই নাই। চারদিকে পাহাড় ভর্তি চা বাগান। পুরা ট্রেনের কামরা নিমিষেই ভরে যায় সতেজ চা পাতার গন্ধে। এমন সময় টি ব্যাগের চা, নিঃসন্দেহে যে কোন চা প্রিয় মানুষের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ হবার কথা!

সিলেট পৌছতে পৌছতে পৌনে দুইটা। সিলেট থেকে জাফলং যাওয়ার রাস্তার মাঝামাঝি হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, ছোট খালামুনির বাসা। অনেক দিন পর যাওয়া হল এবার। ওখানে গেলেই যে জিনিসটা সবচাইতে বেশি ভাল লাগে, তা হল পুরোটা সময় জুড়ে খালামুনি আর খালাতো বোনটার চোখেমুখে প্রায় সর্বক্ষণ লেগে থাকা এক টুকরা হাসিটা। দেখলেই মন ভাল হয়ে যেতে বাধ্য।

ওখানে মাঝে মাঝেই যাওয়া পড়ে আমার, বছরে গড়ে তিন চার বার। চারদিকে নিঝুম সব গ্রাম আর তার মাঝখানে একটুকরো শহরের মত লাগে। দিন নেই রাত নেই, ঝিঁঝিঁ ডাকছে তো ডাকছেই। সারাদিন এদিক সেদিক বানরের কিচকিচ আর সন্ধ্যার পর থেকেই গ্যাস ফিল্ডের চারপাশের সীমানা প্রাচীর ঘিরে শেয়াল সঙ্গীত! প্রায় সারাদিনই নীরব চারদিক, সন্ধ্যা হলে তো কথাই নাই। রাত আটটা নয়টায় বাসার নিচের রাস্তায় নামলেই মনে হবে রাত দুইটা তিনটা বাজে। হাওয়া বদলের জন্য পারফেক্ট অবস্থা। ঘুমও হয় দারুন, কেবল একটাই সমস্যা - এত্ত রাজ্যের পাখি ওখানে, ঘুম ভেঙ্গে যায় এক্কেবারে সকালেই!

এইবার আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম ঘুরবো না খুব একটা, কেবল রাতারগুলের জঙ্গলে ঘুরতে যাবো যদি পারি। পড়ে মনে হল, ওখানে বরং নেক্সট বর্ষায় যেতে পারলে মজা পাওয়া যাবে।

তাই ঘরোয়া আড্ডা আর গানেই কেটে গেল সময়। এবার নানুও ছিল ওখানে, সবাই মিলে বাঘাডুলি খেলার মজাই আলাদা। তবে নানু কি কি জানি দোয়া পড়ে দুমদাম জিতে যাচ্ছিল বারবার! রহস্যময় সব ব্যাপারস্যাপার!

এর আগের বার পাশের বাসার পিচ্চির সাথে পরিচয় হয়েছিল, ৪/৫ বছর হবে বয়স। একদিন উনি আসলেন আমার সাথে আড্ডা দিতে, খুব সিরিয়াস হয়ে সাপলুডু খেললাম। উনি হেরেও ভীষণ খুশি!

খালামুনির বাসায় গেলেই প্রত্যেকদিন সকাল সকাল মন ভাল হয়ে যায়। একেকদিন একেকরকম আমার প্রিয় যত খাদ্যদ্রব্য! সবচাইতে প্রিয় পাটিসাপটা পিঠা তো থাকবেই। এইবার আমার ছোট্ট বোনটা পর্যন্ত আমাকে কেক আর পুডিং বানিয়ে খাইয়ে দিল!

এই পুচকার কথা মাথায় আসলেই মনে হয় যে উনি যখন ঠিকমতো হাঁটতেই শিখেনি, তখনই তুরতুর করে হাত পা বেয়ে কোলে উঠে যেত। তারপরই মাত্র দুই দাঁতের ভুবনমোহিনী এক হাসি! আহা, এই পিচ্চি এখন ক্লাস টেনে পড়ে। আমাকে আদর করে এটা সেটা বানিয়ে খাওয়ায়! কি অচিন্তনীয় আনন্দময় ব্যাপার!

এইবার ওখানে থাকলাম ৫ দিন। এরই মাঝে একদিন বাসার নিচে দাড়িয়ে আছি খালামুনির সাথে। খালামুনি একটা পিচ্চি মেয়ে কে ডাক দিয়ে আনলো, ক্লাস ফোর বা ফাইভে পড়ে হয়তো। তাকে বলা হল যে, তার যে নাম এই ভাইয়াটার নামও সেম সেম! উনি কিছুক্ষণ আমাকে পর্যবেক্ষণ করলেন, অতঃপর একটা অবিশ্বাসের হাসি দিয়ে খেলতে চলে গেলেন! ব্যাপক মজা পাইছি ব্যাপারটায়! অবশ্য, আমার পিচ্চিকালে আমার সাথে এমন কিছু হলে আমিও নিশ্চয়য়ই এমন একটা কিছুই করতাম!

এভাবেই শেষ হয়ে এলো সিলেট সফরের প্রথম চ্যাপ্টার।

এই সিলেটেই আমার একটা বেষ্ট ফ্রেন্ড থাকে। দেখা হয় না খুব একটা, কথাও খুব বেশি না। তবুও, আমি জানি ' হি ইজ অলওয়েজ দেয়ার ফর মি, অলওয়েজ।'।

১৬ তারিখ ওর জন্মদিন, ১৫ তারিখ রাত বারোটা বাজতেই ফোন দিলাম। গলা ভাঙ্গা টের পেয়ে হুদাই প্যাচাল পারলাম অনেক ক্ষণ, তারপর কোন উইশ না করেই ফোন রেখে দিলাম! ওর বাসা খালামুনির বাসা থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টার পথ। ১৬ তারিখ দুপুরেই বের হলাম, সিলেট শহর পৌঁছে ওর এক মামা কাম বন্ধুর সাহায্যে ওর বাসায় পৌছতে পৌছতে প্রায় বিকেল।

ওর সারপ্রাইজড লুকটা ভুলবো না কোন দিন। সব আনন্দ বলে বোঝানো যায় না। তবুও বলবো আমাদের জীবনের একেকটা প্রিয় মানুষের চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠার কারন হতে পারার চেয়ে বড় কোন আনন্দ আমার অন্তত জানা নেই।
এইজন্যই, 'আই জাস্ট লাভ সারপ্রাইজেস'!

সিলেট শহরসীমার জাস্ট বাইরে। সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জের গোবিন্দপুর, ছোট্ট নিরিবিলি এক গ্রাম। ছোট্ট একটা পাকা রাস্তা, তাতেই চাইলে পায়ে হেঁটে ঘুরে আসা যায় পুরোটা এলাকা। এখানেই থাকে আমার বন্ধু।

শহরের ঘিঞ্জি দালানকোঠার ভীড় থেকে বের হতে পারলেই আকাশটা হুট করে কিভাবে যেন বিশাল বড় হয়ে যায়। চারদিক ফাঁকা এমন কোথাও একটু দাঁড়ালে মনে হয় চেনা সবকিছুই এক অচেনা ভালো লাগায় বদলে যায়, হয়তো চাঁদটাও। আর নয়তো কোয়ার্টার চাঁদের আলোয় কেন মনে হয় দুনিয়া ভেসে যাচ্ছে!

বন্ধুদের সাথে কাটানো সময় গুলো আসলেই খুব অদ্ভুত। ওই সময় মনে হয় সময় নিজেই জেন স্থির হয়ে আছে, অথচ সময়টা কেটে যাওয়া মাত্রই মনে হয় সময়টা বড় বেশি তাড়াহুড়ো করে চলে গেল!

ওখানেও খুব বেশি ঘুরাঘুরি করা হয় নি। একদিন কেবল গেলাম ওর মামার বাসায়, ওর বাসা থেকে আরও গভীর এক গ্রামে। প্রায় ২/৩ কিমি পায়ে হাটা পথ, ভরদুপুরে খালিপায়ে ঘাসে হেঁটে যাওয়ার মাঝে অদ্ভুত একটা মাদকতা আছে। এবারই তা প্রথম টের পেলাম।

আর পড়ন্ত বিকেলে পুকুরের শীতল পানির পরশ, এক কথায় অসাধারন।

আরেকদিন গেলাম ওর নানাবাসা।
মামা খালা সবাই এত্ত হাসি খুশি যে মনে হচ্ছিল বুঝি ঈদ।
আর সব্বাই এতটাই মিশুক যে একবারও মনে হয়নাই আমি এই ফার্স্ট ওখানে গেলাম।

আর বন্ধুর বাসার কথা কি বলবো। নিজের বাসার স্বাধীনতাতেই ছিলাম ওখানে, প্রত্যেকটা মুহূর্ত। সারাদিন এদিক ওদিক হাটাহাটি, একটু পর পর মাটির চুলায় তৈরি চমৎকার স্মোকি ফ্লেভারড চা!

রাতগুলো ছিল সবচাইতে চমৎকার। কোন মুভি দেখা, কিছু গান। আড্ডা, সাথে চা কিংবা কফি। ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়ার পরও আরও দুয়েক ঘণ্টা আড্ডা আর মুঠোফোনে শোনা গান। কোন দিন মোবাইল স্ক্রিনে ৬টা বাজতে দেখে খেয়াল হওয়া , না - এখন ঘুমানো দরকার! বেলা করে উঠেই হরেক রকম নাস্তা।

একদিন সব্বাই মিলে নদীতে মাছ পর্যন্ত ধরা হল। বাঁশ দিয়ে তৈরি কোণের মত বিশাল একটা জিনিস, উপরের দিকে ঘাস,ভাঙ্গা ডাল দিয়ে ভরে বাঁশের সাথে বেঁধে নদীর গভীরে রেখে দিতে হয়। কয়েকদিন এভাবে রাখলে মাছ তাতে বাসা বানায়। তখন টেনে তুলতে হয়। সিম্পল।

দুপুরের রোদ্দুরে সাইকেল নিয়ে দৌড়। ছোট্ট রাস্তা বেয়ে গ্রামের শেষ সীমায়, গাছের ছায়ায় কালভার্টে পা দুলিয়ে বসে - চাই কি, পাশেই ঘাসের গায়ে মন এলিয়ে শুয়ে এটা সেটা কত এলোমেলো কথকতা। দুপুরের এই অদ্ভুত অলস সময়টায় এইসব হাবিজাবি আড্ডা আর গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা রোদ্দুরের ঝিলমিল কেন যেন মন খুব খুব উদাস করে দেয়। তবুও সব কিছু খুব ভাল লাগে, মন ভাল হয়ে যায়।

বিকেলের দিকে বাসার সামনের ছোট্ট নদীটা নৌকায় পার হয়ে রেল লাইন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাক্ষী হয়ে থাকা এক পুরাতন রেলস্টেশন পার হয়ে হেঁটে যাওয়া। সন্ধ্যার পর সবাই মিলে হেঁড়ে গলায় গান গাইতে গাইতে রেল লাইনে পড়তে পড়তে তাল সামলে ফিরে আসা। আবার কোনদিন একটু দূরে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সুবিশাল রাস্তা জুড়ে চমৎকার আলপনা, ওঁদের পা দিয়ে মাড়িয়ে পথ চলতে একটু কষ্টই হচ্ছিল। শেষে গাজি কালুর টিলায় চাঁপা, আমার দেখা সিলেটের সবচাইতে সুন্দর সূর্যাস্ত।এত্ত সুন্দর একটা জায়গা, মনে থাকবে অনেক অনেক দিন।

বন্ধুর বন্ধুও কিন্তু বন্ধু তাই আরও কিছু বন্ধু মিলে যায়। যে আমি খুব বেশি মানুষের সাথে বলতে গেলে মিশতেই পারি না সেই একই আমি দেখা যায় একটু মিশতেই জ্বালিয়ে সবার জান পেরেশান করে দিচ্ছি! কি আজব!

ঢাকায় আসার আগের রাতে হল কালবোশেখি ঝড়, ব্যাস - শুরু লোডশেডিং।
সকালে উঠে দেখি তখনও কারেন্ট নাই। সাইড এফেক্ট হিসেবে পানিও নাই!
মোবাইল খুলতেই একটা মেসেজ ঢুকল 'পিওর ইট' এর পক্ষ থেকে,
বলে 'ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডে'! আহা, কি টাইমিং!

শুক্রবার দুপুরে ছিল ফেরার ট্রেন। স্টেশনে এসেছিল আমার পাগলা বন্ধুটাও।
ওর একটা বাজে অভ্রাস আছে, আমাকে বিদায় দিতে নিলেই তার চোখে রাজ্যের বালি এসে পড়ে! এবার অবশ্য একটু চালাক হইছে, চোখে সানগ্লাস ইসমাট হয়ে গেছে!

ট্রেন ছাড়ল বেশ খানিক লেটে। ঘন্টাদুয়েক ঘুমিয়ে নিলাম। মোবাইলে নাই চার্জ, কিছুক্ষণ গান শুনতেই অফ! সন্ধ্যার পর আজম্পুরের কাছাকাছি পৌঁছে শুনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নাকি টর্নেডো! ঘণ্টাদুয়েক বসে থাকতে হল চুপচাপ, বাস ট্রেন দুই রাস্তাই বন্ধ ছিল ৪/৫ ঘণ্টা আশেপাশের সব ধ্বংসাবশেষে! এরকম ঘটনাগুলি সবসময় পেপারে বা টিভি নিউজেই চোখে পড়ে, আসলে দেখাই হয় না। টর্নেডোর আঘাত যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে নিজের চোখে না দেখলে কক্ষনো বুঝতে পারতাম বলে মনে হয় না।

আমি এমনিতে ট্রেনে বা বাসে সহযাত্রীদের সাথে খুব একটা কথা বলতে পারি না, অস্বস্তি লাগে বেশির ভাগ সময়। তবে কাছাকাছি কোন পিচ্চি থাকলে কথা বলি। একবার মনে আছে সিলেট টু ঢাকা পুরোটা সময় কেটে গিয়েছিল ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া মোটা কাঁচের চশমা পড়া এক গালটুস পিচ্চির সাথে, কার্টুন আর গেমস নিয়ে কথা বলে। যাই হোক, এবার মোটামুটি অর্ধেক পথ পার হয়ে যাবার পর একটা কিউট পিচ্চি মেয়ের সাথে পরিচয় কথা হল। সাথে মা ছিল, তবে মনে হয় অসুস্থ - ঘুমিয়ে ছিলেন। ক্লাস থ্রি তে পড়ে, এখনই খুব গুছিয়ে সুন্দর করে কথা বলতে পারে পিচ্চি। তখন রাত এগারোটা পার হয়ে গেছে ।বেশ কিছু ক্ষণ এটা সেটা কথার পর জিজ্ঞেস করলাম 'স্টেশনে কে আসবে তোমাদের নিতে, তোমার আব্বু?' বাচ্চা মেয়েটা কেমন জানি একটা হাসি দিয়ে বলল 'না, ভাইয়া আসবে। আমার আব্বু তো নেই, মারা গেছে'। আমি বাকি পথটায় বলতে গেলে আর কিছুই বলতে পারি নাই।

এয়ারপোর্ট স্টেশনে নামলাম রাত বারোটার কিছু পরে। বাতাসে ঝড়ের আভাস পাচ্ছিলাম। দৌড়ে একটা বাসে উঠলাম। সাড়ে বারোটায় ফার্মগেট পৌঁছে বাস থেকে নামতেই ঝুম বৃষ্টি। এমন সময়ে বৃষ্টিতে ভেজাটা কিছুটা অনাকাঙ্খিত তো বটেই।
তবুও, বৃষ্টি তো বৃষ্টিই। কতক্ষণই বা ভালোবাসা মুহূর্তগুলির সাথে অভিমান করে থাকা যায়! ভালো তো লাগবেই, ভালো তো বাসবোই!

মন ভালো খারাপের মিশেলে এভাবেই বৃষ্টি ভিজে শেষ হয়ে এল
আমার খুব খুব ভালো লাগা কিছু সত্যিকারের ছুটির দিনের গল্পগাঁথা।

সব ভালো, যার শেষ ভালো।
সব ভালো যার, শেষ ভালো!

নো ম্যাটার হোয়াট, লাইফ ইজ বিউটিফুল!

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


শেষে এসে আমারও মনটা খারাপ হলো। শূণ্যতা একটা থাকেই কোথাও না কোথাও। মেনে নিতেই হয় নির্মম বাস্তবতা। Sad
যা হোক, ব্যপক ঘুরাঘুরি করলা। পড়তে খুব ভালো লাগলো। ছবি নাই কোন?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


উহু ছবি তুলিনাই খুব একটা।

একটু এডিট করেছি, পড়ে দেইখো আবার।

এ টি এম কাদের's picture


মনেই হয়না এটা বি বা 'র লেখা ! কেমন যেন নিরামিষ নিরামিষ ! দু'একটা ছবি টবি কি হতে পারতোনা ? হলে বেশ হতো কিন্তু ! কিংবা পিচ্চিটার স্থলে টিন-এজের কেউ হতো যদি !

মানুষকে ব্যাথা দিয়ে খুব মজা বুঝি ? ওই বাচ্চাটার আব্বু বেচে থাকলে কি এমন অসুবিদে হতো লেখকের ? এমনিতে মন খারাপ ! মনে হচ্ছে শাহাবাগ বুঝি প্রতিদিন একটু একটু করে খুন হয়ে যাচ্ছে !

এ কয়দিন দেশি-বিদেশি মিডিয়া ঘুরে খালি নিরাশ হচ্ছি । কে জানে আমরা '৬০/'৭০ এর [দশকের] তরুণরা জয় ছিনিয়ে এনেও হয়তো চিরকাল পরাজিত থেকে যাবো !

দেশের 'সন্দশ' চাই আপনার কাছে । মিডিয়াতে এখন আর বিশ্বাস রাখতে পারছিনা । ভাল থাকুন ।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এটা তো কোন গল্প নয় যে, আমার ইচ্ছেমত লিখবো!

যা দেখেছি, তাই লেখার চেষ্টাই করেছি কেবল।

দুঃখিত, আপনার ভাল লাগার মত কিছু লেখা হল না।

মর্ম's picture


এই পুচকার কথা মাথায় আসলেই মনে হয় যে উনি যখন ঠিকমতো হাঁটতেই শিখেনি, তখনই তুরতুর করে হাত পা বেয়ে কোলে উঠে যেত। তারপরই মাত্র দুই দাঁতের ভুবনমোহিনী এক হাসি! আহা, এই পিচ্চি এখন ক্লাস টেনে পড়ে।

সন্ধ্যা সাতটায় ডিডি মেট্রোতে হয় 'টম এন্ড জেরী, নয় 'টেলস পিন' নয় 'ডেনিস দ্য মেনিস' দেখতাম। এক দেড় ঘন্টার রুটিন বাঁধা। পুরো সময়টায় উনার জন্য পাদুটো সামনে ছড়িয়ে রাখতে হত- কারণ তেমন কিছু না, তিনি পা বেয়ে উঠবেন এবং নামবেন, উঠবেন এবং নামবেন। Laughing out loud

পুরো লেখায় ছড়িয়ে থাকা শান্তি শান্তি ভাবটা সব চাইতে ভাল লাগল।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


জানতাম তুমি এখানে আইসা আটকাইবাই! Tongue

আহা, কি সব দিন ছিল তখন। ভাবলেই মন ভাল হইয়া যায়। Big smile

শেষ লাইনটার জন্য ধইন্যা পাতা
এই অনুভূতিটা শেয়ার করার জন্যই এই পোস্ট লেখা। Smile

জেবীন's picture


বর্ণ'রে! লেখাটা পড়তে পড়তে হিংসা/আফসুস অনেক লাগছিল। দারুন কোথাও ঘুরতে না পারার, এমনি করে লিখতে না পারার।

ভেবেছিলাম বেশ অল্পদিনের জন্যে বেড়াতে গিয়েছিলে, এখন দেখি অনেকদিন! জায়গার বর্ননা/ছবি সহ পার্ট পার্ট করে দিতে পারতে লেখাতে গল্পের মাত্রা আরো বাড়িয়ে, টর্নেডো নিয়ে অনেক অল্পে শেষ করে দিছো।

সিলেটের টিলার উপর বসে শীতের সক্কালবেলার সূর্য দেখতে দেখতে মাটির কাপে করে ধোয়াঁ ওঠা চা হাতে এত্তো গল্প করার সাধ আছে। Smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সময় সবারই আসে, তোমারও আসবে দেইখো। ইন শা আল্লাহ। Smile

আমার বেশিরভাগ লেখাই একটু তাড়াহুড়া করে লেখা হয়। এটাও, বলা যায় এক বসায় লেখা।

আমি সময় নিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। পরে সুন্দর করে লিখব ভাবলে, দেখা যায় পরে আর লেখাই হয় না। আমি চেয়েছিলাম পুরো সময়টার একটা ছবি যেন যেই পড়বে তার কাছে ধরা দেয়। খুব বেশি বর্ণনা দিতে ভালো লাগে না, কিছু ছোট কথায় পরিবেশ আর আমার অনুভুতিগুলি শেয়ার করতে চাই। খুব বেশি কথা বলে শুধু আমার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে কি লাভ, যদি যে পড়বে সে নিজের মত কল্পনা করে নেওয়ার কোন জায়গাই না পায়।

মন খারাপের অনুভূতি গুলো নিয়ে আমি খুব ভাল লিখতে পাড়ি না, তাই একটু এড়িয়েই চলি বলা যায়।

তা ছাড়া এমনিতেই অনেক বড় হয়ে যাচ্ছিল। আর বড় করলে কয়জন যে পুরোটা পড়ত তা নিয়ে আমার বিস্তর সন্দেহ আছে। একই ট্যুর নিয়ে পার্ট পার্ট করে লিখতে ভাল লাগে না, মনে হয় আগ্রহ ধরে রাখতে পারব না পাঠকের।

টুটুল's picture


পোস্টে ছবি দিলে হয়তো কল্পনার স্বর্গ রাজ্য বানাতে পারতাম না Smile

নিজের ছেলেবেলায় ফিরে গেলামরে...

১০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ধইন্যা পাতা

Big smile

১১

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ভ্রমন বিষয়ক লেখা বরাবরই ভাল লাগে, তোমার লেখাতাও তার ব্যতিক্রম নয়, চমৎকার!
তবে সবার সাথে সুর মিলিয়ে বলছি ছবি থাকলে আরও ভাল লাগত।

১২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


THNX

আমার আসলে কোথাও ঘুরতে গেলে অত বেশি ছবি তোলা হয় না।

ক্যামেরার লেন্সের পেছন থেকে নয় বরং মনের চোখ খুলে দেখা অদেখা প্রিয় জায়গা গুলো ঘুরে দেখাতেই আমার বেশি ভাল লাগে। Smile

১৩

কুহেলিকা's picture


টিপ সই ধইন্যা পাতা THNX Call Me মজা

১৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মাঝের দুইটা ইমোচিত্রিকা আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য উপহার! Tongue

১৫

উচ্ছল's picture


আহা দারুন! উদাস হইয়া গেলাম রে ভাই! মনটা এখনই ছুট দিতে চাইতেছে!
বি.দ্র. ছবি থাকলে আরো ভালো হইতো। Smile

১৬

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Laughing out loud

ফটুক নেক্সট টাইম ট্রাই করব নে! Smile

১৭

শওকত মাসুম's picture


লাইফ ইজ অলওয়েজ বিউটিফুল Smile

১৮

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আসলেই। Smile

কিন্তু এই কথাটা মনে রাখা হয়ে উঠেনা সবসময়, এটাই সমস্যা! Tongue

১৯

ফারাহ তাসনীম's picture


অসাধারণ একটা লেখা ভাইয়া Applause Applause

২০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ধইন্যা পাতা

এবি তে সুস্বাগত। Big smile

Welcome

২১

আরাফাত শান্ত's picture


সাবাশ!

২২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কেন ভাই? কি করলাম?

২৩

তানবীরা's picture


ব্যপক ঘুরাঘুরি করলা। পড়তে খুব ভালো লাগলো। ছবি নাই কোন? অসাধারণ, হিংসিত। আমিও ঠিক এমন ঘুরতে চাই আর লাইফ ইজ অলওয়েজ বিউটিফুল Big smile

২৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Laughing out loud

ব্লগে দেয়ার মত ছবি তুলতে পারিনাই। যা তোলা হইছে বাছাই করে হয়তো এফবিতে দেওয়া হইবো। যদি মুড পাই। Stare

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture

নিজের সম্পর্কে

i love being my bro's bro..!

কী আর বলব..?

বলতে গেলে লাইফের তিন ভাগের এক ভাগ শেষ অথচ এখনো নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগে..!!

মাঝে মাঝে নিজেকে দুঃখবিলাসী মনে হয় আবার অকারন স্বপ্ন দেখতে-ও ভুল হয়না..নিজে হাসিখুশি থেকে অন্যদের হাসিখুশি রাখতে পছন্দ করি..ভাবি বড় হয়ে গেছি আবার কাজে কর্মে ছোট ছোট ভাব টা এখনো ঝেড়ে ফেলতে পারিনা..বেশ অভিমানী আর জিদ্দি but i love havin fun in anythin..লাইফে এক্সামগুলোর দরকার টা কী ভেবে পাইনা..ভালোবাসি গল্পের বই পড়তে,গান শুনে সময় কাটাতে আর কিছু কিছু সময় নিজের মত থাকতে..

আর কি বলব..?!

...here i am!!