এ জার্নি বাই মাইক্রোবাস, সিডান, হিরু হুন্ডা ফ্রম ঢাকা টু জিন্দাপার্ক টু চিকেন বিরিয়ানী
দুই-তিনদিন আগেই প্লান হইছিলো বৃহষ্পতিবার ১৮ মার্চ এবির ফটু মন্ত্রনালয় টঙ্গী রেল স্টেশন এর আশপাশে গিয়া ফটু তুলতে চায়। সকাল নয়টার ফটুগ্রাফার তিনজন (হাসান রায়হান, রায়হান সাঈদ আর বৃত্ত শুভ) রওনা দিলো ফটু তুলতে। আর দুধভাত আমজনতা সাড়ে ছয়জন (আমি, শওকত মাসুম, লীনা দিলরুবা, জয়ীতা, টুটুল, লীনা ফেরদৌস এবং তার মেয়ে মাধূর্য) আমরা রওনা দিলাম একটু বেলা করে সকাল এগারটায়।
জয়ীতা ওরফে বেলী (বেলী নামের ইতিহাস যারা জানে না তাগোরে পরে সময় সুযোগমত কমুনে) ডিম চপ বানায়া আনছিলো বাসা থিকা, সেই ডিমচপ চাবাইতে চাবাইতে আমি মাসুমভাই লীনাফা আর বেলী ফার্মগেট থিকা যাত্রা শুরু করলাম। মাঝপথ থিকা টুটুল, লীনা ফেরদৌস আর মাধুর্যরে তুইলা নিলাম। নানান কথাবার্তার মধ্যে আমরা টংগী হইয়া আহসানউল্লাহ মাস্টার ফ্লাই ওভার পার কইরা এক রেলসীগনালের মোড়ে গিয়া থামলাম, ততক্ষনে ফটুগ্রাফার্রা তাগো প্রথম কিস্তি ফটু তোলা শেষ কইরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করতাছিলো।
এই সুযোগে একটা চুটকি শুনাই ......
কথায় বলে এক দেশের বুলি আরেক দেশের গালি। আমরা যেমন কই 'ফটু তুলো' সেইটা হিন্দীতে কয় 'ফটু খিচো'। একবার অফিসের কলিগরা রাইত একটায় গেছিলাম আহসান মঞ্জীলের ফটু তুলতে , সেইখানে আমগো প্রধান ফটোগ্রাফার ট্রাইপড লাগায়া অনেক যত্ন কইরা ফটো তুলতাছিলো আর আমরা বাকি তিনজন পাশে দাড়ায়া ইতরামি করতাছিলাম। এমন সময় দুর থিকা দেখলাম টহল পুলিশ আমগো দিকে আসতাছে। আমার এক কলিগ আমারে কয় পুলিশ জিগাইলে কি কইবেন ?
আমি কইলাম - কমু হাম লোগ ফটো খিচনা দেখতাহে আর এই লোক (ফটোগ্রাফার) ফটো খিচতাহে। 
আমার কলিগ আরেক কাঠি রসিক , সে সবগুলা দাঁত বাইর কইরা কয় ,
- কমু দিস ইজ ফটো মাস্টাব্রেটার আর উই আর ওয়াচার।
যাই হোক আজকে আমাদের যারা ফটোখিচনে ওয়ালারা (রায়হান, শুভ, সাঈদ) আছিলো তারা আমাদের দেখে কইলো জবরদস্ত এক প্লান আছে। আমরা আরো সামনে যামু 'জিন্দা পার্ক' নামের এক পিকনিক স্পটে । সেখানে দারুন সময় কাটবে সবার, কিছু ফটোও তোলা যাবে দুপুরের খাবারটাও খাওয়া যাবে। সবাই একমত হইয়া ইয়া আলী কইয়া জিন্দা বাবার দরগার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
যাবার পথে সামান্য গোলযোগ হইছিলো। আমরা গাইডের (সাঈদ) ভুলের কারনে কুমিল্লার কাছাকাছি গিয়া টের পাইলাম জিন্দাপার্ক পিছে ফালায়া আসছি (হলুদ মাইলস্টোন তখন বলছে কুমিল্লা মাত্র ৯১ কি.মি.) আবার কুমিল্লারে পিছে ফালায়া উল্টা পথে জিন্দাপার্ক পৌছলাম। রোদ তখন মাথার উপরে। মাথাপিছু ৫০ টাকা চান্দা দিয়া পার্কে ঢুকলাম সবাই। এমন সময় রায়হান ভাইয়ের মোবাইল বাইজা উঠলো। আমাদের ওয়ান এন্ড অনলি ইয়াজিদ ভাই ফুন করছে। তিনি টংগী আছেন কিভাবে কোথায় আসবেন জানতে চাচ্ছেন। অনেক ডান-বাম বোঝানির পর তিনি বুঝতে পারলেন কিভাবে আসবেন।
পার্কের ভিতর দেখি বারোয়াড়ী মচ্ছব, নানান জাতের নানান বর্ণের নানান কিসিমের শ'য়ে শ'য়ে মানুষ জিন্দাপার্কে পিকনিক করতে আসছে। তুমুল শব্দে লাউড স্পিকারে 'শিলা কি জাওয়ানী' বাজছে, মহিলারা ঠোঁট লাল করে হাওয়াই মিঠাই রঙের শাড়ী পড়ে হাত মুখ শক্ত করে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছে, পাঁচ-ছ'জন হুজুর টাইপ লোক লম্বা জোব্বা পড়ে ক্রিকেট খেলছে, পিচ্চিপাচ্চারা প্যান্টের জিপার খুলে দাঁত বের করে হিসু করছে, টিনএজ ছেলেরা সানগ্লাস পড়ে মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছে, টিনএজ মেয়েরা আড় চোখে ছেলেদের খেয়াল করছে, মাইকে এক ভদ্রলোক ষাড়ের মত চ্যাচাচ্ছে সে যে কি বলছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না, ছোট ছোট বাচ্চা মেয়েরা কালো পট্টি চোখে বেঁধে কানা মাছি খেলছে। সব মিলিয়ে মোটামুটি এক লংকা কান্ড। আমি মনে মনে প্রমোদ গুনলাম জিন্দাবাবার দরগার এত মুরিদ এই মার্চের ঠাটা গরমের মধ্যেও !!!
এত হাউকাউ এর মধ্যে আরেক দুঃসংবাদ শুনে আমাদের মুখ শুকিয়ে গেল। এখানে যে রেস্টুরেন্ট আছে সেটার খাবার সব বুকিং হয়ে গেছে , নতুন করে আর খাবারের অর্ডার নেয়া হচ্ছে না। 
আমরা শুকনা মুখে পার্কের ভেতর মন্থর ভাবে হাঁটতে হাঁটতে একটা পুকুরের পাশে বসলাম, চারিদিকে তুমুল হাউকাউ আর আমরা সাত-আটজন পোলার আইসক্রিম খেতে খেতে চিন্তা করছি কি করা যায়!!
পোলার আইসক্রিমে সম্ভবত ভিটামিন বেশি আছে ,,, আইসক্রিম খেয়েই আমাদের মাথায় বুদ্ধি আসলো যে , এইখানে তো কয়েকডজন পিকনিক পার্টি আসছে তাদের বেশ ঘটা করে রান্নাবান্নাও হচ্ছে (ততক্ষনে আশপাশ থেকে বেশ পোলাউ মাসের সৌরভ ভুর ভুর করে আমাদের পেটের ছুচোটাকে আরো পাগলা বানিয়ে দিচ্ছিলো), এদের হেড বাবুর্চির সাথে ষড়যন্ত্র করে কয়েক প্লেট খাবার যদি ম্যানেজ করা যায় তাহলেই কেল্লা ফতে।
প্রধান ষড়যন্ত্রকারী দুই লীনা হেডবাবুর্চিদের আলাপ সেরে এসে জানালো সম্ভাবনা খুবই কম, এক বাবুর্চি জানিয়েছে সে বড়জোড় দুই জনের বন্দোবস্ত করতে পারবে, আরেক বাবুর্চি জানিয়েছে যদি সবাই খেয়ে কিছু বাঁচে তাহলে খাবার দিতে পারবে ।
এরই মধ্যে আমাদের ইয়াজিদ ভাই মাঠে প্রবেশ করলেন, এসেই স্বভাবসুলভ ফাপর মারতে লাগলেন সবার সাথে। শুকনা মুখেই আমরা আড্ডা চালায় গেলাম আরো অনেক্ষন, নানান কথার মধ্যে বড় ভাইয়েরা আশির দশকে ভিসিআরে কি কি খাচ্চর খাচ্চর মুভি দেখছে টিকিট কাইটা সেই আলাপও হইলো। মাধূরী বেশি হট নাকি শ্রীদেবি বেশি হট নাকি হেমামালিনী সেইটা নিয়াও তর্ক বিতর্ক হৈলো। শেষ মেষ আমরা ডিসিশন নিলাম আমাদের কাচ্চি-লীনা আজকে উত্তরায় সবাইরে কাচ্চি খাওয়াইবে। যদিও পার্টিসিপেন্ট হট লিস্টে মাধূরী-শ্রীদেবী-হেমা মালিনীর সাথে উনার নাম ছিলো না তাও কেন যে উনি সবাইরে কাচ্চি খাওয়াইতে রাজি হৈলো !
আমরা জিন্দাবাবার দরগা থিকা বাইর হইয়া উত্তরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম চাইরটার দিকে। সিডান উত্তরায় চইলা গেলো, হলুদ ইয়াজিদ ভাই ভি উত্তরায় চইলা গেলো মাগার মাইক্রোবাসের আমরা আল্লার ইশারায় পথ ভুইলা গাজীপুর গিয়া হাজির হৈলাম
শেষ-মেশ সাড়ে পাঁচটায় উত্তরায় পৌছায়া সন্ধ্যায় লাঞ্চ করলাম চিকেন বিরিয়ানী দিয়া । লীনা আপা কাচ্চি আর খাওয়াইলো না 





আজকা আমরা বিমার গান শুনতে পারি নাই
ক্ষিধার চোটে এত পেরেশান ছিলাম, গান পর্ব যে মিস হয়ে যাইতেছে এইটাই মাথায় আসে নাই।
লীনা (ফেরদৌস) আর আমি প্রথম পিকনিক পার্টির বাবুর্চির কাছে খাবার ম্যানেজ করার প্রস্তাব দিছি। দ্বিতীয় পার্টির আয়োজকদের কাছে খাবার ভিক্ষা করছি (অন পেমেন্ট যদিও)। পরে লীনা দারুণ একটা প্রস্তাব দিছে যেইটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। বলছে, লীনা (আমি) তুমি মাধূর্যরে কোলে নিয়া পিকনিক পার্টির কাছে গিয়া করুণ মুখে দাঁড়ায় থাকবা, আমি (ফেরদৌস) গিয়া শেষ বারের মত খাবার চাইবো। তারা কোলে বাচ্চা নিয়ে করুণ মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তোমারে দেখলে করুণা বসত খাবার দিয়া দিবে
কিন্তু কথা হৈল তুমি পরে আমারে ৬০টাকা দিয়া দিও। মাধূর্যরে ভাড়া নিলা বইলা 
আর সেই খাওনের আশায় আপনেরা দুজন ১ ঘন্টা বসে থাকলেন পুকুর পাড়ে, পিকিনিক পার্টির বাবুর্চি আপনাদের খাবারের জন্য ডাকবে সেই অপেক্ষায়। তারপর যখন গেলেন খোঁজ নিতে, বাবুর্চি নিরাশ করলো, আমাদের ক্ষুধা ৩ গুণ বেড়ে গেলো। যে রাধারমনের গান এত পছন্দ , সেই গান শুনে মনে মাথার ভেতর মাইক নিয়ে বসে তারস্বরে গাইছে। যেভাবে সব বিস্কুট খাচ্ছিলেন.. দেখার মতো দৃশ্য।
জয়িতা,
মীর, লীনা ফেরদৌস যে কি মজার সব গল্প বলতে পারে! আড্ডা জমিয়ে রাখার জন্য সে একাই একশ। চরম মজার আর দারুণ মানুষ।
তিনি এইখানে লিখেন না কেন?
এইটা কোনো কথা?
লীনা লিখবে না কেন, লিখবে নিশ্চয়ই। ব্যস্ত মানুষ, সময় পেলে চলে আসবে।
হিরু হোন্ডা চালান আমাদের দাদাভাই।
তারমানে আপনের কপালে হিরু হোন্ডা।
আজকে হিরু হোন্ডায় উঠছি
হ ... আমার কাছে প্রমান আছে কিন্তু
হ। আমি জ্যোতি নিজে দেখছি। সাঈদ ভাই এর ক্যামেরায়ও আছে।
লীনাপার জ্বীনের গল্পটা মনে হইলেই
কুকুরের কামড় ?
বেচারা মাসুম ভাই .... ভদ্রতা কইরা বিস্কুটের একটা প্যাকেট আমার হাতে দিছিলো, আমি মোটামুটি পুরাটা সাবার কইরা দুইটা রাইখা লীনা আপার হাতে ধরায় দিছি
মাধুর্য'রে কোলে নিয়া ঠি মতো অসহায় ভাব দিতে পারেন নাই বলেই সবার ভাইগ্যটা খারাপ করলেন!!...
হিরু হুন্ডা কার ছিলো? @মুরাদ ভাই
আমগো ইয়াজিদ ভাই। <)
অ-নে-ক-দি-ন পর বিমার পোষ্ট।
সবই সেই চিকেন কাচ্চির গুণে।
তবে কি এক নামের মিথ্যা ইতিহাস জানানোর হুমকি দিলা! দিক্কার।

লাইভ জোকস পড়ে
মাইনষ্যে যে এত খাই খাই করতে পারে জানা ছিলো না।
দুপুর বেলা বিস্কুট , শুকনা খাবার খাইলে কি হয় ???
খাওনের জ্বালায় পুরা প্ল্যান ভেস্তে গেল ।
আপনারে
। আমাদের ভুল পথ দেখাইয়া নিজেরা পৌছে খেয়ে দেয়ে আরাম করে চা খান, আর মাসুম ভাই দুই প্যাকেট বিস্কুট যাও রাস্তা থেকে কিনতে পারলো কিন্তু পানি পাওয়া গেলো না। পুরা কারবালা। কই যে নিয়ে গেলেন! 
আল্লার কাছে শুকরিয়া করো মিয়া .... ভুল পথে গাজীপুরে গেছিলাম.... ভাগ্যিস কুমিল্লায় গিয়া হাজির হই নাই
বিমা, ট্রাকের সেই লম্বা লাইনটা এখনও চোখে ভাসে। কি ভেবে যে সকালে নাস্তা না করে বের হইছিলাম! সারাদিনই কিছু খাই নাই বলে ক্ষুধা না লেগে মাথা ব্যথায় কাহিল হইছি।
বেক্কল গুলি সব এক লগে উঠছে , রাস্তা চিনে না ।
এরপরে ফটুক ট্যুরে মহিলারা বাদ।
ওই লিনা আমার ৬০ টাকা দেয় নাই,মাসুম ভাই আর জয়িতাও ভাড়া নিসিল তারাও দেয় নাই, এরপর দেখা হইলে দিয়া দিও
.।.।
এইডা কি আমরা বন্ধু ব্লগ !!! আমারত মনে হইতেছে আমরা শত্রু.।.।.। যাই হোক ১২০ টাকা পাওনের আশায় আমি এইখানে নাম লিখাইলাম।
মাধূর্য়ের জন্য এক বস্তা আদর।
যাক জানলাম বিমা বিবাহিত কিন্তু মৃত নয় এখনো। বিমার মোবাইল কার কাছে থাকে?
মানুষের জীবনে এতো আনন্দ কিসের? অফিস নাই কিছু নাই মন চাইলেই উড়াল দিল সব একসাথে?
লাইনটা অসোম
বাহ্ খুব মজা করেছেন তো ? আমি ঘুরতে ভীষণ পছন্দ করি। আর এমন ঘোরা তো সপ্নের মত। আমি খুব মিস করছি।
টঙ্গী জংশনের নাম করে সবাই জিন্দা পার্ক ঘুরতে যান, আবার লীনা (ফেরদৌসি) আপা'র থেকে পাওনা কাচ্চি আমাদের ফেলেই উশুল করেন। ভালো-ই....
মিস ম্যানেজমেন্টের চুড়ান্ত দেখাইলা তোমরা। আমারে কৈলা টঙ্গীর কাছে। হের পর ডাইন-বাম আর সোজা কৈয়া ২০/২২ কিলো মটর সাইকেল চালাইলাম। তারপরে তোমগোরে পাইলাম। মিয়া, ৭৭ টেকা লিটারের অকটেন পোড়াইয়া গিয়া যা শুনলাম আর দেখলাম...।
অবশ্য এরামই হওনের কতা...। সাঈদ আর রায়হান ভাই যেইখানে আছে, সেইখানে এর চাইতে ভাল কেমতে আশা করন যায় ! আর বৃত্ততো মিল্ক এন্ড রাইস...। তয় বেশি ক্ষিধা লাগছে কৈয়া বেলি, লীনা আর কাচ্চি লীনাসহ তোমরা গাজীপুর ঘুইরা আইসা ৫ টার সময় খাইছো... ততক্ষণে আমগো বিরিয়ানীর পরে ২ বার চা আর বিড়ি খাওন শেষ হৈছে।
তয় আগেই কৈয়া রাখি, এরাম অগোছালো প্রোগ্রামে ভবিষ্যতে যদি আমারে যাইতে কৈছোতো... তোমরার খবর আছে...
এমন উল্টাপুল্টা করে ঘুরাফেরাতেই না মজা, না খাইয়া, হারাইয়া গিয়া... আহা, আর লেখেও এমনসব ঘুরান্তির মজাগুলা তুলে আনা যায় না...
মিস করছি!!......
আরেকটু হইলে তো জ্যোতির বাড়িই চইলা যাইতাম। কিন্তু জ্যোতি নিলো না
লক্ষনীয় বিষয়, বিয়াত্তারা কিন্তু কেউ বউ/ জামাই নেয় নাই
্বাচ্চা পুলাপানের লাহান কথা.।.।.।
মন্তব্য করুন