বর্শায় গাঁথা জাহানারা বেগমের আঁচল
সরু গলিটার শেষ মাথা থেকে ছোট ছোট পা ফেলে জাহানারা বড় গলিটায় এসে একটু জিরিয়ে নেবে কিনা ভাবছে। তাকে আরো ৪০০ মিটারের মত হাঁটতে হবে। প্রাচীন শরীর সব সময় কথা শুনতে চায় না। জাহানারা বেগমের বয়স যতটা না তাকে দেখলে তারচেয়েও বয়স্ক লাগে। নিঃসন্তান বিধবা তিনি, নিকটাত্মীয় বলতে দুটো ভাই, তারাও থাকে অনেক দুর। একই শহরে থেকেও যে অনেক দুরে চলে যাওয়া যায় এই মহাব্যস্ত হরিয়ে যাওয়ার শহরে সেটা জাহানারা খুব ভালোই জানে।
নিঃসন্তান হওয়ায় স্বামীর সাথে তার দাম্পত্য জীবন খুব একটা সুখকর ছিলো না কোন কালেই, স্বামী মারা যাবার পর জাহানারার চট্টগ্রামে তার বাপের বাড়িতে চলে আসে, দুই ভাইয়ের কেউ এ বাড়িতে আর থাকে না, ভাড়া দিয়ে নিজেরা আলাদা আলাদা সংসার পেতেছে শহরের অভিজাত এলাকায়। বাড়িটির নোনা ধরা দুটো রুম জাহানারার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়, ভায়েরা মাস শেষে কিছু টাকাও লোক মারফত প্রতিমাসে পাঠায়, সেটা দিয়েই তাঁর ভালোভাবেই দিন চলে যায়।
জাহানারা বেশ ধর্মপরায়ণ, বারো চাঁদের খবর রেখে নিয়মিত সারা বছর রোজা রাখে। মাঝে মাঝে বারান্দায় তাজকেরাতুল আম্বিয়া নিয়ে বিকাল পার করে দেয়।
তবে একটি বিশেষ কাজ করে সে সবচেয়ে বেশি আত্মতৃপ্তি পায়। ভাইদের দেয়া হাত খরচের টাকা জমিয়ে কয়েক মাস পর পর সে কাছেই একটা এতিমখানায় নিজ হাতে রান্না করে নিয়ে যায়। ছোট ছোট শিশুদের নিজের হাতে খাইয়ে দিয়ে আসে সে। এই আত্মতৃপ্তিটুকু জাহানারা বেগম শতভাগ উপভোগ করে।
আজকে সেই বিশেষ দিন, কিন্তু জাহানারা বেগমের মনটা কেমন অস্থির হয়ে আছে। মনটা আজ কিছুতেই বাইরে বেরুতে চাইছিলো না। অস্থির মন নিয়েই সে রান্না করে টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার ভরে রাস্তায় নেমেছে।
বড় রাস্তায় কিসের যেন গন্ডগোল হচ্ছে, গলিগুলোতে হুড়মুড় করে লোকজন ঢুকছে, সেই সাথে কিছু রিকশা এবং দুটি গাড়িও ঢুকে পড়লো, তার পেছন পেছন সবুজ ঝান্ডা উঁচিয়ে মাথায় সাদা কাফনের পট্টিবাঁধা একদল মাদ্রাসার ছাত্র, তাদের হাতে বর্শার মত লম্বা লম্বা লাঠি, জাহানারা বেগম অবাক হয়ে খেয়াল করলো কারো কারো হাতে সবুজ মলাটের কোরান শরিফ! জাহানারার মনে পড়লো কে যেন বলছিলো আজ হরতাল। সে গলির দেয়ালের সাথে লেপ্টে দাড়িয়ে রইলো, তার বুক থরথর করে কাঁপছে। চোখ বন্ধ করে আয়াতুল-কুরসী পড়তে লাগলো সে একমনে........
গন্ডগোল থেমে গেছে অনেক্ষন হলো, গলির পথচারীরা ধরাধরি করে সাদা শাড়ি পড়া বুড়িটার শরীর বয়ে নিয়ে হাসপাতাল খুঁজতে লাগলো।
নীল পাড়ের শাড়িটা লাল লাল ছোপ লেগে অদ্ভুত লাগছে......





সবাই ছোট গল্প দেয়া শুরু করছে , তাই আমিও একটা ট্রাই দিলাম।
মুরাদ ভাইযে এত চমৎকার লিখেন জানতাম না। হ্যাটস্ অফ।
আর কি মারাত্মক গল্প!
এই রে !! আমার প্রিয় লেখক মীর যদি এরম কমপ্লিমেন্ট দেয় , তাইলে তো বিষয়টা চিন্তায় ফেল্লো !!!
মীর, লেখক কেবল গল্পই না, দারুন কবিতাও লিখতে পারেন
শুরুটা দারুন করে হইছে, যেন দৃশ্যগুলা দেখছিলাম, শেষটা যেন খুব জলদি এলো!
ভালো লাগছে ছোটগল্প
হঠাৎ মাথায় আসছে লিখা ফেলছি
অনেক দিন পর !!!!
টাকিলা চাচু

কেমন আছেন
আসলেই, এই অসামান্য কাজটুকু করতে পারাতে না জানি কত আত্মতৃপ্তি!

হ
দারুন লাগলো ... আরো গল্প চাই
এরপর আপনে একটা লিখা ফালান
আজ শুধু গল্প পড়ছি। আপনার গল্পটাও ভালো লাগল
থ্যাংকু
গল্প দারুণ লাগলো। বিমা'র লেখা নিয়মিত পড়তে চাই।
আপনেরা রাতবিরাতে সমানে ছোট গল্প পোস্ট করা শুরু করছেন দেখে আমিও একটা ট্রাই দিলাম মাত্র
এই ছেলেটা ক্যান যে নিয়মিত লেখে না ...
না লিখলে কি হইবো নিয়মিত ব্লগ পড়ি
দারুণ একটা গল্প
। অ-নে-কদিন পর । নিয়মিত হও।
হাগ দিলা নাকি দোস্তো !!

একটা নতুন কবিতা দেন।
বিমারে জীবিত দেখে আনন্দিত হলাম
গল্পটা পড়ে ভালো লাগলো, শেষটা একটু দ্রুত...ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন