'ঘুমিয়ে পড়' - Lesson 1
ছোটবেলার প্রিয় একটা গান ছিলো এটা, ক্যাসেটের যুগ ছিলো যখন। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ফার্মগেট থেকে ক্যাসেট কিনতাম।
এই ব্যান্ডের দুটো এ্যলবাম বের হয়েছিলো। Lesson-1 ও Lesson-2 । মনে হচ্ছে কয়েক যুগ পর শুনলাম, র্যাগে জনরার গান। খুবই হালকা গানের কথা তাও কত যে ভাল লাগতো শুনতে। কল্পনার প্রেমিকার উদ্দেশ্যে গলা ছেড়ে গাইতাম কিশোরবেলার সন্ধ্যাগুলোতে ..
ঘুমিয়ে পড় যদি আমায় ভেবে
স্বপ্নে ভাসো যদি আমায় দেখে
হৃদয় মাঝে যদি রাখো গো আমায়
ভোরের পাখি হয়ে গান শোনাব তোমায়
সবুজে ছাওয়া এই নির্জনতায়
একটু আরো ভালবাসো না আমায়
সিক্ত তোমার ঐ অধরে আমায়
দাও না ছুঁয়ে ওগো প্রেমের ছোয়ায়
মনের কোনে যদি রাখো গো আমায়
ভোরের পাখি হয়ে গান শোনাব তোমায়
দু'চোখ ঝরে যদি অশ্রুধারায়
দৃষ্টি হারায় যদি বিষাদ ছায়ায়
দুঃখ স্মৃতি ভুলে দুর অজানায়
সুখের মাঝে খুঁজে নিও গো আমায়
বুকেতে ধরে যদি রাখো গো আমায়
ভোরের পাখি হয়ে গান শোনাব তোমায়





পুরো ক্যাসেটের মধ্যে এই গানটা আমার আর আমার ভাইয়ের মোষ্ট ফেভ ছিল।
বাই দ্যা ওয়ে, তোমার আর আমার ছোটবেলাতো এক হওয়ার কথা না
আমার কাছে অবশ্য অনেকগুলো গানই ভালো লাগতো ,

- দুর থেকে চোখে চোখ পড়লেই যদিও না তুমি মিষ্টি করে ওগো হাসলে
- যাবার সময় বুঝি হয়েই এলো, তুমি যাবে কি এখনই একটু আরও বসো
এই সেরেছে !! মনে হয় আপনার ছেলেবেলার শেষের দিকে আমার ছেলেবেলা শুরু হইছিলো
বুলেট পোলাটার সারাজীবনের শখ ছিলো গায়ক হওনের। তখন উদয়ন স্কুলের পোলাপাইনের ব্যান্ড সাডেন মোটামুটি বিখ্যাত হওয়ার পথে, কিন্তু বুলেটরে কেউ মিউজিকের লোক মনে করে না। এই অ্যালবাম ছিলো বুলেটের গায়ক হওয়ার অ্যালবাম। নাসের আর রাশেদ বাজাইছিলো যদ্দূর মনে পড়ে। আর দ্বিতীয় লেসন#২ তে আমাদের সময়ের সবচাইতে সম্ভাবনাময় ভোকাল রানা গাইছিলো। পোলাটা যে কই হারাইলো...
এই গানটা ছাড়াও আরেকটা গান পছন্দের ছিলো লেসন#১ অ্যালবামে,
লেসন টু আমি কিনি নাই । বন্ধুর বাসায় গিয়া শুইন্না আশাহত হইছিলাম কেন জানি।
ঝরানো পাতার 'পরে গানটাও দারুন ছিলো।
এটাতে বুলেট গান গায়নি। গানগুলো গেয়েছিলো মাসরুর ।
রাশেদ এবং নাসের বাজিয়েছিলো।
mone pore gelo shei otiter valo lagar din gulo ..gaan shunar din gulo ...dhonnobad mone koriye diyar jonno
লেসন ওয়ান এবং টু দু'টোতেই গান গেয়েছিলেন উদয়ন স্কুলের মাসরুর।
ঘুমিয়ে পড়ো গানটিও তার লেখা।
মাসরুর দুইটাতেই গাইছিলো...তবে রানা'ও যদ্দূর মনে পড়ে লেসন টু'তে একাধিক গান গাইছিলো। তারমধ্যে একটা গানের কথাই মনে পড়তেছে। গানটার টাইটেল ছিলো মনে হয় শোনো মেয়ে।
মাসরুর পোলাটার সাথে প্রথম পরিচয়ের সময়ে তার স্কুল নিক নেইম বুলেট'টাই জানছিলাম; তাই মাসরুর নামটা বেশির ভাগ সময়েই ভুইলা যাই।
রানা লেসন টুতে কোনো গান গায়নি।।
শোনো মেয়ে রানার নিজের একক ক্যাসেটের গান।
মাসরুরের নিক নেইম বুলেট নয়।
মাসরুর এবং রাশেদ দু'জনেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
লেসন টু এর একটি গান ক্যাসেটের কাভার সহ ইউটিউবে পাওয়া যায়।
http://www.youtube.com/watch?v=ESRCIQv999o
খুবি প্রিয় একটা গান

ওই সময় রেকর্ড করা অনেক ক্যাসেটেই এই গানটা রাখতাম
হ , আমাদের সময়ের তরুনরা সকলেই কমবেশি শুনছে গানটা। কিন্তু ব্যান্ডটা ঠিক আর সবার মত হিট হইতে পারলো না।
দারুণ এক্টা গান। বিমাকে ধইন্যা লিংকুর জন্য। এমন ফাঁকিবাজ যে কেন হইলা? আগের মত রেগুলার গান বাজনায় মেতে থাকো ব্লগে।
আগে তো নেশা ছিলো, সেই নেশাটা আর নাই। প্রায়ই মন চায় গান শেয়ার করি ... কিন্তু আলসেমিতে দেয়া হয় না।
সেদিন রাতে একা একা মাঝরাতে বেশ আয়েস করে পুরনো গানগুলি শুনছিলাম, মনে হচ্ছিল আবার আগের মত সব হয়ে গেছে।
আলসেমিটা ফেলে দাও, নেশাটা ফিরিয়ে আনো্।
সবকিছু যদি আবার আগের মত হত! কেন যেনো এই সময়টা একবোরেই ভালো লাগছে না।
অনেক পছন্দের গান। কত্ত শোনা হহইছে এটা।
মনে আছে, সেই সময়, রাস্তায় দল বেধেঁ যখন সবগুলা গাইতো, একসাথে টান দিতো, গান শোনাবো তোমায় তোমায় তোমায় এ এ এ এ এ
থ্যাঙ্কু স্যার
হু ... সেই দিনগুলি ছিলো তুলনাহীন।
আরে বিমা যে
আরে দুলাভাই যে ! চলেন আরেকদিন কাওরান বাজারে ডাব খাইতে যাই
ক্লাস নাইন এ পড়তাম সে সময়
আমি তখন আরো ছুটু ছিলাম
বড় পুরানা কথা মনে করিয়ে দিলেন। সেই সময় মাঝে মাঝে ক্যাসেটের ফিতা যাইতো প্যাচায় খুব মেজাজ খারাপ হত। একবার এই গানটা শুনতে শুনতে ফিতা এমন গিট্টু দিল যে একটু ফিতা কেটে ফেলে দিতে হল। স্কচ টেপ দিয়ে জোড়া দিয়ে দেখা গেল এই গানের মাঝের প্যারাটা আর নাই। খুব ভাল লাগতো গানটা বিশেষ করে গভীর রাতে।
এই ঘটনা তো অসংখ্যবার হইতো। পেন্সিল বা কলম দিয়ে হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ফিতা ঠিক করতাম। ছিড়ে গেলে টেপ দিয়ে জোড়া লাগাতাম।
এখন ক্যাসেট দেখলে নিজের কাছেই প্রাগঐতিসাহিক জিনিস মনে হয়।
পুরানা কথা মনে করিয়ে দিলেন। ক্যাসেটের ফিতা ছিঁড়ে যাওয়া, পেন্সিল বা আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঠিক করা এসব যেনো সেই কোন যুগের গল্পের মত মনে হয়।
শুনি নাই আগে
আপনের কল্যাণে অসাধারণ একটা গান শুনা হইলো
থ্যাংক ইউ ভেরী মাচ স্যার 
মীররে আরো ভাবলাম বড়লোক, কিন্তু এ দেখি এক্কারে ছুটুলুক!
গানটা আসলই ভালো লাগার মতোন
ধোকা খেও না ... এই বালক ধোকা দিতে বড়ই পটু
ইউ আর ওয়েল্কু মাইট
গতবার দেশে গিয়েও এই গানটা অনেকবার শুনেছি। আমার একটা ভাই পাগলা কিসিমের এক গান বিশত্রিশবার বাজাবে। কোনকোন সময় সারাদিনই গান শুনতেই থাকবে। সেই বেলা থেকে এই লোকের ক্যাসেট প্লেয়ার থেকে ভেসে আসা গান শুনে শুনে ঘুম থেকে উঠেছি, ভাত খেয়েছি,ঘুমানোর সময় ও তার ক্যাসেট প্লেয়ার চলতই।
আমি কখনও গান শোনার সমঝদার বা গানের লোক ছিলাম না। এই সকল চমতকার গানগুলো তার সৌজন্যেই আমার শোনা। এই গানটাও তো মুখস্ত পারি। এই জন্যে না যে গানটা আমার পছন্দের। বরং এই জন্যে যে ছোটবেলায় শুনতে শুনতে মাথায় ঢুকে গেছে এমন অনেক গান।
বাই দ্যা ওয়ে এটা আমার বড় ভাই এর কথা বললাম। সে আমার থেকে ছয়বছরের বড়। এটা তার ছেলে বেলার গান। আমার তখন শিশুকাল
হা হা হা, তুমি তো ব্লগিয় নানা , বয়স লুকানোর চেষ্টা করছো কেন !
শুনলাম, সেরাম ভাল লাগেনি!
রোমান্টিক গান শুনলে হাসি পায় কেন জানি, বিরাট সমস্যা, হেহে। তবে গানের ক্ষেত্রে আমি দেখেছি অনেক সময়ই প্রথমবার শুনলে ভাল লাগেনা, অনেকবার শুনলে ভাল লাগে এরকম গানও আছে। এটা সেরকম হবে মনে হচ্ছে।
বিমা, তোমার খবর কি?
হে বৎস, বিশ বছর পুরনো গান যদি নতুন করে শোন তাহলে তো ভালো না লাগার সম্ভাবনাই বেশি। যদি এই গানটা বিশ বছর আগে শুনতে এবং আজ আবার শুনতে তাহলে হয়তো নস্টালজিক হয়ে পুরনো স্মৃতি জাবর কাটতে ভালোই বোধ করতে
তেমন কোন খবর নেই, আছি আগের মতই শুধুই কম্প্রোমাইজ করে যাচ্ছি
মন্তব্য করুন