আমি বলছি না আমি লিখছি : প্রখম খণ্ড ।
মনে করি , আমি কিছু একটা লিখছি । কি লিখছি তা ঠিক এই মুহূর্তেই বলতে পারছিনা । তাই বলে আপনারা কি একটা চরম উদ্বেগে ধিক্কার দেন - ' রাখো এসব ন্যাকামো ' , কি একটু ধৈর্য ধরে পড়ে বলবেন - ' কি একটা ভাঁড়ামো না ছাই হলো ', তাতে আমি কিছুমাত্র বিচলিত হতে যাবোনা । কারণ , সে কোন মজাদার সাহিত্যকর্মই হোক (অসম্ভব) , আর বস্তাপঁচা পান্ডুলিপিই হোক , আমি লিখছি । যাক, আমি কোন কিছুই বলছিনা । কারন আমি লিখছি । কি লিখছি তা ঠিক এ মুহূর্তেই বলতে পারছিনা (ভবিষ্যত বলতে পারলে তো জ্যোতিষী হতাম )।
বলতে পারছিনা কারণ , বলবার কিছু বাকি আছে ? যুগে যুগে মহাবক্তারা যে কখার সমুদ্র গড়েছেন , আমার মত মূঢ়ের কাছে তার তল পাওয়ার জো আছে ? কোন সরু নালা বেয়ে আধো আধো কথার ক'ফোঁটা জল এসে ঐ সমুদ্রে পড়লে কার কি এসে যায়? ঐ বিপুল কথাসমুদ্রের জল তাতে কিছুমাত্র কমবেও না , বাড়বেও না । তারপরও কিন্তু আমি কিছুই বলছিনা । কারণ আমি লিখছি , কিছু একটা লিখছি , অকারণেই হোক আমি লিখছি । আপনারা পড়ুন আর নাই পড়ুন । আমি লিখছি ।
ভাবছি মানুষ কেন লিখে ? মাখায় আসছেনা বিধায় সে বিষয়ে কিছু বলতে চাইনা । সরি , লিখতে চাইনা । কোন কিছু কেন ঘটে , কিভাবে ঘটে এসব বের করা জ্ঞানী আই মিন বিজ্ঞানীদের কাজ । ওসব আমার কাজ নয় । তবে নিজের কাজ ছাড়া যে অন্য কারো কাজে নাক গলাই না অর্থাত্ অকাজ করি না তা নয় । অকাজ যে করি তার উদাহরণ : ১. নাক ঠিক গলানোর জিনিস নয় তবু গলাই , ২. নাক গলানোটা জ্ঞানীদের কাজ হলেও আমার মত মূর্খেরও যে নাক আছে তা অযথাই দেখাতে যাই । ইত্যাদি ।
এবার অকাজের কথাই লিখি ।
কাজ আর অকাজের পার্থক্য যদি সেদিন কেউ আমায় কান মলেও শেখাতো , তবুও হয়তো শিখতাম না । কেননা কাজকে অকাজ আর অকাজকে কাজ ভেবে আমি বেশতো ছিলাম । কার কথায় কি এমন এসে যেত ? কিন্তু সেদিনটা তো ঠিক এসে গেলো । কোন দিনটা ? তারিখটা মনে নেই । তবে দিন একটা হবে । দিন নয় রাত । রাত ১ টা হবে । ঘুম নেই । ঘুমোলে তো চুকেই যায় সব ল্যাটা । অন্ধকার ঘর । অনেক বেশী একা একা লাগছে । ভাবছি একটা কল করি যাচ্ছেতাই নাম্বারে । বলি জেগে আছেন না ঘুমিয়েছেন ? একটা গান শোনাই ? আজ জোত্স্না রাতে সবাই গেছে বনে । না , তার চেয়ে আকাশ দেখি । বাইরে এলাম । বাইরে এসে থ মেরে গেলাম । জানতাম না আজ সত্যিই জোত্স্না রাত । আকাশ দেখতে দেখতে বিভোর হয়ে পড়লাম । হঠাত্ সামনে দেখি অসংখ্য নারিকেল গাছ হাত ধরাধরি করে এক লাইনে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে । গাছগুলো থেকে থেকে খোলা হাওয়ায় গা এলিয়ে দোল খাচ্ছে । আমি কিছু একটা মনে পড়ায় তা মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছি । কিন্তু মনের দাগ মুছে এমন ইরেজার সম্ভবত নেই , অন্তত আমার কাছে নেই । কিছুক্ষণ নিঝুম নিরবতা । হঠাত্ খেয়াল করি পা দুটো আপনা আপনি চলছে দুধার ঘাসে ছাওয়া মেঠো পথে । পথের দুপাশে খোলা মাঠে ধানের শীষ গুলো আকাশের মমতা পেতে উন্মুখ হয়ে আছে ।এ পথ ধরে কখনো হেঁটেছি বলে মনে হয়না । তবু মনে হচ্ছে এ যেন জন্মজন্মান্তরের চেনা । আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে আকাশ দেখে হাঁটছি । ভাবছি আকাশের বুকে অপার মমতা থাকলে ব্যাথাও নিশ্চয় আছে । আর ব্যাথা থাকলে তা উপশমেরও কোন ওষুধ থাকবে । তবে কি আকাশের কাছে দুহাত পেতে চাইব সে ওষুধ ? দুহাত তুলেও ফেলেছি । কিন্তু এও কি সম্ভব ? জানি সম্ভব না । তাই এবার হাঁটার গতি বাড়ছে , হৃত্পিন্ডের গতিও । বাড়ছে পখও ।
কখন যেন সামনে কোথাও পাতার মরমর সঙ্গীত বেজে উঠলো । দেখি সেই তালে বাতাসও মাতাল হয়ে ছুটছে । দেখি একই তালে পাশের বাঁশবনে এবং আমার মনেও একটা মৃদু ঝড় বয়ে যাচ্ছে । আমি হাঁটছি । এমন ভাব করছি যেন আমার কিছুই হয়নি । না , বেশিক্ষণ ভাব ধরে খাকা যায়না । তাই এবার পা দুটো ক্রমশ পাথর হয়ে পড়ছে , আর চোখ ছলছল করছে । আমি আকাশ দেখি । অপলক দৃষ্টি । আকাশে যে কি খুঁজে চলেছি নিজেও জানিনা । চাঁদের হাসিটা কেমন যেন মৃয়মান হয়ে পড়ছে । সারা আকাশ জুড়ে হঠাত্ কোথা থেকে এত কালো মেঘ এসে ভিড় বাঁধালো ! যেন আমি মারা গেছি আর আমাকে দেখতে ভিড় বাঁধিয়েছে স্বজনেরা , আমাকে আড়াল করে রেখেছে রাস্তার কৌতুহলী মানুষদের দৃষ্টি থেকে । না , চাঁদটা যেন নববধুর মত লজ্জায় গাল লাল করে , মেঘের ঘোমটায় মুখ লুকিয়ে আছে । আর আমি অধীর আগ্রহে তার মুখখানি দেখার জন্য ব্যাকুল । যদিও ভালো করেই জানি চাঁদ কিছুতেই ধরা দেবে না । জনম জনম তপস্যা করলেও না । তবু এমন ভাব করছি যেন চাঁদ আমার পৈত্রিক সম্পত্তি !





ভাল লাগল পড়তে। অন্যরকম।
অনেক ধন্যবাদ বি : বা : ! জানি এটা আসলে কিছুই হয়নি । তবুও ভালো লাগছে ।আপনাদের ভালো লাগলে , অনেক ভালো লাগে । ভালো থাকবেন ।
বেশ লাগলো কিন্তু এই অকাজের কথা...
শুভ ভাই , আপনার বেশ লেগেছে ? কিন্তু বেশ ভালো না বেশ খারাপ বুঝলাম না । ভালো থাকবেন ।
অকাজের কথা শোনানো যখন শুরু করলেন তখন থেকে আকর্ষণ করেছে, তার আগের অংশটা খুব একটা আকর্ষণীয় লাগে নাই...
ফ্রাঙ্কলি বললাম, কিছু মনে কইরেন না
মনে কিছু করছিনা । কারন আমি লিখছি বলছিনা । আপনাকে সাধুবাদ যে আপনি সত্য কথা ফ্রাংকলি বললেন । আমিও এটাই চাই । আসলে কিন্তু অকাজ থেকেই মূল লেখাটা । তার আগেরগুলো আমার কাছেও ল্যাজ মনে হয়েছে । বুঝেনতো অকাজ সবসময় কাজ হয়ে উঠতে পারেনা । জোর করে লেজ জুড়ে দিয়েছি তাই তা লেজ ভেবে অগ্রাহ্য করলেই বাঁচি । দোয়া রাখবেন । ভালো থাকবেন । আর হ্যাঁ , আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
আপনার নামটাই এমন, মনে হয় দুনিয়ার সবথেকে দুঃখী মানুষ আপনি
। কেন ভাই? এই বয়সেই এত শূন্য শূন্য ভাব কেন? লেখেন তো ভালো, হাসিখুশীও থাকুন সবসময় ।
ভাই অনেক খুশি হলাম । এইযে হাসছি হি হি হা হা । আপনে যে আমাকে দুখু মিয়া বানায় ফেললেন ! এটাও একটা সুখকর বিষয় । আর আমার নাম কিন্তু একান্ত অভাজন নয় । এটা ছদ্মনাম , প্রতীকীও বলা যায় ।
আপনার মতে আমি লিখি ভালোই কিন্তু . . . । আমি আগেও বলেছি আপনাদের ভালো লাগলে আমি অনেক খুশি থাকি । তার মানে এ নয় যে সবসময় ভালো বলবেন । তারপর ভালো বললে খারাপ লাগার কথা না । আমি চেষ্টা রাখব আপনার সদুপদেশ পালনের । আপনার আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ যথেষ্ট নয় । তাই আপনার মঙ্গল প্রার্থনাই করছি । ভালো খাকুন ।
শেষ প্যারাটা আমার অসাধারণ লেগেছে, ফ্র্যাঙ্কলি এন্ড ট্রুলি স্পোকেন
শেষ কমেন্টটা ও ছিল অসাধারণ । ট্রুলি স্পোকেন । এবং ধইন্যা ধইন্যা ।
দারুণ!
লীনা আপাকে ধন্যবাদ । দোয়া রাখবেন । ভালো থাকুন ।
মন্তব্য করুন