রম্য সিক্যুয়েল-- একটি নাতিদীর্ঘ প্রেমের গল্প
***টুটুল ভাইয়ের রিকোয়েস্ট(কমান্ড:P) এ শিরুনাম বদলানো হইলো।
ভূমিকাঃ-
একটা বিষয় নিয়ে বারবার লিখলে বা ঘাঁটলে সেটারে সোজা বাংলায় কয় ত্যানা প্যাঁচানি। তবে ক্যান জানি ত্যানা প্যাঁচানোতে দারুন মজা পাইতেছি। একটি জ্যাকেট, একজন ব্লগার আর একটি ব্লগের কাহিনী পোস্ট করার পর একজন ব্লগারের হাপিত্যেশ দেইখা মনের ভিতরের মারা যাওয়া বান্দরটা দাঁত কেলিয়ে হেসে উঠলো। তাই লেখাটার রম্য সিকুয়েল লিখতে মন চাইলো। মাইন্ড খাইলে কিছু করার নাই। 
উৎসর্গঃ-
জনৈক ব্লগার। কে সেইটা আপনার বের করবেন লেখা পইড়া, না পারলে আমি তো আছিই 
কৃতজ্ঞতা-
নাজ আপা, তার গল্পের থেইকা ইনসপায়ারড হইয়া লেখা। আপত্তি থাকলে আওয়াজ দিয়েন, পোস্ট লগে লগে ফ্রিজে যাইবো।
বহুক্ষন যাবৎ বালিকার পিছন পিছন ঘুরিতেছি। পাক্কা দুই ঘন্টা! কিন্তু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপনী বিতানে এতোক্ষন ধরিয়া প্রদক্ষিন করিতে থাকা সুন্দরী বালিকার ঠান্ডা নামক ব্যাধিটার কোনোরকম লক্ষন দেখিতে পাইতেছিনা। বরঞ্চ গায়ের উপর আব্রু হিসাবে ঝুলিতে থাকা উড়নাখানি উঠিতে উঠিতে গলায় গিয়া ঠেকিয়াছে। নিতান্তই বাধ্য হইয়াই, নহিলে উহার কোনো প্রয়োজন আছে বলিয়া আমার মনে হইতেছে না। সেই কবেই গায়ের কালো জ্যাকেটখানি হাতে লইয়া বালিকার পশ্চাতে ঘুরিতেছি, কিন্তু বিধি বাম।
এর আগের বার ট্রাই মারিয়াছিলাম গ্রামের বাড়িতে। হাত পাখা লইয়া ঘুরিতেছিলাম। আমার মামাতো ভগিনীর আশেপাশে। ও রন্ধনকর্ম সারিতেছিলো। আমি আকবইরার গানটা গুনগুন করিয়া ভাঁজিতেছিলাম আর হাতপাখাখানি এদিক ওদিক করিতেছিলাম। বাতাস করিতে করিতে হাত ব্যাথা হইয়া গেলো, কিন্তু বালিকার কোনো বিকার নাই। রান্না শেষ হইবার পর সে যাহা বলিলো, তাতে দুইখানা ব্যাপার ঘটিলো। এক- আমার মুখটা বেজায় রকম হা হইয়া গেলো। দুই- হাত থেকে হাতপাখাখানি মাটিতে পড়িয়া গেলো।
ভগিনী আমার বলিয়াছিলো- ''ভাইজান, আইজ সর্ষে দিয়া ইলিশ রানছি, মুকুল আইবো আইজকা।''
মুকুল কোন হতভাগা আমার বুঝিতে বাকি থাকিলোনা, যখন দেখিলাম, বালিকার দুই গাল ঈষৎ লাল হইয়া উঠিয়াছে।
যাহা হউক, এইবার আমি ব্যার্থ হইবার জন্য মাঠে, থুক্কু মার্কেটে নামি নাই। আচানক লক্ষ্য করিলাম, বালিকা বিপনী বিতানে তাহার থলি সমেত লোহার বেঞ্চে বসিয়াছে। উদ্দেশ্য, সম্ভবত খানিক জিরায়া লওয়া। আমি চতুর শিকারীর মতো নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়াইয়া তাহাকে ''ওয়াচে'' দিলাম।
প্রায় মিনিট পাঁচেক অতিবাহিত হইবার পর আমার অপেক্ষার অবসান ঘটিলো। দেখিলাম, বালিকা তাহার দোপাট্টাকে গায়ের সহিত ভালো করিয়া জড়াইয়া লইতেছে!!!!
ইউরেকা!!! বলিয়া দৌড়ানোর প্রচন্ড ইচ্ছাটাকে গলা টিপিয়া হত্যা করিয়া, আরো একটু দেখিবার সিদ্ধান্ত লইলাম। আমি ঝুঁকি লইতে রাজী নহি। কারণ, এইবার আমি ব্যর্থ হইতে চাহিনা। অনেক হইয়াছে, এইবার তড়ী ভেড়ানোর বড্ড বেশি প্রয়োজন।
সবুরে মেওয়া ফলিলো। দেখিলাম, সত্যিই বালিকার ঠান্ডানূভুতি প্রকট হইয়া দাঁড়াইয়াছে। ঈষৎ কম্পন লক্ষ্য করিলাম, তাহার শরীরে।
এইবার বীর দর্পে আগাইয়া গেলাম। আচরনে এবং মুখমন্ডলে দারুন ভাব আনিয়া হাত হইতে জ্যাকেটখানা তাহার দিকে বাড়াইয়া দিয়া বলিলাম, ''নিন, আপনার মনে হয় ঠান্ডা লাগতেছে।''
বালিকা কিঞ্চিৎ অবাক হইলো, কিন্তু আমার মন মন্দিরে খুশির ঘন্টা বাজাইয়া ঠিকই জ্যাকেট হাতে লইলো। দেখিলাম, বালিকার মুখখানা রুমান্টিকতায় ঈষৎ লাল হইয়া গিয়াছে। ওরেরররররেররর!!! আমার কাম সারা হইতে চলিলো বুঝি।
আমি তাহার পাশে বসিবার অনুমতি চাহিলাম। বালিকা সানন্দে অনুমতি প্রদান করিলো।
ইহার পর গতানুগতিক রাস্তায় চলিতে পারিতো কাহিনী। বালিকার সাথে কথা হইতে পারিতো, আমার সেল নাম্বার খানি তাহাকে হস্তগত করিতে পারিতাম। তাহার পর জ্যাকেট খানি সমেত তাহাকে বিদায় দিতে পারিতাম। ম্যাসেঞ্জারে তাহার সহিত কথা হইতে পারিতো। ভালোবাসা নামক কট্টিন জিনিসটাকে অনুভব করিতে পারিতাম। অতঃপর শুভ বিবাহের কর্ম সারিবার পর ব্লগে আমাদের প্রেম কাহিনী লইয়া পোস্টও আসিতো, কিন্তু হতভাগার কপালে পোড়া আলু ছাড়া আর কিইবা আছে।
বলিয়াই ফেলি, কি ঘটিয়াছিলো-- বালিকা জ্যাকেট গায়ে দিলো। আমি তাহার পাশে উপবিষ্ট। দুই মিনিট অতিক্রান্ত হইতে না হইতেই বালিকার আচরনে বেজায় পরিবর্তন দেখা দিলো। তাহার ফর্সা মুখখানি ফ্যাকাসে আকার ধারন করিলো। দেখিলাম, বমি নামের প্রচন্ড ঘৃণিত বস্তুটা তাহার নাড়িভূড়ি বাহিয়া বাহিরে আসার উপক্রম করিতেছে। বালিকা বমি করিলো অতঃপর জ্ঞান হারাইলো!!!
মনে মনে প্রমাদ গুনিলাম!! অবলা নারীকে সাহায্য করিবার লোকের মোটেই অভাব নাই। ভালোবাসায় বান্ধা পড়িতে আসিয়াছি, হাতকড়ায় নহে। লক্ষ্য করিলাম, বিপনি বিতানের এদিকটায় লোকজন নেই। আমাদের কেহ লক্ষ্য করেনাই। আমি ভেজা বেড়ালের মতো হাটি হাটি পা পা করিয়া আবারো নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়াইয়া বালিকাকে ''ওয়াচে'' দিলাম। পালাইয়া যাইতে পারিতাম, কিন্তু বালিকার স্ট্যাটাস জানিবার নিমিত্তেই গোপন অবস্থান। তাহা ছাড়াও, কি এমন ঘটিলো, যে নিমিষেই সে মূর্ছা গেলো? সেইটাও জানিতে মন চাহিতেছিলো। কয়েক মিনিটের মধ্যেই লোকজন জড়ো হইলো, নিরাপত্তাকর্মীরা আসিলো। বালিকার মুখমন্ডলে জলের ছিটা দিতেই সে জ্ঞান ফিরায়া পাইলো। সকলে জানিতে উদগ্রীব, কি হইয়াছিলো, কি হইয়াছিলো???
আমি শেয়ালের ন্যায় কর্ণখানি সজাগ রাখিলাম, যাহাতে বালিকার বিবৃতি আমার কর্ণ এড়াইয়া না যায়। যাহা শুনিলাম, তাহাতে একটা ইচ্ছাই জাগিয়াছিলো মনে। আত্মহত্যা, স্রেফ আত্মহত্যা!!!
বালিকা বলিয়াছিলো- ''ঠান্ডামতোন লাগতেছিলো একটু, এক লোক আসিয়া তাহার জ্যাকেট বাড়িয়ে দ্যায় আমাকে। আমি সেইটা গায়ে দিতেই,,, এমাআআআ!!!! কি বিচ্ছিরি দূর্গন্ধ!!!!
আমি বমি করতে করতে জ্ঞান হারায়া ফেলি!!!
বিপনী বিতান হইতে বাহির হইয়া সিগারেট ধরাইয়া বাড়ির পথে যাইতে যাইতে ভাবিতেছিলাম, আজিকেই বাসার নিকটে লন্ড্রির দোকানে যাইতে হইবো। সব কাপড় একবারেই লন্ড্রিতে দিয়া দিতে হইবো!!!!!:#(





আপনার মূল্যবান কমেন্ট এর আশায় আচিলাম। ইমো দিয়াই ভাগলেন?
কমেন্টের বদলে একখানা পোষ্ট দিয়া দিলাম আপনেরে
আমি বেজায় খুশি হইচি। হাচাই। ম্যালা দিন পর মনে হইতাচে ব্লগ লিখতাচি, মন থেইকা।
হা হা হা হা হা......... সাবাশ
বিমা ভাই, পিঠ চাপড়াইয়া দিলেই হইবোনা, উৎসর্গ কারে করছি, হেইডা কইতে হইবো।
এমনে বলতে নাই .... সবাই বুইঝা যাইবো তো !
ঠিকাচে, তাইলে তোলা থাকুক।
ওই পুলাডার জ্যাকেট বারোমাসই গন্ধ থাকে। নইলে এতোদিন হয়ে গেলো, হাপিত্যেষ কমেনা কেন?
বলেন, পুলাডা কে?
চ্রম হইছে...
নজরুল ভাই, উৎসর্গ কারে করলাম, কেউ তো হেইডা কইতাচেন না???
যদি জানেন, তাইলে গোপন রাখেন। খ্যাক।
ফাটাফাটি হইছে ভাইডি! হা হা হা.. হাত খুইল্যা লেখতে থাকেন । শুভ কামনা থাকলো ।
থ্যাংকু। মানু সিক্যুয়েল লেইখা ফালাইচে। দেইখা আসেন।
প্রথম মন্তব্যকারীর কাছ থেকে আরো এক্টা সিক্যুয়েল হইতারে
ব্যাপক হইছেগো ভাইডি
সহমত জনাইলাম । মানু এইটার সিক্যুয়াল বানায় ফেলুক অতিসত্বর
এইবার আপনের পালা। খ্যাক।
সহমত। পরবর্তী হতভাগা ওইটাই।
অন্য জামা কাপড়গুলা ধুইছেনতো, বাহে ?
লেখা অতীব ভালো হৈছে... মজা পাইছি
যায়াদ ভাই, মানুর কাপর থেইকা গন্ধ বারায়, আমার না।
ত্যানা প্যাচানী জোশ হইছে। মজা পাইলাম।যারে উৎসর্গ করলেন সে একটা পর্ব লিখুক।
বেচারা আর থাকতে পারেনাই। অলরেডি লিখ্যা ফালাইচে।
হা হা প গে! জটিলস!!
এরকম গল্প আরো চাই!!
বানানগুলো ঠিক করে নিলে বই ছাপানোর উপযুক্ত গল্প!
আর বানান। জিন্দেগীতেও ঠিক হইবোনা।
কালকে সকালেই পরীক্ষা, এখন রাত ২টা, তবুও শুধু আপনার এই পোস্টে কমেন্ট করার জন্য লগইন করলাম বাদশাভাই, আমার পড়া ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট রম্যলেখা। স্যালুট ভ্রাত। টুটুলদা'র ফেবু'র লিংক থেকে এসেছিলাম!
আমার মনে পড়ছে, আপনি আমার পোস্টে টেমপ্লেট কমেন্ট ইউজ করেন। আপনার চোখে আমার সবগুলো লেখাই ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট লেখা।
দিলে চোট পাইলাম। লেখা সত্যিই ভাল হইছে, চ্রম রম্য। আর আপনি কিনা!!
হা হা হা, আরে রে চরম, আমি তো ভ্যাবাচ্যাকা--------সেরম দুর্গন্ধ তো ভাই, আপনের শৈল্যা আর জামাকাপড়ে-------
ভুল দরোজায় কড়া নাড়ছেন। মানুর কাহিনী এইটা, আমার না।
সেরাম
থ্যাংকু।
আমার প্রশ্ন আরেকটা। এইটা কি আমাগো মুকুল, যার জন্য আপনার মামাতো ভগিনী সর্শে ইলিশ রন্ধন করিতেছিল?
তাইলে তো মুকুলের গতি হইল একটা।
এতোক্ষনে পাইলাম!! মাসুম ভাই, আমি চিন্তাইতেছিলাম কেউ মুকুল কেডা জিজ্ঞেস করেনা ক্যান। চামে হেরেও একটা গতি কইরা দিলাম, খ্যাক।
বাহ!! একটা লেখা যে এতগুলো লেখা'র জন্ম দিবে, ভাবতেই পারিনি।
ভীষন মজা পাইলাম
এইডারে কয় ত্যানা প্যাচানি। তয় বহুত দিন পর এমন প্যাচানি খেললাম। সামু ব্লগে অনেক আগে এইরম শয়তানি লেখা দিতাম। বন্ধু ব্লগে আইসা ম্যালা দিন পর বান্দরামির শখ মাথাচাড়া দিয়া উঠলো। ধন্যবাদ আপনেরে।
সব কাপড় একবারেই লন্ড্রিতে দিয়া দিতে হইবো!!!!!:#(
হ
হা হা হা ... জমজমাট লেখা!!
হেব্বী মজা পাইলাম ...
তার মানে হইলো গল্পের আগেও গল্প আছে, না? জ্যাকেট দেওয়ার গল্পের আগে ঐটারে ধোপার কাছে দেওয়ার গল্পও আছে নিশ্চয়ই...
হ্যাঁ। সেই গল্প আরেকদিন কমুনে। থ্যাংকস।
kamon achen ???
ভালো না ভাই। আপনাকে দেখিনা কোথাও।
বিয়াপক হইছে ভ্রাতা.... চ্রম..
থ্যাংকু।
ভাই পিলিজ লাগে ! আপ্নের অন্য লেখারগুলার লিঙ্ক দ্যান!
মন্তব্য করুন