কবিতা: শ্রাবস্তী, তুমি জানো!
নোট: কবিতাটি মোহাম্মদ জহির সম্পাদিত, আরএসি চেম্বার, ৩৭ রাজাপুকুর লেইন, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত মাসিক ম্যাগাজিন ‘শ্লোগান’ এর ১-২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রকাশিত লেখায় আমার নাম ছাপা হয়নি। এ ভুলের কথা মোবাইল ফোনে সম্পাদকে জানালে, কবিতাটি বর্ষ ১৭, সংখ্যা ১০/ জুন ২০০৮ ইং সংখ্যায় পূনঃমুদ্রণ করা হয়। কিন্তু পূণঃমুদ্রিত কবিতাটিতেও কিছু লাইন বাদ পড়ে যায়। সেটা কি সম্পদাকীয় নীতির কারনে হয়েছে কীনা জানতে পারিনি। তবে আমার আপত্তির কথা সম্পাদককে জানানোর পর সম্পাদক দুঃখ প্রকাশ করে পূর্ণবার পূণঃমুদ্রণের জন্য কবিতাটি আবার পাঠাতে বলেন। কিন্তু মূল লেখাটি আবার পাঠালেও সম্পাদক তার কথা রাখেন নি। আমি দু’বার তাকে মনে করিয়ে দিয়েছি, তিনি আবারও কথা দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। হয়তোবা তিনি ব্যপারটা ভুলেই গেছেন। শেষে নিরাশ হয়ে আমিও ক্ষান্ত দিয়েছি এবং ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সে হিসেবে আমার মূল কবিতাটি অপ্রকাশিত কবিতাই বলা চলে। মূল কবিতাটি এখানে 'আমরা বন্ধু'র পাঠকদের জন্য প্রকাশ করলাম। আর সেইসাথে-
কবিতাটি প্রজন্ম চত্বর এর আন্দোলনকারীগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম। s
------------------------------------------------------------------
আমি কোনো বসন্ত সঙ্গীত গাইতে এখানে আসিনি
অথবা কোনো আলোকিত উদার কবিতা;
অন্ততঃ নিজের জন্য তো নয়ই, বরং নিজেকে আরো বেশি
নিভৃতে রাখবার জন্যে-
বর্তমানের অলিখিত সাইরেনগুলো তুলে নিতে হাতের ছোঁয়ায়;
কিংবা বিজয় স্তম্ভিত উচ্চারণ।
কেননা আমি দেখেছি গাত্রবাস পুড়ে পুড়ে ঘনায়িত ধোঁয়া
ঘিরে ফেলছে দশদিক,
সবগুলো দমকল বাহিনীও নেভাতে পারছেনা উন্মত্ত্ব আগুন;
অথচ বুকের গভীরে জীবনের অতৃপ্ত গুঞ্জরণ
মননে বিষকাটা বিদ্রুপশূল ক্রমাগত বাড়ায় এক ক্রুদ্ধ দহন;
তবে কেনো এসেছি আমি!
আমি আমি আমি-
ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখোমুখি জোগাতে সৃষ্টির রসদ!
নাকি কনিষ্ঠ আঙ্গুলে তুলে নিতে জীবনের
কতিপয় বিভৎস কংকাল!
তুমি জানো, প্রতিশ্রুতি কেবল এক প্রতিশ্রুতিহীনতারই জন্ম দিতে পারে,
এবং মৌনতা এক ব্যতিক্রমী আক্রোশ;
তবে শ্রাবস্তী,
বিদ্রোহের দাবানল যখন জ্বলে উঠে দাউ দাউ
হৃদয়ের ভাষাগুলো পুড়ে পুড়ে ছাই হয়,
তখন আবেগ সিঁথিকার আন্দোলন-
কামনার দ্রোহ-
বাসনার তোলপাড় করা সমুদ্র গর্জন-
আর জীবনের-
সর্বোপরি জীবনের অচেনা হুঙ্কার-
আর বারে বারে পুড়ে ছাই হই আমি!
অথচ, কোনো বসন্তবিলাস- মোহিনী সুবাস- জোনাকি ফরাস
কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই আমার;
কেবল একটু নরোম নিঃশ্বাস ছাড়া,
আমি এসেছি তা-ই পেতে কেবল দগ্ধ আঁচলে;
অথচ আগুন- আগুন কেবলি আগুন
ক্রমাগত বুকের বসত পুড়ায় এক ব্যভিচারী বুর্জোয়া আগুন..
শ্রাবস্তী, তুমি কি পারোনা ইচ্ছে করলেই-
আমার আঁচলে ঢেলে দিতে একমুঠো জল!!
-----------------------------------------------------------------
জীবন মঞ্জিল, দোতলা
৩৭ দত্তপাড়া হাউস বিল্ডিং, টংগী।
জুন ১২, ২০০১ ইং/ রাত্রি ০২.৪৫ মি.।
====================================





প্রজন্ম চত্বর নিয়ে এবার লিখুন আর আসুন আমার স্টলে.. এক কাপ চা খাই
নিজেদের স্বপ্ন পূরণের অভিলাশ নিয়ে, দুটি নিষ্পাপ জীবনের ভালোবাসা গন্তব্যহীন পথে অনন্ত যাত্রায় ছুটে চলেছে।
গ্রাম বাংলায় প্রচলিত মিথ আছে যে, ভাদ্র মাসে বিয়ে করতে নেই, ভাদ্র বেলায় দূরে যাত্রা করতে নেই; এ মাসকে অপয়া, অশুভ হিসাবে ধরা হয়। এখানে ভাদ্র শব্দে অশুভ-অপয়া-দুঃখ-কষ্ট-জ্বালা-যন্ত্রণার ছায়াপাত করা হয়েছে। অমানবিকতা, হিংসা, অপ্রাপ্তি-- নানাবিধ কষ্টের বিষয়গুলো এই ভাদ্র শব্দের ভেলায়, ভেলা ভাসানোর মত এবারের বই মেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হল।
মন্তব্য করুন