নেক্সাস ওয়ানে বাংলা- ক্যামনে কি?

এই পোষ্ট যদি আপনারা কেউ না পড়েন তাইলে কোন কথা নাই। আর যদি পড়েন তাইলে দুইটা কথা আছে। প্রথম এবং সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কথা হইতেছে, আমি টেকি কেউ না। সুতরাং আমার উপদেশ অমৃতবচন মনে করিয়া কেউ যদি বিপদে পড়েন তাইলে আমি দায়ি থাকিব না। এবং দ্বিতীয় কথাটা হইতেছে এইসব আকাম কুকাম করলে আপনার নেক্সাস ওয়ানের ওয়ারেন্টি ভয়েড হইয়া যাইবে; অতএব সাধু সাবধান। তাইলে আসেন বিসমিল্লাহ বইলা শুরু করি। চাইলে দুই রাকাত নফল নামাজও পড়তে পারেন। সাবধানের মার নাই।
এই নশ্বর জীবনে আমি যেই সকল অবিনশ্বর ফোন ব্যবহার করছি আইফোন-থ্রীজি তাহার মধ্যে একটা। কিন্তু হারামি আপেল কোম্পানী আমার আইফোন কিনার ছয় মাসের মাথা আইফোন-থ্রীজি এস বাইর কইরা ফেলে। রাগে মনে হইছিল আপেল খাওয়াই বন্ধ কইরা দিমু। সে যাই হোক। কয়েক মাস আগে মোবাইল কোম্পানীর লগে কন্ট্রাক্ট শেষ হওয়ার পর যখন শৃঙ্খলমুক্ত হইলাম ভাবছিলাম পরবর্তী কন্ট্রাক্টে আইফোন-থীজি এস নিব। কিন্তু আপেল কোম্পানীরে আমার বিশ্বাস হইল না। দেখা গেল আমি আইফোন-থীজি এস নিলাম আর হারামিরা পরের ভার্সন বাইর কইরা ফালাইলো। তাই কোনরকম রিস্ক না নিয়া নিলাম গুগুলের নেক্সাস ওয়ান। নেক্সাস ওয়ান খুবই শক্তিশালি একটা ফোন এমন কি আইফোন-থ্রিজি এসের চাইতেও পাওয়ারফুল। তবে এইটার তথা সমস্ত এন্ড্রয়েড ফোনের বড় সমস্যা হইল আপেলের তুলনায় এদের এ্যপসের সংখ্যা খুবই কম। এই ফোন আবার ইউরোপে আসে নাই। সুদূর আম্রিকা হইতে মেলা প্যাখনা কইরা কিনতে হইছে। কিনার পরেই প্রথম যে ধাক্কাটা খাইলাম সেইটা হইলা ইহা বাংলা পড়েতে পারে না। বাংলা অক্ষরের জায়গায় শুধুই বাক্সের সমাহার। আইফোন-থ্রীজিতে তবু যাইহোক ভাঙ্গাচোরা বাংলা পড়া যাইত। আমার মনটাই ভাইঙ্গা গেল। তবু আশাহত হইলাম না। উই শ্যাল ওভার কাম সাম ডে। শুরু হইল আমার গুগুল সার্চ। গুগুল সার্চ কইরা কইরা যে বাংলা আনছি সেইটার চেহারাও সুবিধার না। যুক্তাক্ষর ঠিক মত আসে না। তারপরেও নাই মামার চাইতে কানা মামা ভাল।
আমি যেই কাজটা করছি সেইটা পানির মতো সহজ এবং সোজা। নেক্সাস ওয়ানের সিস্টেম ফোল্ডারে সিয়াম রুপালী ফন্টখানা কপি পেষ্ট করছি। ভয় নাই, সিয়াম রুপালী ফ্রী ফন্ট সুতরাং জব্বার কাগুর মতো কেউ ফুলকপি রাইট হ্যান্ডে নিয়া ধাওয়া করব না। যাই হোক ফন্ট তো কপি মারলেন কিন্তু সেইটারে সিস্টেম ফোল্ডারে ক্যামনে পেস্ট করবেন সেইটাই আসল প্রশ্ন। সিস্টেম ফোল্ডারে কোন পরিবর্তন আনতে হইলে আগে আপনের ফোনের বুটলোডার আনলক করতে হইবে। আবারো সাবধান, বুট লোডার আনলক করলেই কিন্তু ওয়ারেন্টি ভয়েড। কিন্তু কি আছে জীবনে, আমি ফোন কেনার তিনদিনের মাথায় এই কাম করছি। খোদার অশেষ মেহেরবানি কোন ক্ষতি সাধিত হয় নাই (কোলন ডি)। বুটলোডার আনলক করতে হইলে প্রথমে আগে আপনার কম্পুতে এন্ড্রয়েড এসডিকে ইনস্টল করিতে হইবে। কারণ বুটলোডার আনলকের জন্য প্রয়োজনীয় জনিসপত্র ইহার মধ্যে বর্তমান। এখন কথা হইল ক্যামনে এন্ড্রোয়েড এসডিকে ইন্সটল করবেন। প্রথমে এখানে গিয়া আগে উহা ডাউনলোড করেন। করার পর আপনের লোকাল ডিস্কে এক্সট্রাক্ট করেন। ইহার পর SDK Setup.exe এইটাতে ক্লিক মারেন। যেই সমস্ত প্যাকেজ আসবে তার সব কয়টার যদিও দরকার নাই আমাদের, তারপরেও ফ্রী পাইলে কে ছাড়ে, আপনে এ্যাক্সেপ্ট অল অপশন সিলেক্ট কইরা ইন্সটল এক্সেপ্টে টিপি মারেন।

ইহার ফলে এন্ড্রয়েড ইউ এস বি ড্রাইভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্সটল হবার কথা। কিন্তু যে সকল দুর্ভাগা উইন্ডোজ ৭ ব্যাবহার করতেছেন তাদেরকে ইহা ম্যানুয়ালি ইন্সটল করতে হইবে। সে আরেক ভেজাল। উহার বর্ণনা পরে কোন একদিন দিব।
এরপর পরবর্তি ধাপ।
এইবার কমান্ড প্রোম্পট ওপেন করেন। যারা জানেন না কমান্ড প্রোম্পট কি তারা sart>all porgrams>accessories>comand prompt এই রাস্তা ফলো করেন। একবার কমান্ড প্রোম্পট ওপের করতে পারলে আর কোন চিন্তা নাই। শুধু কমান্ড ডারেক্টরি পরিবর্তন করিয়া C:\android-sdk-windows\tools এইখানে নেওয়া লাগবে, কথা হইল ক্যামনে করবেন। অতিব সোজা, লেখেন cd C:\android-sdk-windows\tools এরপর এন্টারে টিপি দেন।
এইবার আপনার ফোনখানা হাতে নিয়া দেখেন চার্জ ঠিকমতো দেওয়া আছে কিনা। আধামরা অবস্থায় এইসব করতে নিয়া যদি মাঝ রাস্তায় ব্যাটারী শেষ হইয়া যায় তাইলে নিজের পশ্চাদ্দেশে নিজেই লাথি মারা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। এইবার ফোন বন্ধ করেন। এরপর প্রথমে ট্র্যাকবল তারপর পাওয়ার বাটন প্রেমিকারে চাইপ্যা ধরার মতো মোলায়েমভাবে চাইপ্যা ধরেন। এক্ষণে আপনার ফোনের চেহারা হইবার কথা নিম্নরুপঃ

এইবাআর ইউএসবি কেবল দিয়া আপনার পিসি মনির সাথে ফোনখানা সংযুক্ত করেন। পিসি মনির একলাই ডিভাইস রিকগনাইজ করিয়া ড্রাইভার ইন্সটল কইরা নেওয়ার কথা। যদি নেয় তো ভালকথা আর যদি না নেয় তাইলে নিচের কমেন্টের জায়গায় কান্দাকাটি কইরেন আমি উপায় বাতলায় দিব ইনশাল্লাহ। ধরি, পিসি মনি ড্রাইভার রিকগনাইজ করছে। এইবার কমান্ড প্রোম্পটে গিয়া লেখেন, fastboot-windows oem unlock এরপর এন্টারে টিপি দেন। সব কিছু সহি সালামতে থাকলে আপনার ফোনে একগাদা সাবধান বাণী ভাইসা উঠবে, যার সারমর্ম, "আর যদি এক পাও আগাস, তোর ফোনের বারোটা বাজলে গুগুলের পায়ে দিবা রাত্র মাথা কুইটা মরলেও কাজ হইবে না; ওয়ারেন্টি ভয়েড; রাজি আছস কি নাই।"
কিন্তু কি আছে জীবনে। জয় বাংলা হুংকার দিয়া ইয়েস সিলেক্ট করেন। হুংকার দিতে ভুইলেন না। এইসব কাজে জিহাদি জোস না আসলে রিস্ক নেওয়া যায় না। একবার ইয়েস সিলেক্ট করার পর যদিও ফোনের কুমারীত্ব অবশিষ্ট থাকবে না কিন্তু সারা জীবন প্রেমিকারে কে কুমারী রাখতে চায়? এক্ষণে ফোন রিবুট করেন।
এইবার আসল কাজ ক্যামনে বাংলা ফন্ট ইন্সটল করিবেন।
পোষ্টের একদম উপরে সিয়াম রুপালি ফন্টের লিংক দিছিলাম। যদি শুরুতেই ডাউনলোড কইরা থাকেন, অতি উত্তম। না করলে আবার কষ্ট কইরা উপরে উইঠা ওইটা ডাউনলোড করতে হবে। কবি বলেছেন সময়ের কাজ সময়ে করতে। আপনে করেন নাই এইবার কষ্ট করেন। ডাউনলোড হইছে? এইবার ঐ ফন্টখানার নাম চেঞ্জ কইরা নতুন নাম দিবেন DroidSansFallback.ttf। এরপর এইটারে নিয়া আপনার ফোনের এসডি কার্ডের রুট ফোল্ডারে কপি পেস্ট মারেন। এসডি কার্ড হইতে ফন্টখানা ফোনের সিস্টেম ফোল্ডারে স্থানান্তরের দুইটা তরিকা আছে।
তরিকা নাম্বার ১ - এইটা কঠিন এবং ভেজাইল্লা। এন্ড্রয়েড মার্কেটে টার্মিনাল এক্সেসের জন্য নানাবিধ এপস পাওয়া যায়। আমি Terminal Emulator ব্যাবহার করি। ঐটা ইন্সটল করেন। তারপর নিচের কমান্ডগুলা লিখবেন। প্রতিধাপে এন্টার চাপার কথা ভুইলেন না।
su
mount -o rw,remount -t yaffs2 /dev/block/mtdblock3 /system
chmod 4755 /system/fonts/DroidSansFallback.ttf
dd if=/sdcard/DroidSansFallback.ttf of=/system/fonts/DroidSansFallback.ttf
reboot
তরিকা নাম্বার ২- এইটা পানির মতো সহজ। এন্ড্রয়েড মার্কেটে ফাইল ম্যানেজমেন্টের জন্য দুনিয়ার এপস আছে। আমি Root Explorer ব্যাবহার করি। ঐটা ইন্সটল দেন। এইবার এসডি কার্ড হইতে সংশ্লেষ্ট ফন্টখানা কপি করিয়া সিস্টেম ফোল্ডারের মাঝে ফন্ট নামে যে ফোল্ডার আছে ঐখানে পেষ্ট মারেন। উল্লেখ্য উক্ত ফোল্ডারে DroidSansFallback.ttf নামে একখানা ফন্ট আগে হইতেই আছে। সুতরাং একটা সাবধান বাণী আসবে। ঐটাতে কান না দিলেও চলবে। এইবার ফোন রিবুট মারেন।
সব কছু সহি সালামত মোতাবেক হইলে আপনি এরপর হইতে আপনার নেক্সাস ওয়ানে বাংলা পড়তে সক্ষম হইবেন ইনশাল্লাহ।





এনড্রয়েডই চক্ষে দেখলাম না, আর এনড্রয়েড লইয়া টিউটো পইড়া ফেললাম
এনড্রয়েড ডেভু কয়েকখান আছে দূর থিকা হাল্কার উপ্রে চিনি, দেখি ওগোরে কমু একটা এপস বানাইতে বাংলা পড়ার জন্য
প্লিজ বইলেন। আমাদিগকে এই যন্ত্রনার হাত হইতে রক্ষা করেন।
এই টিউটো যতটা সম্ভব সোজা কইরা লিখার চেষ্টা করলাম। ইহ জগতে যত টিউটো পাইছি সবই বোরিং রসকস ছাড়া। আল্লাহ জানে সবাই কেন এত ধমক দিয়া টিউটো লিখে।
তোমার লেখা পৈড়া হাস্তে হাস্তে শ্যাষ!
বাই দ্য ওয়ে, আইফুনটা কী কর্ছো ?
ঐটা এখনো আমার জিম্মায় আছে। নেটওয়ার্ক আনলক করার কোন বুদ্ধি পাইতেছি না। পাওয়ামাত্র আনলক করিয়া আমার ছোটভাইয়ের হাতে ধরাইয়া দিব।
আমি এই এলাকার না....ওরে বাপু।
আমার এত সাধের রচনা দেখি পানিতে গেল
ফুটানি পোষ্ট
এইসব হাবিজাবি জিনিশ আমরা বেভার করি না।
আর একটা কথা আঙ্গুর ফল মোটেও টক না।
ইয়ে মানে ভুইল্যা গেছিলাম, জব্র কাগুরে বললে অল্প খরচে একটা বিজয় নিক্সন প্রোগ্রাম বাইর কইরা দিতারে, আশা করি সেই প্রোগ্রামের দাম ৫/৭ হাজার টেকার বেশী হইবোনা।
দরকার নাইক্কা। আমি বরং বাংলিশ লিখমু
এত্তো ফোন, এত্তো কেম্রা'র গোপন রহস্য কি??... তবে কি নতুনদেশ তোমার কথাই বলছে?? সত্য চাপা থাকে না......
যদিও আমার জন্যে আকাইম্মা পোষ্ট, মজা লাগছে বলে পড়া আর কি... তোমার ভাই কি এখনো মোবাইল হারায় নাকি??... ওর তো দারুন মজা।
আহা তোমার কথা যদি সত্য হইত।
আমার ভাই ভাল আছে তবে তার ফোনের খবর জানি না।
আমার ত এই ফোন নাই
তাইলে আর পোষ্টাইয়া কি লাভ হইল
এই ফোন দেখায়া বাঙালী জাতী কে নেক্সাস লোভি করার তেব্র পরতিবাদ।
একটা ফোন গিফট করেন, বানায়া দিবার পারুম ইনশা আল্লাহ!
গিফট দিয়া দেওয়ার পর আর বানাইলেই কি আর না বানাইলেই কি আসে যায়
দিক্কার, আমরা গরীব বইলা কি মানুষ না? নাহয় আমাদের এরকম দামী দামী সেট নাই, তাই বইলা...
ঐ, মাইনাষ বাটনডা কই জানি
গুগল ফচা
এইটা আমগো দেশে দেয় নাই
গুগুলরে মাইনাচ
আপেল কি? আইফোন কি? উহাদের কি করে খায় এবং মাথায় দেয়? উদাহরন সব বিস্তারিত বিবরন দাও
ইয়ে মানে, সে এক বিরাট ইতিহাস; ঘরে ছিলনা কেরাসিন ...
এইখানে গিয়া সকলে মিল্ল্যা আসেন কান্দাকাটি করি... http://code.google.com/p/android/issues/detail?id=5925
গুগুলায়েচ্ছাল্লাম হয়তো নিমরাজি হইলেও হইতে পারেন ইন্ডিক লেংগুয়েজ ছাপোর্ট দিতে. ব্লাকবাড়ি তার টর্চ ভার্সান থেকে ইহা শুরু করিয়াছে, এন্ড্রয়েড/জিঞ্জারব্রেড ইত্যাকার ঝামেলাগুলিও করিতে বাধ্য হইবে যদি আন্দুলন থাকে।।।
আপনাদের অতি অপছন্দের..
আরিফুর রহমান
মন্তব্য করুন