ঐ দুই পতাকার আত্মকথা....


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা,মানে যেখানে বসে এই মুহূর্তে লিখছি, ঠিক সেখান থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ফুটো করে ১২০০০+ কি.মি পৌঁছালে ওপাশের যে জায়গায় উঠা যাবে ( বা নামা যাবে, যা আদতে অসম্ভব) সে যায়গাটি চিলির কোন এক জায়গা( ঠিক মনে পড়ছে না জায়গার নাম) , আর চিলির পাশপাশি দুটো দেশ , ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা।.
কত দূর কিন্তু এই বাংলার আনাচে কানাচে আবাল বুদ্ধ বনিতার কাছে অতি পরিচিত দুটো দেশ। সবই ফুটবলের বদৌলতে।
কে না চেনে সবুজ হলুদ আর নীল সাদা রঙের পতাকাগুলো।
দক্ষিণ আমেরিকার সীমনা পাড়ি দিয়ে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার অরিজিনাল দুটো পতাকা যদি বাংলাদেশে এসে পড়ে এই এই বিশ্বকাপে কাঁপতে থাকা সময়, নিশ্চিত অবাক হবে , তাদের নিজ দেশেও এত পতাকা উড়ছে বলে মনে হয় না।
উড়ছে ঠিকই , বেঢপ ঢঙে, অচেনা রঙে, ভূল আকৃতি আর আকারে আর বৈশিষ্ঠৈ।
এত এত ভার্সেটাইল পাতাকার ধরন দেখে নিশ্চয় সেই পতাকাগুলো বেদম আননন্দের মাঝেও ব্যাপক কষ্ট পেত আর বলত, হে, হুজুকে মাতাল বাংগালী আমাদের সম্পর্কে একটু জেনে নিলেই তো পার..........
ব্রাজিলের পাতাকার আত্মকথাঃ
আমি ব্রাজিলের পতাকা। আমার সবুজ অংশ হলো সবুজ মাঠের নিদর্শন। যার মাঝে একটা বড়সড় হলুদ রম্বস, রম্বসের মাঝে আবার একটা বৃত্ত যার রঙ নীল, এর মাঝে আছে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে মোট ২৭ টি তারা। নীল বৃত্তের মাঝে একটা সাদা ব্যান্ড আছে যার মধ্যে লেখা রয়েছে Ordem e Progresso ("Order and Progress"). এটা ব্রাজিলের মূলমন্ত্র। এই লেখাটা সবুজ (গাড়) রঙে লেখা।
![]()
আমাকে এই আকৃতিতে ডিজাইন করা হয়েছিল ও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল, ১৮৮৯ এর ১শে নভেম্বরে। অবশ্য তখন তারার সংখ্যা ছিল ২১ টি। বর্তমানে ২৭ টি তারার কারন হলো , এর মধ্যে ২৬টি ব্রাজিলের স্টেট এবং একটি ফেডারেল ডিষ্ট্রিক্ট।
আমার এই আধুনিক রিপাবলিকান রূপে সবুজাংশ হলো ব্রাজিলের বিশাল বন, হলুদ রম্বস হলো খনিজ সম্পদ আর নীল বৃত্ত হলো , ১৮৮৯ এর ১৫ই নভেম্বর ( যে দিন ব্রাজিলকে গনপ্রজাতন্ত্রী ঘোষনা দেয়া হয়।) এ রিও ডি জেনারিওর উপরে র আকাশ ( এই দৃশ্যটি আয়নায় যেমন দেখা যায় তেমন)
দেখুন আমার এই সবুজ হলুদ নীলে কত ইতিহাস । প্রতিটি তারার অবস্থান এবং কোনটি কোন স্টেটকে নির্দেশ করে সেটাও আমার মধ্যে সুস্পষ্ট স্থান নির্ধারন করে বলে দেয়া হয়েছে।
![]()
ওহ একটা কথা কিন্তু বলা হলো না, ২৭ তারার এই পরিবর্তন করা হয়েছিল ১৯৯২ সালের ১২ ই মে।
এবার একটু খেয়াল করে আমার রেপ্লিকা গুলো বানানো কি যায় না হে আমার পতাকা প্রেমিক দল।
আর্জেন্টিনার পতাকার আত্মকথাঃ
হাই আমি আর্জেন্টিনার পত পত করে উড়ে বেড়ানো পতাকা। সারা বিশ্বে আমার কত ভক্ত। বাংলাদেশে তো আমার স্বর্গ রাজ্য। দেখেই মুগ্ধ, চোখ জুড়িয়ে যায়। ভুল ভ্রান্তি অনেক করে ফেলেছ ডিজাইনে। অথচ বোঝা তো যায়।
তোমরা কিন্তু অনেকেই জানোনা, আমার রূপ বর্তামনে দুইরকম প্রচলিত আছে।
একটা অফিসিয়াল সেরিমোনিয়াল পতাকা
![]()
আরেকটি অরনামেন্টাল পতাকা।
![]()
নিশ্চয় বুঝে ফেলেছ। একটার ভেতর সূর্য আছে । পরের টাতে সূর্য নেই।
এমনেতেই সবাই ঠিক জানো আমি জানি, পতাকার মাঝে তিনটি ভাগ। হালকা নীল (আকাশী), তারপর সাদা বেন্ড আবার হালকা নীল ( আকাশী) ব্যান্ড। এই তিন বেন্ড পতাকায়। তিন অংশ একই সমান প্রস্তের।
১৮১২ সালের ২৭ শে ফেব্রুয়ারী আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রোজারিও শহরে প্রথম এই তিন সমান বেন্ডে ভাগ করা আমাকে উড়ানো হয়। আমার মূল ডিজাইন করেছিলেন, ম্যানুয়েল বেলগারনো।
মাঝখানের হলুদ সূর্যটা যোগ করা হয় ১৮১৮ সালে।
আমার দুই রূপ কেই বর্তমানে জাতীয় পতাকার স্বীকৃতি দেয়া আছে। ব্যবহার গত কিছূ পার্থক্য আছে অবশ্য।

আমার রঙ বিশ্লেষন নিয়ে অনেক ধরনের মতবাদ আছে। কিন্তু প্রচলিত ধারনায় আকাশ, মেঘ আর সূর্য কেই ধারনা করা হয়ে থাকে। ইতিহাস বীদরা মনে করেন ভারজিন ম্যারি নামক একজন এর আত্মত্যাগের কথা। তার গায়ে এই ধরেনর পোষাক থাকত। তার সেই পোষাকের প্রতিচ্ছবি এই আমার মাঝে পড়েছে। ...হতে পারে । নাও পারে। এমন আরও অনেক মতামত আছে। সে সব থাক।
আমি তোমাদের এই বাংলাদেশে নীল আর সাদার পতপত করে উড়তে থাকা দৃশ্যে বুকে নিয়ে ফির যাচ্ছি ব্রাজিলের পতাকার সাথে একত্রে। আমি খুবই আনন্দিত।
আমরা দুজনেই জানি তোমাদের বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার মাঝে অনেক ঐতিহ্য অনেক কষ্ট অনেক গর্ব। ফুটবলটা একটু মনোযোগ দিয়ে খেল। আমাদের সাথে সাথে তোমাদের সেই লাল সবুজও উড়বে একই কাতারে। সেদিন
কত ভাল হবে বলো?





প্রিয়তে
হল্যান্ডের রাষ্ট্রবধূ আবার আর্জেন্টিয়ান। একটা খেলা পরা দরকার আর্জেন্টিনা - হল্যান্ড। রাজপ্রাসাদের অবস্থাটা দেখার জন্য।
তাই নাকি? আমি কিন্তু হল্যান্ডেরও সাপোর্টারও (ব্রাজিলের পর)
চিরশত্রু সাপোর্ট করার মজা আছে। যেমন আমি আর্জেন্টিনার পরেই ইংল্যাণ্ডের সাপোর্টার/ রাজপ্রাসাদে মজাই হবার কথা
আগে পরে নাই... ব্রাজিল
পতাকা পোস্ট পছন্দ হইসে
ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন