ভেতর-বাহির ( সপ্তদশ পর্ব)
ফেব্র“য়ারী মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় ক্রিকেট দলে ১৬ জন রাখা যাবে এমন খবর মিডিয়ার বদৌলতেই আমরা আমজনতা জেনেছি। অথচ এই টা সত্যি সম্ভব হলো না। হতে পারে ৯ই ফেব্র“য়ারী মাশরাফিকে নিয়ে১৫ জনের দল গঠন করলে তখন যাকে বাদ দেয়া হবে তার জন্য বিষয়টা খুব খারাপ হয়ে যাবে। এটা আম জনতা হিসেবে একটা স্পেকুল্যাশেন। ১৫ জনের দলে মাশরাফিকে রাখাও যেত । আবার অন্য ভাবে চিন্তা করলে একজন অসুস্থ আনফিট খেলোয়াড়কে না নেয়ার মধ্যে পেশাদারী মনোভাব বিবেচ্য। কিন্তু আমরা বাঙালী বলেই জানি এত সহজে ঐ রকম সিদ্ধান্ত হয়নি। আবার এই বেশি জানি বলেই আমরা সমালোচনায় সোচ্চার হই। মিটিং এর মধ্যে কেনো সাকিব চলে গেলো, কেনো শেষ মুহূর্তে আশরাফুল বিতারিত করনের জন্য এক মহা তোড়জোড় চলে গেলো, খেলোয়াড়দের মধ্যে কি তবে ক্ষুদ্র কোন সিন্ডিকেট তৈরী হয়ে গেছে, যেখানে সেই সিন্ডিকেট বন্ধুদলের বাইরের খেলোয়াড়রা কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। সব আমরা আলোচনা করতে শুরু করি। মিডিয়া মাঝে মাঝে তথ্য দিয়ে উস্কে দেয়। আমরা আমজনতা আকাশ পাতাল বুঝে ফেলি, বোঝাতে শুরু করি, শেষে নিজের ইচ্ছের পূর্ণ প্রতিফলনে বিস্ফোরিত হয়ে উঠি। আবার শাহরিয়ার নাফিস শেষ পর্যন্ত টিকে যাওয়ায় তীব্র খুশি হয় আমার মত কেউ কেউ। অথচ তারপরও ভাবনা, আসলেই কি সেরা একাদশে নাফিসের জায়গা হবে, টেল এন্ডার অল রাউন্ডা কি তিন জনই প্রয়োজন ছিল , জুনায়েদ নাকি কোচের ভীষণ সু নজরে। আম জনতা ভেবে আগা মাথা উল্টে পাল্টে ফেলে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই খবরে শুনি মাশরাফি বাদ পড়ায় নড়াইলে হরতাল, সমর্থনও দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
শেয়ার থেকে লাভবাবাজীর পদার্পন নিশ্চিহ্ণ হয়ে গেছে, তাই হরতাল ডাকা যেতে পারে। ঘরে ঘরে গ্যাস থাকেনা , হরতাল ডাকা যেতে পারে। বিদ্যুত বাবাজী এই তীব্রশীতেও মাঝে মাঝে হাইপারনেশনে যায় , তাই হরতাল ডাকা যেতে পারে।
যানজট বেড়েই চলেছে, বাড়ছে, উড়াল সেতু জন্য এদিকে যাত্রাবড়ীর আম জনতারা আমরা আরও বাড়তি কষ্ট পাচ্ছি যানজটে, আবার শুরু হবে এয়ারপোর্ট থেকে আরেকটা উড়াল সেতু, যানজটে আর পারিনা তারউপর তাড়াহুড়া করে একক কোম্পানী কে কাজ, সেই কারনে হরতাল তো ডাকাই যেতে পারে। ...
আমাদের আম জনতা নিত্যপণ্যর বাজারে একবার ঢুকলে সেদিনের ঘুম হারিয়ে ফেলি, হরতালতো কাম্যই।
এমনই হাজারো সমস্যা তুলে ধরে ধরে হরতাল ডাকা যেতে পারে।
হরতাল শব্দটি আমাদের জাতির রক্তে মিশে গেছে অতীতেই। আমরা আর ভুলতে পারিনা। যেমন সিন্ডিকেট শব্দটাও আমাদের জাতির চরিত্রে মিশে গেছে অতীতে আমরা নিরপেক্ষ কোন কিছুই করতে পারি না।
তারপরও আমি , আমরা স্বপ্ন দেখেই বাচি, আমরা আম জনতা স্বপ্ন দেখি আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলছে এবং কাঁপছে সকল সিন্ডিকেটগুলোও সেই আনন্দে এবং বিবেকের তাড়নায়।





মাশরাফির জন্য খারাপ লাগছে... আমার পছন্দের খেলোয়ার। আর সাকিব? ও তো চুড়ান্ত পলিটিক্স করইন্না প্লেয়ার। প্রয়োজনে পা ধরতেও বাধে না। নেট ঘাটলে সেই ছবি পাওয়া যাবে। সাকিবরে ভালা পাই কিন্তু তার এই দুই নাম্বারী বিরক্তিকর হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
উড়ার সেতু করতেছে সরকার... লোক দেখানো বাহাবা কুড়ানো এই সেতু কিছুদিন পরই দেখা যাবে গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। যেটা এখন খিলগাও ফ্লাইওভারের ক্ষেত্রে হয়েছে।
উড়াল সেতু দিয়ে উড়াল দিবো কেউ কেউ
একই অস্ত্র ব্যবহার করতে করতে ভোঁতা হয়ে গেছে
মাশরাফির কান্দনের ছবি পত্রিকায় দেইখ্যা বেশি খারাপ লাগছে!
মন্তব্য করুন