ইউজার লগইন

ভেতর-বাহির (চতুর্থ পর্ব)

ভেতরে যখন সূর্য আমার অস্ত হতে হতে কাঁদে
বাহিরে হয়তো সূর্য তখন ধৃত উদয় বিরহ ফাঁদে......
(পথিক)

উপরের লাইনদুটো কি প্রেক্ষিতে কেনো হঠাৎ এই মুহূর্তে লিখে ফেললাম, কেউ সেটা নিয়ে ভাববেন না বলেই ভাবছি। কারন ওটা অকারণ। হয়তো ভবিষ্যতে প্রযোজ্য হলেও হতে পারে।
এই এখন যে বাক্যটি লিখব সেটা আবার না জানি নারী কূলের বিরাহভাজন হয়ে পড়ে কিনা?
অবশ্য ওটা সবাই ই জানে। ঐ ে য নারীর স্বভাব বশত: মানে জাগতিক সীমানার ওপারগত যে ইগোইস্টিক বৈশিষ্ট্য যার প্রভাবে বেঁকে বসলে আর সোজা করা যায় না। বুঝানোই যায় না সূর্য খালি উদয় হয় না অস্তও হয়, বাতাস খালি দক্ষিণ দিক থেকে বয় না, ওটার উত্তর দিক ও চেনা আছে। দোষ খালি একার হয় না, দোষ মানেই কম বেশী দুটো পক্ষের ইনভলভমেন্ট। মানুষ নিরঙ্কুশ সহ্য ক্ষমতা নিয়ে আসে না। এর মধ্যে নারীরা আবার অসীম সহ ্য ক্ষমতা নিয়ে এলেও একই সাথে নিয়ে আসে অসীম রাগ আর অভিমান। সেই অসীম বিষয়টি আমাকে আজ তিন তিনবার তিন তিন পরিস্থিতিতে তিনতিন আঙ্গিকে তিনতিন জন দ্বারা অনুরিত করায় কিঞ্চিৎ না কিঞ্চিৎ কথাটি মিথ্যে হবে , আরেকটু বেশীই, চিনচিন করছে চেতনার দুয়ারের খিল। মুড এর সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শালা বড় ভিমড়ি খাচ্ছে , আমারেও খাওয়াচ্ছে। যা মুড এর আজকে ছুটি ।
মুড মুক্ত এখন আমি। তাইতো ভেতর-বাহির এর এক কিস্তি লেখার প্রবল ইচ্ছে জাগছে। অথচ ভেতরে মানে ঘটে মাল এর বড় অভাব। বাহিরে যা আছে তা সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

মাথাটা একটু আউলাইয়া আছে। পুরান পৃষ্টা উল্টাইলে এইটা ঠিক হলেও হতে পারে।
গত দুইটা দিন সফরের ধ্বকলে পড়েছিলাম। পরপর দুইদিন দুইটা পিকনিক। একটার নাম এবিপি আরেকটা ওপি।
আমার বন্ধু পিকনিক আর অফিসিয়াল পিকনিক , না বোঝার কথা না কারও।
প্রথম পিকনিকে মজা করছি আর পরেরটা তে মন্ত্রীরে তৈল মারা নানা নমুনা দর্শন করেছি। দুইটাই শিক্ষণীয়। আসলে পরেরটা ঠিক পিকনিক না একটা তৈল প্রদায়ক গেট টুগেদার। যদি মন্ত্রী আর সচীবেরে তৈল মেরে বিটিসিএল এর কর্মকর্তাদের মানে আমাদের মত ক্যাডার অফিসারদের নিয়ে সরকারের উদাস নীতির সঠিক কোন পরিসমাপ্তি ঘটানোর আস্বাস পাওয়া যায়। এই উদাস নীতি আপামর জনগণকে বুঝানোর কঠিন দায়িত্ব আমি নিতে রাজী না। তাই এই বিষয়েও ক্ষান্ত দিলাম।
পিকনিক দ্বয়ের মধ্যে অনেক তফাৎ আছিল। এবির পিকনিকে আমি বাঁশী বাজানোর মত ঢং ধরছি আর অফিসিয়াল পিকনিকে বাধ্য হয়ে সামনে পইড়া হাউসি খেলার টিকেট বিক্রেতা ভলেন্টিয়ার হৈছি। অবশ্য চামে নিজেই পাঁচটা পাতা নিয়া খেইলাও লইছি। একটাকাও কপালে জুটল না। তয় মানুষ যে জুয়া খেলার মজা এবং ইচ্ছা জীনগত ভাবে ধারন করে এইটা বোঝা গেছে স্বর্তস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে। ঐ সুযোগের অভাবে চরিত্রবান -এই কথা বড় সত্য হয়ে যায়। গেটটুগেদারের ব্যাপকতাও তেমনই ছিল। আয়োজন করছে আমাগোর মরা বিসিএস( টেলিকম) সমিতি। অথচ সাথে মন্ত্রীর ( সম্ভবত) আবদারে ডাক ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ , টেলিটকের কর্মকতাগণ ও বিটিআরসির কর্তমকর্তা গণ কেও নেয়া হয়েছে। আগে জানলে আমি না যাওয়ার একটা থট দিতাম।
হাতি খানায় পড়লে সব্বে লাথ্থি মারে।

হাতি আর লাথ্থি থেকে কেনো জানি ‘অবতর” ছবিটির কথা মনে পড়ে গেলো। একটু আগে এবিতে আর কাল সম্ভবত অন্য একটা ব্লগে অবতর নিয়ে দুটো লেখা পড়ায় অনেকদিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে লেখার একটা কিছু মনে ঘুরছিল, সেইটা বলা দরকার।
ধর্মে র্ধর্মে হাজারো তফাতের ভিড়ে হাজারো যে মিল তাতে অবতর বলে একটা বিষয় আছে। মানব জাতিকে হেদায়েত প্রদানে মানে পথ প্রদর্শনে যুগে যুগে অবতর নাজিল মানে অবতরণ করেছেন। ধর্ম থেকে ধর্মে হয়তো নাম রূপ বদলেছে। ইসলাম ধর্মে নাম হয়েছে নবী রাসূল আবার হিন্দু ধর্মে সরাসরি অবতরই(কারন শব্দটা আসলে মনে হয় সংস্কৃত থেকেই এসেছে, যে সংস্কৃতকে হিন্দু ধর্মের ভাষা জ্ঞান করা হয়।) । অণ্যান্য ধর্মের তেমনই। অবতর ছবিটাতে এই একটা বিষয় আমার মাঝে এক সাইন্স ফিকশন জনিত আলোড়ন তুলেছে। অবতর , ধরি হিন্দু ধর্মের কৃষ্ণ বা রাম , বাহ্যিক আচার আচরণ ও বৈশিষ্ট্যে তারা সবাইই মানুুষ। মানুষের মধ্য থেকেই মানুষের জন্য অবতর রূপে কাউকে মনোনিত দেয়াটাই দেখা যায় সর্বধর্মে বিধাতার অবতর প্রেরণ স্টাইল। ঠিক এই অস্কার বিজয়ী ‘অবতর’ সিনেমাতেও তাই। ওখানে পেনডোরা গ্রহের ন্যাভি জাতির জন্য মানুষ জাতি থেকে যে জ্যাক আসে অবতর হিসেবে, তাদের ত্রানকর্তা হিসেবে সে মানুষের বেশে আসে নি, পরিচাল তাকেও একজন ন্যাভি রূপে হাজির করেছেন( সাইন্সের অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে , আত্মা ট্রান্সফারের মাধ্যমে) । এই যে স্বজাতির রূপে তাদের ত্রান কর্তা বা অবতর আসল, এই বিষয়টা খুবই অনুধাবন এবং ভাবনার। হিন্দীতে একটা কথা আছে, আকালমান্দ কে লিয়ে ইশারাহই কাফি হে। ঐটা বলে দিলাম।
যে যতই সমালোচনাকরুক, ছবি দেখে আমি মুগ্ধ হৈছি। বুঝলে মুগ্ধ হতেই হবে , ওটা এমনই মনে হয়েছে।

একজনকে বিশেষ ধন্যবাদ:
রায়হান সাঈদ ভাইয়ের জন্য একটা স্পেশাল থ্যাংকস। কেনো? এবির পিকনিকে অসাধারণ ছবি তোলার জন্য। ভাগ্যক্রমে আজ বই মেলায় ওনার সাথে দেখা হওয়ায় সেই ধন্যবাদটা সরাসরি তাকে প্রদান করা গেঝে বলে আমি গর্বিত। অবশ্য চা আর পিঁয়াজু খাইয়ে দামটা দিতে দিলেন না।

৭/০২/২০১০
রাত ১১:২৫

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মামুন ম. আজিজ's picture


অবতর।

মামুন ম. আজিজ's picture


অবতার হবে ...অবতর।

শাওন৩৫০৪'s picture


আজকে আপনারে সারাদিনই তিনতিনের ব্যারামে ধরছে নাকি দিনে তিনতিনবার মাত্র তিন তিনের ব্যারামে ধরছে?....হা হা হা

কাঁকন's picture


অভতার নিয়া অনেক রিভিউ পড়ছি কিন্তু আপনার টা ইউনিক Smile ক্যামেরনের  AVATAR মানেমনেহয় চেহারা

শাওন৩৫০৪'s picture


ক্যামেরনের আভাতারের অর্থ মনে হয় হিন্দু ধর্মীয় অবতারের কাছাকাছি অর্থই...স্পিরিট কয়ারীয়ার টাইপের...(এডা আমার কথা...)

সুবর্ণা's picture


নারী কূলের বিরাগভাজন হওয়ার মতো কিছু দেখলাম না, বরং ভালো লাগলো এতোটা বুঝেন বলে। সবই যখন বুঝলেন তাইলে আর সমস্যা কি?
আলোচনা, সমালোচনা দেখে এভাটার দেখা ফরজ মনে হচ্ছে।

মামুন ম. আজিজ's picture


আপনারে বিশেষ ধন্যবাদ।

বেশী  বুঝি দেখেই বিয়া করা হইলো না।

মুকুল's picture


সাঈদ ভাই আসলেই দূর্দান্ত ছবি তুলে। উনি ব্যাপক ধন্যবাদ প্রাপ্য।

নুশেরা's picture


উপর্যুপরি পিকনিকের ধকলে আছেন তাহলে... রেস্ট নেন

১০

টুটুল's picture


আরে কালকেতো আমরাও মেলায় গেছিলাম Sad

১১

শওকত মাসুম's picture


রায়হান সাঈদ ভাইয়ের জন্য আসলেই একটা স্পেশাল থ্যাংকস।

১২

জ্যোতি's picture


বইমেলায় দেখলাম না ত অাপনাদের!!!!!!!!!!চা টা ত অামরা খাইলাম।মেজবাহ ভাই এর সৌজন্যে।

১৩

মামুন ম. আজিজ's picture


মিস হয়ে গেলো

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.