দিনপঞ্জী এমনও হয়, তোমার কাজটাই কাজ এমন ভাবা ঠিক নয়
ঘুমাতে যাওয়া : ভোর ৪:৩০ এরপর আর না জানা কখন ঘুমালাম (কারণ রাত ১১টা থেকে রাণীকন্যা কাঁদছেন, খাচ্ছেন, ছোটবড় বাথরুম করছেন এবং কোলে উঠছেন)
৬:৩০ সকাল : রাণীকন্যাকে খাওয়ানো
৮:০০ : শয্যায় বাচ্চাকে খাওয়ানো
৮:৩০ : শয্যা ত্যাগ, প্রাত:কৃত সমাপ্তকরণ সাপেক্ষে প্রাত:রাশ গ্রহণ, বাচ্চা তথা রাণীকন্যাকে বাইরে নেয়ার জন্য জামাকাপড় পরানো,বাচ্চাকে খাওয়ানো
৯: ৩০: নিজে তৈরী হয়ে বাচ্চাসহ টিকাদানের উদ্দেশ্যে বের হওয়া
১১:১৫ : টিকা দেয়া শেষ
১১:৩০ : টুকটাক কেনাকাটা করতে গিয়ে গাড়ীর স্টার্ট বন্ধ হয়ে রাস্তায় ফেঁসে যাওয়া, সিএনজি ধরে বাসায় আসা
১১:৫০ : বাসায় ফেরা, বাচ্চার গোসল করার ব্যবস্থা করা
১২:১৫ ; গোসল শেষে খাওয়ানো
১২ :৪৩ : ফোনের ফ্ল্যাক্সি, টুকটাক জিনিস ক্রয়
১: ২০ : বাসায় ঢোকা, নাকেমুখে একটা রুটি গুঁজে , যে যে কাপড় কাঁথা ধুতে হবে সেসব সমেত বাথরুমে ঢোকা
১:৪৪ এ গোসলে যাওয়া
২:২০ : কাপড় ধুয়ে ছাদে দিয়ে গোসল করে খেতে বসা, ভাতে হাত দেবার আগেই বেবির ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া
২:৩০ : খাওয়া শেষ করালাম, কি খাওয়া হলো না জানা
২:৩১: বেবিকে খাওয়ানো শুরু
৩:১৫ : দৌড়াতে দৌড়াতে জোহরের নামায
৩:৪০ : বাথরুম করে, বেবিকে তার নানীর জিম্মায় দিয়ে একটু ঘুমাতে যাওয়া
৩:৫০ : আসরের নামায
৫:০০ : ১ঘণ্টা একটু ঘুমানো হলো
৫:২৫ -৬:৩০: মাগরিবের নামায, বিকেলের টিফিন খেয়ে বেবিকে পরিষ্কার করে খাইয়ে ঘুম পাড়ানো
এবার গতকাল এবং আজকের পেপার নিয়ে বসা, এর মাঝে ভাতিজা এবং ভাতিজির নানা আব্দার মেটানো
৭:৩০: বেবিকে খাওয়ানো, নেপি চেঞ্জ এর মাঝে বহুবার হলো
৮:০০ : এশার নামায পড়া
৮:৩০ : বেবিকে খাওয়ানো
বারো ঘণ্টার ফিরিস্তি অতি সংক্ষেপে দিলাম।
অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন এখনকার অনুভূতিগুলো লিখে রাখতে। আমার রান্না করতে হয় না, তাই একটু বেঁচে গেছি। বেবির টাইম মেইনটেন করে ওষুধ, নাকের ড্রপ, মশা খাচ্ছে কি না, হিসু করে শুয়ে আছে কি না, ঘুমালেও পাহারা দেয়া (কারণ বাসায় ছোট বাচ্চা আছে ওরা আদর করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায় নিমেষেই), পেটে সেঁক দেয়া, অনেকক্ষণ না খেয়ে আছে কি না, দিনে রাতে সব সময় মনিটর করা - আমারই কাজ। আমার বাচ্চা দেখার জন্য তো আমি আরেকজন মা ভাড়া করে আনতে পারব না।
লিখার সময় নেই। নিজের ঘুম নেই তো নেই ই।
এরপরও অনেকে বলে সারাদিন কি করলেন?? তাদের বলি - আমরা বাংলাদেশের মেয়েরা যা করি, তা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা মানুষেরা আবার জন্মালেও করতে পারবে না। নিজের মায়ের পায়ে মনে মনে হাজারবার সালাম ঠুকি।
অফিসে ৮বছর যে কাজ করেছি তা মানবসন্তান লালন পালনের চাইতে অনেক সহজ।
এসব কথা পাবলিকলি বলার কারণে জানি অনেকের ব্যক্তিত্বে আঘাত হানবে, লাগবে অপমাণজনকও।
এটা তাদের উদ্দেশ্যে যারা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা "মা" কে সহজেই বলে ফেলেন "এখন তো লিখতে পারেন, সারাদিন সময় কাটান কিভাবে?, বাসায় থেকে কি করেন?"





এই আশায় বেঁচে থাকি...
ফার্স্ট কমেন্ট।

হুমম
স্বীকার করতে দ্বিধা কি ......
এইটা আম্রা টের পাইছি
... একটা সময় গেছে যখন রাত্রে দুইজনে সময় ভাগ কইরা ঘুমাইতাম। কে কি কইলো সেইসব ভাইবেননা...
আমাদের বাবুটা এখন বড় হচ্ছে দিন দিন.. নতুন নতুন কান্ডকারখানায় সব ভুইলা যাই
বড়ই আনন্দ পেলাম, হা হা হা হা

বাস্তব কথা। এ অভিজ্ঞতার অনেকটা অংশীদার আমিও
নাহীদ : স্বীকার কেন করবে??
টুটুল : ভাগাভাগির ব্যাপারটা বাংলাদেশে মিসিং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, সমস্যা সেখানে। এখন গান শোনেন না - " আমাকে আমার মতো থাকতে দাও "। নিজের ঘুম, নিজের চাকুরী, নিজের ক্যারিয়ার, নিজের স্বাস্থ্য - এগুলোই মানুষের কাছে এখন মুখ্য। বিবাহ ও একটি ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া তো আর কিছু নয়। সামাজিকভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখার একটি তরিকা মাত্র। নারী হলে আপনি যে বাঁজা নন, পুরুষ হলে আপনি যে ইমপোটেন্ট নন- তা প্রমাণিত হলে অনেকক্ষেত্রেই আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
আলী : জেনে খুশি হলাম
মিতুল : অত লাফায়েন না, সামনে আপনারও দিন আসবে।
ভাগ্যিস গোঁফ রেখেছি। গাছে কাঠাল গোঁফে তেল.................
(
(
(
জেনে রাখলাম। ভবিষ্যতে হয়তো কাজে লাগবে আপনার অনুভূতিটা।
আমার বউ যদি রোজনামচা লিখে, তা হলে আপনারটার সঙ্গে তেমন ফারাক হবে না। বরং একমাত্র মেয়ের স্কুল, কোচিং সামলানোর পাশাপাশি তাকে রান্না ঘরেও ঢুকতে হয়। আর আমি অফিস থেকে এসেই কম্পিউটারে বসি অথবা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে আড্ডা দিতে যাই। বিয়ের আগে আমার বউ একটা কিন্ডার গার্ডেনে পড়াতো, এখন সংসার সামলানোরই সময় পায় না। তবে স্বস্তি এটুকুই যে আমাদের বাবুটা বড় হয়ে গেছে। আপনার এবং আপনার বাবুর জন্য শুভ কামনা।
অনেক দিন পড় এসে আপনার লেখা প্রথমে পরলাম । বেশ তো বারো ঘণ্টার ফিরিস্তি
স্যালুট সিস্টার। অনেকে স্টে-হোম মমকে মনে করে কিছুই করেনা, তাদের জন্য কিছুটা জবাব হল।
যেদিন থেকে যুক্তরাষ্ঠ্রে নিজে রান্না করে খেতে হচ্ছে সেদিন থেকে মাকে প্রতিদিন হাজারবার সালাম টুকি।
অভ্যেস হতে সময় লাগবে, একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে। শুভকামনা তোমার আর গুট্টুর জন্য।
চাকরী ছেড়ে দিয়েছো নাকী?
না, চাকুরী ছাড়ব কেন?
পরেরটায় এতো কষ্ট লাগবে না।
তার আর পর নেই........
খিক খিক খিক
আমি আমার মা'কে এক কোটিবার সরি বলছি আমার মেয়ের হওয়ার পর। এতো মমতায় যাকে লালন করছো সে বড় হয়ে ঘাড় ব্যাকা করে মুখে মুখে তোমার তর্ক করবে, ঝগড়া করবে, বেয়াদপি করবে যা আমরা আমাদের মায়ের সাথে এক সময় করেছি
মা হলে পড়েই শুধু মায়ের মর্যাদা বোঝা যায়
অতি সত্য কথা
ওরে বাপরে! রানীকন্যা তো মেঘকন্যাকে পুরা দৌড়ের উপর রেখেছে! ওর রাজত্ব তো সেরকম চলছে! বেশ বেশ! সুস্থ-সবল সম্রাজ্ঞীর মত দাপটের সাথে বেড়ে উঠুক রাণীকন্যা।
মন্তব্য করুন