কন্থথ
কয়েকদিন ধরে মন খারাপের চূড়ান্ত হয়ে আছে। কোনদিকে ভালো কিছু ঘটছে না। আমার পাশে যে কলিগটি বসেন, তিনি হঠাৎ করে একদিন সিদ্ধান্তে আসলেন, গাঁজাই ভালো। কারণ তাকে দেশের বাড়ি থেকে ফোন দিয়েছে বন্ধুরা।
'দোস্ত মাল-টাল তো পাওয়া যাচ্ছে। তোর জন্য রাখবো নাকি?' সে কলিগ জিজ্ঞেস করেছেন 'দাম কতো?' উত্তর পেয়েছেন, 'এই হাজারখানেক টাকা আর কি', তিনি আবার জিজ্ঞেস করেছেন, 'আমাকে কত দিতে হবে?', তার বন্ধু উত্তর করেছেন, 'আমি তো দিতি-টিতি পারবো না, তো তুই আর মামুন দিয়ে দিস, এখন নিয়ে রাখছি'। আমার কলিগ এই শুনে তাকে ধমক দিয়েছেন, 'শালার পুত, ঢাকায় থাকি দেখে ভেবেছিস টাকার পাহাড় বানিয়ে বসে আছি? এ মাসে বেতন-বোনাস যা পেয়েছি শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে-থুয়ে, মেয়ের আকিকায় খর্চা করে শেষ। আমি তোদের ওসবের মধ্যে নেই। আমার বেশি ফিলিংস লাগলে পাঁচ টাকার গাঁজা কিনে রাজা হয়ে ঘুরে বেড়াবো।'
রোজার ঈদের বাকী আছে আর বড়জোর পাঁচ দিন। এরপরে তিনি ফোন কেটে দিয়ে আমার প্রতি একটা বিগলিত হাসি সমৃদ্ধ লুক দিলেন। আমি তার দিকে তাকাচ্ছিলাম না। কিন্তু চোখের কোনায় অস্বস্তি জমছিলো, বুঝতে পারছিলাম ভদ্রলোক আমায় কিছু একটা বলতে চান। তারপরে তিনি ঐ অমোঘ বাণী ঝাড়লেন, গাঁজাই ভালো। এর উপর নেশা নাই।
ক্ষুব্ধমনে তবে মনে মনেই বললাম, ভাই, আপনার বিচারে কি ভালো, কি খারাপ সেটা কি আমি জানতে চাইছি?
না, আসলে বাড়ি থেকে বন্ধুরা ফোন করেছে বুঝেছেন? ওরা মাল কিনে রাখতি চায়, আমার পকেট থেকে টাকা খসানোর ধান্দা। আমি তো কম চালাক না, বলে দিলাম মেয়ের আকিকায় টাকা শেষ, ওসব হবে-টবে না।
দুপুরে পড়ে পড়ে ঘুমোনোর জন্যই হয়তো আমার ঠোঁট কোনে চড়-চড় করছিলো। তার দিকে তাকিয়ে চড়চড়ে একটা হাসি দিলাম। দিয়ে আমার মনিটরের দিকে ঝুকলাম। কী-বোর্ডে আঙ্গুল চালনায় গতি এবং শব্দ দু'টোই বাড়ালাম।
মাগুরার এই ভদ্রলোক শুধু হিসেবীই নন, খানিকটা নিরেটও বটে। আমার নিস্পৃহতা তাকে স্পর্শই করলো না। বললেন, আমাদের ওদিকে বুঝলেন, দুইশ-আড়াইশ টাকা বোতল ফেন্সী, ঢাকায় বোধহয় পোলা-পান পাঁচ-ছয়শ টাকা খরচ করে এ জিনিস খায়। আমরা বাজারে গিয়ে বসলে মুরুব্বী মতোন চাচা বা খালাম্মা মতোন মহিলা এসে দিয়ে যায়। খেয়ে-দেয়ে বসে চা-সিগারেট টেনে দুইশ' বা আড়াইশ' যা মনে চায় দিয়ে চলে আসি।
এইবার তার দিকে ঘুরে তাকালাম। মেজাজ বেশি খারাপ থাকলে আমি সেটা প্রকাশ করতে পারি না। তাই রামধমক দেয়ার জন্য মুখ ঘুরিয়ে শুধুই ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে আবার সোজা হলাম। মনিটরটার মধ্যে যদি মাথা ঢুকিয়ে কাজ করা যেত। তাহলে খুব ভালো হতো।
এরকম বেহাল দশা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন রহমান ভাই। তিনি অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি এবং ফূর্তিবাজ মানুষ। তার সঙ্গে আমার জমেও ভালো। তিনি সিগারেট খাওয়ার জন্য আমাকে বাইরে ডাকলেন। আমিও চট জলদি উঠে গেলাম। কাজ করতে করতে মাথা ধরে গেছে। আমাদের অফিসের গেটের সামনে বসার চেয়ার আছে। সেখানে বসে সিগারেট খাওয়া হয়।





মন্তব্য করুন