যদি তুমি যাও, আমিও তোমার সঙ্গে যাবো
১.
এক ধরনের মানুষ আছে; যারা কোনকিছুর সাতে কিংবা পাঁচে থাকেন না, বিশেষতঃ যখন দীঘির জলের মতো স্থির হয়ে থাকে জীবন। যখন চারিদিকে চলতে থাকে শান্তির বাতাস।
তবে কোনো গন্ডগোল হলে এঁরাই কিন্তু সবার আগে মানুষের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে এগিয়ে আসেন। মাদাগাস্কার ইস্কেপ টু আফ্রিকা'তে মেলমিন চরিত্রটা ঠিক এমনই লেগেছিলো আমার কাছে। যদিও মেলমিন মানুষ না, একটা জিরাফ। তবে ওর চালচলন, কথা-বার্তা, চিন্তা আর প্রেমে পড়ার ধরণ মানুষের মতোই।
এ্যনিমেশন আমার কাছে একটা আশ্রয় কেন্দ্রর মতো। যখন আর পারি না, আমি ওর কাছে আশ্রয় নিই। আমার সবচে' প্রিয় এ্যনিমেশন ওয়াল-ই। মাঝে মাঝে নিজেকে ওয়াল-ই'ই মনে হয়। বুড়ো, জং ধরা, অসম্ভব কিউট কিন্তু ব্যাকডেটেড একটা রোবট; পৃথিবী পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার পর সেখানকার জঞ্জাল সাফ করা এবং সেগুলো জমিয়ে আকাশছোঁয়া কিউব বানানো যার ডিউটি।
সন্ধ্যা নামলে সে খোপে ফিরে এসে নিজের সাড়ে সাতশ' বছরের কালেকশন খুলে নিয়ে বসে। সংগৃহীত সম্পদ নেড়েচেড়ে দেখে, খানিকটা সময় গান শোনে। তারপর কপোট্রনের সুইচ বন্ধ করে শুয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সোলার চার্জারে নিজেকে চার্জ করে নেয়।
সবচে' মজার বিষয় ওর মতো আমারও একটা পোষা গেকো আছে। যেটা মাঝে মাঝেই নিজস্ব টিক-টিক-টিক ভাষায় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে গেকোটার সঙ্গে অবাচনিক যোগাযোগই বেশি হয় সাধারণত।
২.
কিছু জিনিস বারংবার রিপিট করতে করতে একসময় জীবনের অংশ হয়ে যায়। মানুষ কখনোই বলতে পারে না; নিকট কিংবা দূর, যেকোন রকম ভবিষ্যতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে। আমার ধারণা, পৃথিবীর সবচে' বড় সাসপেন্স হচ্ছে মানুষের জীবন। যে কারণে এটা যাপন করতে গিয়ে আমি সারাক্ষণ থ্রিল অনুভব করি।
একটা জিনিস খুব দুঃখ দেয়, আমি জানি এরকম থ্রিলড্ হবার দিন একদিন থাকবে না। মৃত্যূর কথা বলছি না, কিন্তু মৃত্যূ ছাড়াও চলে যাওয়ার আরো ক্ষেত্র আছে।
একটা পাহাড় স্থানচ্যূত হয়ে বড় ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে হেমলক পান করছি কিন্তু ওই পাহাড়ের কল্যাণে মরছি না। শুধু যন্ত্রণাটা অনুভূত হচ্ছে।
৩.
শাহবাগ বা আশপাশের এলাকায় নান্নু পাগলাকে প্রায়ই দেখা যায়। দেখা হলেই তার এক কথা, কয়টা টাকা দিয়ে যা। মাঝে দু'তিন দিন তাকে চা খাইয়েছিলাম। খাওয়ানোরও ম্যলা ফ্যাকড়া।
চা খেতে বললেই প্রথমে একটা বিস্কুটে হাত দেবে। সেটা খাওয়ার পর এক গ্লাস পানি। এরপরে কেক, আবার পানি; এরপর কলা, পর্যায়ক্রমে বিস্কুট আরেকবার, সবশেষে আরো এক গ্লাস পানি। অথচ চা খেতে চাওয়ার আগে সে বলছিলো, মাত্রই নাকি ভাত খেয়ে এসেছে।
দীর্ঘ নামতা শেষে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই সে প্রথম যে কথাটা বলবে তা হলো, চিনি হয় নাই। চামুচে করে তার কাপে চিনি গুলিয়ে দেয়ার পর আরেকটা চুমুক দিয়ে বলবে, লিকার কড়া হয় নাই। আরো খানিকটা লিকার কেতলি থেকে তার কাপে সরাসরি ঢেলে দেয়ার পর, সে আবার চুমুক দেবে।
এবং এইবার চুমুক দিয়ে সে বাকী চা'টুকু স্টিলের ট্রে, যেটা কাপ রাখা আর চা বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়; সেটার ওপর ঢেলে দেবে। মূহুর্তের মধ্যে সেই চা ট্রে'র কোনা দিয়ে বেরিয়ে নিচে রাখা ময়লা পানি নিষ্কাশনের পাত্রে চলে যাবে। এ কাজটি শেষ করে সে কয়েকটা অশ্লীল বাক্যবাণকে চা বানানোর মতো নির্দোষ একটা কাজের সঙ্গে জড়িয়ে, চা বিক্রেতা সোহেলের দিকে নিক্ষেপ করা শুরু করে।
এই পর্যায়ে তাকে থামিয়ে না দিলে কি হতে পারে তা বলা মুশকিল। কারণ আমি কখনো সেটা দেখি নি। গালি-গালাজ শুরু হলেই দ্রুত তাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য হয়তো বলি, নান্নু মিয়া সিগারেট খাও।
সে একটা আস্ত সিগারেট খেতে পারে না। আধখানা পোড়া শলাকা এগিয়ে দিলে অনামিকা আর মধ্যমার মধ্যে ধরে মুঠো পাকিয়ে খুব সুখটান দেয়। এসময় তাকে মোগল আমলের ছোটখাটো স্থানীয় শাহেনশাহদের মতো দেখায়। কয়েকবার ফুসফাস করার পর শুরু হয় কাশি।
আশ্চর্য হয়ে যাই কাশতে কাশতেও তাকে নিজের সঙ্গে এক ধরনের আলাপ করে যেতে দেখে- 'খবরদার! খবরদার আরেকটা কাশি দিয়া দ্যাখ্ খালি। তর সিগারেটের মায়েরে যদি আইজকাই খায়া না লাইসি তো আমার নাম নান্নু না।'
এই বলতে বলতেই মুখের মধ্যে চেপে রাখা কাশির দমক আলটপকা বেরিয়ে আসে হয়তো। আর একবার আগল খুললেই হলো, খুক খুক-খক খক চলতে চলতে একসময় ভয় ধরিয়ে দেয়। মরে নাকি এইবার?
পানি-টানি এগিয়ে দিয়ে কোনমতে তাকে ঠান্ডা করি। কাশি একটু ধরে আসলে বলি, তোমার সিগারেট সয় না, খাও ক্যান? সে বলে, না খাইলে কাশুম কেমনে? আর না কাশলে বুকের ব্যাদনা বাইর করুম কেমনে? আর ব্যাদনা বাইর না করলে রাইতে ঘুমামু কেমনে?
পাগল মানুষ, অথচ কি কংক্রীট লজিক! শুনে স্তম্ভিত হয়ে যাই। বুঝতে পারি, মাঝে মাঝে পাহাড়েরা স্থানচ্যূত হয়ে শুধু আমাকেই ঝামেলায় ফেলে না। অনেকেই এই সমস্যার ভুক্তভোগী। তাদের কথা ভাবতে ভাবতে রাত গভীর হয়। তারপর একসময় আমি আমার ছোট্ট কুঠুরিতে ফিরে আসি।
---





কইয়া যাও।রাইতে ভাল ঘুম হবে নে।
হয় নাই। অল্প একটু ঘুমায়া উঠে পড়তে হৈসে। আপনের কোনো খবরাখবর কি বলবেন ভাই?
ধইন্যা পাতার চাটনী দিয়া গেলাম। ঝাল বেশী দিছি।
আপনি কোন ডিসক্লেইমার জানান না তো।
নান্নু পাগলা কে তো চিনি না!দেখিনি কেন কখনো!
ডিসক্লেইমার জানানো হবে।
চাটনী দারুণ লাগসে আর
একদিন দেখতে পাবেন।
আছেন কেমন?
আপনেই নান্নু মিয়া সেইটাই কি ডিসক্লেইমার.. খেক খেক খেক... ওয়ালি তো জোস লাগছিল... আইস এজ.. ফাইন্ডিং নিমো, ... আমি রিসেন্টলি অ্যনিমেশনের প্রেমে পড়ছি... সুযোগ পাইলেই অ্যনিমেশন মুভি দেখি... দুই সপ্তা আগে কুংফু পান্ডা দেখলাম (আগে দেখি নাই
), মাদাগাস্কারও দেখলাম রিসেন্টলি (এইটাও প্রথমবার দেখলাম)..।
আপনে এ্যনিম-পাঙ্খা জাইনা অত্যধিক খুশি হইলাম।
ডিসক্লেইমার কিন্তু আরো পোস্টে আছে, সেইগুলাতে নান্নু পাগলা নাই।
পোস্টের শিরোনামের আগা মাথা খুইজা পাইলাম না
... সর্বত্র এই সমস্যায় পড়ছি.. মাঝে মাঝে মনে হয় খালি আমিই মনে হয় শিরোনামের সাথে মিল খুইজা পাই না 
আমিও পাই না। ডিটো।
এই লেখাটার শিরোনাম হিসেবে যদি তুমি যাও, আমিও তোমার সঙ্গে যাবো -কথাটা এমনিই মনে হইসে। যা হোক, আপনে আছেন কেমন? নিয়মিত আপনাকে পাই না, তাই মিস্ করি। জানায়ে রাখলাম।
কেন ব্রাদার?
মাদাগাস্কার দেখেছি। মেলমিন চরিত্রটা ভালো লেগেছে। তবে ওয়ালি দেখা হুয়ে উঠেনি। আপনার লেখা পড়ে দেখতে ইচ্ছা করছে খুব।
ওয়াল-ই'র নায়িকাটার দিকে খেয়াল রাইখেন
আমার সিনেরসিক ও সিনেমাত্বাত্তিক বন্ধুবান্ধবের মতে জাপানিজ পরিচালক হায়া্ও মিয়াযাকি'র উপ্রে নাকি জীবনেও কোন এনিমেশন হয়নাই। স্পিরিটেড এওয়ে নামক সিনেমাটা দেখতে পারেন। খুব সুন্দর কিছু গান আছে মুভিটাতে।
লুক-জন পুরান ব্লগ পড়ে না। বড়ই আফসুস।
পুরান ব্লগ খুঁজে পেতে হলে কি ভাবে কী করতে হয় জানাবেন প্লীজ ! আমি পারিনা, বড়ই আফসুস ।
আপনি মিয়াযাকি নিয়ে অলরেডি লিখে ফেলসেন নাকি? স্যরি! আসলেই পুরানো লগ পড়া হয়নাই।
কাশি একটু ধরে আসলে বলি, তোমার সিগারেট সয় না, খাও ক্যান? সে বলে, না খাইলে কাশুম কেমনে? আর না কাশলে বুকের ব্যাদনা বাইর করুম কেমনে? আর ব্যাদনা বাইর না করলে রাইতে ঘুমামু কেমনে?
-------------------------------
বলতে চাচ্ছেন এটা ভালো লজিক না? @ লীনা আপু
বলতে চাইছিলাম এমন করে একটা দারুণ ফিলোসফি দিলেন, আমারেই কইলেন কিনা
আবারো বাকীতে ডিসক্লেইমার?!!

এরকম ঝরঝরে কেমনে লেখেন?
আপনার লেখা পড়লে একটা হিংসা তৈরী হয়। সেটা উত্তরণের ব্যর্থ চেষ্টা চালাই। তবে চেষ্টা চালাতে ভাল্লাগে নীড়দা'। লেখালেখির অপচেষ্টা আসলে আরামদায়ক একটা কাজ।
ইয়ে দাদা, কাউকে কি বলতে হবে যেন আপনাকে চাপ দেয়?
বিয়া করবেন কবে?
আমি তো এখনো শিশু।

লেখা কেমন হৈসে কৈলেন্নাতো।
বিবাহ কবে?দাওয়াত দিয়েন।আর হলুদের শাড়ীও দিতে হবে।
হলুদের শাড়ী!
ওহ নো
ইয়েস্

আরে লীনাপা বিয়াতে পড়ার শাড়ী চাইলো দেখি।
আমাকে হলুদের শাড়ী দিলেই হবে। আরো কাকে দিতে হবে লিস্ট দিবোনে।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট একটা কষ্টকর যুদ্ধ শেষ করে বলেছিলেন, আবার এমন একটা যুদ্ধ এবং আমি নেই!
আর আমি বলবো, আবার এমন একটা গায়ে হলুদ এবং আমি নেই
লেখক নিজে নান্নু পাগলা না তো?
আমি নিজে অনেকটা নান্নু পাগলার মত! নান্নু নানান লজিক তোলে আমি তা করি না, কাশি দিয়েই যাই! বেদনা বের করি আপন মনে! সবজি চাষাবাদ চলবে।
আর কোনোদিন আপনে শাহবাগ, চারুকলা বা তার আশেপাশের এলাকা লৈয়া কিছু লেখছেনতো - আপনেরে...
এইটাই ডিসক্লেইমার
মাদাগাস্কার দেখি নাই। ডিসক্লেইমারটা না জানলে তো শান্তি পাইতাছি না!
এ্যানিমেশন ভালো লাগে, আহারে বাইরে থাকলে থ্রি ডিতে দেখতে পেতা।
কাহিনী কি?? লিখো না ক্যান???????????
আস্তাগফেরুল্লাহ!!!!!!!!!!!!
কার লগে এইসব করে বেরাচ্ছো??কিডা সে??

মন্তব্য করুন