প্রিয় কাঠবিড়ালীরা হারিয়ে গেছে
এই বৃষ্টিভেজা রাতে তুমি নেই বলে/ সময় আমার কাটে না। আর্টসেলের অর্থহীন একটি গান। একই গানে বলা হয়েছে বৃষ্টিভেজা রাত ও বসন্তের সন্ধ্যার কথা। ধরে নিচ্ছি বসন্তের রাতে বৃষ্টি হয়েছে। তাহলে অবশ্য বেশ রোমান্টিক একটি আবহাওয়া তৈরী হয়। আমি সে আশায় এখনো শীতের কম্বল গুছিয়ে ফেলি নি। কোনো একদিন বৃষ্টি নামবে অঝোর ধারায়। তুমি আর আমি কম্বলের ভেতর থেকে কচ্ছপের মতো মাথা বের করে ইনটু দ্য ওয়াইল্ড দেখবো।
২১-এ ফেব্রুয়ারির বিকেলে চার ফোঁটা বৃষ্টি হয়েছিলো। ঠিক চার ফোঁটা না, মনে হয় চার কোটি আশি লাখ ফোঁটা। গড় হিসেবে আমার ভাগে যা পড়ার কথা কাকতলীয়ভাবে পড়েছেও তাই। কমও না, বেশিও না।
সেদিন বসে বসে মৌতাতের আরেঞ্জমেন্ট করছি, শুনলাম একটা ছেলে একটি মেয়েকে বলছে, এই সম্পর্কটা চুকলে তো ভালোই। জিমে গিয়ে ব্যায়াম শুরু কইরা দিমু।
মেয়েটি বললো, এত বছরের রিলেশনে তোমারে আমি কোনোদিন জিমে নিতে পারলাম না, যেই পাটকাঠি সেই পাটকাঠিই থাকলা; এখন বলতেসো, রিলেশন ব্রেক হইলে জিমে যাবা! ক্যান? ছেলেটাকে বলতে শুনলাম, হাতের মাসল-টাসল গুলা একটু শক্ত-পোক্ত হইলে জাহাজে খালাসির চাকরী পামু। দেশান্তরী হয়া যামু তাইলেই। তোমারে ছাড়া তো এই দেশে থাইকা লাভ নাই।
যুক্তি খারাপ না। অবশ্য তাতে নায়িকার মন টললো না। বললো, সেইটাই, আমারে বিদায় করতে পারলে তুমি বিদেশ যাবা। বৈদেশি মাইয়া’গো লগে চাকবুম চাকবুম নেত্য করবা। তোমার ধান্দা আমি বুঝি না মনে করো।
ছেলে উত্তরে বলে, হে মোর খোদা, বেলতলায় একবার যাইয়ে মোর ফ্রচুর শিক্ষা হইসে বোঝো? মেয়ের জবাবে বুঝতে পারলাম দু’জনের পৈত্রিক নিবাসই দক্ষিণবঙ্গে। ঢাকায় থাকতে থাকতে খানিকটা ঢাকার প্রচলিত ভাষায় কথা বলার অভ্যাস তৈরী হয়েছে। সে মুখঝামটা দিয়ে তার বয়ফ্রেন্ডকে বোঝালো, আগে না বুইঝে বেলতলায় আসতি পারলে এখন থাকতি অসুবিধা কুথায়। মাইরে গিড়ার হাড্ডি ছুটায় ফেলবো, বুইছিস?
আমি মনে মনে আতংকিত হয়ে পড়লাম। নর-নারীর প্রেমের এ কি হাল? তারা একে অপরকে ছাড়তেও চায় না আবার আস্তও রাখতে চায় না। অথচ দুর্বিনীত প্রেমসুধা বইছে দু’জনের ভেতরেই। এত প্রবলভাবে যে ঠিকই সন্ধ্যের অন্ধকারে দুই টোনাটুনি বসেছিলো স্বাধীনতা স্তম্ভের পেছনে, লেকের বেঞ্চিগুলোর একটির ওপর। মানে মানে কেটে পড়লাম। এরা একে অপরকে হয়তো ধরে-মেরে-কেটে-একটা রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে তবে ক্ষ্যান্ত হবে। খারাপ না, প্রেমের মধ্যে এরকম ডেডলী স্পিরিট থাকা ভালো।
হাউজ এলফদের আমি দুই চোখে দেখতে পারি না। বাসায় কখনো হাউজ এলফ ছিলোও না। কিন্তু ইদানীং একটি জুটেছে। তার কর্মকান্ড বিরক্তিকর। যখন আমি ঘরে থাকি না, সেটা তখন আমার বিভিন্ন উপকার করে দেয়ার চেষ্টা করে। এতে লাভের লাভ কিছুই হয় না। উল্টো আমার কাজ বাড়ে। যেমন, ওটা প্রতিদিন একবার আমার এ্যশ-ট্রে পরিস্কার করে। ভালো কথা, কিন্তু পরিস্কার করার পর এমন দুর্বোধ্য কোনো জায়গায় সেটা রাখে যে আমি দরকারের সময় আর খুঁজে পাই না। প্যাকেটের সিগারেটগুলো বের করে প্যাকেটটাকেই সাময়িক এ্যশ-ট্রে বানাতে হয়।
সেদিন দেখি আমার পিসি’র টেবিল ঝাড়তে গিয়ে কারেন্ট শক খেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে করতে ২২৫ ভোল্টের ধাক্কাটা আমার কাছে দুধ-ভাত হয়ে উঠলেও বেচারী তো জানতো না। ভয়ে-আতংকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। এরপর থেকে আমি ওটার আমার ঘরে প্রবেশের ব্যপারে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি।
এখন মাঝে মাঝে একটা কথা চিন্তা করি, আমার একটা ভাই ছিলো। যে হারিয়ে গেছে সেই শিশুকালে। আমরা দু’ভাই একসঙ্গে খেলতাম, একসঙ্গে ঘুরতাম, মাছ ধরতে যেতাম মসজিদ কলোনীর পুকুরে, বল কুড়োতে যেতাম ওয়াপদা’র ভেতর, গুলতি দিয়ে পাখি মারতে যেতাম মাইল্লার জমিনে। শুধু রাতে ও ওর বস্তিতে ফিরে যেতো, আমি আমার বস্তিতে। ওর বস্তিতে অন্ধকার ছিলো আর ছিলো স্যাতসেতে পরিবেশ, আমার বস্তিতে কিছুটা আলোকচ্ছটা। আর কোনো পার্থক্য ছিলো না। একদিন জেনেছিলাম ওর মা ওকে একটা বাসায় কাজে লাগিয়ে দিয়েছে। কি আশ্চর্য আমার ভাই করবে আরেকজনের বাসায় হাউজ এলফ’র কাজ? তাও কি মেনে নিতে হবে? ওর বস্তির বাসায় গিয়ে ওর মা’র কাছে প্রতিবাদ জানালাম। অনেকটা পথ ঘুরে সেই বাসা খুঁজে বের করে ওকে খুঁজে বের করলাম। বললাম, চল, তোকে এখানে থাকতে হবে না। তুই আমার সঙ্গে চল। ও বললো, তোর বাসায় গিয়াও কামই করতে হইবো। তারচে’ এইখানে কাম করন ভালা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ক্যান? বেশ বিজ্ঞদের মতো করে বললো, তুই ভাই মানুষ। আমারে কাম করাইতে তোর খারাপ লাগবো। তারচাইতে এইখানে কাম করি। মাঝে-মইধ্যে তুই আসিস।
ছেলেবেলার আবেগকে যারা সামান্য বলে উড়িয়ে দিতে চান, আমি তাদের দলভূক্ত নই। বরং আমি বেশ অবাক হয়ে দেখি, এই বুড়োবেলায় এসে আবেগ-টাবেগ খুব কম কাজ করে মনের ভেতর। সেদিন ছেলেটাকে ওই বাসায় ছেড়ে আসার পর কোনো এক বিচিত্র কারণে আর কখনো ওর সঙ্গে দেখা হয় নি। অনেকদিন পর্যন্ত ওর কথা মনে পড়েছে। খারাপ লেগেছে, আবার পরমূহুর্তেই হয়তো সেটা ভুলে গিয়ে বোলিংএর রান-আপ নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। সামনে ব্যাট হাতে ইদ্রিস ভাই। লোকটা আমাকে পেলেই চার-ছয় হাঁকানোর চেষ্টা করে। ওকে বল করার সময় তাই কোনোভাবেই মনোযোগে চিঁড় ধরিয়ে অন্যকিছু ভাবার সুযোগ ছিলো না। আস্তে আস্তে কালের পরতে সেই ছেলেটা, যাকে একদিন ভাই বলে স্বীকার করে নিয়েছিলাম, তার কথা চাপা পড়ে গেল।
সেদিন দেখি কি, চারুকলার ভেতর যে পুকুর তার ব্যাস হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। বাড়তে বাড়তে প্রথমে একটা দীঘিতে রূপান্তরিত হলো। তারপরেও বাড়তেই থাকলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াইশ’ একর জমি সেই দীঘিতে অন্তর্হিত হলো। বড় বড় বিল্ডিংগুলো ওর ভেতর চলে গেল। ছোট্ট একটা পুকুর বড় হতে হতে সবকিছু গ্রাস করে নিচ্ছিলো কিন্তু কোনো মানুষকে নিচ্ছিলো না। আমি একটা নৌকা নিয়ে দীঘিতে নেমে পড়লাম। জল তার গভীর কালো চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি ছোট করে হাসি দেবো কি না বুঝতে পারছিলাম না। সে নিজেই কথা বলে উঠলো, কি দরকার? আমিও ভাবলাম; তাই তো, কি দরকার।
তারচে’ বরং নৌকা ভিড়িয়ে আমি আমার খোপে ফিরে যাই।
---





খোপে আটকে থাকা.... ফিরে যাওযা....
একটা বিন্দু গেল কই? আমি একটা দিয়ে দেবো না কি?
বিন্দু নামে কাউকে চিনি না তো। আপনার ছিলো?
বিন্দুগলো মিলে সরলরেখা হোক।
মীরের সেঞ্চুরী পোষ্টে যে প্রথম কমেন্ট করলাম , আমাকে কেক কুক কিছুই খেতে দিলো না।
কিপ্টা।
না খেয়েই আড্ডাই।পার্টি হোক।
আপনার ভাগে খালি চার ফোঁটা বৃষ্টি পড়ল ? আফসুস
চাকবুম চাকবুম নেত্য কিতা ?
বাঁইচা আছো?নাডামি কেমুন চলে চান্তেকের লগে?
এই হলো
দু:খজনক হলেও সত্য যে আমি এখনও বাইচা আছি ।আফসুস
নাডামি ? জিপোনেও আমি নাডামি করি নাই।নাডামি করে তোমার লাহান বদেরা
আপনার নিকটাতো দারুণ!
হুমম, এ্যাশট্রের জিনিষপাতি ফেলায় দিলে আমারো সমস্যা হয়, আধখাওয়া সিগারেটগুলা থাকে, বাসায় বিড়ি না থাকলে ঐখান থেকে নেয়া যায়, মাঝে মাঝে এ্যাশট্রে পরিষ্কার করে ফেললে তাই অসহায় লাগে।
হুমম চলো খোপে যেয়ে ঘুমাই।
এমন শিরোনাম মাথায় কেম্নে আসে?
তাই তো, কি দরকার?
ভাই আপনার পোষ্ট টা ভাল লাগলো। সময় আমাদের মাঝে অনেক পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তন হয়ত দরকারি কিন্তু কষ্টদায়ক।
Software Company in Bangladesh
ভাই শিবলী আপনার কমেন্টের নীচের এই সিগনেচারটা বাদ দেয়া যায় না।দেখতে কেমন জানি লাগতেছে।
রাসেলের সাথে একমত।
পড়লাম।
আল্লাহ তোমারে শোক সইবার শক্তি দিন। আমীন।
দারুণ লাগলো
কম্বলের নীচ থেইকা মাথা বাইর কইরা একটা রোমান্টিক ছবি দেইখেন, ইন টুদ্য ওয়াইল্ড ক্যান? ঐটা ডিস্টার্বিং ফিল্ম ক্যাটেগরীতে পড়ে...নামে চরম রোমান্টিক হইলেও ছবিটা আদৌ রোমান্টিক না...অনেক রিয়ালিস্ট ঘরানার। কিছু অর্থে ভায়োলেন্টও...
ভালো লাগল লেখাটা। শিরোনামটা অনেক অনেক সুন্দর।
জটিল ডায়ালগ।
কম্বলের ভিতর শুইয়া আমি এই মুভি দেখতে রাজি না
সেঞ্চুরী পোস্টের জন্য মীরকে প্রাণভরা অভিনন্দন! অনেক শুভ কামনা!
[অঃটঃ পরিচিতির then-টাকে than করে দিলে মনে হয় সঠিক হতো]
মীরের শততম পোস্টে ৩০০০-তম মন্তব্য করতে পেরে আনন্দিত
মীর কি আমাদের হিপটোনাইজ করার পরিকল্পনা করছে নাকি? ঘোরের মধ্যে পড়ে যাই ইদানীংকার লেখাগুলি পড়লে।
সেঞ্চুরী পোষ্টের শুভেচ্ছা!!! অভিনন্দন। আগামী ম্যাচে বাংলাদেশকে উৎসর্গ করেন এই সেঞ্চুরীটা।

মৌতাতের আরেঞ্জমেন্ট
এইটা কি জিনিষ ?
নেশার আয়োজন
লেখা ভালো লাগলো । শততম পোষ্টের অভিনন্দন

দারুন।
শততম পোষ্টের অভিনন্দন
শিরোনামটা অনে.....ক সুন্দর।
শতকের জন্ন আবারও অভিনন্দন
লেখা ভালু পাইছি 
এত বেশী হুক্কা খাইয়েন না তো! ভালু না।নেন কোক খান।
শত তম পোষ্টের অভিনন্দন ।
সামনের বই মেলায় মীরের বই পাচ্ছি তাহলে আমরা - মীরের গল্পগুচ্ছ।
আহারে স্মৃতি বিজড়িত শততম পোস্ট...আমরা বন্ধুর প্রথম শততম পোস্ট মনে হয় আমার ছিলো...

এই লেখাটি আগে একবার পড়েছিলাম, নতুন করে আবার পড়লাম। দু-বারই মনে হলো, এ ধরনের সেন্সিবল লেখা পড়ে কিছু বলার থাকে না আসলে! বরং মগ্ন হয়ে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করে... যথারীতি আমিও খোপের ভেতর ঢুকে পড়ি...
সব লেখা নিয়া কমেন্ট করা ঠিক না, তাই কিছু বললাম না।
একটা ঘাপলা টের পাইতাছি!
এইটা যদি শততম পোস্ট হয় তাইলে তো আগের আরও অনেক পোস্ট থাকুনের কথা। অইগুলা কই?!
মন্তব্য করুন