এক অসম প্রেমের কাহিনী
মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি, জানার আছে কত কিছু। সামু ব্লগে প্রথম চোখে পড়েছিলো মাঙ্গা শব্দটি। এরপরে আমার নিজের ব্লগেও শব্দটি পেয়েছি বিভিন্ন সময়। এই সেদিনই পড়লাম নাম নাই আর ভাস্করদা'র লেখায়। কোন্ ধরনের এ্যনিমেশনকে মাঙ্গা নামে ডাকা হয় সেটি জানতাম ঠিকই, কিন্তু এছাড়া জানা ছিলো না প্রায় আর কিছুই।
অজ্ঞানের জ্ঞান হয়েছে গুগলিমেইজ আর উইকি মামার কল্যাণে। এরপর থেকে ভাবছি, হায় কত কম জেনে একটা জীবন পার করে দিচ্ছি! মাঙ্গা এ্যনিমেশনের শুরু কিন্তু এক ধরনের জাপানি কমিক্কু থেকে। বলা হয়ে থাকে; বিংশ শতাব্দীতে, আরো কিছুটা স্পেসিফিক হতে চাইলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানে মাঙ্গা ধারার কমিক ছাপা শুরু হয়। এর চরিত্রগুলোর শেকড় অবশ্য একেবারে সহস্রাব্দ পুরোনো জাপানী ইতিহাসের গভীরে প্রথিত। এমনকি জাপানীজ আর্টের যে ধারাটি শেষতক আজ আমাদের কাছে মাঙ্গা নামে পরিচিত হয়েছে, সেটিরও রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন গল্পকথা। এ্যকশন, এ্যডভেঞ্চার, ভালবাসা, খেলাধুলা, ঐতিহাসিক কাহিনী, রম্য, সায়েন্স ফিকশন, ফ্যন্টাসী, রহস্য, ভৌতিক বা এরোটিক- কোন্ ফর্মে নেই মাঙ্গা? জাপানে সব বয়েসী মানুষের জন্য মাঙ্গা কমিক আর এ্যনিমেশন পাওয়া যায়। ৫০'র দশকের পর থেকেই দেশটির প্রকাশনা শিল্পে মাঙ্গা নিজের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে। আর তারই ধারাবাহিকতায় ৭০'র দশক থেকে শুরু হয় বিষয়গুলোর চিত্রায়ন, সেলুলয়েডের ফিতায়। পুরোনো আমলের মাঙ্গাগুলো কেমন হতো সেটার ক্ষুদ্র একটি নমুনা তোলা হলো।

একটা তথ্য দেয়া যাক, ২০০৭ সালে জাপানদেশে মাঙ্গা শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা মোট আয় করেন প্রায় সাড়ে তিনশ' কোটি ডলার। এটা বাংলায় কনভার্ট করে যে অংক পেলাম, তা অবিশ্বাস্য লাগলো বলে দিলাম না। বিনিয়োগের ব্যপকতা বোঝার জন্য তথ্যটা কাজে লাগতে পারে। জাপানীরা আসলেই জাপানী।
কমিক্কুগুলো টেলিফোনবুক, পেপারব্যক- নানান সাইজের হয়। কন্টেন্ট ছোট ছোট গল্প হতে পারে কিংবা ধারাবাহিক কাহিনীও হতে পারে। কোনো একটা সিরিজ দেশের ভেতর তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেই কেবল সেটিকে জাপানীরা বিশ্বের অন্য দেশের ছাড়পত্র দেয়। এ্যনিমেশন বানানোর ক্ষেত্রেও এ নিয়ম মানা হয়। অবশ্য অনেক পরিচালক মাঙ্গা আর্টিস্টদের দিয়ে ইউনিক কাহিনীর স্ক্রীপ্টও তৈরী করিয়ে নেন। সেগুলো সবই হয় অংকিত স্ক্রীপ্ট। এখনকার আর্টিস্টরা দল বেঁধে স্টুডিওতে বসে কাজ করেন। প্রথম প্রথম একজন আর্টিস্ট একা পুরো কাজ করতেন। সেটা এ ধারার প্রচলনের একেবারে আদ্যিকালের কথা।
আগেই বলেছি, মাঙ্গার আর্টিস্টিক ইতিহাসও শতাব্দী প্রাচীন। বিংশ শতাব্দীর গন্ডি পেরিয়ে অষ্টাদশ কিংবা উনবিংশ'তে যাবার আগে বলে নিই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানীদের মধ্যে যে গভীর জীবনবোধ জন্ম নেয়, সেটা মূলত সাহিত্য-সংস্কৃতি-উন্নতি-চলচ্চিত্র সবকিছুতে মার্কিনীদের বীট্ দেয়ার প্রবণতা থেকে উৎসারিত। বলা হয়ে থাকে, জাপানের মানুষের সবচে' বড় দুঃখ কেন তারা ম্যরিকান নয়।
মাঙ্গা একটি জাপানী শব্দ, যার ইংরেজী প্রতিশব্দ হুইমজিক্যল ড্রয়িংস্। প্রথম এ ধারায় শিল্পচর্চা শুরু করেন ১৭৬১ সালে জন্ম নেয়া কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী সানটো কিয়োদেন। এরপরপরই যে দু'জনের নাম আসে তারা হচ্ছেন, উনিশ শতকের দুই সেরা জাপানী আর্টিস্ট আইকাওয়া মিনোয়া মাঙ্গা এবং হাকুশাই মাঙ্গা। তাদের যে স্কেচের কাজগুলো পাওয়া গেছে সেগুলোকে বলা হয় মাঙ্গা'র একেবারে ভ্রূণ। এদের ঠিক পরবর্তী প্রজন্মের নায়ক রাকুতেন কিতাজাওয়া মাঙ্গা নামটির প্রথম বাণিজ্যিক ব্যবহার করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধতো নতুন ধারার মাঙ্গাচর্চা শুরুর বারুদটি জ্বেলে দিলো, কিন্তু তার রসদ যুগিয়েছিলো কে? এখানেই ঘটে গেছে ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস। মার্কিন সৈন্যদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা কমিক বইগুলোই ছিলো সেই রসদ। এমনকি সেসব কমিকের মধ্যে ডিজনী'র সুপ্রসিদ্ধ ক্লাসিকগুলোও ছিলো প্রচুর পরিমাণে। আর ওইসব দেখে দেখেই জাপানীরা ভাবতে শুরু করে, তাহলে কমিকে কেন নয়?
১৯৫০ থেকে ৬৯'র ভেতর দাঁড়িয়ে গেল ফর্ম। শোজো মাঙ্গা আর শোনেন মাঙ্গা। মেয়ে আর ছেলে। শোজো মাঙ্গার স্বর্ণবছর হিসেবে ধরা হয় ১৯৪৯ সালকে। এই বছরে জন্ম নেয়া একদল মহিলা শিল্পী নিজেদের ২৪ বছর বয়সে শুধুমাত্র মাঙ্গা কমিক্কু এঁকে পুরো জাপানে হই চই ফেলে দেন। এদেরকে বলা হয় ইয়ার ২৪ গ্রুপ। এদের হাতে পড়ার আগে শোজো মাঙ্গা যেমন ছিলো,

৭০'র দশকের পর থেকে ইয়ার ২৪ গ্রুপএর ছোঁয়ায় তা যে রূপ নিলো,

বকবকানি কমিয়ে আনি। শোনেন মাঙ্গার কপালে এমন কোনো গ্রুপ জোটে নি অদ্যবধি। যে কারণে এই পোস্টের নাম- এক অসম প্রেমের কাহিনী। মাঙ্গা কমিক্কুর ছেলে চরিত্রগুলোর নাম দেয়া হয়েছে বয়স অনুযায়ী। ১৮ বছরের কম বয়েসী চরিত্রগুলোকে বলা হয় শোনেন মাঙ্গা, ১৮ থেকে ৩০ পর্যন্ত চরিত্রগুলো সিনেন মাঙ্গা এবং মানসিকভাবে তদূর্ধ্ব (অর্থাৎ এখানে খানিকটা ইরোটিক মিশ্রণ আছে) চরিত্রগুলো সিজেন মাঙ্গা; সহজভাবে বললে এই। মনে রাখতে হবে শোনেন, সিনেন ও সিজেন মাঙ্গার অনেক বিষয়েই রয়েছে হুবহু মিল।

আর হ্যাঁ, জাপানের কাজ-কারবার দেখে ফ্রান্সও চেষ্টা করেছে মাঙ্গা চর্চার। যদিও সে কাজে জাপানী বন্ধুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিলো। সর্বশেষ ছবিটি ফরাসীদের তৈরী, লে নুওভেলা মাঙ্গা।






আগে জেনেছিলাম এবং কার্টুনরুপও কয়েকবার দেখেছি। ডিটেইলস পোস্ট পেয়ে ভাল লাগল। ধন্যবাদ মীর।
u'r
brother 
চুপচাপ জেনে গেলাম।
চুপচাপ থ্যাংক্স দিলাম।
চমৎকার একটা বিষয় জানলাম... ধন্যবাদ মীর...
আমার জানার জগতকে প্রতিদিন বাড়িয়ে চলেছেন
আচ্ছা আর বাড়াবো না।
ঋহান কয়দিন পর এগুলো দেখা শুরু করবে, তখন অরে জ্ঞান দিতে হবে না?

অনেক কিছু জানা হলো, ধন্যবাদ মীর স্যার
ঠিকাছে স্যার, তবে এরপর থেকে কিন্তু হোমওয়ার্কে ফাঁকি দিলে চলবে না।
হোমওয়ার্ক মানে কিতা?
মানে হোমে যিনি আছেন তার জন্য পেপারওয়ার্ক করে করে আগে থেকেই একটা গ্রাউন্ড বানিয়ে রাখা। যেমন ওয়াল-ই, কুং ফু পান্ডা, ফাইন্ডিং নিমো- সবকিছু প্রথম সুযোগেই হজম করে ফেলতে পারেন
এইগুলা আমার বিষয় না

মীর গল্প দেন
দিয়েছি। প্লীজ চেক্। এটাও আপনাকে উৎসর্গ করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু করলাম না, কারণ খুব বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে
তবে যেকোন সময় করে দিতে পারি কিন্তু।
গল্প পেয়ে গেছি
উৎসর্গহীন তবু বাঁচি উৎসর্গ পেলে মরে যাই
মীরকে ভালা পাই
আর আমি আপনাকে কি পাই?
মাঙ্গা জিনিষটা কার্টুন শিল্পকে, কিংবা বলা যায়, আম্রিকান কা্র্টুন শিল্পরেই কি অদ্ভুত ভাবে প্রভাবিত (প্রচুর ভ্যারাইটি আনছে কাহিনি আর ফর্মেটে) করছে সেইটা একটা ব্যাপক বিষয়।
৩০০ কোটি ডলার অকারনে আয় করেনাই, মাঙ্গা জিনিষটা ভয়ানক এ্যডিক্টিভ।
একটা অত্যন্ত পছন্দের বিষয় নিয়া লেখার জন্য ধন্যবাদ না জানাইয়া পাড়লাম না!
অসাধারণ, মীর। অনেক ধন্যবাদ। ব্যাপক ধইন্যা। এইটা নিয়া এতো জানতাম না।
ক্রেডিট গো'জ টু ভাস্করদা' এন্ড নাম নাই।
বস্ আরো বেশি বেশি ব্লগান। আসেন হাত আর মস্তিষ্ককে মুক্তি দেই।
বেন টেন - এইগুলা মাঙ্গার থেকেই আসা নাকি ?
দারুন লাগলো জেনে।
সাঈদ ভাই দারুণ একটা জিনিস মনে করাইসেন। আমি বেন টেন দেখি নাই। গেমটাও খেলি নাই। তবে এটা মাঙ্গা।
আমার গেম আছিলো কিং অভ ফাইটার ৯৭। এখনো সুযোগ পাইলেই বসি। খুবই প্রিয় একটা গেম, খুবই প্রিয় একটা বিষয়
খাইছে।
আমি মূর্খ তো এসব কিছুই জানতাম না। দারুণ জিনিস জানলাম। 
আপনে তো দেখি আমার মতোই
কিচ্ছু কমুনা। কিচ্ছু না। এমনু বাড়িডা
দিলেন?
চমৎকার একটা বিষয় জানলাম... ধন্যবাদ মীর...
আমার জানার জগতকে প্রতিদিন বাড়িয়ে চলেছেন
বুঝলাম না, কি একটা এরর মেসেজ দিচ্ছে বার বার। মনে হয় কপি-পেস্ট এরর।
আমার কমেন্ট কই??

চমৎকার একটা বিষয় জানলাম... ধন্যবাদ মীর...
আমার জানার জগতকে প্রতিদিন বাড়িয়ে চলেছেন [কপিরাইটঃ তানবীরা]
মন্তব্য করুন