গল্প: রাতজাগা তারারা দেখে নি দিনের আলোয় পাখির উড়ে যাওয়া
মুনিয়া পাখিটা তার নরম তুলতুলে শরীর নিয়ে আমার হাতে উঠে আসছিলো। সেটার টুকটুকে ছোট্ট পা, নখের মিষ্টি খোঁচা- আমাকে আনন্দময় সুড়সুড়ির অনুভূতি দিচ্ছিলো। নির্নিমেষ চোখে দেখছিলাম, পাখিটাকে আমি চিনি। এটা প্রিয়’দের বাসা থেকে এসেছে। ওর সবচে’ ছোট্ট বোনটা মুনিয়া পাখি পুষে। আমি গেলেই সে পাখিগুলোর খাঁচার কাছে আমাকে নিয়ে যায়। আমি পাখিগুলোকে নিজ হাতে দানা খাওয়াই। পাখিরা যখন হাতের তালু খুটে খুটে দানা খায়, তখন আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু অবুঝ পাখিটার তো তা বোঝার কথা নয়। তাহলে সেটা পথ চিনে চিনে আমার বাসায় উড়ে এসেছে কিসের টানে?
পাখিটা অস্থিরভাবে আমার হাতে, বাহুতে ঠোকরায়। আমি সেটার মাথার রঙিন পালকগুলোয় আদর করি। হাত বুলিয়ে দিই। তবে তাতে কোনো লাভ হচ্ছিলো না। যেন পাখিটা আমার আদর চায় না। বুঝতেও পারছিলাম না, কি চায়। সেটার অস্থিরতা দেখে প্রিয়’কে আরো একবার মনে পড়ে গেল। এই পাখিটার মতোই অস্থিরমতি মেয়ে ছিলো প্রিয়। ওর কথা মনে হলে একটা দানবের মতো কষ্ট আমার হৃৎপিন্ডটা চেপে ধরে। জল ভরে আসে দু’চোখের লাইনিংএ। আমি বারবার পাতা ঝাপটে বর্ষণ ঠেকিয়ে দিই। মেয়েটি আজীবন আমায় ভুল বুঝেছে। এক এক সময় মনে হতো, আমার কোনো দোষ না পেলে ওর বোধহয় অস্থির লাগে। শুধু একটিমাত্র দোষ খুঁজে বের করবে বলে ও আঁতিপাতি করে ফেলতে পারতো আমার পুরোনো ড্রয়ার, লেখার খাতা, কাগজের গাঁট-সবকিছু। পুরোনো অ্যালবামের প্রত্যেকটা ছবি ধরে ধরে জানতে চাইতো, ওটা কে? অথবা নীল জামা পড়া মেয়েটির সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক? অথচ ছবির মেয়েটির পরনে হয়তো ছিলো নীল ফ্রক। তাও প্রিয় বারবার জিজ্ঞেস করতো। ও আমার শার্টের কলার, বুকপকেটে খুঁজতো কোনো এক অচেনা গন্ধ। আমার চলা-ফেরা, ই-মেইল আর মোবাইল থেকে খুঁজে বের করতে চাইতো কোনো একটা অসঙ্গতি। ক্ষুদ্রস্য ক্ষুদ্র হলেও চলে। যেকোন একটা কিছু খুঁজে পেতে চাইতো খুব। আর কোনকিছুই যখন পেতো না, তখন শেষ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করতো ভুল বোঝার বাণ। আমি অবাক হয়ে যেতাম।
তাও মেয়েটিকে বুকে ধরে রাখতে ইচ্ছে করতো খুব। আমার অপাংক্তেয় জীবনের একমাত্র প্রাপ্তিই ছিলো সেই মেয়েটি। আর কেউ কখনো আমাকে ভালবাসে নি ওর মতো করে। কিন্তু এই মুনিয়া'টা হঠাৎ এসে এত ঠোকরাচ্ছে কেন? ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয়; আমার হাতের রগ ছিঁড়ে দিতে চায়, যাতে রক্তক্ষরণে আমি দ্রুত মরে যেতে পারি। তখন বুঝি নি, সেইদিন সেইসন্ধ্যায় ও'র বিয়ে হয়ে যাচ্ছিলো বিডিআর দরবার হলে।
---





উফ!
ঢল নামুক। অনেক ছোটগল্প আসুক, মীর।
ঘটনা কি !! সবাই কি ছোট গল্প লেখার প্রতিযোগিতায় নামছে নাকি !!
মীরের লেখার তো নতুন কৈরা কওয়ার কিছু নাই। সেই ১৯৫৩ সাল থিকাই পাংখা ।
আপনার গল্পের বিষয়গুলো আমার ভালো লাগে ।
ভালো লাগলো।
কিন্তু এত ছোট লেখা ক্যান? এই প্লটটাকে আরো বাড়ানো সম্ভব ছিলো কিন্তু।
ইস! আমারে কেউ এমন কইরা ভালবাসলো না
(
দারুন ভালো লাগলো ছোটগল্পটা .।।
দারুন সমাপ্তি টেনেছেন
মীরের লেখার তো নতুন কৈরা কওয়ার কিছু নাই। সেই ১৯৫৩ সাল থিকাই পাংখা ।
মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ.......।
আহারে এমন করে কেউ ভালোবাসলো না।
মন্তব্য করুন