রঙ্গন ঝোপের পরে টুপুর-টাপুর বৃষ্টি ঝরে
১.
সেদিন তানবীরা'পু বলেছে, মানুষ মানুষকে ভালবাসবে এতে চেতার কি আছে? আইনটা চালু হওয়ার পর থেকে মেসবাহ ভাই সেটার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতেসে। কাজটায় আমার পূর্ণ সমর্থনও আছে। কারণ আমি লীনা আপুর সঙ্গে একমত। ভালোবাসা পবিত্র জিনিস।
২.
কবে যেন একটা মহল্লায় গিয়েছিলাম। সেটা একটা গাছ-গাছালিতে ভরা পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত মহল্লা। সেই সন্ধ্যায় একটা ঝুম বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর মহল্লায় কেউ ছিলো না। আমি একা একা বসেছিলাম এক কাপ চা হাতে।
তখন যে রকম স্নিগ্ধ নীরব একটা অনুভূতি মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো, তেমন সবসময় করে না। যেন একটা জমাট বরফের টুকরা আস্তে আস্তে গলে পানি হয়ে যাচ্ছে। আমি খুব নিবিড়ভাবে নিজের সঙ্গে বসে বসে সময় কাটালাম। মানুষ তার জীবনে কয়টা সন্ধ্যা নিজের সঙ্গে কাটাতে পারে?
৩.
ব্যস্ততা ঘিরে নিয়েছে চারদিক। ব্যস্ত শহর, ব্যস্ত সরকার, ব্যস্ত সচিবালয়, ব্যস্ত সংসদ, ব্যস্ত অর্থমন্ত্রী, কারণ তার সামনে বাজেট। চারিদিকে এত ব্যস্ততা যে, খুঁটিয়ে দেখতে বসলে দীর্ঘ ব্যস্ত সময় কেটে যায়।
এরমধ্যে একটা বিষয় দেখে মনে হলো, বলতে পারি একটা কথা। রুটি-রুজির কাজটুকু ছাড়া আমি কখনো অর্থনৈতিক বিনিময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো মাধ্যমে লিখবো না। ওস্তাদ আমাকে সেই সামর্থ্য না দিক। বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবে না। তারচে' বন্ধু-বান্ধব একসঙ্গে বসে আলাপ-সালাপ করি এই তো অনেক।
৪.
খুব কাছ থেকে বন্ধুর মাতৃবিয়োগের ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম। একটা শক্ত কথা বলি, শোক সহ্য করার শক্তি খুঁজে পেতে বেশি দিন সময় লাগে না। এছাড়া আর কিইবা করার আছে? এই একটা জায়গায় মানুষ এত অসহায়, ভাবতে বসলে নিজের অসহায়ত্ব চোখ ফেটে বেরিয়ে আসে।
৫.
তবে হ্যাঁ। সবাই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাক। আমার কারো জন্য অশুভকামনা থাকে না। খুব পছন্দের একজন বন্ধু বলে গেছেন, জগতের সকল প্রাণীই সুখী হোক। আমি বলি, তারা সুখের সর্বোচ্চটা দেখতে পাক। মানুষের জীবন বড় অমূল্য জিনিস। জীবনে না দেখা কোনোকিছু পার হয়ে যাওয়া উচিত না।
৬.
অস্থির সময় জীবনেরই একটা অংশমাত্র। এটা মানুষকে ভিন্ন এক অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। সেই অনুভূতিকে চেনা উচিত। জীবনকে বুঝতে হলে অস্থিরতার দরকার আছে। যেটার দরকার নেই, সেটা হচ্ছে অনুপ্রেরণা। আমি দেখেছি, পৃথিবীতে অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো ঘটনা অনেক ঘটে, কিন্তু তাতে কারো কিছুই যায় আসে না। যতক্ষণ না কেউ নিজে একটা কিছু ঘটিয়ে ফেলেছে, ততক্ষণ আসলে সে নিজেকে চিনতে পারে নি।
৭.
মাথার ভেতরে সিরিয়াস জ্যাম লেগে আছে। নীড়দা' কই? রাত তিনটার সময় মহানগরীর ভেজা রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছে হয়। আমি বোধহয় একদিন সমুদ্রে সমাধিস্থ হবো। আমার শরীর অনুভব করবে পানির অপরিসীম সুষম চাপ। মনে হয় খারাপ লাগবে না একটুও।
৮.
আমার প্রিয় তিতিরপাখি
তুমি দূর আকাশে ওড়ো
তুমি ওই আকাশেই থেকো
হয়ে সবার চেয়ে বড়।
---





আমারো এটা খুব ভালো লাগে। যদিও আমি ভাল লিখি না তবুও।
শিরোনামের জন্য তোমাকে একটা এ্যাওয়ার্ড দেয়া দরকার
লেখাটা খুব ভালো লেগেছে।
মাঝে মাঝে মধ্যে মনে হয় এই লোকটা বা ছেলেটার হাত কেটে যদি আমার হাতে লাগাতে পারতাম!!!
শাবাস ব্রো।
দোয়া করি মাথার জ্যাম জুম কেটে পুরা হরতালের রাস্তার মতো ক্লিয়ার হয়ে যাক।
হুমায়ুন আজাদের 'প্রবচন গুচ্ছ' পড়েছেন? আপনার লেখাটা পড়ে মনে হলো, মীর যদি এমন একটি বই লিখে তাহলে লেখালেখির জগতে আরেকটি কালজয়ী ঘটণার জন্ম হবে। জীবন-প্রাত্যহিক-মানুষ-মানুষের অনুভূতি বোঝা-সমাজ-কালচার সব..সবই নির্মোহভাবে দেখতে আপনি এত পারঙ্গম......এবং এরপর তা কত সহজভাবেইনা লেখায় নিয়ে আসতে পারেন।
শুভকামনা মীর। আপনার লেখালেখির উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।
কী বলবো ? মুগ্ধ আমি...
দাদাভাই, আপনি যে ভালোবাসা নিয়ে ব্যস্ত ভাবী জানে তো!
এই যে একজন ভালবাসার শত্রু। ভাবীকে ডাকাডাকি শুরু করসে।
আমিও মুগ্ধ। শিরোনামেও মুগ্ধ। বাসার সামনের রঙ্গন বা সোনালু ফুলের পরে টুপুর টাপুর বৃষ্টি পড়া দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি।
ভালো থাকেন মীর, সুন্দর লিখতে খাকুন সারাজীবন ধরে। হারিয়ে যাইয়েন না কখনো। প্রিয় মানুষদের উপস্থিতি একরাশ ভালোলাগায় ভরিয়ে রাখে।
কবিতাটাও সুন্দর।
এবার বৃষ্টির প্রকোপ বেশী মনে হইতেছে... সো আমরা এমন লেখা আরো পাবো বইলা আশায় বুক বাধলাম
ক্যামন আছেন? ম্যালা দিন হেলু কন্না কিন্তু
বৃষ্টির মতই সুন্দর লেখা ।
সিরাম............।
সতি্য সেইরকম.........।
ভাইয়া আপনার লেখা গুলান পড়তে অন্যরকম ভালো লাগে...

আমিতো আপনার পাঙ্খা হয়ে যাচ্ছি ভাইয়া
কথা দেন, বিদ্যুৎ গেলেও বাতাস দিবেন !!
অফ লাইনে পড়েছিলাম। শুভ কামনা রইল।
মধ্যম এবং কখনো কখনো নিম্নমানের লেখালেখি ছাড়া আর কিছুই শিখি নাই। তাই লিখেই পেট চালাতে হয় যে আমার।
চমৎকার একটা লেখা। আপনার কলম খানা চুরি করতাম ছাই!
নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে।
আপনি সমুদ্রে সমাধিস্থ হতে চান কেন? লাদেনকে মিসাইতিছেন নাকি?
মন্তব্য করুন