আগরতলায় বেগড়বাই
মানে কি? আগরতলা একটা শহরের নাম। বেগড়বাই বোধহয় একটা মানসিক অবস্থা। আগরতলা আবার একটা ক্যাপিটাল সিটি। আমাদের ক্যাপিটাল সিটি ঢাকাতে বেড়াতে বা কোনো কাজে এলে গ্রামদেশের মানুষের মনে বেগড়বাই ভাব উৎপন্ন হয়। যেটা আমরা যারা এই শহরটায় থাকি, তাদের জন্য একটা লজ্জার ব্যপার। আমরা একজন অতিথির জন্য ভালো একটা ব্যবস্থা করতে অক্ষম। অথচ আমরাই যখন গ্রামদেশে যাই, তখন মনে হয় স্বর্গবাসে এসেছি। সে সময় খুব ভালো লাগে তো, তাই আসার সময় খুব করে বলে-টলে আসি আপনারাও আমাদের শহরে আসবেন। কিন্তু আমাদের সে মিষ্টি কথায় ভুলে কেউ দিকভ্রষ্ট হয়ে চলে আসলেই সেরেচে। তারপরে কি হয় আর বললাম না। তো ক্যাপিটাল সিটিতে গেলে মানুষের বেগড়বাই ঘটা যে সম্ভব, তার উদাহরণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হয় না। আমরা আর আমাদের শহরই বড় উদাহরণ। সুতরাং আগরতলাতেও বেগড়বাই ঘটতেই পারে। আমার কথাটায় ভুল নেই। কিন্তু প্রশ্ন হতে পারে, কেন এ কথাটা টাইপ করলাম?
মাঝে মাঝে এমন হয়। আমি ওয়ার্ড ফাইল খুলে আঙ্গুল দু’টোকে ছেড়ে দিই। ওরা যা ইচ্ছে তাই কম্পোজ করে। মাথায় কিছু থাকে না। যেন আঙ্গুলগুলো নিজেরাই ভাবছে, নিজেরাই লিখছে। মাথার কাছ থেকে খুব সামান্য সাহায্য নিচ্ছে। লাইনগুলো কম্পোজ করার সময় মাথা খুব বেশিক্ষণ ভাবার সুযোগ পাচ্ছে না। কারণ আমার কম্পোজের স্পীড ভালো।
কিন্তু এভাবে আসলে খুব বেশিক্ষণ লেখা যায় না। তবে আমি কখনো কখনো একটা কথা ভাবি। আসলে মাথা যদি না থাকতো, তাহলে কি হতো? মানুষকে সবগুলো কাজই চিন্তা-ভাবনা না করে করতে হতো। চিন্তা করার সুযোগই নাই। কিভাবে করে, সেটাই কেউ জানে না। কারণ কারো মাথা নাই। মাথার আকৃতিটা শরীরে আছে। কিন্তু সেটা চিন্তা-ভাবনা করতে পারে না। অন্যান্য অঙ্গের মতোই দেহের সেবা করে।
আমার ধারণা তাহলে মানুষের মধ্যে অন্যরকম একটা সিস্টেম গড়ে উঠতো। মানুষ শুধু আগে-পিছে কিছু না করে, টিক-টিক টিক-টিক ছন্দে কিছু কাজ করে যেতো জীবনভর। অল্প কয়েকটা কাজের ভেতর সীমিত হয়ে পড়তো মানব জীবন। যার মধ্যে প্রধান দুইটি কাজ কি কি, তা আমরা জানি।
সো দেখা যাচ্ছে, জীবনটা একেবারে বৃথা হতো না। পুরো জাতিরই দুইটা করার মতো কাজ পাওয়া গেল। এছাড়া ইনডিভিজুয়ালি মানুষ হয়তো আরো কিছু কিছু কাজ করতো। একেক অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি একেকরকম। তার মানে প্রতিটি অঞ্চলের, একটু গভীরে ঢুকে ভাবলে বলা যায়; প্রতিটি মানুষেরই কিছু কিছু ভিন্ন কাজ আছে। সেগুলো তারা করতো। আমি হয়তো মানুষের সঙ্গে দেখা হলে শেক-হ্যান্ড করতাম। অন্যরাও হয়তো এমন দু’একটা ব্যক্তিগত কাজ করতো। ব্যাস্। এছাড়া মানুষকে আর কিছু করতে হতো না। আর মাথা তো নেই, সো কিছু করার জন্য ভাবতেও হতো না।
এটা কি প্রায় বোধহীন প্রাণীদের সিস্টেমের মতো লাগছে? হতে পারে কিছুটা প্রাণীদের মতো। কিংবা কিছুটা উল্টো বিবর্তনের পথে হাঁটার মতো। দুনিয়ার সব কাজ কাম বাদ দিয়ে মাথা ছাড়া ঘুরে বেড়ানো! পাগল আর কারে কয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সবাই মস্তিষ্কবিহীন জীব হলে ভালোই হতো।
কি কপাল নিয়ে যে জন্মাইসিলাম আল্লাই জানে। একেবারে মানুষের ঘরে টিকাসমেত সাক্ষাৎ মানবজন্ম ঘটেছে। তার চেয়ে যদি জন্ম নিতাম লাঙ্গলের ঈষ হয়ে, হয়তো কিছুটা সময় কায়িক শ্রম দেয়া ছাড়া আর কোনো কাজই করা লাগতো না। বাকি সময় কৃষকের গোলাঘরে পাকা ধানের গন্ধে বিভোর হয়ে পাশ ফিরে শুয়ে থাকতাম। আমার চোখ থেকে কখনো হয়তো কোনো কারণ ছাড়াই টুপ করে বেরিয়ে আসতো একফোঁটা জল। আবার কখনো হয়তো ক্লান্তিতে সে চোখ জড়িয়ে আসতে চাইতো ঘুমে। আমি শুধু সেই অনুভূতিগুলো ধরার চেষ্টা করতাম। তাই করতে করতে আমার কেটে যেতো বেলা, সাঙ্গ হতো খেলা। কি এমন আসতো যেতো এই মহাকালের?
---





ফার্স্ট কমেন্ট করতে পেরে ভাল্লাগতেসে খুব। অনেক পরে এসেও সুযোগটা ফরচুনেটলি পেয়ে গেলাম আমি।
এখন আসল কথায় আসি। অল্প কথায় কি বলতে চাই সেটা টু দ্যা পয়েন্টে রিডারের সামনে তুলে ধরার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আপনার আছে। যেটা আমার একেবারেই নেই। আপনার লেখা পড়ে কখনো মনে হয়নি আপনি কি বলতে চান সেটা বুঝতে পারছিনা। আর আপনার এই ক্ষমতাটার জন্যই আপনি যা লিখেন সেটা পড়তে খুব আরাম পাওয়া যায়।
আত্মজীবনীর ভূমিকায় আছি
সিরিয়াস কমেন্ট - রোমান্টিকতা মীরের বড় গুণ। কৃষকের গোলা ঘরে শুয়ে পাকা ধানের গন্ধ নেবার চিন্তা পিওর রোমান্টিসিজম! এত সফট করে লেখা উগরে দেয়া সত্যি বিস্ময় জাগায়।
মন্তব্য করুন