যুদ্ধাপরাধ ইস্যূ চিরতরে ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার জন্য একটি ট্রাইব্যূনালের ব্যর্থতাই যথেষ্ট
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই একে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা চালিয়েছে একটি পক্ষ। এক সময় দেশের সব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে ‘যুদ্ধাপরাধ ইস্যূ বানচালের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ট্যাগিং করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিলো। তখন এই ট্যাগিং-এর সমালোচনা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু নিজেদের সব কাজের মাধ্যমে জামাত যে কেবলই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সে দিকে কবে নজর দিয়েছে কে?
ইদানীং দেলোয়ার হোসেন সাঈদী’র যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ট্রাইব্যূনাল। চিফ প্রসিকিউটর তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন। এবং সেসব প্রমাণ মামলার রায় ঘোষণার সময় উপস্থাপন করা হবে বলে উচ্চারণ করেছেন। এখন স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে প্রমাণ দাখিলের ভুল তিনি করেন নি। এর কারণ আছে। সাঈদী বাহিনীর টাকা, ক্ষমতা- কোনোটিই কম নেই। কারা তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যূনালের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে, সেটি গোলাম আরিফ টিপু সাহেব এখনই ডিসক্লোজ করতে চান না। কিন্তু একটি বিষয় কি তিনি ভেবে দেখেছেন যে; মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার সরকার যদি চলমান মেয়াদে শেষ করতে না পারে, তাহলে অপরাধীরা শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যেতে পারেন?
সেক্ষেত্রে পুরো পাশার দান উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও খুব কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ আমাদের দেশের রাজনীতিতে এমনতর পাশার খেলা প্রায়শই চলে। বড় বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার জন্য একটা ১/১১-ই যেমন যথেষ্ট, তেমনি যুদ্ধাপরাধ ইস্যূ চিরতরে ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার জন্যও কিন্তু একটি ট্রাইব্যূনালের ব্যর্থ হওয়াই যথেষ্ট।
শোনা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাইব্যূনালকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক সৎ, দক্ষ, মেধাবী, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দায়বদ্ধ আইনজীবী নিয়োগ দেয়া দরকার। বিচার কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে এসব সংকটের কারণে। এসব নিয়ে কথা হলো ’৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে। তিনি জানালেন, “আওয়ামী লীগ যদি এ মেয়াদে বিচার শেষ না করতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তারা দাঁড়াবে কিভাবে? ট্রাইব্যূনালকে বিচার সম্পন্ন করতেই হবে। তবে সরকারের কিছু কিছু কার্যক্রম এখনও অস্বচ্ছ। যেমন- গোলাম আজমকে এখনো গ্রেফতার করা হয় নি। দল হিসেবে জামাতকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেয়া বাকি আছে। এ কাজগুলো করা জরুরি। নাহলে বিচার খুব বেশি ফলপ্রসূ হবে না। সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে দল হিসেবে জামাতের বিচার চালাচ্ছে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের কথা শুনলে বাংলাদেশ কোনোদিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারতো না।”
সরকার গত ২৫-০৩-২০১০ (ইং) তারিখে মহান ’৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিলে, সে সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ এ বিচারের বিরুদ্ধে চাপপ্রয়োগের চেষ্টা চালায়। আমার মনে আছে, সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। আইনমন্ত্রী ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ যেকোন মূল্যে এ বিচার সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক একে একে জামাত নেতাদের গ্রেফতার করা শুরু হলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো- কোনোরকম দলমত বিবেচনা করে জামাতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয় নি। অন্যায়কারীদের আইনী প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ কারোই হস্তক্ষেপ বা পরামর্শ মানা হবে না। কেননা এটা দেশে বিদ্যমান আইনের বিষয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সম্পর্ক নেই।
বিচারের ঘোষণা দেয়া আগে আগে ২০১০-এর ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানি হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ‘যুদ্ধাপরাধ ইস্যূ ১৯৭৪ সালে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে মিটে গেছে’ বলে স্মরণ করিয়ে দিতে এসেছিলেন। পাকিস্তানি হাইকমিশনার সিমলা চুক্তির কথা তুলে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত নাগরিকদের বিচারের বিরোধীতা করার চেষ্টা চালান। এর জবাবে অবশ্য সে সময়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের এ তৎপরতাকে কোনভাবেই গুরুত্ব না দেয়ার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে পিছু না হটার কথা জানিয়েছিলেন। তখন আমি পেশাগত কারণে মাঝে মাঝে উনার বক্তব্য নোট করতে যেতাম।
আইনমন্ত্রী পরদিন পত্রিকাওয়ালাদের বলেছিলেন, আমরা পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেষ্টা করছি না। আমরা তাদের বিচারের আওতায় আনতে চাই, যারা বাংলাদেশী নাগরিক হয়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ও মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। তারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, মেয়েদের নির্যাতন করেছে, বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং পাকিস্তানি হানাদারদের সাহায্য করেছে। তাদের ক্ষেত্রে সিমলা চুক্তি খাটে না।
তো এর সবকিছুই টোকা আছে আমার নোটপ্যাডে। আর এই সবকিছু বাগাড়ম্বরে পরিণত হতে এক মূহূর্তও সময় লাগবে না, যদি আওয়ামী সরকার এ মেয়াদে ট্রাইব্যূনালের রায় (যদিও এখনও স্বাক্ষগ্রহণই শেষ হয় নি) কার্যকর করে যেতে না পারে। কারণ দলটির জনপ্রিয়তা খুব দ্রুতগতিতে পড়ছে। আজ এবারই প্রথম ভোট দিয়েছে এমন এক ভোটার বলছিলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে- এই আশায় আওয়ামী লীগ্রে ভোট দিসিলাম ঠিকই, কিন্তু এখন তো কাজ-কারবার দেখে আর ভাল্লাগতেসে না।
আগামী সোয়া দুই বছরে মানুষের এই খারাপ লাগা আরো বাড়বে। যদি না সরকার খুব দ্রুত জনগণের ঈমান পরীক্ষার নীতি থেকে পিছিয়ে না আসে। অর্ধেকের বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা স্বত্তেও দলটি কয়েক ছটাক বিদ্যূত উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া আর কিছু এ দেশের মানুষের জন্য করে দেখাতে পারে নি। টাকা-পয়সা (মাল) লুটপাট করতে করতে এখন মানুষের জীবনও (জান) তাদের কাছে হাতের ময়লা হয়ে উঠেছে। এ কথার প্রমাণ খুঁজতে খুব বেশি দূর যাওয়া লাগে না। ঢাকা শহরের ভাঙ্গাচোরা রাস্তাগুলো দিয়ে পদযুগল ছাড়া আর যেকোন বাহনে চড়ে কিছুদূর ঘোরাঘুরি করলেই টের পাওয়া যায়। সেসব ভাঙ্গা রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটছে, দুর্ঘটনা না ঘটলেও মানুষ সে রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন- কিন্তু এসব কিছুতে যেন কারো কিছুই যাচ্ছে-আসছে না। সেদিন পরিচিত একজনের স্ত্রী'র প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়ক দিয়ে বিবির বাগিচা থেকে মাতুয়াইল নিতে নিতে মিসক্যারিজ ঘটে গেলো। রাস্তাটির খানা-খন্দগুলো এখন দেড়ফুটি-দুই ফুটি গর্তে রূপান্তরিত হয়েছে। কি ভয়ানক ব্যপার!
এমন আরো অনেক নিপীড়নের বোঝা গত পৌনে তিন বছরে সরকার জনগণের পিঠে চাপিয়েছে। গেল বছর রাজাকারদের গ্রেফতার করা দেখে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কি লাভ যদি গ্রেফতার করে কয়েক বছর জেলে পুরে রেখে আবার তাদেরকে ছেড়ে দিতে হয়? তখনতো রাজাকার বলে বোধহয় গালিও আর দিতে পারবো না। সংকট আরো বাড়বে।
তবু আছে আশার আলো
মানুষ আশায় ভর করে বেঁচে থাকে। আজ বিএনপি’র হরতাল ডাকার যৌক্তিক কারণ ছিলো। যদিও হরতাল কোনো প্রতিবাদের উপায় হতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতিতে এ জিনিসটি শক্ত আসন গেঁড়েই বসে আছে। তাই হরতালের যৌক্তিকতা বিচার করার প্রয়োজনীয়তাও আছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো, শেয়ার মার্কেট কেলেংকারী- এ কাজগুলোর কারণে আসলেই সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয়েছে ও হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যপারে সরকারের ভতুর্কি বিষয়ক একটি শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। সেটি আজকের (২২-০৯-২০১১ ইং) যুগান্তর পত্রিকায় প্রতিবেদনাকারে প্রকাশিত হয়েছে। সেটা পড়ে আমি হৃৎপিন্ডে আসলেই বেদনা অনুভব করেছি। আমি যখন সাইকেল কিনি তখন ৭৭ টাকা ছিলো অকটেনের দাম। এখন সেটা ৮৪ টাকা। অদূর ভবিষ্যতে যে এ অংক কততে গিয়ে ঠেকবে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। গত বছর যখন পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে সূচক ৬০০ পয়েন্ট নেমে গিয়েছিলো তখন আমার এক বন্ধুর কয়েক লক্ষ টাকা মূহূর্তে কয়েক হাজারে রূপান্তরিত হয়ে পড়েছিলো। বেচারা ঘটনা দেখে এতটাই হতবিহ্বল হয়ে যায় যে, তার মুখের দিকে সে সময় তাকানো যাচ্ছিলো না। আমরা মধুমিতা সিনেমা হলের নিচের একটা চাএর দোকানে চুপচাপ দুই কাপ চা আর দুইটা গোল্ড লীফ ধ্বংস করে সেই শোক পালন করেছিলাম। অক্ষম আমজনতা হওয়ার সুবাদে এরচে' বেশি কিছু করার সুযোগ আমাদের ছিলো না। কিন্তু এই ঘটনার পেছনে সরকারী-বেসরকারী যেসব ক্রীড়ানকেরা জড়িত তাদেরকে সমর্থন যোগানো কি আমার পক্ষে আর কখনো সম্ভব হবে? কারণ আমি তো দেখেছিলাম, বন্ধু কত কষ্ট করে তার ইনিশিয়াল ইনভেস্টমেন্টের টাকাটা জোগাড় করেছিলো। আমার পক্ষেই যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ ঐ ছেলেটির পক্ষে কিভাবে হবে? প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পক্ষে কিভাবে সম্ভব হবে? কিন্তু তারপরেও আমি বা আমার শেয়ার ব্যবসায়ী সেই বন্ধুটি কিংবা আরো নানা উপায়ে ক্ষতিগ্রস্থ হাজারো আমার মতো মানুষের কেউ, কাজ ফেলে বিএনপি’র ডাকা হরতালে গিয়ে বসে থেকে আসি নি।
নাহলে কি আর এমনি এমনি এমন জলন্ত ইস্যূতে ডাকা হরতাল কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা ছাড়াই সম্পন্ন হয়? যদিও একটা প্রচারণা আছে এমন- বিএনপি’র নেতারা আরও সোয়া দুই বছর পর্যন্ত রাজপথে থাকতে হবে বলে হরতালে রিস্ক নিচ্ছে না। এটা একটা কারণ হতে পারে। কারণ এখন গ্রেফতার হলে বের হওয়ার জন্য অনেক ঝামেলা করতে হবে। ঝামেলা করেও বের হওয়া যাবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। তবে এটা কখনোই সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে না।
আমার ধারণা আজকের হরতাল ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ, সোমবার বিকালে জামাতের মারামারি। জনগণ সেই ঘটনায় জামাতকে সমর্থন দেয় নি। দেয়ার কোনো কারণও নেই। রাজাকার সাঈদীকে নিয়ে যখন ট্রাইব্যূনালে ঝোলা খাওয়ানো হচ্ছে তখন জামাতের পান্ডারা রাস্তায় টায়ার পোড়াচ্ছে, মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, অফিসফেরত মানুষগুলোকে কষ্ট দিচ্ছে। তাই যে জোটে জামাত রয়েছে, সে জোটের যৌক্তিক কারণে ডাকা হরতাল আজ ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশে। এটা কি আশার কথা নয়?
জামাত দলটিকে নিজেদের সমর্থক ছাড়া আর কোনো মানুষ পছন্দ করে না। কিন্তু এ দলটি টিকে আছে মূলত আমাদের দেশের চলমান অপরাজনীতির ফাঁক-ফোকর ধরে ঝুলে ঝুলে। হরতাল সম্পর্কেও কথা চালু ছিলো, জামাতের ইন্ধনে খালেদা জিয়া এ হরতাল ডেকেছেন; কিংবা হরতালে তারা চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর ফন্দি আঁটছে ইত্যাদি। এসব কথার সত্যতা কতটুকু জানি না, কিন্তু এগুলো চালু থাকার কারণেই আজ সব পক্ষ ছিলো অনেক বেশি সচেতন। সৈয়দ আশরাফের মতো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; আমি বলতে চাই, রাজাকারদের বন্দুকের ঘাড় হয়ে বিএনপি আজ ঝোলায় পুরেছে একটি ব্যর্থ হরতাল। এ ঘটনা দলের চলমান চাঙ্গা মনোভাবে কি ধরনের প্রভাব ফেলেছে- তা যদি ফখরুল-খোকা-মির্জা আব্বাসেরা বিশ্লেষন করে দেখেন, তবে সেটি আখেরে তাদের জন্যই সুফল বয়ে আনবে। অন্তত জামাতিদের বন্দুক তাক করার ব্যবস্থা করে দিয়ে জনপ্রিয়তা হারানোর মতো ভুল করা বন্ধ করবে দলটি।
আবারও পড়ুন, কারণ চেতনাকে ঝালিয়ে রাখতে পড়ার কোনো বিকল্প নেই
এবার একটু পেছনে ফিরে যাই। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা ও রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপের সঙ্গে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আজম, ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী ও পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ যে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য থেকে। এছাড়াও চিহ্নিত অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে জড়িত থাকার ব্যপারেও পত্রিকাগুলোতে রয়েছে অসংখ্য অকাট্য প্রমাণ।
১৯৭১ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সরকারের মূখপত্র দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় প্রকাশিত ‘জামাত বাঙালি জাতীয়তাবাদ মেনে নিতে রাজি নয়, মন্ত্রী সম্বর্ধনায় গোলাম আজম’ শীর্ষক এক সংবাদে বলা হয়, ‘পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা মুসলিম জাতীয়তাবাদের আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে বাঙালী জাতীয়তাবাদকে মেনে নিতে রাজি নয়। জামায়াতের কর্মীরা শাহাদাৎ বরণ করে পাকিস্তানের দুশমনদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা মরতে রাজী তবুও পাকিস্তানকে ভেঙে টুকরো টুকরো করতে রাজী নয়।’
খবরে প্রকাশ, আগের দিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা শহর জামাত কর্তৃক তৎকালীন প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী আব্বাস আলী খান ও রাজস্বমন্ত্রী মাওলানা একেএম ইউসুফকে দেয়া সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন গোলাম আজম। এ দু’জন ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত ১৮ সদস্য বিশিষ্ট মালেক মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন।
গোলাম আজমের পাকিপ্রেম সম্পর্কে আরো ধারণা পাওয়া যায় তার উল্লিখিত বক্তব্যের আরো কয়েকটি লাইন দেখলে; ‘বর্তমানে প্রদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) যে ২০ ভাগ লোক সক্রিয় রয়েছে তারা দু’ভাগে বিভক্ত। এক দল পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চায়, আর একদল পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। জামাতে ইসলামী শেষোক্ত দলভুক্ত।’ তিনি বলেন, ‘জামাতের যে দু’জন সদস্য মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছেন তাদেরকে দলের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের সঙ্গে যে রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটির সরাসরি যোগাযোগ ছিলো এ কথারও সত্যতা মিলেছে গোলাম আজমের ওই ভাষণে; ‘যে উদ্দেশ্য নিয়ে জামায়াত রাজাকার বাহিনীতে লোক পাঠিয়েছে, শান্তি কমিটিতে যোগ দিয়েছে; সেই উদ্দেশ্যেই তারা মন্ত্রীসভায় লোক পাঠিয়েছে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যে কাজ করেছি সেই কাজে সাহায্য করার জন্যই ঐ দু’জনকে মন্ত্রিসভায় প্রেরণ করা হয়েছে।’
১৯৭১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জায়ায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত অপর এক খবরে বলা হয়- ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তান দিবসে কার্জন হলে দেয়া ভাষণে উল্লেখ করেন, ‘ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রতিটি কর্মী পাকিস্তানের প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ৭ নভেম্বর বদর দিবস উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এক জমায়েতে ঘোষণা দেন যে, ‘পাকিস্তানের অস্তিত্বে বিশ্বাসী স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পর্কে বিরূপ প্রচার করা হচ্ছে। যারা এই প্রচার করছে তাদের সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকুন।’
ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও এ দেশের বিরোধীতা করেছিলো। পাকিস্তানের পক্ষে যোগ দিয়ে এদেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলো। এমনকি ধর্মেও কোথাও নিজের দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করাকে সমর্থন করা হয় নি। কিন্তু একটি ধর্মভিত্তিক দল হওয়া স্বত্তেও ওরা ঠিক সেই কাজটিই করেছিলো মুক্তিযুদ্ধের সময়। এই বিশ্বাসঘাতকদের বিচার আসলে করতেই হবে। না করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তাহলে সামনে গিয়ে আমাদের বরণ করে নিতে হবে একটি জাতীয় ব্যর্থতা।
---





মীরের কাছ থেকে এমন সময়োপযোগী চমৎকার পোষ্ট প্রত্যাশিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সফলতা নিয়ে আমি সন্দিহান, আইনগত অনেক ঝামেলা আছে যেগুলোর জন্য হোমওয়ার্ক করা হয় নাই। আমার নিকটাত্মীয় এর প্রসিকিউটর, কথা বলে আমার তেমনই মনে হয়েছে। আমরা বড় কাজে কম প্রস্তুতি নিয়ে নামি এবং অসফল হই। ইতিহাসের শিক্ষা আরও একবার ফলবে।
সাঈদী বাহিনীর শক্ত সম্মোহনী ক্ষমতা আছে। গরীব বা নিরক্ষর মানুষদের ওপর জ্বিনের মতো আছর করতে পারে। টাকা বা ক্ষমতা ব্যবহারের আগে ওরা সেটা ট্রাই করে, মানুষকে কাবু করার জন্য। যে কারণে জবানবন্দিদাতাদের নিরাপত্তা বিধান করা ট্রাইব্যূনালের, বলা ভালো রাষ্ট্রের একটি বিশেষ দায়িত্ব। যাতে তারা কোনোভাবেই ক্ষতির স্বীকার না হয়। যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা মোটিভেটেড হয়ে যাওয়াও তো এক ধরনের ক্ষতিই, তাই না?
আর ট্রাইব্যূনালের সফলতা নিয়ে সন্দিহান হওয়া কিন্তু এক অর্থে রাজাকার-বিরোধী চেতনার সফলতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করার মতো একটা ব্যপার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমাদের সবারই বোধহয় নিজের নিজের জায়গা থেকে কিছু না কিছু করার আছে।
লেখাটা মোটেও সুবিধার হয় নাই। আপনে কেমনে যে এটারে চমৎকার বললেন আল্লা মালুম!
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।
হ্যাঁ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এবং দ্রুত সেই বিচারের রায় কার্যকর হতে দেখতে চাই।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে যেসব ফাক-ফোকর থেকে যাচ্ছে...
সেগুলো ইচ্ছে-কৃত কি-না... তা-ই বুঝতে পারছি-না...
লেখাটি ভালো লাগলো...
৫...
ধন্যবাদ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সমসাময়িক রাজনীতি সম্পর্কে এরচেয়েও অনেক ভালো একটি লেখা পাবেন বিডিনিউজে। আরিফ ভাইএর (আরিফ জেবতিক) লেখা। দেখতে পারেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কি হবে কোনোদিন? নিশ্চিত জানি না।
তবে মনেপ্রাণে চাই, বিচার হোক।
পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।
হৈতেই হবে ব্রাদার, না হলে যে ৩০ লাখ শহীদ আর আড়াই লাখ মহিয়সী'র ঋণ শোধ হবে না।
ধন্যবাদের জন্য
আমি আশাবাদি মানুষ হলে এ ক্ষেত্রে আমার গভীর সন্দেহ রয়েছে
লেখাটা ৩ য় বারের মতো পড়লাম
সময়োপযোগী এই লেখাটির জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
এই সব নরপিশাচদের বিচার যতদ্রুত সম্ভব করে ফেলা ভালো।
মন্তব্য করুন