ইউজার লগইন

মিউজিকাল চেয়ার, কিন্তু মিউজিকটা কি থামবে না ভাবছেন?

বন্ধু শাফায়েতের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিলো। এখন একটা পরিবর্তন দরকার। আমাদের দেশটার কথাই বলছি। নব্বুইয়ের পর থেকে একটু এপিঠ-ওপিঠ হওয়া ছাড়া, দীর্ঘ একটা সময় ধরে যেটার কোনো পরিবর্তন হয় নি। জাতি হিসেবে একটা ব্লকড্ সময় পার করছি আমরা। ব্লকটা আমাদের কোনো কাজেও লাগছে না। কারণ বারবার ক্ষমতার পালাবদল দেশটাকে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছুনোর লড়াইয়ে নামতেই দেয় নি কখনো। তাই পালাবদলের রাজনীতি থেকে পরিত্রাণ দরকার। আর দরকার পরিবর্তন সম্পর্কে ভাবার, ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেবার, বাস্তবটাকে সামনে এগিয়ে নেবার, সামনে নতুন নতুন রাস্তা খুঁজে বের করবার লোক। সংখ্যায় অনেক শক্তসমর্থ লোক ছাড়া আসলে কোনো কিছু চিন্তা করার সুযোগ নাই। বাঙালি জাতির দেহ সুঠাম। জাতি পরিশ্রমীও। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে স্থির থেকে পরিশ্রম করে যাওয়ার সৌভাগ্য জাতিটির হয় নি। এগিয়ে যাওয়া শুরু করার আগে একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা জরুরি।
টেলিকমিউনিকেশনের ব্যবসায় নামা যেতে পারে। দশ বছর সময় হাতে নিয়ে নামতে হবে। গ্রামীণফোনকে হাজার হাজার কোটি টাকার করফাঁকির অভিযোগে দেশ থেকে বহিস্কার করা যেতে পারে। যথেষ্ট খেয়েছিস বাপধনেরা, এইবার ক্ষ্যামা দে। আমার শরীরে যে আর বাড়তি রক্ত নেই।
হতে পারে না? অবশ্যই পারে। প্রথমে যুবসমাজের কাছ থেকে একটা ম্যাসেজ আদায় করতে হবে। যে- যা কিছুই হোক, সরকার যদি যে নীতিটার কথা আমরা বলবো তাতে অটল থাকে, তাহলে আমরা সরকারের পেছনে আছি। আমাদের নীতিটা হচ্ছে, আপোষ না করার নীতি। নিজের উন্নতি নিজে করবো। না পারলে নাই। পরের মুখে ঝাল খাবো না।
গ্রামীণকে বহিস্কার করে ওদের অবকাঠামো ও পুরো সেট-আপটা দিয়ে দেয়া হবে টেলিটককে। মনে রাখতে হবে আপোষ না করার নীতি থেকে সরে আসার সুযোগ নেই, কারোই। টেলিটক সুবিধাটা কাজে লাগিয়ে তাদের কারিগরী ও ব্যবসায়িক ক্যাপাসিটি বাড়াবে। প্রথমদিকে আমরা উদ্দেশ্য গোপন করে বিদেশি কনসালট্যান্টও রাখতে পারি। কিভাবে ক্যাপাসিটি বাড়ানো হবে, তা শেখার জন্য। কিন্তু শিখবে আমাদের যুবারা। শিখে টেলিটককে সত্যিকারের একটা মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পাল্টে দেয়া হবে। সেবা শব্দটি দিয়ে এখানে আক্ষরিক অর্থে সেবার কথাই বলা হয়েছে। ভোক্তারা যেটি পেলে সন্তুষ্ট হয়।
এবারে দেশের অন্যান্য মোবাইল অপারেটরগুলোকে পাঁচ বছর বা তারও কম সময়ের নোটিশ ধরিয়ে দেয়া যেতে পারে। ভাই তোমরা চুপচাপ কেটে পড়ো, কোনো আলাপ করতে আসার চেষ্টা না করে। কেননা কোনো আলাপ করতে আসার পরিশ্রমটুকু পণ্ডশ্রম হবে, তোমাদের জন্য। আমরা কোনো আলাপে আগ্রহী নই।
এসব কোম্পানির কাছ থেকে অবকাঠামো কিনে নেয়া হবে। এই দেশ আমার, এখানে আমার কথাই আইন। কারোটা খাই না, পড়ি না। কারো সঙ্গে কোনো আপোষ করি না। আর আমার নামে অভিযোগ করতে চাও? লাভ নেই। আমার কোনো তেলও নেই, গ্যাসও নেই। যা গ্যাস আছে, তার জন্য ফন্দি আঁটাটা লাভজনক হবে না। তাই আমার বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলতে চাইলে আবারো ভাবো। আমার এখানে কোনো সন্ত্রাসীকেও আশ্রয় দেয়া হয় না। এখানে যা কিছু ঘটে; সব খোলাখুলি ঘটে, জনস্বার্থে ঘটে। একটি জাতির উন্নতির জন্য ঘটে। এ জাতির সদস্যরা তা বুঝে-শুনে ঘটায়। এখানে কারো কোনো সাম্রাজ্যবাদী, বিশেষত নয়াসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ লাগাও-দখল করো নীতি খাটবে না। আর আমরা এ অপনীতি খাটানোর পন্থাগুলো খুব ভালো করে জানি। চাইলেই কেউ যেন এখানে সেগুলো প্রয়োগ করতে না পারে, সে ব্যপারে আমরা সজাগ। সো আমাকে ঘাঁটাতে চাইলে লাভ হবে না বাপু।
সম্ভব। যদি নিজেদেরকে সৎ এবং লক্ষ্যকে স্থির রাখা যায়, তাহলে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। অন্য কোম্পানিগুলোর অবকাঠামো ও লোকবলকেও আমরা কাজে লাগাবো। আমাদের টেলিটকের ক্যাপাসিটি আরো বাড়ানো হবে। দেশের প্রত্যেকটা মানুষের যোগাযোগের চাহিদা মেটানোর পর আমরা অন্য দেশে গিয়ে টেলিকমিউনিকেশনের ব্যবসা করবো। যেটা এখন অন্য দেশের প্রতিষ্ঠান আমাদের এখানে এসে করছে।
ব্যবসাটা কেন করবো তার আরো একটা ব্যাখ্যা আমার কাছে আছে। জনগণকে সেবা দেয়াটা হচ্ছে সরকারের কর্তব্য আর ব্যবসা করাটা হচ্ছে ব্যবসায়ীর রোজগারের উপায়। তাই ব্যবসা শুরু করলে কোয়ালিটি কন্ট্রোল হবে সন্দেহাতীতভাবে। বিপ্লবের পর যেটা এমনিও হবে নিশ্চিত। অর্থাৎ সরকার জনগণকে যে সেবা দেবে তার মানও সর্বোচ্চ পর্যায়েরই হবে। তারপরও আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। তখন আমরা বিশ্বের এক নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। প্রশ্ন উঠতে দেয়ার সুযোগও নেই। বরং ব্যবসায় দ্রুত উন্নতি করে এর প্রসার ঘটানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে।
টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরের আর কোন্ কোন্ ব্যবসা আমরা ধরতে পারি, তা নিয়ে গবেষণা করার জন্য একটা সেল খোলা দরকার লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পাইকারী হারে হার্ডওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারিংএর দিকে যাওয়া যায় কি না- ভেবে দেখতে হবে। সঙ্গে এও খেয়াল রাখতে হবে যে, আমাদের প্রতিষ্ঠান যেন গ্রামীণফোনের মতো করফাঁকি না দেয়। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসাক্ষেত্রে রাজত্ব করতে চাইলে, নিজের প্রতি সৎ থাকার পাশাপাশি ভোক্তার প্রতি সৎ থাকাটাও ভীষণ জরুরি।
এ কাজটা করতে হলে এখনই যুবসমাজের কাছ থেকে ঐ বার্তাটি জোগাড়ের উদ্যোগ নিতে হবে, যেটার কথা শুরুর দিকে বলা হয়েছে। এটাই হচ্ছে দ্য ফার্স্ট অ্যসাইনমেন্ট। সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ এত রিসোর্সফুল একটা দেশ যে এখানে এরকম সম্ভাবনাময় অপশন আরো আছে। চাইলে কেবল এক সুন্দরবনের ব্যপারে নীতিতে অটল থেকেও, আমরা একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারি। বিপ্লব বড় কঠিন একটা শব্দ। তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, সম্ভব।
এজন্যে প্রথমে মোবাইলের টেক্সটবক্স-এ SB লিখে লিখে ১৬৩৩৩ নাম্বারে পাঠিয়ে, প্র্যাক্টিস করে নিতে হবে খুব ভালো করে। অবশ্য খুব বেশি সময় আমাদের হাতে নেই। আর মাত্র ১৪ দিন আছে। প্র্যাক্টিসটা ঠিকঠাকভাবে করার ওপরে নির্ভর করছে অনেক কিছু। যেমন আগেরবার যুবসমাজের কাছ থেকে বার্তা জোগাড়ের ওপরে নির্ভর করছিলো অনেক কিছু। কারণ এবারো সামনে রয়েছে এক বিশাল দায়িত্ব।
এ পর্যায় পার হবার পর আবারো সেই আগের ফর্মূলা। প্রয়োজনে বিদেশি কনসালট্যান্ট নিয়ে আসা, প্রক্রিয়াগুলো ভালোভাবে শিখে নেয়া- তারপর দেশের দক্ষিণ দিকটা পুরোপুরি পর্যটন অঞ্চল বানিয়ে ফেলা। এমন না যে- ওখান থেকে মানুষজন সব ঝেটিয়ে বিদায় করে দিতে হবে। দিয়ে বীচ, পার্ক-টার্ক বানিয়ে একটা হাই-হুলুস্থূল লাগিয়ে দেয়া হবে। বরং যা যেমন আছে তা তেমনি থাকবে। কিন্তু সবকিছু পর্যটনের আওতায় চলে যাবে। জেলেদের জীবনাচরণও প্রয়োজনে মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। কিন্তু ইতিবাচকভাবে। যাতে উন্নতির সরটুকু জেলেসমাজ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থানীয় সমাজগুলোই ভোগ করার সুযোগ পায়। কোনো মধ্যস্বত্তভোগী ফড়িয়া শ্রেণী যেন লাভের গুড় মেরে দিয়ে বড়লোক হয়ে যেতে না পারে।
চাইলে এ কাজটাও করা সম্ভব। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে আমরা আমাদের ভাগ্যও পাল্টে দিতে পারি। কিন্তু নীতিতে অটল থাকতে হবে। একেবারে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে, আদ্যান্ত।
সেদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে রাতের ট্রেনে ফেরার সময় আলো-আঁধারিতে একটা বিলবোর্ড চোখে পড়েছিলো। তাতে লেখা- দ্য বেস্ট ওয়ে টু প্রেডিক্ট ইওর ফিউচার ইজ টু ক্রিয়েট ইট। কথাটা সত্য। চাইলে এ দেশেরও উন্নতি ঘটানো সম্ভব। সেজন্য আগে খুব ভালো করে চাইতে হবে বিষয়টাকে।
আমি যতই বলি শাফায়েত তত খালি হাসে। ও হয়তো ভাবছে আমি বুঝি বর্ষীয়ান পলিটিশিয়ান আর পাকা ঝুনঝুনা আমলাশ্রেণীর কথা ভুলেই গেছি। মোটেও না। রাজনীতিক-আমলা-ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু; যদি যুবসমাজের কাছ থেকে একবার বার্তাটি আদায় করা যায়, তাহলে নদীবিধৌত এই ভূখণ্ডে যে বানটা ডাকবে, সে তোড়ের মুখে টিকে থাকার শক্তি ঐ জুজু-ব্যটাদের বুড়ো হাড়ে আছে তো? নাকি ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কানের সমস্যা, মাথার সমস্যায় ভুগে ভুগে সব শক্তি তারা অনেক আগেই খুইয়েছে? খুইয়ে এখন চুপ করে বসে আছে; যতক্ষণ কেউ প্রশ্ন না তুলছে ওদের শক্তি নিয়ে, ততক্ষণ মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার জন্য।
শাফায়েতটা বড় নৈরাশ্যবাদী। এতকিছু শোনার পরও শুধু হাসে।
---

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রাসেল আশরাফ's picture


শাফায়েতটা বড় নৈরাশ্যবাদী। এতকিছু শোনার পরও শুধু হাসে।

মীর's picture


সবকিছু ঠিকঠাক করে আপনারে একদিন ডাক দেয়া হবে, রাসেল ভাই চলে আসেন। তখন খালি আইসা পইড়েন, বুঝলেন? তাইলেই চলবে। Crazy Crazy

রাসেল আশরাফ's picture


আমার কমেন্ট কই? আজব!!!!!!! At Wits End At Wits End

নিচে বিমাদার কমেন্টের উত্তরে যা বলেছো আমার কথা সেটাই।শুরু আমাদেরই করতে হবে। অনেক কিছু বকেয়া হয়ে গেছে।

আর আমাকে ডাকতে হবে না। আমি একাই যাবো।তবে তোমাকে আমি বা আমরা ডাকলে আসবা কীনা সেটা একটা প্রশ্ন। Smile Smile

মীর's picture


তোমাকে আমি বা আমরা ডাকলে আসবা কীনা সেটা একটা প্রশ্ন।

এই প্রশ্নের উত্তর আছে আপনেরই আগের লাইনে।

আমি একাই যাবো।

আমরা সবাই-ই আসলে একইরকম। প্রয়োজনের সময় কেউ বসে থাকি না। Smile

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল's picture


অনেক চিন্তার বিষয় । এমন একটি গল্প আমি লিখেছিলাম । তবে অন্য প্রস্নগ নিয়ে
আমার লেখা

মীর's picture


লিংকটাতে মনে হয় কোনো সমস্যা আছে। কিংবা সাইটটাতে। পড়ার জন্য লগিন চায় কেন বুঝতে পারলাম না। লেখাটা আপনার এই ব্লগের পাতায় নিয়ে রাখতে পারেন কিন্তু চাইলে। প্রথম পাতায় না দিলে সেটা নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আর আমরাও পড়তে পারি।

বিষাক্ত মানুষ's picture


স্বপ্নগুলো একই রকম , তবে অসংখ্য 'কিন্তু' আছে।

মীর's picture


ভাই আমার যেটা মনে হয়, কিন্তু আছে কথাটার অর্থই হলো কিছু একটা করার বাকি আছে। অনেকগুলো কিন্তু অর্থ অনেকগুলো বকেয়া কাজ। যেগুলো আমাকে আর আপনাকেই করতে হবে। আমরা যদি না করি, তাহলে সেগুলো বকেয়া রয়ে যাবে। পরের প্রজন্ম বা তারপরের প্রজন্ম কিংবা যেকোন একটা পরবর্তী প্রজন্মকে কাজগুলো একদিন শুরু করতেই হবে।

টুটুল's picture


আমরা স্বপ্নে বাঁচি...

১০

মীর's picture


কফিলদা'র অবশ্য বলেন,

আগুনে ঘুমাই, আগুনে খাই,
আমি এবং আমার আগুন
আমরা দু'জন জমজ বোন, জমজ ভাই।

১১

একজন মায়াবতী's picture


শেয়ার করলাম ফেবু'তে

১২

মীর's picture


ধইন্যা পাতা যদিও এতে বিশেষ কোনো লাভ নাই। তারপরও আপনে ভালো থাকেন। সুস্থ থাকেন। শুভেচ্ছা নিরন্তর। Smile

১৩

জ্যোতি's picture


আহারে কত স্বপ্ন!!!স্বপ্নগুলো বাঁচুক।

১৪

মীর's picture


স্বপ্নগুলো বাঁচবে আর আপনে কি করবেন? আপনেও বাঁচেন। আশেপাশেই থাকেন, যাতে দরকারে কাছে পাই।
অ.ট.: লেখালেখি তো ছেড়েই দিলেন যাহোক!

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


আমিও নৈরাশ্যবাদীর দলেই, তাই স্বপ্ন দেখিও না সাথে সাথে স্বপ্ন দেখতেও বিরক্ত লাগে!

১৬

মীর's picture


আপনি মধ্যপন্থী নন, এটাই হচ্ছে সবচে' সুখের কথা।

১৭

মাহবুব সুমন's picture


মুজিবের মতো রাস্ট্রায়াত্বকরন বা ঈদি আমিনের মতো লোটা কম্বল নিয়ে বহিস্কার তড়িকায় বিশ্বাষী না আমি।

একটা রক্তাত্ব বিপ্লব দরকার, কয়েক লাখ অপরাধী ) ও কয়েক লাখ নিরোপরাধী লোকের মৃত্যুর বিনিময়ে যদি কোনো পরিবর্তন আসে তবেই আশাবাদী। শুকনা তত্বের যুগ শেষ আমাদের দেশের জন্য।

১৮

মীর's picture


ব্যক্তিগতভাবে আমি রক্ত দেখতে ভালোবাসি না। রক্তপাতের মধ্য দিয়ে আমরা একবার পার হয়েছিলাম। তাতে সফল হয়েছিলাম এবং দেশে স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু মুক্তি আসে নি। সেটা রক্তপাতের মাধ্যমে আনা সম্ভব বলেও মনে হয় না। আর তথ্যপ্রযুক্তির এই বিচ্ছিন্নতাবাদী উৎকর্ষের যুগে রক্ত ঝরানোর সৈনিক পাওয়াও তো অনেক কঠিন, তাই না? (একমত কিনা জানান)
তরিকা দুইটা সম্পর্কে বিশদ জানা নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, তখনকার আর এখনকার সময় এক নয়। এখন একমত হওয়ার ইচ্ছা থাকলে উপায় অনেক তৈরি আছে, এটা একটা আশার কথা।

১৯

মাহবুব সুমন's picture


রক্তপাতে আমারও অপছন্দ থাকলেই মাঝে সাজেই শান্তির জন্য রক্তপাতের দরকার হয়। আপনার ভাবনার সাথে আমারো অনেক মিল থাকলেও পন্থায় একমত হতে পারছি না। আবর্জনা দূর করবার জন্য শক্ত ঝাড়ুর দরকার হয়, মিস্টি কথায় হয় না।

আর তথ্যপ্রযুক্তির এই বিচ্ছিন্নতাবাদী উৎকর্ষের যুগে রক্ত ঝরানোর সৈনিক পাওয়াও তো অনেক কঠিন, তাই না? (একমত কিনা জানান)

একমত নই। যারা মাঠে নামবার তারা ঠিকই নামবে। হয়তো আমার মতো যারা নিরাপদে বসে রাজা উজির মারে তারা নিরাপদে থেকেই বিপ্লবের স্বাদ নেবে কম্পু গেমস খেলে যুদ্ধ জেতবার মতো। মাঠের সৈনিক যথাসময়েই মাঠে পাওয়া যায়, হয়তো এদের চোখে পরে না। যদিও যুদ্ধ শেষে আমার মতো নিরাপদে থাকা পেপার টাইগাররা হিরো সেজে যায়।

২০

মীর's picture


আমি কোনো পন্থার কথা বলছি না আসলে। তয় আপনের একটা কথাও আপাতত মানতে পারলাম না। রাজা উজির মারার কথাটা বস্। আমার ধারণা- সে সময় আপনে আপনের জায়গা থেকে আপনের প্রিয় রক্তপাত ঘটাতে না পারার জন্য আক্ষেপ করবেন ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে আবার ঐ জায়গাতে বসে থেকেই যা যতটুকু করা সম্ভব করবেন, বিপ্লবের পক্ষে। সেটা করতে চান বলেই আপনে আজকে একটা পন্থা খুঁজতেসেন। Smile

২১

প্রিয়'s picture


জানি সবাই আমারে নৈরাশ্যবাদী বলবে তবু বলি, লাভ নাই। কোন কিসুতেই কোন লাভ নাই।

২২

মীর's picture


গুল্লি গুল্লি

২৩

প্রিয়'s picture


মাইর মাইর

২৪

শওকত মাসুম's picture


শাফায়েতটা বড় নৈরাশ্যবাদী। এতকিছু শোনার পরও শুধু হাসে Smile Big smile Laughing out loud

২৫

মীর's picture


নৈরাশ্যবাদী নিপাত যাক
আশাবাদীদের আশা বেঁচে থাক!!!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!