এক হাজার শীত-বসন্ত পরে যখন আবার দেখা হবে
বন্ধু শাফায়েতের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিলো। ওর সঙ্গে আমার প্রতিদিনই একবার আলাপ হয়। মাঝে মাঝে সেগুলো দেশাত্মবোধক আলোচনায় রূপ নিয়ে ফেলে। ওকে সেদিন সৌদি দূতাবাস আক্রমণের প্ল্যানটা ডিটেইল ব্যাখ্যা করে বুঝালাম। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কেন জরুরি সেটা বললাম। কিভাবে যুদ্ধটা শুরু করবো তা নিয়েও আলাপ হলো। কিন্তু বদমাশটা যেতে রাজি হলো না। ওর নাকি তখন নবাবগঞ্জে যাওয়াটা বেশি জরুরি। এস এস পাইপ কিনতে হবে ছাদে রেলিং দেয়ার জন্য।
কিন্তু আমার মাথায় চিন্তাটা ঘুর ঘুর করতেই থাকলো। সেনাবাহিনীর বন্ধুগুলোকে আগে মোটিভেট করতে হবে। সম্ভব? সম্ভব না। ওদেরকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগেই মোটিভেটেড করে রাখা হয়েছে। তাইতো? কিন্তু বাংলাদেশ নামের এই ভূখণ্ড যে আর সবার মতো সেই ভদ্রলোকগুলোকেও জন্ম থেকে মোটিভেশনের আওতায় রেখেছে, সেটার কি হবে? কেউ কি আমরা সেই জিনিসটি খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছি?
আচ্ছা সেনাবাহিনীকে পরে মোটিভেট করি, আগে আমরা নিজেদের দিকে তাকাই। আমি যে দেশে জন্ম নিলাম, যে দেশের অর্থনীতি-রাজনীতি-সংস্কৃতি-শিক্ষা ব্যবস্থার একটা সক্রিয় অংশ হিসেবে বেড়ে উঠলাম; বর্তমানে সেই দেশটা একটা জটিলতার আর্বতে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আমিও একইসঙ্গে ঘুরপাক খাচ্ছি। আমার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো জাতিটি এবং এর প্রতিটি সদস্য। এটাকে নিশ্চই আপনি একটা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করবেন।
কারণ কেবলই ঘুরপাক খাওয়ার জন্য আমরা বেঁচে আছি, পৃথিবীর ব্যপারটা আসলে এমন নয়। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালেই পার্থক্যটা বোঝা যায়। আমরা মাঝে মাঝে যখন উন্নত বিশ্বে যাই বেড়াতে বা থাকতে, তখন তাদের প্রতিটি বিষয়ে আমাদের চেয়ে উন্নতির ছাপ দেখতে পাই। এর কারণ হচ্ছে, ঘুরপাক খেতে খেতে তাদের জীবন পার হয় না। আমাদেরকেও এই ঘুরপাক খাওয়া থেকে বের হতে হবে।
এজন্য আগে নিজেকে নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। আমি নিজে কি এই দেশ দ্বারা প্রভাবিত কিনা? এ দেশের ভাল-মন্দ কি আমাকে আসলেই ছোঁয়ার ক্ষমতা রাখে? নাকি সেটাকে আমি জন্মদাতা ভূমির এখতিয়ার বহির্ভূত হিসেবে ধরে নিয়েছি?
আমি যদি নিশ্চিত হতে পারি যে হ্যাঁ, আমি আমার জন্মভূমি দ্বারা আসলেই প্রভাবিত; তাহলে একটা সেনাবাহিনীকেও মোটিভেট করা সম্ভব। আর এ পর্যায়টা পার হওয়ার পর থেকেই কিন্তু, শত্রুদের একটা চেহারা আমাদের সামনে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে আসা শুরু করে।
ধরে নেয়া যেতে পারে, আমাদের প্রাথমিক শত্রুরা হচ্ছে মূলত দুইটি পক্ষ। একটি হচ্ছে সৌদি সরকার, আরেকটা আমাদের সরকার। সেনাদের ভেতরের সরকার পক্ষের অংশটা যদি চায়, তারাও সরকারের সঙ্গে যোগ দিতে পারে। কিন্তু অল্প পরে যখন সরকারই আমাদের পক্ষে চলে এসে সৌদি আরবসহ আন্তর্জাতিক পক্ষকে একা বানিয়ে দেবে, তখন আমি নিশ্চিত তারা একটা ভ্যাবাচ্যাকা খাবে। এটা তাদের খাওয়া উচিত। আমরা যে এত কষ্ট করে প্ল্যানের একটা বৃহৎ অংশ তাদের পেছনে ব্যয় করলাম, সেটাকে তাদের আরো গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত ছিলো।
সরকার কেন আমাদের পক্ষে আসবে? বলছি, তার আগে একটু যুদ্ধ করে আসি। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই। দূতাবাসের প্রধান কর্মকর্তাদের দলটিকে আমরা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেবো। তারা তখন আমাদের বন্দী। নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়ার কারণ, হুট করে কোনো হলিউডি কমান্ডো এসে যেন আমাদের পরিকল্পনাটাকে বানচাল করে রেখে যেতে না পারে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেকেই টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আসার ধান্দা করতে পারে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আমার একফোঁটা বিশ্বাসও নেই। ওরাই হয়তো সবার আগে এসে ক্রসফায়ারের মুখে পড়বে। এই ক্রসফায়ার কিন্তু র্যাবের ক্রসফায়ার না। ক্রসফায়ারে পড়া রাজনীতিকদের মুখোশ খুলে যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারবে, মানুষ আর তাদেরকে বিশ্বাস করে না।
যাক্ সব ধরনের টি-টুয়েন্টি খেলুড়েদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। দেশি-বিদেশি যত বেশি দল টি-টুয়েন্টি খেলতে আসবে তত বেশি আমাদের শত্রু চিনতে সুবিধে হবে। এ সময় প্রয়োজনীয় রক্তপাতের দিকে আমরা যাবো। তবে অপ্রয়োজনে একফোঁটা রক্তও নয়।
আর বাসর রাতে যে বিড়ালগুলো মারলাম, একচুয়ালি মেরে ফেলি নি একেবারে, ধরেছি শুধু; সেগুলোকে প্রয়োজন হবে দরকষাকষির সময়। দেশের অন্য সব বিদেশি নাগরিককে, যে যেখানে থাকবে তাকে সেখান থেকে, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হবে।
সৌদি সরকারকে একটা বার্তা পাঠানো হবে। বেড়ালগুলোর শিরচ্ছেদ চাও না কি চাও না? যদি না চাও সমগ্র আরব মুলুকে আমাদের যে ৭০-৮০ লাখ ভাই-বোন আছে, তাদের যাবতীয় পাওনা মিটিয়ে নিখরচায় আমাদের কাছে পাঠানো শুরু করো। রেডী ওয়ান টু থ্রী গো।
আমাদের শাহজালাল এয়ারপোর্ট ছাড়া আর সবগুলো পোর্ট বন্ধ করে দেয়া হবে। লেজার গান তাক করা থাকবে সার্বক্ষণিকভাবে। কেউ অণুপ্রবেশের চেষ্টা করলে লেজার দিয়ে ভস্ম করে দেয়া হবে। কেবল শাহজালালে বাংলাদেশি বোঝাই সুনির্দিষ্ট প্লেনগুলোকেই নামতে দেয়া হবে। এছাড়া বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ থাকবে। একটা জরুরি অবস্থা চলছে। সরি টু অল ফর দ্য ইনকনভিনিয়েন্স।
বাংলাদেশিদেরকে আমরা তল্লাশি চালিয়ে বুঝে নেবো। পাশাপাশি নেগোসিয়েশন চলবে আরো দুই ব্যপারে। সব বিদেশি নাগরিকের প্রাণের বিনিময়ে ন্যাটো বা অন্য যেকোন ফ্যাটো-কে আমাদের থেকে দুরে থাকতে হবে। পৃথিবীতে একটা ন্যায় প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। বিষয়টাকে সমর্থন দাও। যদি না পারো দূরে বসে মজা দেখো। কিন্তু নাক গলাতে এসো না প্লীজ। নাক কেটে হাতে ধরিয়ে দেয়া হবে। আর সৌদি নরহত্যাকারীদের বংশধরগুলোর প্রাণের বিনিময়ে দেশটিকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আমাদের নিহত সেই আটজনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অংক নির্ধারণ করবো আমরা।
জানি প্রাণের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ বড়ই যৎসামান্য। তবুও এটাই এখন একমাত্র উপায়। আর কিইবা তারা দিতে পারে? ক্ষতিপূরণ আদায়ের আরেকটি কারণ হচ্ছে, ভবিষ্যতের ব্যপারে ওদেরকে সাবধান করে দেয়া। সাবধান করে দেয়া বাকী পৃথিবীকেও। কারণ আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই। নির্বিঘ্ন একটা সময় চাই অতিক্রম করার জন্য। লড়াই-সংগ্রামে শক্তি-অর্থ অপচয় করতে চাই না। আর কেউ সেটা জোর করে আমাদেরকে দিয়ে করাতে চাইলে তার পরিণতি মোটেও ভালো হবে না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এবারে আমরা টেলিকমিউনিকেশন বা অন্য কোনো ব্যবসায় নামবো। সরকার আমাদের পক্ষে থাকবে কি থাকবে না, সেটা তাদের ব্যপার। আমার মনে হয় সরকার এবং পরাজিত টি-টুয়েন্টি খেলোয়াড়েরা সবাই তখন আমাদের পক্ষে আসার জন্য মুখিয়ে থাকবে। কারণ জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। একজন জনতাও পৃথিবীতে নগণ্য নয়। এই উপলব্ধিটা ততক্ষণে তাদের মনে জেগে ওঠার কথা।
---





একজন জনতাও পৃথিবীতে নগণ্য নয়। কেতাবী কথা। হায়, যদি আমাদের শাসকেরা সত্যিই এমন দৃষ্টিভঙ্গী পোষন করতো ! বাস্তবতা হলো 'আমি'ই গুরুত্বপূর্ণ, বাকি সব তুচ্ছ, নগন্য।
হ এইটাই মূল সমস্যা। সমস্যাটা যেহেতু চিহ্নিত করতে পারসেন, সো আরেকটু চেষ্টা করলে মনে হয় সমাধানটাও ফাইন্ডাউট কর্তে পারবেন। শুভেচ্ছা।
উপলব্ধিটা জেগে ওঠার অপেক্ষায়
আপনাদের আন্দোলন কেমন চলছে? শুভকামনা রইলো।
হুম
মাসুম ভাই, আছেন কেমন? আপনে কি পুঁজিপতি? ওয়ান অভ দ্য 1%? তাইলে কিন্তু সামনে সমূহ বিপদ
জমাটবদ্ধ পুঁজির ওপর আসছে চূড়ান্ত আঘাত। কৃষক, শ্রমিক, জনতার গড়ে উঠছে একতা।
বুঝলাম না
আহা কেন যে বুঝলেন না
ইশ... সব যদি এমন হতো
হবে বস্। আমি নিশ্চিত। খুব দ্রুতই হবে। তবে সেটাকে ধারণ করার ক্যাপাসিটি এখনও হয় নাই আমাদের।
তাই স্বপ্ন দেখবো বলে আমি দুচোখ পেতেছি।
ধইন্যাপাতা সুন্দরী! পছন্দের একটা গান মনে করায় দেয়ার জন্য। বহুতদিন শুনি না। যাউক্গা আপনের একটা নয়া প্রো-পিক দেন দেখি। এইটা পুরান হয়ে গেছে।
প্রো- পিক চেঞ্জ করে দিলাম।

কল্পনাও এত কল্পনার হয়!!!
কই আপনি লীনা আপু? দেখি না কেন?
আছেন কেমন?
স্বপ্নগুলো সত্যি হোক।
আরো একটা শব্দ লাগবে লাইনটায়- দ্রুত।
নাজনীন আপু কেমন আছেন? শুভকামনা রইলো।
শিরোনামের গানটা আমার দারুণ প্রিয় মীর।
আছ কেমন? শুভেচ্ছা নিরন্তর।
গানটা আমারও প্রিয়। ডিটো।
আপনে কেমন আছেন? জাপানে কুরবানী দেন কিভাবে?
ভাবছি......
আপনের প্রো-পিকটাও তো দেখি গালে হাত দিয়ে ভাবতেসে..
....
কবে?
যান, এগিয়ে যান, পিছনে আছি! (গোলমাল হলে পালাতে পারি মত)।
মন্তব্য করুন