একমাত্র
একটা সিরিজ লেখার পরিকল্পনা মাথার মধ্যে চলছিলো। কিন্তু পেইনফুল একটা কাজ করি বিধায় সবসময় চিন্তাগুলোকে পোষার সুযোগ পেলে না। তারপরেও আমার পরিকল্পনাটা নিয়ে আমি আশাবাদী। আমরা সবাই সামনে কি করবো, সেটা নিয়ে ভেবে সময় কাটাই। আসলে যেটা করা দরকার সেটা হচ্ছে অতীতে কি করতাম, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। কিন্তু পেছনে তো ফিরে যাওয়া সম্ভব না। সেক্ষেত্রে নিজের বাস্তবতার দিকে চোখ ফেরান।
জীবনে কয়টা অবস্থার প্রকৃত পরিবর্তন ঘটেছে? সে সংখ্যাকে আপনার বয়স দিয়ে ভাগ করলে কত দাঁড়ায়? এটা একটা প্রেডিকশন। ঠিক কত বছর পর পর গড়ে আপনার অবস্থা চেঞ্জ হচ্ছে সেটা বোঝা যায়। সর্বশেষ পরিবর্তনটা যত বছর আগে হয়েছে তত বিয়োগ করুন। যেটা বাকী থাকলো ততদিন আপনি আজ যেমন আছেন, তেমনি থাকবেন বলে ধরে নিতে পারেন।
এর মানে হচ্ছে নেক্সট্ পরিবর্তনটির জন্য আপনি একটা প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কারণ আপনি জানেন আগামীকালই সবকিছু পরিবর্তিত চেহারা পেয়ে যাচ্ছে না। এটা কি একটা সুসংবাদ নয়? অতীতের ভুলগুলো শুধরে এবারে একটা পছন্দসই অতীত তৈরি করতে পারেন কিনা ভেবে দেখবেন একটু?
যেমন আপনার যদি সুযোগ থাকে, তাহলে আপনি কেমন মন্ত্রীসভা চাইতেন? আমি যেমন একমন্ত্রী বিশিষ্ট সভা চাইতাম। এই মন্ত্রী কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হতো না। এই মন্ত্রী হতো কোনো একটা ফেসবুক পেজ বা এরকম অন্য কোনকিছু। সেখানে প্রতিটি মূল্যবান জনগণ তাদের মতামতটা দিয়ে রাখতে পারতো। সেটার এলাকা ও ক্যটেগরীভিত্তিক একটা ছক থাকতো। কোনো বিষয়ে মত দিতে চাইলে একজন মানুষ তার সেই নির্দিষ্ট ঘরটি খুঁজে তাতে লিখে দিয়ে আসতে পারতো। মতটা নিয়ে একধাপ বাড়িয়ে প্রযুক্তি খাটানো যায়। একটা সুনির্দিষ্ট গণমান উত্তীর্ণ না হলে কোনো মত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে- এরকম নিয়ম করা যায়। এতেই যথেষ্ট ফিল্টারিং সম্ভব। এরেচে বেশি মাত্রার ফিল্টারিং যেগুলো দাবি করে সেগুলো নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা তর্ক-বিতর্ক হবে। সবশেষে একটা সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আওতায় বিষয়টি আসবে। যেমন- সুনামগঞ্জের বাসুদেবস্মরণ গ্রামটি নাম পাল্টানোর দরকার পড়েছে। এ বিষয়ে আপনি যদি মতামত দিতে চান, তাহলে আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে- এলাকা ধরে ধরে ভূমির সমানুপাতে সুনামগঞ্জের ঘরে গিয়ে ক্যটেগরী ধরে ধরে আনুভূমিকভাবে নিচে নামতে হবে। যেখানে 'নাম পাল্টানো বিষয়ক মত দিন'- এমন কোনো ক্যটেগরীর থাকবে, সেখানে আপনি মত দিয়ে দিলেন। আপনার প্রস্তাব বাউধরন। কারণ, নামটার মধ্যে হিন্দুয়ানী গন্ধ নেই। এই কারণের কারণে কিন্তু আপনার মত বাতিল হয়ে যাবে। কারণ এটা অসাম্প্রদায়িকতা বিরোধী চেতনা শর্তে নির্ধারিত গণমান পার করতে পারে নি। তখন এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলতে পারে। এবং এই যে একটা পর্যায় পেরিয়ে এসে তর্ক লাগা, এখন এটা আমাদের দেশে নেই বলে অনেক অযাচিত সমস্যা এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। শুধুমাত্র প্রাথমিক ফিল্টারটি নেই বলে এসব সমস্যার হাত থেকে আমরা রেহাই পাই না। এই ফিল্টারই হতে পারে আমাদের একমাত্র মন্ত্রী।





মন্তব্য করুন