ইউজার লগইন

গল্প: অ্যাম্ফিটামাইন এবং ঝাকড়া চুলের মেয়েটি

১.
ইয়াবা একটা থাই শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে পাগলা ওষুধ। হৃদয় কবে এই পাগলা ওষুধ প্রথম নিয়েছিলো, সেটা ওর স্পষ্ট মনে আছে। যদিও মুহসীন হলের অনেক রুমেই ইয়াবা নেয়া হয়। তবে হৃদয়রা জিনিসটা একটু এড়িয়েই চলতো প্রথম প্রথম।

মাজেদুলের রুমে ওরা চারজন যখন প্রথমবার ইয়াবার আসর বসায়, তখন নাসিম নামের একটা ছেলে সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলো। এটা ঠিক যে, ইয়াবা চালানোর জন্য আলাদা লোক লাগে। যে অন্যদেরকে খাওয়ায়, নিজেও খায়। প্রক্রিয়াটা একটু জটিল। ট্যাবলেটটাকে একটি চিকন অদাহ্য ফয়েল-পেপারের ওপর রেখে, নিচ থেকে খুব অল্প আঁচে আগুন দিতে হয়। এইভাবে আগুন দেয়ার সবচেয়ে ভালো অস্ত্র গ্যাস-লাইটার। অল্প আঁচে আগুন দেয়ার কারণ; বেশি আগুনে ট্যাবলেট বেশি পুড়ে, ধোঁয়া বেশি নষ্ট হয়। ফয়েলে রাখা ট্যাবলেট পোড়া শুরু হলে সিগারেটের ধোঁয়ার চেয়ে একটু পাতলা যে ধোঁয়াটা বের হয়, সেটা টেনে নেয়া লাগে চিকন যেকোনো ধরনের পাইপ দিয়ে। পাইপ বানানোর জন্য নতুন টাকা হচ্ছে সবচেয়ে কাজের জিনিস। নতুন টাকা মুড়িয়ে পাইপ বানিয়ে ধোঁয়া টানলে, পরে আবার টাকার গাএ লেগে থাকা আইস*-ও একইভাবে খাওয়া যায়। ইয়াবা ট্যাবলেটের নিচে আগুন দিয়ে ফয়েলটা ধরতে হয় একটু কাত করে। যাতে ট্যাবলেটটা পুড়ে খুব মসৃণভাবে নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। আর সে সময় বের হওয়া বিস্কুটের মতো মিষ্টি গন্ধের ধোঁয়াটুকু, পাইপ দিয়ে নিবিষ্টমনে টেনে নিতে পারলেই এক দান ইয়াবা নেয়া হয়ে যায়।

সঞ্চালনার কাজটা খুব বেশি কঠিন না। এক-আধবার দেখলে নিজের পক্ষেই করা সম্ভব। হৃদয়কে প্রথম প্রথম টান দেয়ার কায়দাটা দেখিয়ে দেয়া লাগলেও, পরে আর লাগে নি। সেদিনের সঞ্চালক, মাজেদুলের বন্ধু নাসিমের সঙ্গে আলাদা করে খাতিরও হয়ে গিয়েছিলো ওর। একসঙ্গে বসে দুইজনে দুইটা বা তিনটা ট্যাবলেট খেয়ে নিতো ওরা দুই-একদিন পরপরই। তবে এগুলো সবই অনেক পরের কথা।

মাস্টার্স পাশ করে বছর দু'এক বেকার থাকার পর, হৃদয় একদিন হুট করে ইউএনডিপি'র মিডিয়া ফেলোশীপটা পেয়ে গেলো। এই চাকুরীটা ওর পাওয়ার কথা না। চাকুরীদাতারা সাধারনত নির্বোধ ধরনের হয়। সেটা প্রমাণ করার জন্যই সম্ভবত প্রতিষ্ঠানটি হৃদয়কে নিয়ে নিয়েছিলো। তবে চাকুরীটা ওর মনোঃপুত ছিলো, কারণ একটা সুনির্দিষ্ট সময় ধরে ডেস্ক জব পালন করলেই ওর দায়িত্ব শেষ। কেবল এই কাজের জন্যই মাস শেষে ওকে বড় একটা অংকের টাকা দিতো সংস্থাটি। পাশাপাশি ওর কিছু বাড়তি সুবিধাও ছিলো। একে তো আফেয়ার নেই, তার উপর বাসায়ও টাকা নেয়ার কোনো লোক নেই। সরকারী চাকুরে বাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মা, কেউই তখনো চাকুরী ছাড়েন নি। হৃদয়ের সময়টা ছিলো চিন্তাহীন, মুক্তমন ও দেহে বিচরণের।

ওর সময়গুলো যেসব কাজ করে কাটতো, তার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিলো বন্ধুরা। সুমনদের সঙ্গে বসে সন্ধ্যার পর আয়েশ করে মৌতাত করাটা ছিলো হৃদয়ের জীবনের একটা অন্যতম প্রধান কাজ। তবে এই সার্কেলের কোনো ছেলে যে ইয়াবা'য় আসক্ত হয়ে পড়বে, সেটা চিন্তা করা কঠিন ছিলো। কারণ সুমনদের মৌতাতের আসরে ভেজা-শুকনা যাই চলুক না কেন, তাতে সিনথেটিক কোনো কাজ-কারবার ছিলো না। ওরা কেউই ইয়াবাটাকে খুব ভালোভাবে নেয় নি কখনো। কারণটা খুব দুঃখজনক হলেও সত্য; সার্কেলের আফাজ নামের একটা ছেলে, এই জিনিসে ভীষণভাবে আক্রান্ত হয়ে প্রজনন ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে বিছানায় পড়ে গিয়েছিলো। এমন উদাহরণ চোখের সামনে থাকলে কারো পক্ষেই আবার এ ভুল আওড়ানোর সাহস হওয়ার কথা না। তবে হৃদয় ছিলো দুঃসাহসী ছেলে।

আফাজের ঘটনাটা এখানে খানিকটা প্রাসঙ্গিক। প্রথমদিকে ইয়াবা নিয়ে কাজগুলো করতে ভালোই লাগতো ছেলেটার। মানে, নারীসঙ্গ উপভোগ সংক্রান্ত কাজগুলো আর কি। সে শহরের বিভিন্ন রকম নারী আখড়ায় যাতায়াতও করতো নিয়ম করে। সোনার গাঁ, শেরাটন, ফু-ওয়াং-এর ডিজে পার্টি কিংবা বুমার্স-এর সীসার আখড়াগুলোয় তার ছিলো নিয়মিত যাতায়াত। এ ধরনের জায়গা থেকে মেয়ে সংগ্রহের তথাকথিত 'ডিসেন্ট এ্যপ্রোচ'গুলোও ছিলো নখদর্পণে। এটা সম্ভবত ছেলেটার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যই ছিলো একটা। তাই গভীর রাত গভীর হয়েই ধরা দিতো ওর কাছে, নিয়ম করে।

কিন্তু এক বছরের মাথায় একদিন সে বুঝে ফেললো যে, যা ঘটার ঘটে গেছে। সবচেয়ে বড় ব্যপার, ইয়াবা'র সঙ্গে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটার একটা জোরালো সংযোগ থাকে। সাধারণত এ রকম সময়ে হতাশা থেকেই অনেক ছেলে পাগল হয়ে যায়। ড্রাগটার একটা সাইকোলজিকাল ট্রমা তৈরির ক্ষমতা আছে।

কিন্তু আফাজ সেই সময়ে আশ্চর্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলো। ঠান্ডা মাথায় একদিন বাবার কাছে প্রত্যেকটা কথা খুলে বলে দিয়ে। বাবাও সঙ্গে সঙ্গে ওকে হসপিটালাইজড্ করেন। সেদিন যদি ছেলেকে হাসপাতালে না নিয়ে দোষারোপ করা শুরু করতেন তিনি, তাহলে আজ আফাজের যে কি পরিণতি হতো সেটা কেউ জানে না।

অবশ্য আফাজ নাকি হাসপাতালে গিয়ে মাঝে মাঝেই পাগলামি করেছে। কখনো কখনো শরীরে খিচুঁনিও উঠেছিলো ওর। সুখের কথা, শেষ পর্যন্ত একটা ভঙ্গুর শরীর নিয়ে হলেও ছেলেটা বাড়ি ফিরতে পেরেছিলো। কয়েকটা সুনির্দিষ্ট সেদ্ধ খাবার এবং উচ্চ মাত্রার ওষুধ ছাড়া এখন আর কিছু খেতে পারে না সে। খেলেই শরীর ছেড়ে দেয়, বিছানা এগিয়ে আসে। আর পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ। বাসা থেকে বের হলে এখন আর রাস্তাঘাট চিনতে পারে না বলে ওকে বাসা থেকে বের হতে দেয়া হয় না। শুধু বন্ধুরা মাঝে মাঝে ওকে দেখতে যায়। ছেলেটা তখন ছাদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়। এটা ছাড়তে পারে নি ডাক্তারের শত নিষেধ সত্ত্বেও। এটাও বোধহয় পারে নি ওকে ছাড়তে। সিগারেট খাওয়ার সময় উঁচু রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে শূন্য দৃষ্টিতে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে থাকে সে।

হৃদয়ের কিন্তু সেদিন মাজেদুলের রুমে লাল দশ টাকার নোট পেঁচিয়ে-ট্যাবলেটের ধোঁয়া টেনে-ফুসফুসটাকে ভরিয়ে ফেলা থেকে শুরু। এরপরে কাজটা নাসিমের সঙ্গে গোপনে গোপনে চলতেই থাকলো। ইয়াবা খাওয়ার পর হৃদয়ের ভালো লাগতো ড্রিংক করতে। যেকোন রকম ড্রিংক। আর নাসিমকে বললেই সে পিকক থেকে নিয়ে আসতো বিয়ার বা লোকাল কেরু। শুধু টাকাটা দিয়ে দেয়া লাগতো। রঙিন পানির বোতল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী পার্কের লেকের পাশের বেঞ্চিগুলোতে একটু ঠান্ডা ঠান্ডা রাতে বসে থাকাটা, সে নাকি এক অপার্থিব ব্যপার!

নাসিম ছেলেটার অর্থনৈতিক সংকট ছাড়া আর কোনো সমস্যা ছিলো না। নেশার আসরে এই ছেলেটা কবিতা আর গান করতে পারতো দারুণ। একসময় হৃদয়ের প্রতিদিনই একবার ওর সঙ্গে গিয়ে বকশী বাজারের আলিয়া মাদ্রাসার নিচে থেকে পিল কিনে নিয়ে আসা শুরু হয়ে গেল। পিলটা আনতে গেলেই, অন্তত আধাঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা লাগতো। যেটা ওদের দু'জনেরই ভীষণ অপছন্দের ছিলো। কিন্তু আর কিছু করার ছিলো না। পিল লাগবেই। বিক্রেতা যদি ওদেরকে দুই ঘন্টাও দাঁড় করিয়ে রাখে, তাহলে দুই ঘন্টাই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ওদেরকে। বিক্রেতাকে গালিগালাজ করতে করতে হলেও। এক টান ইয়াবা নেয়া হয়ে গেলেই এই দুঃখগুলো পুরোপুরি ভুলে যেতো ওরা।

অবশ্য অল্পদিনেই হৃদয়ের মধ্যে ইয়াবাজনিত পরিবর্তনের লক্ষণ নানাভাবে প্রকাশ পাওয়া শুরু করলো। একদিন তুচ্ছ ঘটনায় বাড়িতে মাএর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করলো সে। যেটা এর আগে চিরকালের নিরীহ হৃদয়দের বাসায় আগে কখনোই ঘটে নি। ওর কলেজ পড়ুয়া ছোটবোনটি সেদিন নির্বাক দৃষ্টিতে নিজের অচেনা ভাইটির দিকে তাকিয়ে ছিলো। মা'কে যথেষ্টই কষ্ট দিয়ে থেমেছিলো সেই ঝগড়া। এরপর থেকে হৃদয়কে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি যে মানুষটি ভালবাসতেন, তিনি নিজের ভেতরে কেমন জানি গুটিয়ে গিয়েছিলেন।

এরই মাঝে হৃদয়ের একদিন আফাজের সঙ্গেও দেখা হয়ে গেল। বিস্তারিত শুনে আফাজ শুধু একটা কথাই বলেছিলো; দোস্ত প্রথম দিকে দু'একবার দেখবি ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা হবে। কিংবা বলা যায়, ছেড়ে দেয়ার দু'একটা সুযোগ পাবি। একবার যদি ছাড়তে পারিস, তাহলে চেষ্টা করিস আর না ধরতে। এই জিনিস কিন্তু বার বার সুযোগ দেয় না।

২.
বড়লোক বাড়ির লক্ষী বড় মেয়েটি বলতে যা বোঝায়, তিশা তাই। ঢাকা ইউনিভার্সিটি শেষ করে ইংল্যান্ড থেকে পিএইচডি নিয়ে এসেছে। এসে একটা নামকরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করেছে। কাটা হীরকের মতো ঝলকানি চেহারায়।

কিন্তু ওর সবচেয়ে বড় গুণটি হচ্ছে, মানুষের সঙ্গে অকপটে মিশতে পারাটা। সেটা যে কারো সঙ্গেই হোক এবং যেকোন পরিস্থিতিতেই হোক। ওর সঙ্গে কথা হয়েছে অথচ মন ভালো হয় নি, এটা সাধারণত কখনো ঘটতো না।

হৃদয় মেয়েটির হাস্যোজ্জ্বল প্রো-পিক দেখেছে অন্তর্জালের নানান ফোরামে। আরেকটি চমৎকার বিষয় হচ্ছে, দেশের জনপ্রিয়তম কয়েকটা মেইলগ্রুপ, ব্লগ, ফেসবুক; এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে মেয়েটির অল্প হলেও ইন্টারেস্টিং লেখা চোখে পড়বে না। ফিকশন ধরনের লেখালেখির বস্ ছিলো মেয়েটি। হৃদয়ের মতো সহস্রের সঙ্গে পরিচয় ছিলো তার। তবুও হৃদয় মাঝে মাঝে ভাবতো; সে যদি এ মেয়েটির আরেকটু ঘনিষ্ঠ হতে পারতো, তাহলে মন্দ হতো না।

হৃদয় টুক-টাক লিখতো মেয়েটির ব্লগে। সেখানে একদিন ওদের পরিচয়ও হলো। একটা পোস্টে আলোচনার সূত্র ধরে সেদিন খুব ঝগড়া লেগে গিয়েছিলো মেয়েটির সঙ্গে। তারপরে রাগ একটু কমতেই দু'জনের শুরু হয় মাফ চাওয়াচাওয়ি। ক্ষমা চাইতে পারা এবং সেটা করতে পারা, দু'টোই যে মহৎ গুণ, তা জানতো ওরা দু'জন। এরপর আস্তে আস্তে ই-মেইল আর মোবাইলের সহযোগিতায় শুরু হলো অন্তর্জাল-বহির্ভূত যোগাযোগ। অবধারিতভাবে একদিন চলে আসলো, এমনি কোনো কারণ ছাড়াই দেখা করতে ইচ্ছে হওয়ার একটি দিন।

হৃদয়ের সেদিন ছিলো ইয়াবা নেয়ার এক্সট্রিম ডেট। আগের দুই দিন অফিসের নানা ঝামেলায় এত উইয়ার্ড সময় কেটেছে যে, সেদিন ওর হাত-পা রীতিমতো কাঁপছিলো। কেউ মাদকাসক্ত কিনা সেটা বোঝার একটা সহজ উপায় হচ্ছে, তাকে দিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে নেয়া। যদি তার হাত একটু একটুও কাঁপতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে, হয় দিনের তাপমাত্রা ভীষণ কম কিংবা সে মাদকাসক্ত।

হৃদয় ভেবেছিলো তিশার সঙ্গে দেখা হলে, বড়জোর এক কাপ চা আর দুইটা সিগারেট একসঙ্গে খাওয়া হবে। যদিও তিশা সিগারেট খায় কিনা, সেটা জানা ছিলো না হৃদয়ের। না খেলে নাই। তারপরে মেয়েটিকে 'বাসায় বা যেখানে সে যেতে চায়' নামিয়ে দিয়ে হৃদয় চলে আসবে নাসিমের কাছে। নাসিমের হাতে চারটা 'জিপি' কেনার টাকা গুঁজে দিয়ে, সে চলে গেল ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্ন্যাকস্-এর পেছনে অপেক্ষমান তিশার সঙ্গে দেখা করার জন্য। ক্যম্পাস এলাকায় তখন কমদামী ইয়াবাগুলো চলতো জিপি নামে।

সেদিন সন্ধ্যায় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে একটা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হচ্ছিলো। চারদিকে অনেক হই-চই ছিলো, ছিলো শব্দের অত্যাচারও। সবকিছুর মধ্যে ওদের নিজেদেরকে খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছিলো। কিন্তু একসময় হৃদয় মেয়েটিকে ঠিকই দেখে ফেললো। আর সঙ্গে সঙ্গেই জানা নাই, চেনা নাই; অথচ মেয়েটিকে গিয়ে পেছন থেকে একটা বু' দিয়ে ফেললো সে। মেয়েটি আঁৎকে উঠলেও নিজেকে সামলে নিলো দ্রুত। অবিশ্বাসের হাসি নিয়ে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ ছেলেটার দিকে। তারপরে সেও কথা নাই, বার্তা নাই, ছেলেটার পেটে বসিয়ে দিলো একটা বেমক্কা ঘুষি।

যদিও মেয়েদের শরীরে যে পাখিদের মতো শক্তি থাকে, তা ব্যবহার করে মারা ঘুষিতে কিছুই হয় না কোনো ছেলের; কিন্তু হৃদয় সেই ঘুষিতেই কেন যেন হঠাৎ করে বুঝে ফেললো, এই মেয়েটি সাধারণ কোনো মেয়ে নয়। দুই কাপ চা, দুইটা সিগারেটসহ খেয়ে যাকে; সে যেখানে যেতে চায়, সেখানে রেখে আসা যায়। সেইদিন সন্ধ্যার গল্প শুরু সেখান থেকেই।

মেয়েটি প্রথমে হৃদয়ের সাইকেলে উঠতে চাচ্ছিলো না। তার নাকি জামা থেকে অনেক 'ল্যাঞ্জা' বের হয়ে আছে। এই শব্দটা ছিলো তিশারই আবিস্কার। তবে সেগুলো বের হয়ে থাকাটা যে কোনো সমস্যা না, সেটা বোঝানোর চেষ্টায় ছিলো হৃদয়। তারপরও কোনোভাবেই সাইকেলে চড়বে না তিশা। বাধ্য হয়ে উভয়ে হেঁটে হেঁটে চলাচলের সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু বাধ সাধলো গিয়ে সাইকেলটাই। সে গোঁ ধরে থাকলো, এই ঝাকড়া চুলের মেয়েটিকে ছাড়া সে কখনোই এই জায়গা থেকে নড়বে না। তাই হাঁটাহাটি শেষ করে হলেও তার পিঠে একবার চড়তেই হবে।

হৃদয়ের সঙ্গে মেলমিন নামের এই সাইকেলটার ছিলো হৃদ্যতার সম্পর্ক। মেলমিনের কথায় আবার দ্বিগুণ উৎসাহে সে তিশার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো শুরু করলো। এইবার আসলে তিশার হাতে অস্ত্র বাকী ছিলো না আর। একটু কষ্ট করেই সে উঠে বসলো হৃদয়ের সাইকেলটাতে।

সেদিন এরপরে দু'জনের বকানি শেষ হতে হতে বেজে গিয়েছিলো রাত ১১টা। তিশাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে ১২টা। নাসিমকে ফোন করে 'পরদিন বসা হবে' ঠিক করে রাখলো হৃদয়। এরপরে সারারাত কেটে গেলো ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারে। একটি মেয়ে আর একটা ছেলের কাছাকাছি আসার শুরুর দিকের সেই ঘটনাগুলো, ঘটে চললো ঘড়ির কাঁটা ধরে ধরে।

পরের দিনটায় অফিস টাইম শেষ হওয়ার আগেই, একসময় অস্থির লাগা শুরু হলো হৃদয়ের। আর মাথার মধ্যে ক্রমাগত ঘুরছিলো নক নক নকিং অন হেভেন'স ডোর গানটা। আসলে ওর বারবার ইচ্ছা হচ্ছিলো, তিশাকে একটা নক করতে। সে বিকালে কি করছে জানতে। কিন্তু একদিনের মাথায় এভাবে আবার দেখা করতে চাওয়াটা আসলে ঠিক হচ্ছে না- ভেবে নক না করার সিদ্ধান্ত নিলো সে।

এবং সিদ্ধান্তটি নেয়ার পর সে মেয়েটিকে একটা মেইল লিখে পাঠালো, 'সাড়ে পাঁচটায় থাকবো তোমার বাসার সামনে'। হৃদয় এমনকি মেয়েটির কোনো কাজ আছে কিনা সেটা জানার মতো ভদ্রতা দেখানোর মধ্যেও গেল না। সে বিশ্বাস করতো, পতন যখন অবশ্যম্ভাবী তখন ঝাপ দেয়াই উত্তম।

তিশা অবশ্য উত্তরে, 'আমিও লিখতে চাচ্ছিলাম তুমি তাড়াতাড়ি অফিস শেষ করো'; লিখে পাঠালো। সেদিন ওরা ঘুরে ঘুরে বেড়ালো ঢাকা শহরের প্রত্যন্ত অলি-গলিতে। একবার ওরা পুরান ঢাকার কালীচরণ সাহা রোড, মিলব্যারাক পুলিশ লাইন, কাপারিয়া নগর, সুত্রাপুর, আশ্বিনগেট, পোস্তগোলা, ইনজেকশন রোড- এলাকাগুলোয় কিছুক্ষণ; আরেকবার ওরা গ্রীনরোড, ল্যাবএইড, ধানমন্ডি ১৫, রবীন্দ্র সরোবর, ঢাকা আর্ট সেন্টার এলাকাগুলোয় ঘুরলো কিছুক্ষণ। এর মধ্যে হয়তো একবার পার্কে আর একবার শাহবাগে বসে দু'কাপ করে চা খেয়েছে দু'জন। এছাড়া আর কোনো কাজ করে নি, কিন্তু তাও বেজে গেল রাত একটা। সময়ের পাগলা ঘোড়া লাগামছাড়া দৌঁড়ায়, আর পেছন পেছন ছোটে ওরা দু'জন। তারপরের দিন অফিস ছুটি। সেই খুশিতে সারারাত গরম হয়ে থাকলো ম্যাসেঞ্জার।

পরদিন সকাল থেকে বেরোই বেরোই করেও, বাড়ি থেকে বের হতে হৃদয়ের প্রায় একটাই বেজে যায়। তিশার সঙ্গে দেখা হবে ভেবে হৃদয় অনেক উত্তেজিত হয়ে ছিলো ভেতরে ভেতরে। তবে তার চেয়েও বেশি উত্তেজনা জমতে শুরু করে জমাট কালো রং-এর জিন্স এবং হলুদ জামা পরা মেয়েটিকে বাসা থেকে বের হয়ে আসতে দেখে। এ সময় ওর হৃৎকম্পন বাড়তে শুরু করে দ্রুতত্বরণে। মেয়েটি তখন তখনই কাছাকাছি এসে একটা ঝকঝকে 'হাই' না দিয়ে দিলে হয়তো, সেদিন সেখানে কিছু একটা হয়েই যেতো হৃদয়ের।

তিশার বাসা থেকে খুব কাছে ছিলো জহুরুল ইসলাম সিটি, আফতাবনগর। ভেতরে প্রথমে কিছুদূর পিচঢালা রাস্তা। তারপরে একটা লোহার উঁচু ব্রীজ, সেটা পার হওয়ার পর দীর্ঘ যানশূন্য পিচের রাস্তা। দুইপাশে বিস্তীর্ণ অনাবাদি জমি। এ জমিগুলো থেকে হয়তো আর পাঁচ বছর পর ঊর্ধ্বমুখী কাঁটার মতো বিল্ডিং-ফাউন্ডেশনের রড বের হয়ে থাকবে। দশ বছর পর হয়তো আর কোনো ফাঁকা প্লটও চোখে পড়বে না। সারি সারি বিল্ডিং উত্তরার মতো ঘিঞ্জি বানিয়ে দেবে পুরো এলাকাটিকে। কিন্তু উত্তরা একদিন আজকের আফতাবনগরের মতো অসামান্য ছিলো। যানশূন্য পথ ধরে এলাকাটার গহীন থেকে গহীনে যাওয়ার সময়, তিশা এই তথ্যটা জানায় হৃদয়কে।

আর একদম শেষ মাথায় গিয়ে ওরা দেখা পায়, শীতের প্রথম অতিথি পাখির। সেই জনশূন্য প্রান্তরটায় দুইজন দুইটা সিগারেট ধরিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। ততদিনে হৃদয় জেনে গেছে, তিশা শাদা ফিল্টারের সিগারেট খায়। এরপরে আবার শুরু হয় অকারণ ঘুরাঘুরি। ঘুরাঘরির মধ্যে নেয়া মূহুর্তের বিরতিগুলোতে মার-পিট, তর্কাতর্কি, আলাপ-আলোচনা, চা-বিড়ি ধ্বংসের যজ্ঞ চলতে থাকে নিরন্তর।

৩.
রাতে হৃদয়ের বাসায় ফিরতে ফিরতে সোয়া একটা বাজে। ফেরার পথে আফাজের কথা ভাবছিলো সে। ছেলেটার জন্য মন খারাপ লাগছিলো ওর। পথশেষে বাড়িতে ঢোকার ঠিক আগে আগে ভাইব্রেট করা শুরু করলো ফোন। পকেট থেকে যন্ত্রটা বের করে দেখে ওটার স্ক্রীনে ভাসছে নাসিমের নাম্বার। বিভিন্ন ভাবনায় ডুবে থাকা অবস্থাতেই ফোনটা রিসিভ করলো ও।

-ভাই, আপনে কেমন আছেন? কবে আসবেন? কতদিন আপনারে দেখি না। আপনের ওইদিনের পিলগুলা খেয়ে ফেলসি। আজকে আমি আপনারে খাওয়াইতে চাই। ভালো 'আর'* পাইছি। খাবেন? আপনে কই?

-ভালো আছি নাসিম। বাসায় ঢুকতেসি। অফিসে ইদানীং ভীষন চাপ। দম ফেলার ফুসরত পাই না। আমার পিল খেয়ে ফেলসো, ভালো করসো। কোনো অসুবিধা নাই। আজকেরগুলাও খেয়ে ফ্যালো। কবে যে আবার তোমার সঙ্গে দেখা হবে আল্লাই জানে।

এ কথাগুলো ছাড়াও আরো কিছু ফর্মাল কথা-বার্তা বলে ফোন রেখে দেয় হৃদয়।

---

*আইস : ইয়াবা'র বাইপ্রোডাক্ট।
*আর : উন্নত এক ধরনের ইয়াবা।

(গল্প নিখোঁজ ব্লগার কিছু বলার নাই'কে উৎসর্গিত। বন্ধু মানুষ, অথচ দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ-খবর নাই, এইটা কোনো কথা? )

পোস্টটি ২০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


গল্প কোথায়?! ডেভু/মডু সমস্যাটা ঠিক করে দেন।

মীর's picture


সমস্যা ঠিক করে দিসে রনি ভাই। তারে থ্যাংকস্ জানান Smile

নাহীদ Hossain's picture


মীর's picture


নাহীদ ভাই, সেইদিন রাত্রে আপনে যখন হোসেন থেকে hossain হয়ে গেলেন, তখন আমি বসে বসে দেখতেছিলাম। ঘটনাটা কি ঘটছিলো? বলেন তো শুনি।

রায়েহাত শুভ's picture


মিস্টি প্রেমের একটা গল্প...

অ্যাম্ফিটামাইন... অ্যাম্ফিটামাইন... কে জানি এই নামটা কইতেছিলো সেইদিন??? স্মৃতি বড় প্রতারক...

মীর's picture


আসলেই মিস্টি নাকি? আমি তো বুঝতেসিনা।

স্মৃতি'রে চিনেন? ও আসলেই প্রতারক। আমার সঙ্গেও প্রায়ই এই কাম করে, যেটা আজকে আপনের সঙ্গে করতেসে। তবে এমনিতে মুনয় মেয়ে ভালো Wink

রায়েহাত শুভ's picture


আফসুস... এই জীবনে স্মৃতি নামের কারো সাথে পরিচয় হয় নাই Sad

মীর's picture


ও আমি ভাবলাম, যার কাছ থিকা প্রতারণা পাইলেন, তারে চিনেন অন্তত।
নো ম্যাটার। চিয়ারাপ ম্যান। হ্যাপী নিউ ইয়ার Smile

রায়েহাত শুভ's picture


হেপ্পি নিউ ইয়ার মীর...

১০

টুটুল's picture


আপ্নে স্মৃতীরে চিনেন না? কি কন?

জুরাইনে মা এবং তার দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছিলো... মনে আছে ঘটনাটা? সেখানে স্মৃতী ছিলো...

১১

মীর's picture


টুটুল ভাই, বলেন তো সেই ঘটনায় কে প্রতারক ছিলো?

১২

ভাস্কর's picture


আমি কইছিলাম। ঐটা অবশ্য মেটা অ্যাম্ফিটামিন বিষয়ে। ব্রেকিং ব্যাড সিরিয়ালে বানায় কেমিস্ট্রির প্রফেসারটা। কেমিস্ট্রি'র একটা ডিসিপ্লিন ক্রিস্টালাইজেশন বিষয়ে লোকটা স্পেশালিস্ট। অ্যাম্ফিটামিনের চাইতেও পিওর হয় মেটা অ্যাম্ফিটামিন।যেইটা এখন মার্কিন সেনাবাহিনীতে বেশ চলে যুদ্ধ চলার সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথম এর ব্যবহার করছিলো জাপানীজরা। ইয়াবা হইলো নানাজাতের কেমিক্যাল মিশানো একটা ভার্সন অ্যাম্ফিটামিনের। অনেকরে বলতে শুনি খারাপ জাতের হেরোইন'ও মিশানো থাকে ইয়াবা ট্যাবলেটে।

আর গল্প বিষয়ে কইতে চাই। টিপিক্যাল মীর টাইপ গল্প হইছে। পড়া শেষ করলে মনে হয় মিষ্টি একটা গল্প পড়লাম। লেখকের নাম না দেইখাই বর্ণনা আর ভাষাভঙ্গীতে মীরের গল্প হিসাবে চেনা যায়।

১৩

মীর's picture


মেটা অ্যাম্ফিটামাইনের বিষয়টা জানতাম না। সেইজন্য আপনারে থ্যাংকস্। আর এখন নাকি মিয়ানমার সীমান্তে প্রচুর কারখানা তৈরি হইসে এই জিনিসের। বিষয়টা ইন্টারেস্টিং। বাংলাদেশের একদিকের সীমান্তে আছে প্রচুর সংখ্যক ফেন্সিডিলের কারখানা, আরেকদিকে ইয়াবার! আর কি চাই?
শুনলাম দেশের ভিতরেও নাকি আজকাল এই জিনিস তৈরি হইতেসে- এইটা পাওনা হিসাবে একদম বোনাস যাহোক।
টিপিক্যাল বিষয়ক মতের সঙ্গে একমত। আরো একটু বলতে চাই, বাজে ধরনের টিপিক্যাল একটা লেখা হইসে এইটা। এইসব আসলে কোনোকিছু হচ্ছেই না। Sad

১৪

ভাস্কর's picture


ব্রেকিং ব্যাড দেখার আগে আমিও জানতাম না। উইকিতে যদিও একটা এন্ট্র্রি আছে। বাংলাদেশের চারদিকে, ভেতরে সব জায়গায় ড্রাগ উৎপাদিত হয়। আর ব্রেকিং ব্যাড দেইখা যা বুঝলাম এইরকমের ড্রাগ বানাইতে ফ্যাক্টরী লাগে না। আমার এক মামা তার বাবা'র ফার্মেসীতে বইসা ফেন্সিডিল বানাইতো ফ্যানারগান আর কোডিনাল ফসফেট না কি জানি একটা জনরার ট্যাবলেট মিশাইয়া।

আর টিপিকাল বলতে নেতিবাচক কিছু বুঝাইলে ক্ষমাপ্রার্থী। বলতে চাইছিলাম আপনের নিজের স্টাইল দাঁড়াইছে। এইটা ভালো কি খারাপ তা যাচাই করবো এখন পাঠক। টিপিকাল শব্দের জায়গায় আইডিয়াল বা স্টাইলাইজ্ড ব্যবহার করলেও বক্তব্যের অর্থে তেমন পরিবর্তন হইতো না।

১৫

মীর's picture


আরে ভাস্করদা' ক্ষমাপ্রার্থী শব্দটা অনেক কঠিন হয়ে গেলো না? আপনের কি মনে হয়, আমি আপনের কথাটা বুঝি নাই? আজব!!! Surprised
এখন একটা কথাটা ঠিক যে; এই যা কিছু করতেসি ব্লগে, তা নিয়ে আসলে আমি সন্তুষ্ট না একটুও। তবে আপনের কমেন্টের উত্তরে নিজের লেখা সম্পর্কে 'এইসব আসলে কোনোকিছু হচ্ছেই না' বলে দেয়া হলে, ভুল বোঝার একটা জায়গা আসলে থেকেই যায়। তখন আপনের কমেন্টের কারণেই কথাটা আমার মাথায় এসেছে- বিষয়টা এমন দেখায়। কিন্তু আসলে তো ব্যপারটা তা নয়। আমি নিজস্ব হতাশাটাই বুঝাতে চেয়েছি। কারণ সেটা আমি সিরিয়াসলি ফীল করি।
যাক্ কথার ভেতরে ভুল বোঝার জায়গা রেখে দেয়াটা আসলে আমারই ভুল হইসে। স্বীকার করতেসি। এখন আপনে প্লীজ ক্ষমাপ্রার্থী শব্দটা উইথড্র করেন।

১৬

আপন_আধার's picture


তারপর ............... ???

১৭

মীর's picture


তারপর আমি আশ্চর্যান্বিত! আপনে এই ধরনের পোস্টেও আসেন? কি কথা!!!
আমি তো ভাবছিলাম, যখন কেউ বিপদে পড়ে, তখনি কেবল আপনে দেখা দেন। আর সবসময় থাকেন অদৃশ্য হয়ে। Big smile

১৮

আপন_আধার's picture


আপ্নের পোস্ট মিস দেইনা'তো ....... Tongue

১৯

মীর's picture


ইয়াল্লা ভাগন্তিস
আছেন কেমন সুমন ভাই?
শান্তিতে থাকেন সারাবছর, আপাতত এইটুক শুভকামনাই রইলো Smile

২০

আপন_আধার's picture


আয় হায় .... দৌড়ান ক্যান ? আপ্নের লেখা ভাল্লাগে বাইলাই'তো পড়ি Smile
আছি ভালই
আপনার জন্যও অনন্ত শুভকামনা .............

২১

মীর's picture


ধইন্যা পাতা
ভালো থাকেন সবসময় ভাইয়া। এই জিনিসের বিকল্প নাই।

২২

জ্যোতি's picture


হ্যাপি নিউ ইয়ার, মীর। নতুন বছর আনন্দে, সুখে কাটুক।অনেক অনেক শুভকামনা।
বছরের শুরুতেই মিষ্টি একটা গল্প পড়লাম। অনেকদিন দেখি নাই আপনাকে। মিস করছিলাম।

২৩

মীর's picture


হ্যাপি নিউ ইয়ার জয়িতা আপু। গল্পটা গত বছরের। এক বছর পরে পড়ার জন্য ধইন্যা পাতা

২৪

অনন্যা's picture


Confused

২৫

মীর's picture


কেন কনফ্যূজড্ আপনি? আমারে বলেন। এক্ষুণি সব ঠিক করে দিচ্ছি। Smile

২৬

লীনা দিলরুবা's picture


১)যানশূন্য পথ ধরে এলাকাটার গহীন থেকে গহীনে যাওয়ার সময়, তিশা এই তথ্যটা জানায় হৃদয়কে।

২) চাকুরীদাতারা সাধারনত নির্বোধ ধরনের হয়। সেটা প্রমাণ করার জন্যই সম্ভবত প্রতিষ্ঠানটি হৃদয়কে নিয়ে নিয়েছিলো।

৩)...এরপর আস্তে আস্তে ই-মেইল আর মোবাইলের সহযোগিতায় শুরু হলো অন্তর্জাল-বহির্ভূত যোগাযোগ।

৪) সময়ের পাগলা ঘোড়া লাগামছাড়া দৌঁড়ায়, আর পেছন পেছন ছোটে ওরা দু'জন। তারপরের দিন অফিস ছুটি। সেই খুশিতে সারারাত গরম হয়ে থাকলো ম্যাসেঞ্জার।

৫) তিশার সঙ্গে দেখা হবে ভেবে হৃদয় অনেক উত্তেজিত হয়ে ছিলো ভেতরে ভেতরে। তবে তার চেয়েও বেশি উত্তেজনা জমতে শুরু করে জমাট কালো রং-এর জিন্স এবং হলুদ জামা পরা মেয়েটিকে বাসা থেকে বের হয়ে আসতে দেখে। এ সময় ওর হৃৎকম্পন বাড়তে শুরু করে দ্রুতত্বরণে। মেয়েটি তখন তখনই কাছাকাছি এসে একটা ঝকঝকে 'হাই' না দিয়ে দিলে হয়তো, সেদিন সেখানে কিছু একটা হয়েই যেতো হৃদয়ের।

ভাষার উপর পুরো দখল থাকে আপনার, শব্দচয়নও চমৎকার।

- অন্তর্জালিক সম্পর্কের ডালপালা কীভাবে গজায় তা জানতে, মাদকের বর্তমান বস্তুগুলো কি কি এবং বোহেমিয়ান জীবনের খুঁটিনাটি জানতে গল্পটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একজন তরুণ গল্পলেখক হিসেবে মীর এইযে একটি প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, গল্পগুলো পত্রিকায়ও ছাপা হলে ভালো হতো।

২৭

মীর's picture


আপনের বক্তব্যের সঙ্গে সর্বাংশে দ্বিমত! ভাষার ওপর আমার কোনো দখল নেই বললেই চলে, শব্দচয়নও খুব বাজে, লেখক বা গল্পলেখক তো নই-ই, এগুলো পত্রিকায় ছাপা হলে বিষয়টা পত্রিকাগুলোর জন্য অত্যন্ত লজ্জার হতো। Big smile
তবে ব্লগটা আসলেই অনেক কমফোর্টেবল একটা জায়গা। এখানে এ ধরনের ছাইপাশ লিখে আরামসে বসে থাকা যায় বলে, লিখে বসে থাকি। আপনারে ও ব্লগটাকে তাই অজস্র ধইন্যা পাতা

২৮

জেবীন's picture


আপনার অনেক লেখাই ভালো লাগে, তবে অনেকদিন পর দারুন ভালো লাগলো আপ্নের কোন লেখা। Smile
নতুন বছরের শুভকামনা রইল Smile

২৯

মীর's picture


নতুন বছরের শুভকামনা রইলো আপনার প্রতিও। আমার কাছে আপনার সব লেখাই দারুণ লাগে! অবশ্য এটার কারণ হচ্ছে, আপনি প্রকৃতই একজন দারুণ লেখক। ভালো লাগাটাতো সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক একটা বিষয়।

৩০

জেবীন's picture


মনে হয়, কামালভাই কিবা অন্য কাউরে করা কমেন্ট ভুলে এইখানে দিয়ে ফেলছেন!! হয়, হয়, নতুন বছরের উত্তেজনায় ভুল হইতেই পারে! Smile

৩১

মীর's picture


জ্বি না, জেবীন আপুরে করা কমেন্ট জায়গা মতোই গেছে। আমার আবার উত্তেজনাবোধ কম। Tongue

৩২

টুটুল's picture


ঘটনা বুঝতেছিনা... সব্বাই মিষ্টি মিষ্টি কর্তাছে... কিন্তু এক্টা মিষ্টির ফটুক ও দেক্লাম্না... ঘটনা কি?

হিক!!

৩৩

মীর's picture


থার্টিফাস্টের পরের সকালে ঘুম থিকা উইঠা 'হিক'!!!
বাবাহ্ বেশ। Big smile
ভাইজান আপনে আছেন কেমন? নতুন বছর শান্তিতে কাটুক। শুভকামনা।

৩৪

উচ্ছল's picture


বাহ আগে শুধু ইয়াবার নামটাই জানতাম; এখন আরো বিস্তারিত জানলাম। Smile

৩৫

মীর's picture


কোনোকিছু জানা থাকাটা খারাপ না। Smile

৩৬

এ টি এম কাদের's picture


দুইবার পড়লাম । নেশা জাতীয় কোন ড্রাগ সম্বন্ধে আইডিয়া ছিলনা । আপনার পোষ্ট পড়ে জানলাম । ধন্যবাদ ।

৩৭

মীর's picture


দেশে থাকলে হয়তো সেগুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত আইডিয়া আপনার থাকতো। লেখাটা পড়ার জন্য ধইন্যা পাতা

৩৮

কিছু বলার নাই's picture


Mail

৩৯

মীর's picture


Party

৪০

একজন মায়াবতী's picture


ভালো লাগলো হৃদয়ের ফিরে আসা দেখতে। কিন্তু আসলেই কি নেশা পুরোপুরি ছাড়া যায়? Puzzled

৪১

মীর's picture


এইটা একটা ভালো পিক-আপ হৈসে। হৃদয়ের কথা জানি না, আমার ধারণা চাইলে বোধহয় ছাড়া যায়। Smile

৪২

একজন মায়াবতী's picture


হুম। চাইলে হয়তো যায়।
আচ্ছা যারা রেগুলার এনার্জি ড্রিংক খায় তাদের কি ধরে নেয়া যায় কোনো ধরনের নেশায় আসক্ত?

৪৩

মীর's picture


নাহ্। কে বলসে আপনারে? তবে এনার্জি ড্রিংক অনেকে নেশা-টেশা করে খায়। 'ঢাকা ২০ টাকা' একটা অ্যাড ছিলো। স্পীডের মনে হয়। ঐটা সম্পর্কে ধারণা করা হয়, অ্যাডটা ফেন্সিডিল আসক্তদের টার্গেট পিপল হিসেবে ধরে নিয়ে বানানো হইসিলো।

৪৪

একজন মায়াবতী's picture


তবে এনার্জি ড্রিংক অনেকে নেশা-টেশা করে খায়।

সেইটাই জানতে চাইসিলাম নেশা করে কি না তা বুঝার উপায় কি?

৪৫

একজন মায়াবতী's picture


তবে এনার্জি ড্রিংক অনেকে নেশা-টেশা করে খায়।

সেইটাই জানতে চাইসিলাম নেশা করে কি না তা বুঝার উপায় কি?

৪৬

মীর's picture


আমি বলতে চাইসিলাম, অনেকে মাদক গ্রহণ করে তারপর এনার্জি ড্রিংক পান করে। তবে কেউ কি মাদক নিয়েই এনার্জি ড্রিংক নিচ্ছে, নাকি এমনি এমনি নিচ্ছে- সেইটা বুঝার কোনো উপায় আছে কিনা আমি জানি না।
আরেকটা বিষয়, কিছু কিছু এনার্জি ড্রিংক ম্যানুফেকচারের সময় আজকাল নারকোটিক এলিমেন্ট মেশানো হয় বলেও শুনসি।

৪৭

রুম্পা's picture


Smile
ভালো কথা, আপনে দেখি আমারে ভুলেই গেলেন বড় ভাইইইইইইইই.. Stare

৪৮

মীর's picture


ভাই?? কে ভাই? কই ভাই? হিয়ার ইজ নো ভাই ফর য়ু হানিTongue out
আপনারে ভুলসি কিডা বলসে? নতুন লেখা দ্যান না ক্যান? আজব তো!

৪৯

শওকত মাসুম's picture


পড়ছি, দেরীতে হইলেও

৫০

মীর's picture


ক.রি. দিছি। দেরীতে হইলেও। Smile
ভাইজান কেমন আছেন? সাথী-সাগরের নতুন গল্প চাইসিলাম অনেকাগে। আপনের্কাসে। জানি মনে নাই, মনে নাই...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!