একটা আশার কথা
মেজাজটা বেজায় খিঁচড়ে আছে। এমন কুলক্ষুণে সময়ও আসে জীবনে? পত্নীভ্রাতাতে কানায় কানায় ভরা এক দেশে বাস করি। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন খুশি তখন চাল-ডাল-অকটেন-সিগারেট সবকিছুর দাম যত খুশি তত ঘোষণা দিয়ে বাড়িয়ে দেন। জনগণের জন্মনালি টেনে ধরে খিঁচ খেয়ে বসে থাকার মধ্যে তিনি যে কি আনন্দ পান, আল্লামালুম! একটা বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দুই বছর বাকি থাকতেই চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়, এরা পরের ইলেকশনে কোনোমতেই জিতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তবে এটা বলে দিতে পেরেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বিধি যথারীতি বামেই থাকছে। কারণ কোনো বিকল্প নেই আমাদের কাছে।
আমরা সবাই জানি অভাগা যেদিকে চায়, সেদিকে কি শুকিয়ে যায়। আমরা ১৬ কোটি অভাগা এক হয়েছি। বিশ্বব্রহ্মান্ডটাই যে এখনো শুকিয়ে ওঠে নি, এ নেহাত মহামায়ার খেয়াল। আর কিছু না। যাক্ কপাল দোষেই হোক আর অন্যকোনো কারণেই হোক, সরকারের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে ইতিউতি তাকাচ্ছিলাম। আর তাইতেই আরেক মহিলার নাক ফুলে উঠলো। ও ম্যাডাম, পারবেন না বুঝায় বলেন। তাকাবো না আপনার দিকে। তাই বলে উল্টা ঘুরে বাতাসে গন্ধ ছড়িয়ে দেন কেন? জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে রাজাকারদের বিচারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উনি। রাজাকারদেরকে নাকি আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। কখন তিনি অভিযোগটা করেছিলেন? যখন রাজাকার হিসেবে দূর্দান্ত আর মানুষ হিসেবে জঘন্য সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে (৩-১০-১১) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবূন্যাল।
বান কি মুনের কাছে অভিযোগ তো অনেকভাবেই করা যেতো। একটা দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী একটা বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে অভিযোগ করবেন, সেটা চাইলে পারা যাবে না- এমন কথা আমি বিশ্বাসে আগ্রহী না। অন্তত আজকের এই ই-মেইল, ফেইসবুকের যুগে। বলছি না, ওগুলো দিয়ে কাজ সারতে হবে। শুধু বলছি যদি তিনি অন্যকোনো উপায়ে উদ্যোগটি নিতেন, তো অন্তর্জালে তার অনুসারীরা ওগুলো কাজে লাগিয়ে অভিযোগটা জায়গামতো যাচ্ছে কিনা সেটা অন্তত মনিটর করতে পারতেন। ঘরে আসা মেহমানকে ঘরের ভাঙাচোরা দেখিয়ে নাঁকিকান্না করা এবং সেটাও যখন অত্যন্ত উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রমাণ হয়; তখন ব্যপারটাকে ভরা-মজলিসে শব্দ করে গন্ধ ছড়ানোর সঙ্গে তুলনা করা যায়। বিশেষ করে আমরা যখন রাজাকারদের বিচারের বিরুদ্ধে একটা কথাও শুনতে রাজি না তখন। রাজাকারদের আবার আত্মপক্ষ সমর্থন কি? নেহাত দেশে 'আইনের শাসন' বলে একটা কথা চালু আছে, তাই এসব নাটকীয়তা সহ্য করছি। নাহলে সরাসরি যদি জবাই করে রাস্তায় ফেলে রেখে দিতাম, যেমনটি ওরা করেছিলো; তো দেশের কয়টা মানুষের খারাপ লাগতো বলেন?
থাক বাবা। আমি ছোটকালের বেকুব। মা বলে দিয়েছেন, আমার বুদ্ধি-শুদ্ধি কোনোদিনই হবে না। এইবেলা মানে মানে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারলে আমি যেন ওস্তাদের কাছে লাখো শুকর গুজার করি। তবে এহেন নিরেট বেকুব আমিও আজকে মাফ চাই। সঙ্গে দোয়াও চাই। আমি বুঝে ফেলছি ম্যাডাম; আপনি আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে নিবন্ধন বাতিল করে কিংবা সংবিধানে কোনো একটা ফ্যাকড়া তৈরি করে, নিজের দলটাকেই বাদ দিয়ে দেবেন। তারপরে আপনি চেলা-চামুণ্ডাসমেত গিয়ে নাম লেখাবেন রাজাকারদের দলে।
আমি বরং এইবেলা আপনাকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে যাই। ভাগ্যিস বাতাস গন্ধ করেছিলেন, নাহলে হয়তো ভুল করে আপনার দিকে তাকিয়েই বসতাম। তবে একটা কথা আপনার জ্ঞাতার্থে বলতে পারি; দুর্মুখেরা আপনার নামে রাজাকারপ্রীতির অভিযোগ যখন তোলে, তখন আপনার কিছু ভদ্রলোক সমর্থকদের চেহারার দিকে তাকিয়ে একটু একটু খারাপ লাগে বটে। কিন্তু আপনার রাজাকারপ্রীতি আসলেই প্রশংসার দাবিদার। চালাতে থাকেন। চালাতে চালাতে একসময় নিজেই রাজাকার হয়ে ওঠেন। শুভকামনা।
আচ্ছা আর কে বাকি থাকলো তবে? কাজী নজরুল ইসলাম? কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যৎ? কাজীসাহেবও তো পরলোকে বাসা বেঁধেছেন আজ অনেকগুলো বছর হচ্ছে। এরকম ধমক-ধামক দেয়ার লোকও তো দেখি না আশপাশে। অবশ্য বাঙালি ইদানীং যে পিছলা হয়েছে, কাজীসাহেব থাকলেই বা কি করতেন? হয়তো চিন্তা-ভাবনা করে কিছু একটা বললেন, আর ডেপোঁ ছেলে-ছোকড়াদের দল বেয়াদপি শুরু করে দিলো। ভাগ্যটা ভালো। ভদ্রলোক আগে আগে পাট চুকিয়ে নিয়েছেন। আবার ভাগ্যটা খারাপও। আমাদের এত খারাপ একটা সময়ে কেন জন্ম হলো? আশ্চর্য!
আমি চিরকালের আশাবাদী। হতাশা আস্তে আস্তে আমাকে ঘিরে ধরছে, এটা একটা আশার কথা। আশাবাদের গ্যাড়াকল থেকে বেরোনোর এই এক সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে, আশা নামক ঝামেলাটা যদি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারি, তাহলে ধান্দাবাজ-টাউট-বাটপার-চুতিয়ায় ভরা এই দেশে হয়তো আমিও একদিন ভালো থাকবো। দেখা যাক।
---





মীর, বুকিং দিলাম। এখন পড়ুম।
হা হা হা...
ফার্স্ট হইছি!!!
আপনের প্রাইজ হচ্ছে এককেজি ফ্রেশ
মাইনষে আমারে ধইন্যা দিয়া কয়, রেসিপি দিস না। দেখেন মীর, ধইন্যাপাতার ভর্তা কত সোয়াদিস্ট খাবার, রেসিপি না দিলে হয়?
ধুর, এমন শীত-শীত ওয়েদারে ভাপাপিঠা স্বাদেভরা লেখা দেবেন তা না মনটা খারাপ করে দিলেন। তবু আশা করি, আশায় থাকি, একদিন আমরা ভালো থাকবো।
মহীনের ঘোড়াগুলির গান আছে,
আশায় আশায় বসে থাকি
ওরে আমার মন
কখন তোমার আসবে টেলিফোন...
ভালো থাকেন রশীদা আপু। শুভেচ্ছা রইলো।
ধন্যবাদ মীর। আমার খুব মন খারাপ হয় যখন দেখি নেতারা বিদেশে গিয়ে কিংবা দেশে বাইরের কেউ এলে দেশের বদনাম করে। মনটা খুব খারাপ হয়।
এটাতো পরম্পরা বা ছিলছিলা । '৯১ থেকে আপা আর ম্যাডাম অল্টারনেটিভলি চালিয়ে আসছেন । কেউ বিদেশী অথিতি এলে হরতাল দেন কেউ করেন অভিযোগ বা দেশের বদনাম । কোনটা অধিক খারাপ, কোন নিত্তি দিয়ে মাপা যায় ?
আমার একেক সময় মনে হয় আমাদের অনেক নেতার উদর চিরকালের অপরিষ্কার আন্তর্জাতিক ডাস্টবিন । ডালা ( মুখ) খুল্লেই দুর্গন্ধে গোটা পৃথিবীর পরিবেশ দূষণে ভরে যায় ।
আশা রেখো মনে দূর্দিনে কভু নিরাশ হয়োনা ভাই, কোনো যাহা ফুরাবেনা হায় তেমন রাত্রি নাই!
মন্তব্য করুন