সেই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশি
আমার আগের পোস্টের সবগুলো কমেন্টের উত্তরই আমি দেবো। তবে সেজন্য আমার একটু সময় লাগবে। কারণ কমেন্টগুলোর প্রত্যেকটি আমার হৃদয়কে আলাদা আলাদা ভাবে স্পর্শ করেছে। তাই ওগুলোর প্রতি পূর্ণ সুবিচার করাটা আমার নিজের জন্যই জরুরি ভীষণ!
আসলে 'লেখালেখি'-কে আমি যেভাবে দেখি সেটা আমার ধারণা, এই ২০১২'র প্রেক্ষাপটে বেশ খানিকটা বেমানান। আমি মনে করি, বাংলা সাহিত্যের ভেতরেই কথাবার্তা সীমিত রাখি, রবীঠাকুর বা মানিক বন্দোপাধ্যায়; মানিকটা বেশি হেল্পফুল হবে মনে হয় এখানে- যা কিছু লিখে গেছেন; সেগুলোই কেবল প্রকৃত 'লেখা'। অবশ্য এ দু'জনই শুধু নয়। তাদের মতো আরো অনেকের নাম লিখে বড় করা যায় এই তালিকা। যেমন জীবনানন্দ দাশের কথাই ধরা যাক। এই কয়েকটি লাইন একটু দেখুন-
চোখদুটো ঘুমে ভরে
ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে!
ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন- স্বপন কদিন রয়!
এসেছে গোধূলি গোলাপীবরণ-এ তবু গোধূলি নয়!
সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়,
আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের পরে!
কি অসাধারণ! কি ভীষণ অসাধারণ!!
এরকম কি কোনো লেখা আজ, কাল, পরশু, কখনো আমরা লিখেছি? কিংবা মানিকের 'অতসী মামী'র মতো কোনো গল্প? পুতুলনাচের ইতিকথা'র মতো কোনো উপন্যাস? আজাদ স্যারের আব্বুকে মনে পড়ে বা সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে বা পাক সার জমিন সাদ বাদ বা ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ, সৈয়দ মুজতবা আলী'র চাচা কাহিনী, দেশে-বিদেশে'র যেকোন একটা কিছু? কত ভুড়ি ভুড়ি উদাহরণ আমাদের চারপাশে!
জানি, কখনো এসবের কোনোটির মানের কোনোকিছু আমি লিখি নি। কখনো লিখতে পারবোও না। আমার কাছে লেখালেখি বিষয়টি আসলে ওই উপরের নামগুলোর মতো। আর নিজে যা কিছু লিখি-টিখি বা লেখার অপচেষ্টা চালাই, তা নিতান্তই তুচ্ছ, রদ্দি।
তানবীরাপ্পু একবার আমাকে বলেছিলো, "আমরা আসলে এখানে পুতুল খেলা খেলি। খেলতে খেলতে একদিন শিখে যাবো এই আশায়।" আমার কাছে অবশ্য, একদিন সত্যি সত্যিই শিখে ফেলবো- এমনটাও মনে হয় না। কারণ, সম্ভবত আমি উনার মতো সাহসী নই।
এই হলো লেখালেখি সম্পর্কে আমার নিজস্ব মতামত। কিন্তু এসব ছেঁদো কথা কেন শুরু করেছি? শুরু করেছি কারণ, মানুষ হিসাবে আমি খুবই সামান্য ধরনের একটা কিছু। একেবারেই গোণায় না ধরলে সবচেয়ে বেশি আরাম পাই। তখন মনে হয়; এই যে, এখানে কেউ আমার দিকে তাকিয়ে নেই। এখানে তাহলে আমি নিশ্চই নিজের মতো করে একটু বিচরণ করতে পারি। কেউ দেখবে না, এই ফাঁকে চুপচাপ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে সরে পড়বো। এ ধরনের একটি পরিবেশ যখন কোথাও পাই, তখনই আমি সবচে' কমফোর্টেবল অবস্থাটা মনের ভেতর ফিল করি। সেই আমি যখন আপনাদের কাছ জানতে পারি, আমার লেখার প্রতি আপনাদের একটা বাড়তি প্রত্যাশা থাকে; তখন বিশ্বাস করুন, বড় সংকোচবোধ করি আমি মনে মনে।
আসলে উপরের উদাহরণটা দেখলেও কিন্তু বোঝা যায়, আমাদের সত্যিকার অর্থে কার কাছে প্রত্যাশা রাখা দরকার। যদিও জীবনানন্দ দাশ আজ অনেক বছর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার মতো যারা আছেন, তাদের কাছ থেকে ছাড়া আর কারো কাছ থেকে এমন কিছু প্রত্যাশা করাটা নিতান্তই, কি বলবো; অসচেতনতার পরিচায়ক। আমার মনে হয়, শব্দ হিসেবে অসচেতনতা'টা এখানে একদম যুৎসই হয়েছে। আই গেস্ এবি'র সব বন্ধুরা আসলে অ-নে-ক অসচেতন।
ওয়েল, এর অনেক ভালো একটা দিক আছে। সেটা না বলাটা বোধহয় ঠিক হবে না। এই অসচেতনতাটা খুব ভালোভাবে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আরো কিছুটা ভালো লেখা'র তাড়না তৈরি করে দিতে পারে সবার ভেতরে। আমার ক্ষেত্রে মূলত সেরকমই কিছু একটা ঘটেছিলো, যখন আমি এই ব্লগে প্রথম প্রথম লেখালেখির অপচেষ্টা চালাচ্ছিলাম। তখন রায়হান ভাই একদিন কথা নাই-বার্তা নাই-বিশেষ কোনো কারণও নাই, আমার এলেবেলে ধরনের একটা লেখায় হুট করে লিখে বসলেন; আপনার লেখার মান দিনকে-দিন উন্নত হচ্ছে।
এই একটা লাইন, আমি আজীবন মনে রাখবো; কারণ এটা আমাকে পরবর্তী গল্পটা অনেক বেশি মনোযোগ দিয়ে লিখতে উৎসাহী করে তুলেছিলো। এভাবে প্রতিটি লেখাতে বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহগুলোই আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আর একজন ছিলেন। তিনি লীনা আপু। তার ক্ষেত্রে উৎসাহ বাক্যগুলির চেয়ে বেশি কাজ করতো তারই লেখাগুলি। উনার একটা গল্প পড়ে আমার ভেতর থেকে ঝড়ের বেগে আরেকটি গল্প বের হয়ে এসেছে- এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।
মনে আছে, তানবীরাপ্পু'র তিতলি-সায়ানের গল্পের প্রথম পর্বের পড়ার পরও এমন একটি ব্যাপার ঘটেছিলো। বন্ধু-বান্ধবদের এই অবদানগুলো কখনো আমার পক্ষে ভোলা সম্ভব না। কখনো ভুলতে চাইও না।
একটা বিষয় বলতে পারি, আর দশটা মানুষের মতোই আমি একটি ক্ষুদ্র মহানাগরিক জীবন যাপন করি। যেখানে প্রকৃত আনন্দের উপলক্ষ খুবই দুর্লভ। তাই বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যে আনন্দগুলো আমি পাই, সেগুলো আমার কাছে সারাজীবনের অর্জনের মতো মূল্যবান।
আর একটা জরুরি কথা, ভার্চুয়াল পৃথিবীর বাইরে আমার একটা বন্ধু পরিবেষ্টিত ব্যস্ত পৃথিবী আছে। সেখানকার শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ কিন্তু বিশ্বাসই করবে না, আমি দু'কলম লিখতে পারি এবং লেখালেখির অপচেষ্টা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় আবেগ আমার ভেতর পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। জানি না এ কথাটা আবার আপনারা কেউ বিশ্বাস করবেন কিনা, কিন্তু এটা সত্য।
আর এইসব ঘটনা থেকেই কিন্তু একটা ব্যাপার একদম পরিস্কার হয়ে যায়। সেটা হলো- এবি'তে ব্লগিং করার সুযোগটা আমার কাছে রীতিমতো দূর্দান্ত একটা বিষয়! উপরের ওই কবিতার লাইনগুলোর মতোই অসাধারণ। সেজন্য এই ব্লগের প্রতিটি ব্লগারের কাছে আমি আকণ্ঠ ঋণী। কথাগুলো বলে রাখলাম, কারণ কোনো না কোনো একদিন এগুলো বলতেই হতো। নিজের কথা 'না-বলা' রেখে দেয়ার লোক আমি না। ভালো লাগা-খারাপ লাগা, সবকিছু ধুমধাম প্রকাশ করে ফেলাই আমার স্বভাব।
সেই জায়গা থেকে খারাপ লাগা, আসলে ঠিক খারাপ লাগা বলা যাবে না; কারণ খারাপ লাগা অনেক কঠিন একটা ব্যাপার। বলবো, 'চিন্তা হওয়া'র মতো একটা বিষয় বেশ ক'দিনের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমার কাছে ধরা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে- ইদানীং লীনা আপু, তানবীরাপ্পু, শাপলা আপু, রুনা আপু, রশীদা আপু, শর্মি, নাম নাই, টুটুল ভাই, রায়হান ভাই, কামাল ভাই, ভাস্করদা', নীড়দা', মাহবুব ভাই, মিশু ভাই'রা এখানে লিখছেন না একদমই।
প্রিয় মাসুম ভাইও অনেকখানি ঢুকে পড়েছেন ডুমুরের ফুল হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে। আগের মতো রম্যরচনা তো এখন আর লেখেনই না, এমনকি উনার কাছ থেকে সিনেমা পোস্টও এখন আর খুব বেশি পাই না। প্রসঙ্গত বলা দরকার, এই জেনুইন জেন্টেলম্যানটি অসামান্য গল্প লিখতে পারেন এবং আমার ধারণা গল্পই উনার সবচে' বড় শক্তির জায়গা। উনার সাথী-সাগরের গল্পগুলো যেকোন বয়সের ও রুচির পাঠককে অল্প কিছুক্ষণের জন্য হলেও ঘুরিয়ে আনতে পারে কল্পনার স্বর্গরাজ্য থেকে।
যাই হোক, আগের আলাপে ফিরে যাই; শাতিল ভাই পুনরায় তার অদৃশ্য হবার ক্লোকটি গায়ে চড়িয়েছেন। রাসেল ভাই বিয়াপুক ব্যস্ত বলে তাকে আপাতত হিসেবের বাইরে রাখলাম। জয়িতা'পু হলেন আমাদের ছোটবেলার সেই বরফ-পানি খেলার দুধভাত। উনি লিখলেও আমি খুশি, না লিখলেও খুশি। তবে উনি টাচে থাকলে যে আমার খুব ভালো লাগে, এই কথাটা ভদ্রমহিলার জানা দরকার। জেবীন আপু আসলে কখন যে কোথায় থাকেন, সেটাই আমি ঠিকঠাকমতো বুঝে উঠতে পারি না। আমার ধারণা, উনি খুব দৌড়ের মধ্যে থাকেন। তারপরেও উনি যে সবসময় আমার, আমাদের আশেপাশেই থাকেন, সেটা বেশ টের পাই। এজন্য উনাকে একটি স্পেশাল থ্যাংকিউ দেয়াই যায়।
কিন্তু যারা কোনো কারণ ছাড়াই খুব করে চাচ্ছেন দূরে দূরে থাকতে, তাদেরকে বলছি- আচ্ছা নাহয় না লিখলেন, কিন্তু ব্লগে তো অন্তত লগিন হওয়া যায়; তাই না? কমেন্টের চালাচালিতেই তো গড়ে উঠতে পারে সম্পর্কের উষ্ণ অট্টালিকা, নাকি?
নাজনীন খলিল আপা, কি যে সুন্দর কবিতা তিনি লিখতে পারেন! কিন্তু উনি লিখেন না। কিংবা লিখেন হয়তো, আমি ও আমরা সেগুলো সহজে পড়ার সুযোগ পাই না। আগেও একবার বলেছিলাম লিজা আর রুমিয়া- দু'জনেরই আছে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো কবিতা লেখার প্রতিভা। কই? দু'জনের একজনেরও দেখা নেই, অনেকদিন হয়ে যাচ্ছে। যেন ১৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে সরে গেছি সবাই। আসলে সবাইকে একদিন আইবিএ'র লনে গোল করে বসিয়ে গিটার সহকারে মহীনের ঘোড়াগুলির গানটা চিৎকার করে গেয়ে শোনানো দরকার- ভেবে দেখেছো কি? তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে, তারও দূরে, তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
দুরত্ববর্ধন প্রক্রিয়ায় প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া লোকজনের নামের তালিকা কিন্তু শেষ হয় নি। জোনাকি, লাবণী, বাউন্ডুলে, প্রিয়, মায়াবতী- সব্বাই অনেক ফাঁকিবাজ হয়ে গেছেন আগের যেকোন সময়ের চেয়ে।
অথচ প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা কি জানেন যে আমাদের প্রিয় এই ছোট্ট ব্লগটি, ভালোবাসার এই ভার্চুয়াল ঠিকানাটি দিনে দিনে বিশাল, বড় আর বিস্তৃত হচ্ছে? এখানে ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হচ্ছে সম্ভাবনা আর আশার অনেকগুলো গোলাপ-কুঁড়ি? এখন আর এবি'র প্রথম পাতা থেকে একটা লেখা সরতে আগের মতো সপ্তাহ পেরিয়ে যায় না। এখন এখানে অনিমেষ রহমান, রহমতউল্লাহ ইমন, মোহছেনা ঝর্ণা, নিভৃত স্বপ্নচারী, মৃন্ময় মিজান, চাঁদবেনে- এমন কিছু শক্তিশালী লেখক মোটামুটি নিয়মিত লেখালেখি করেন। এখন এবি'র পাতায় সবসময়ই অনেকগুলো কোয়ালিটি লেখা থাকেই থাকে। দারুণ ব্যাপার! তাই না? এর কৃতিত্ব কিন্তু প্রথম থেকে আজ এই পর্যন্ত যারা এই ব্লগের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ও ছিলেন তাদের সবার প্রাপ্য। যাই হোক, এবি'তে নবাগত সুহৃদ-সুজন'দের প্রত্যেককে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। পাশাপাশি ফাঁকিবাজদের সামনে সুন্দর দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের জন্য জানাই অসংখ্য ধন্যবাদও। আর গোলাপ বাগানের পুরোনো মালিদের এখনো বলছি; সময় কিন্তু আবার এসেছে, সোজাসুজি গিয়ে কাজে ঝাপিয়ে পড়ার। নতুন কুঁড়ির যথাযথ পরিচর্যা অভাব আমাদের এখানে কখনোই হয় নি, কখনো হবেও না বলে বিশ্বাস করি।
আজকের আলোচনা এখানেই শেষ। তবে একটা বিষয় অনেকক্ষণ ধরে আমাকে খুবই পীড়া দিচ্ছে। বিষয়টা হচ্ছে- মেসবাহ ভাইয়ের জন্মদিন পার হয়ে গেলো অথচ তাকে নিয়ে আমি কিছুই লিখতে পারলাম না।
এ ব্যাপারে অবশ্য কিছু করারও নেই। কারণ আমি কখনোই লিখে বোঝাতে পারবো না, উনাকে কি পরিমাণ পছন্দ করি। উনার সঙ্গে আমার নানা ধরনের কথা-বার্তা হয়। আমাকে কখনো চিন্তিত, বিক্ষিপ্ত বা মনোঃক্ষুণ্ন দেখলেই উনি অস্থির হয়ে পড়েন এবং কপালের চামড়ায় ভাঁজ ফেলে চিন্তিত মুখে পায়চারী দেয়া শুরু করেন। বারবার 'কি হয়েছে-কি হয়েছে' জিজ্ঞেস করে আমাকেও এক পর্যায়ে অস্থির করে তোলেন। আবার কখনো যদি ছোট দু'এক কথায় আলাপ সারি, তখন ছেলেমানুষের মতো অভিমান করেন। সেই সময় অবশ্য উনাকে সবচে' বেশি সুইট লাগে। সেই চমৎকার মানুষটির জন্মদিনে যে আমি কিছু লিখতে পারবো না- এটাই সম্ভবত স্বাভাবিক। কারণ উনাকে নিয়ে কিছু লিখতে গেলে এত বেশি আবেগ চলে আসে যে, খুব দ্রুত আমাকে হাইড্রোলিক ব্রেক চেপে ধরতে হয়।
যাক্ এই ১৬ তারিখ ছিলো ভদ্রলোকের জন্মদিন। সেই সুবাদে আসেন আমরা সবাই কিছুক্ষণ একযোগে কিচির-মিচির করি। আমাদের পূর্ব পুরুষদের কথা মনে আছে তো? তারা কিন্তু লেখালেখি দূরে থাক, ভার্বাল কমিউনিকেশনেও আমাদের মতো এত পারদর্শী ছিলো না। তাদের ছিলো কেবলই কিচির-মিচির করার অধিকার। জানি না, তাদের সময়ই কি জীবনটা সবচে' বেশি সহজ ছিলো কিনা। যদি তাই থেকে থাকে, তাহলে আমি পরের বার পৃথিবী ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেই ধরাধামে আবির্ভূত হতে চাই। দেরি করতে চাই না। এখনকার জীবনটা আসলে অনেক বেশি ধাঁধাঁময় লাগছে।
---
লেখাটি ছোট্ট ঋহান, নোরা, দোয়া, সমুদ্দুর, কাব্য, রিমঝিম, রাইয়ান, প্রিয়ন্তী, শ্রেয়া, মেঘ, ওশিন, রোদ্দুর এবং আর সব এবিবাসী'র পিচ্চিপাচ্চাদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। তোমাদের বাবা-মা'দের কীর্তিকলাপ জানার পূর্ণ অধিকার তোমাদের আছে। এই লেখাটা তাই তোমাদের সবার জন্য অবশ্যপাঠ্য। আর অন্য যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিবর্গ লেখাটি পড়লেন তাদেরকে জানাই অনেকানেক আন্তরিক ধন্যবাদ 
আর দেখতেই পাচ্ছেন, শিরোনামের জন্য হাত পেতেছি আমাদের গ্রান্ডমাস্টার অভ রাইটিং রবীঠাকুরের কাছে। তার প্রতিও রইলো অশেষ কৃতজ্ঞতা।





রবিবুড়ো বাদে বাঙ্গালী হয়ে বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব বলা চলে।
নিজের লেখা নিয়া এত ভাবা ঠিক না। আমাদের ভাল লাগতেছে, বলতেছি। আপনের কাছে যদি মনে হয় উন্নতির যায়গা আছে, লেখতে থাকেন। প্রত্যাশার চাপ টা না নিয়া উত্সাহ আর পাঠকের ভালোবাসাটা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যাস!
অনেকেই ব্লগে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে কিন্তু আমাকেও সেই দলে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
গত বছরখানেকে আমার লেখার কোয়ানটিটি বা কোয়ালিটি নিয়ে কিছু বলব না তবে কমেন্টের দিক দিয়ে মনে হয় না খুব বেশি মানুষ আমার চাইতে একটিভ ছিল বা আছে।
ভাল লাগলে ভাল বলি,
কেউ পছন্দ করুক না করুক খারাপ লাগলে তাও বলি। প্রথম পাতায় আসা কোন লেখায় কিছু বলি নি এমন উদাহারন খুব বেশি পাওয়া যাওয়ার কথা না।
মেসবাহ ভাইরে মাইনাস,
ট্রিট দেয় নাই!
আর কি!
লিখতে থাকেন,পড়তে থাকি।
ভাল থাকেন, এভরিডে!
ঠিকাসে আপনারে লিস্ট থেকে বাইর করে আনা যায় কিনা সেইটা ভাবা হবে। এইবার খুশি?
ভালো কথা, খালি আমি লিখতে থাকবো আর আপনে পড়তে থাকবেন- বিষয়টা নট দ্যাট সিম্পল। আপনেও লিখতে থাকেন, আমিও পড়তে থাকতে চাই
আমি তো লিখিই!
মনে যখন যা হাবিজাবি আসে দিয়ে দেই!
লেখেন, প্রচুর পরিমাণে লেখেন। লেখালেখি মনের স্বাস্থ্যের জন্য অতীব উপাদেয়।
কিন্তু মনের স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে যে মনোমত লেখাই আসেনা?!
আমার অবশ্য মনের স্বাস্থ্য খারাপ থাকলেই বেশি বেশি লিখতে মন চায়। তারপর আপনাদের কমেন্ট-টমেন্ট পড়ে একসময় মনের স্বাস্থ্য ভালো হয়ে যায়।
আপনের আগেকার লেখা গুলি পড়লে আপনেরে খুব বেশি বড় মনে হয় না। আপনার গল্পের চরিত্র গুলোর বেড়ে উঠার দিনগুলোর অনেক কিছুই নিজের সাথে মিলে যায়, এজন্যই হয়তো আপনেরে এত ভাল লাগে। কি জানি!
আমি আসলে একটুও বড় না। একটা শিশু মাত্র। এইটা সবাই জানে। আপনে কেন জানতেন না, বুঝলাম না।
কিন্তু অনেক হইসে, এইবার আপনে পুরান পোস্টে ঘুরাঘুরি বন্ধ করেন। এইসব আবজাব লেখা নিয়া এমনিতেই আমি বহুত শরমিন্দা পজিশনে আছি। আর লজ্জা দিয়েন্না।
অনেক রাইত হইসে, এইবার সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে শুনতে শুনতে টাইট কৈরা একটা ঘুম দ্যান
না! আপনেরে খতম দেওয়া দরকার!
আপনে তানবীরা'পুর ফার্স্ট পার্টটা কিন্তু মিস কৈরেন্না।
ইন শা আল্লাহ!
(একটা ডিসক্লেইমার আছে। সেটা আমি পরে জানাবো।
আপনের এই বদভ্যাসের একটা বিহিত করা দরকার!
"অনেক কথা যাও যে বলে, কোনো কথা না বলি..."
তবে কথা-বার্তা যত কম বলা যায় ততই ভালো, সম্ভবত। আওয়ামী লীগরে পচাইতে পচাইতে পুরা অস্থির বানায়ে তুলসে দলের বাচাল মন্ত্রীগুলা।
আর আপনের প্রোফাইল ফটুকটা ফাশ্টক্লাশ হইসে। সুতরাং এইবার এটা পাল্টায় ফেলেন
এবি নিয়ে চমৎকার রিভিউ লিখলেন!
আমি নতুন হিসেবে অনেক তথ্য জানলাম।
ধন্যবাদ ভাইজান। ভাল্লাগলো
এই ব্লগে আসার পর অনেকের লেখাই পড়ছি এবং প্রত্যেকেই ভাল লেখেন, তবে প্রথম থেকেই আমি আপনার লেখার একজন ভক্ত বলতে পারেন। লেখা দিয়ে পাঠককে ধরে রাখার এক অসাধারণ ক্ষমতা আছে আপনার। এতকিছু না ভেবে লিখে যান, আমরা এরকম আরও ভাল ভাল লেখা চাই!
একটা বিষয় জানা ছিল না। 'শুভ জন্মদিন' মেসবাহ ভাই, আনন্দময় হোক আপনার প্রতিটি দিন !!
আপনিও দারুণ লিখেন এবং আমি আপনার প্রতিটি লেখাই পড়ি নিভৃতদা। সদয় মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
আমি এই জিনিষটা সব সময় চাই... আমি কারো গোনায় থাকতে চাই না
...
মীর ...
... কিন্তু তাতে কি? মাঝে ২/৩ দিন কোন পোস্ট দেন নাই... সব্বাই ঠিকি আমারে জিগায়...
"ওই মীর কৈ?"
আপনে হয়তো জানেন না যে আপনাকে আমরা কত ভাল পাই...
হয়তো আপনাকে বলা হয় না... কিন্তু ভালোবাসাটা ঠিকি আছে .. অকৃত্তিম... আমি এখন ব্লগের হর্তাকর্তা না
আরে টুটুল ভাই বুঝেন না, গ্রেট মেন থিংক এলাইক
যাই হোক্ হর্তাকর্তা হিসাবে রনি ভাই কিন্তু দারুণ করতেসে। কি বলেন? তবে আমার মনে হয়, আপনার এখনও এই কাজে তাকে নিয়ম করে সময় দেয়া উচিত। আর আপনেরা দুইজন এবং সঙ্গে আরেকজন সিনিয়র ব্লগারকে যোগ করে একটা 'মডারেটরস্ প্যানেল' তৈরি করা গেলে মনে হয় সবচে' দূর্দান্ত হবে।
তখন অনেক রকম পরিকল্পনা হাতে নেয়ার এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করার ব্যপারে আমরা সবাই উৎসাহী হয়ে ওঠার একটা চেষ্টা চালাতে পারতাম।
হইয়ো!
আপনারা সাথে আছেন... ইটস এনাফ... এবি হয়তো লাফ দিয়ে গাছে উঠবেনা... তেমন প্লানও নাই... তবে গাছে ঠিকি উঠবে
আমি সবসময় আশাবাদী
...... আসলেই.............
... হা হা হা ... শেষ পর্যন্ত পিচ্চিপাচ্চাদের কাছে নিবেদন
ভালো থাকবেন ভাই। আমাদের শুভ কামনা সব সময় আপনার জন্য।
আমি ঠিক করসি একদিন এবি ব্লগের মালিকানা কাইড়া নিমু, ক্যাম্নে সেইটা জানি না, তারপর যারা যারা ভালো ব্লগ লিখবে তাদেরকে প্রতি লেখার জন্য কাড়ি কাড়ি টেকাটুকা জরিমানা করমু আর সারাদিন ঘুমামু- চাক্রিবাক্রি বাদ্দিয়া এই চান্দাবাজিতে ভালো লেখকদের জীবন অতিষ্ঠ কইরা কইরা সিঙ্গারা কিন্না খামু। সুতরাং হেরপর থেকে আপনি এবিতে লিখবেন কি লিখবেন না সেই বিবেচনা আফনের, কিন্তুক আমি এখন ঘুমাইতে যাই।
এই টাইমে ঘুম?!
ঘুমের টেইম-বেটেইম আছে নাহি?
ভাইজান...
আমারেও এক্টা সিঙ্গারা দিয়েন...
আফনের কাছ থেকে চান্দা নিমু। সিঙ্গারা দিমু ক্যা?
আমিতো লেখতে পারি না
নিজের কিছু কথা, সব্বার প্রতি ভালোবাসা, জন্মদিনের উইশ সবকিছু মিলিয়ে তাল দিয়ে দিয়ে লিখেও ঠিকই তালগোল না পাকিয়েই কি সুন্দর করে একটা লেখা দাড়ঁ করে ফেলেন!
ছূট্টকালে রচনা লেখায় কতো পাইতেন? পড়তে অবশ্যই সুখপাঠ্য হতো বোধকরি
উনি ব্যাটাছেলে না হইলে উনারে লাভিউ কইতাম।
কন্না লাভিউ...

উই ডোন্ট মাইন্ড
ওই! আপনে এত ভালো লিখেন কেন? আরো লিখেন। আমরা যখন বুড়ো হব তখনও যেন আপনার লেখা পাই এই ব্লগে, নতুন নতুন বইয়ে। যদিও আমি কখনো বুড়ি হব না।
আমি দুধভাত হলেও আপনার খোজ ঠিকই করি।
এবিতে সবাইকে মিস করি। সবাই আগের মত থাকুক এবিতে। খুব চাই। খুব।
হারিয়ে যাইয়েন না মীর। অাপনাকে আমরা ভেরি মাচ লাভ ইউ।
মন্তব্য করুন