ভালোবাসা প্রজাপতি হয়ে পৌঁছায় মেঘদের কাছে
সকালে যখন পড়ে পড়ে ঘুমুচ্ছিলাম তখনই মনে হচ্ছিলো, কাজটা ঠিক হচ্ছে না।
বেলা একটা বাজলো। মোবাইলের আলার্মটা বাজতে শুরু করে দিলো। আমি হাতড়ে হাতড়ে বালিশের নিচে সেটার উপস্থিতি আবিস্কার করলাম এবং যন্ত্রটার একপাশের লক-আনলকের সুইচ টিপে আলার্মটা বন্ধ করে দিলাম। ওই সুইচটা রিংটোন মিউট করার কাজেও একইভাবে ব্যবহার করা যায়।
কয়েক মূহুর্ত পর একটা চোখ খুললাম এবং ঘরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ঘড়িখানার দিকে খোলা চোখটা সরু করে তাক করলাম। নিশ্চিত হলাম ঘড়ির ছোট কাঁটাটা কি আসলেই বেলা একটার ঘরে ঢুকেছে কিনা। যখন নিশ্চিত হলাম যে; হ্যাঁ একটা বেজেছে, তখন আর আলসেমী করবো না বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। নিয়ে সিরিয়াসলি খোলা চোখটা বন্ধ করে ফেললাম। কি লাভ আলসেমী করে? তারচে' ঘুমাই।
এবার কিন্তু ঘুম হলো ছাড়া ছাড়া। অনন্তকাল ধরে ঘুমুচ্ছি- এমন মনে হলেও, আসলে সময়কালটা ছিলো মাত্র মিনিট বিশেকের। তারপর আর পারা গেলো না। এভাবে ঘুমুলে দু'সপ্তাহের মধ্যেই আমার ভিটেয় ঘুঘু চড়বে। শহুরে লোকজনের অবশ্য ভিটে থাকে না। আমি যে ভিটে'র কথা ভাবছি, সেটা আমার পার্সনাল লাইফ ছাড়া আর কিছু নয়। সেটাতেই ঘুঘু চড়া শুরু হতে পারে- এ আশঙ্কায় আমি গাত্রোত্থানের চেষ্টা শুরু করে দিলাম।
প্রথমে দুই বাহুর ওপর ভর দিয়ে পিঠটাকে বিছানা থেকে আলগা করে ফেললাম। তবে মাথাটাকে কোনোমতেই বালিশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিলো একটা বিশ মনি লোহার গোলক শেকল দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে আমার পা'য়ের সঙ্গে। আমি পা দিয়ে সেটা টানতে টানতে একটা নোঙর উঠিয়ে ফেলা জাহাজের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি। সিঁড়িটাও খুবই খতরনাক। পাকানো দড়ির সিঁড়ি। পুরোনো দিনের পাইরেট শিপে এ ধরনের সিঁড়ি থাকতো। জাহাজের কাপ্তান ঘন ঘন ভেঁপু বাজাচ্ছেন। সেটা যে আমার উদ্দেশ্যেই, তা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিলো না। আমি নিজের’সহ পূর্বতন ১৪-১৫ পুরুষের কপালকে শাপ-শাপান্ত করতে করতে দড়ির সিঁড়ি বেয়ে জাহাজে ওঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছিলাম।
হঠাৎ সিঁড়ির কিনার থেকে ঝুপ করে সমুদ্রের মধ্যে পড়ে গেলাম। সঙ্গে সঙ্গে চোখে-মুখে-নাকে আর কানের ফুটোয় এসে ধাক্কা দিলো নোনা পানি। পানির উপরিভাগেই যদি এত মারাত্মক চাপ থাকে তাহলে নিচের দিকটায় কি অবস্থা হবে, সেটা ভেবে আতংক হচ্ছিলো। তাড়াতাড়ি খাবি খেয়ে উপরের দিকে ওঠার জন্য হাত-পা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দেয়ার পর বুঝতে পারলাম, না পানিতে ডুবে মরছি না। টলতে টলতে কোনোমতে শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে, সেটার নব ঘুরিয়ে দিয়েছি। পানির প্রথম ঝাপটা'টা একদম চোখে-মুখে গিয়ে বিধেঁছে।
সবসময়ই, শাওয়ার পর্বটা পার হওয়ার পর থেকে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটতে থাকে আমার সঙ্গে। দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ঘুম দিয়ে অকুপাই করে রাখার কারণে, বাকী অর্ধেক সময়ে আমাকে পুরো একটা দিনের কাজ তুলে দিতে হয়। ব্যপারটা সহজ নয়। বিশেষ করে যেসব দিনে ময়দানে অবতীর্ণ হতে আমার একটু বেশি দেরি হয়ে যায়, সেসব দিনে ঘড়ির কাঁটাগুলো যেন অস্থির হয়ে থাকে! আর উসাইন বোল্টের মতো দৌঁড়ুতে থাকে শুধু। কোনো থামাথামি বা ধীরগতির কায়-কারবার নেই। ওরা আসলে কোথায় যে যেতে চায়, নিজেরাই জানে না। আমি মাঝে মাঝে ওদের সঙ্গে আলাপ করার চেষ্টা করে দেখেছি।
-এই যে, এই যে কাঁটা ভাই, শুনছেন?
শুনছি শুনছি, বলেন।
-আপনারা সবসময় হন্তদন্ত হয়ে কোথায় ছোটেন বলেন তো।
কোথায় ছুটি জানি না। আর কিছু জিজ্ঞেস করবেন?
-না করবো না, কিন্তু এই প্রশ্নটার জবাব কি আপনার কখনো জানতে ইচ্ছে করে না?
না কখনো জানতে ইচ্ছে করে না। খোদা হাফেজ।
বাপরে! পুরোদস্তুর মুসলিম কাঁটা একটা। কি সুন্দর খোদা হাফেজ দিয়ে ভেগে গেলো। আমিও নিজের হাতের দিকে মনোযোগ দিই। কারণ সেখানে জমে আছে অসংখ্য কাজ। সেগুলোর দিকে ভালোমতো তাকাতেই তাকাতেই চারটা বেয়াল্লিশ বেজে গেলো। অবশ্য আমিও বসে ছিলাম না তখন।
উর্ধ্বশ্বাসে ছুটছিলাম গুলশানে নতুন খোলা বেঙ্গল লাউঞ্জটার উদ্দেশ্যে। সেখানে সাড়ে চারটায় আমার অ্যাসাইনমেন্ট। অলরেডী ১২ মিনিট পার হয়ে গেছে। কিন্তু অর্ধেক রাস্তাও পুরোপুরি শেষ হয় নি। মাথার ভেতরে এ কারণে চলছে স্লাইড একটা টেনশন। আর চলছে আগের দিন রাতে মস্তিষ্কের খুব গভীর কোনো নিউরণপাড়ায় ঢুকে যাওয়া কয়েকটা সুগভীর কালো লাইন,
And I don't want the world to see me
'Cause I don't think that they'd understand
When everything's made to be broken
I just want you to know who I am
আহা, যখন সবকিছু গড়ে ওঠে ভেঙ্গে পড়ার জন্য- কথাটি আমাকে প্রিয় হুমায়ুন আজাদ স্যারের কথা মনে করিয়ে দেয়। উনার 'সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে' উপন্যাসের নায়ক মাহবুব যখন বলে-
'আমি অন্ধকারে ভেঙে পড়া দালানের পর দালানের ভেতর দিয়ে ছুটছি, কী যেনো খুঁজছি, আমার চারদিকে দালান ভেঙে পড়ছে, শহর ভেঙে পড়ছে, সবকিছু ভেঙে পড়ছে।'
- তখন যে শিরশিরে অনুভূতিটা তৈরি হয়, ঠিক সেই অনুভূতিটা তৈরি হচ্ছিলো; যখন আমি সাইকেল চালাতে চালাতে আনমনে গু গু ডলসের ওই গানটার সুর ভাজছিলাম।
আমি হয়তো মাহবুবের মতো করে নারী-পুরুষের সম্পর্কটাকে বিচার করে দেখার চেষ্টা কখনো করি নি, কিন্তু বেলাশেষে এসব কোনোকিছুই যে কোনো মাইনে রাখবে না সেটা আমি বিলক্ষণ জানি। মানুষ তার নিয়তি কর্তৃক নির্ধারিত পথের বাইরে একটি পদক্ষেপও কখনো ফেলতে পারে নি। কখনো পারবেও না। ভাঙ্গা-গড়ার যে অবিরাম খেলা সে খেলে যাচ্ছে, সেটাও পূর্বনির্ধারিত। এই যে গুলশান এভিনিউয়ের দুই পাশে সারি সারি সুসজ্জিত চকচকে দালান আজ উঠে দাঁড়িয়েছে, সেগুলো ৫০ বছর আগে ছিলো না। আবার ৫০ বছর পরেও থাকবে না। যে পুরুষের বাহু আঁকড়ে আজ তুমি সুখের দিনের স্বপ্ন বুনছো সুন্দরী, এক সময় তোমার মগজে সে পুরুষের চিন্তা প্রতিস্থাপিত হবে তোমারই জঠরে বেড়ে ওঠা আরেকটি ভ্রুণের বিবর্তিত চেহারার সঙ্গে। আর প্রিয় পুরুষ জেনে রেখো, যে নারীর কোমল হাত আজ তোমায় সুখী করে তোলে তার হাতের বদলে তুমি তুলে নেবে অন্য কোনো হাত। নিজের হাতের মুঠোয়।
সবকিছু ভেঙ্গে আবার সবকিছু যদি নতুন করে গড়ে তোলা যায়, তাহলেও মানুষ আজীবন এমন অনিশ্চিত, অপূর্ণ ও অহেতুক জীবনই যাপন করবে। আর তখনও তার ব্যস্ততার কোনো সীমা-পরিসীমা থাকবে না।
আবোল-তাবোল ভাবনাগুলোর অবশ্য একটা সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে। সেগুলো হুট করে আসে আবার হুট করে মিলিয়ে যায়। অনেকটা সাবানের বুদবুদের মতো। ভাবনাগুলো ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিলো যখন মনে মনে ইংরেজি লাইনগুলোর অনুবাদ করার চেষ্টা করছিলাম-
এবং আমি চাই না পৃথিবী আমায় এ অবস্থায় দেখুক
কারণ আমি জানি ওরা কিছুই বুঝবে না এ ঘটনার
যখন সবকিছু গড়ে ওঠে কেবলি ভেঙ্গে পড়ার জন্য,
আমি চাই শুধু তুমি জেনো- কি ছিলে আমার।
অনুবাদটা খুব বেশি ভালো হলো না। কিন্তু আমার মনটা ভালো হয়ে গেলো। কারণ, গুলশান দুই নম্বরে এসে সিগন্যালে থামতেই, ঝেপে বৃষ্টি নামলো আমার শরীরের ওপর। এক নিমিষে শরীরের প্রায় অর্ধেক ভিজে একসা। তাড়াতাড়ি ব্যাকপ্যাক থেকে বর্ষাতিটা বের করে শরীরে চাপিয়ে নিলাম।
বৃষ্টির প্রথম ধাক্কাটায় মানুষের মধ্যে যে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়, সেটা দেখে আমার সবসময় পিঁপড়ের সারির কথা মনে পড়ে। পিঁপড়ের সারির মাঝখানটা কোনোভাবে ভেঙ্গে দিলে ওরা এমন অস্থির হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। তবে সেটা অল্প কিছুক্ষণের জন্য। একটু পরেই ওরা আবার লাইনটাকে গুছিয়ে নেয়। বৃষ্টির প্রথম ধাক্কাটা সামলে ওঠার পর, মানুষের ছোটাছুটিও স্তিমিত হয়ে পড়ে। কেউ আশ্রয় নেয় দোকানের ভেতর, কেউ দোকানের বাইরে, কার্ণিশের নিচে, যানবাহনে সীটে, দরজায়, চায়ের টংএ; যে যেখানে পারে।
শুধু কয়েকটা উদল গা'য়ের হাফপ্যান্ট পড়া দেবশিশুকে দেখা যায়, রাস্তায় অনর্থক ছোটাছুটি করতে। সবসময় হয়তো করে না। কিন্তু আমি একদিন ‘আইরিস’ অনুবাদের চেষ্টা করতে করতে গুলশান দুই নম্বর মোড়ে গিয়ে পৌঁছে দেখেছি, তখন করেছিলো।
আমার চোখের সামনেই ওরা নগরীর বিভিন্ন রকমের কার্ণিশ চুইয়ে পড়া বৃষ্টির পানিতে শরীর ভিজিয়ে গোসল করছিলো। আমি ওদের খিলখিলে হাসি দেখতে দেখতেই এক সময় মোড়টা পার হয়ে গেলাম। আমার সরতে ইচ্ছা করছিলো না, কিন্তু সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনের যানগুলো এমন অস্থির চেচাঁমেচি শুরু করে দিলো যে; আর দাঁড়ানোর উপায় থাকলো না।
শিশুগুলোকে মনে মনে বিদায় দিলাম। ওদের মধ্যে চড়াই পাখির মতো সাইজের একটা ছিলো। ঠিক যে চড়াইগুলো প্রতিদিন সকালে আমার বারান্দায় এসে কিচির-মিচির আর লাফ-ঝাপ শুরু করে, সেগুলোর একটা যেন। ওটা ছিলো দলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং ওটার চোখ দু’টো ছিলো সবচে’ মায়াকাড়া! শিশুটির জন্য সাময়িক একটা খারাপলাগা বোধ ভেজা বাতাসের মতো মনের ওপর দিয়ে বয়ে গেলো।
ফুটপাথে নীল জামা পড়া একটা মেয়ে আর শাদা শার্ট পড়া একটা ছেলেকে হাত ধরাধরি করে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখলাম। ছেলেটার চোখে আবার চশমাও আছে একটা। অনেক মোটা ফ্রেমের। ওরা ভিজতে ভিজতে ফুটপাথ ধরে হাঁটছিলো। মেয়েটি তার হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে রেখেছিলো ছেলেটার হাত। সেই হাতটা টেনে ঠেকিয়ে রেখেছিলো বুকের সঙ্গে। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, একটি নীল পরী অপার ভালবাসায় জড়িয়ে রেখেছে একটি শিশ্নবাহী জীবকে। শিশ্নবাহী জীবদের আমি বিশ্বাস করি না কখনোই। তাও ওই ছেলে-মেয়েদেরকে দেখতে দেখতে নিজের বৃষ্টিতে ভেজা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। সাময়িক নস্টালজিয়ায় হারালেও পরমূহুর্তেই আবার ফিরে এলাম বর্তমানে। নস্টালজিয়া আমার জন্য নয়। আমাকে দৌঁড়ুতে হচ্ছে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি ঝরার অসামান্য দিনটিকে আমি আগেই অর্ধেক বানিয়ে রেখেছি। বাকি অর্ধেক সময় বৃষ্টিতে ভিজে অপচয় করার সুযোগ আমার নেই। এজন্যই বোধহয় সকালে যখন পড়ে পড়ে ঘুমুচ্ছিলাম, তখনই মনে হচ্ছিলো কাজটা ঠিক হচ্ছে না।
দূর থেকে একটা অপার্থিব চায়ের টং দেখতে পাচ্ছিলাম। দোকানের সামনে নীল পলিথিন দিয়ে বানানো ঝাপিটার নিচে কোনো খদ্দের ছিলো না। শুধু একটা বেঞ্চ পাতা ছিলো। দোকানটাতে চা আর সিগারেটের প্যাকেট ছাড়া আর কিছু সাজানো ছিলো না। এমনকি বয়ামে ভরা চকলেটও ছিলো না। দেরি হয়ে যাবে জানতাম। তারপরও এককাপ গরম চা হাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিটা উপভোগ করার লোভ সামলানো গেলো না।
এক কাপ ঘন লিকারের চা আর একটা জ্বলন্ত গোল্ড লীফ হাতে নিয়ে সেই ঝুম বর্ষণের দিকে ঘোরলাগা চোখে তাকাতেই, মেয়েটির সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেলো।
ওকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ওর ডাক নাম বৃষ্টি। ভালো নাম জানি না। আমি মনে মনে ওকে হাত নেড়ে ‘হাই’ দিলাম। সেও মনে মনে ‘হ্যালো’ দিলো।
কিছুক্ষণ আমরা চুপচাপ একে অপরের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকলাম। ভিজে একদম চুপচুপে হয়ে গেছে মেয়েটি। আর তাতেই যেন ওকে আরো অনেক বেশি ঝকঝকে দেখাচ্ছে।
জানতে চাইলাম, চা খাবেন? ও উপর-নিচ মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি দিলো। দু'জন দুই কাপ চা হাতে নিয়ে খানিকটা সময় তাকিয়ে থাকলাম প্রিয় শহরটার দিকে। সেটা তখন অপার্থিব এক অঝোর ধারায় মুষলধারে সিক্ত হচ্ছিলো। আমরা দু’জন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি কোনো কথা বলে নি। আমিও না।
চা শেষ করে দাম মিটিয়ে আমি ঘুরতেই বৃষ্টি আমাকে একটা ‘গুড বাই’ হাসি দিলো। আমি কোনোকিছু না করে চোখ দিয়ে ওর হাসিটা নিয়ে নিলাম। সেদিন দৌঁড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরার একটা অদম্য ইচ্ছা দমিয়ে রাখতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। মেয়েটি আমার চোখের সামনে রেণু রেণু হয়ে শুদ্ধ বাতাসে মিলিয়ে গেলো। তখন ঠান্ডা, বৃষ্টিভেজা একটা স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়েছিলো চারদিকে। ওরকম একটা পরিবেশের বর্ণনা লিখে দেয়া সম্ভব না।
তারপর আরো একবার রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে, উল্টোদিক থেকে একটা ভেজা বাতাস ছুটে এসে আমাকে শক্ত করে জাপটে ধরলো এবং দুই মুহূর্ত পরে ছেড়েও দিলো। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম ওটা বৃষ্টিই ছিলো। হয়তো আমার অদম্য ইচ্ছেটা টের পেয়ে গিয়েছিলো কোনোভাবে। প্রেমিকার এতোটা মনোযোগ সহজে জোটে না সবার।
চলার পথে দেখতে পেলাম, দিগন্তের মেঘদের গা'য়ে সন্ধ্যের সোনালী আলো ধরেছে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, ওই রং মেঘেরা পেয়েছে প্রজাপতিদের ডানা থেকে। কেবল প্রজাপতিদের ডানাতেই থাকে ওই অসাধারণ রঙের বাহার।
বৃষ্টি তখনো আমার আশপাশেই ছিলো। কানে কানে এসে জিজ্ঞেস করলো, আর মেঘেরা প্রজাপতিদের ডানার রং কোথা থেকে পায় জানো? আমি উপর-নিচ মাথা নাড়লাম।
মানুষের ভালোবাসা প্রজাপতি হয়ে পৌঁছায় মেঘদের কাছে, আমি জানি।
---
আগেই বলে রাখি, আমি ছোট মানুষ এবং হাতের লেখা খারাপ। সেজন্য বকাঝকা করা চলবে না। যাহোক, এই লেখাটা আর নিচের লেখাগুলো প্রিয় ব্লগার জয়িতা'পুর জন্য
গল্প: লি মোমেন্ত উ কিলকু শুঝ কমেন্স
ক্রী একবার তার এক বন্ধুকে এনে বসিয়েছিলো ঝাকড়া লেবু গাছটাতে
গল্প: বাক্সবহির্ভূত পুতুল
গল্প : রাইডিং
যদি তুমি যাও, আমিও তোমার সঙ্গে যাবো
গল্প: জো সুই পাঘদু'
পাখি উড়ে উড়ে উড়ে যায় কোথায়
---





দারুন উপভোগ্য ! লেখাটা পড়তে পড়তেই ভালো লাগছিলো, এই যে কই থেকে যে কই কই চলে যাচ্ছিল গল্পটা এই ব্যাপারটাই খুব এনজয় করছি।
আর অনুবাদটা ভালো লাগলো শেষ লাইনটা যেভাবে এনেছেন তার জন্যে
কাকাতালীয় একটা ঘটনা আজকেও হলো, সেটা পরে একসময় জানাবো।
লিখার সময় আমার মনে হচ্ছিলো যে আপনের এই অনুবাদটা ভালো লাগতে পারে, সিরিয়াসলি বলছি
আগে বলি আপনি এত সুন্দর লিখেন কিভাবে? কই থেকে শুরু করে কই চলে যায়! মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়তে হয়।
আমার ফোনের সিস্টেম তো একই!!
শেষ লাইনটা পড়ে মন ভরে গেলো। এতগুলো লেখা একসাথে পেলাম। যতটা খারাপ থাকা যায় ততটা খারাপ থাকার সময়ে দারুণ এক উপহার প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে । থ্যাংকস্ , মীর।
ওয়েলকাম কিন্তু আপনে খুব ভালো তো, তাই পচা উপহারটাকে দারুণ মনে হচ্ছে আপনার কাছে।
বুঝলাম তো! ছোট মানুষ তাই হাতের লেখা খারাপ !
লেখাগুলো শুধু জয়িতা'পুর জন্য ? আমরা পরতাম না ভাইজান?
শুধু এইটুকু পড়লাম!
উল্লেখ্য, বাকী যারা পড়সেন তাদের সবার জন্য প্রজাপতি। কারণ আমি যেখানে বসে আছি সেখান থেকে সবাইকেই দেখতে আকাশের মেঘের মতো লাগছে।
আর নিভৃতদা'কে একটা বিশাল থ্যাংকস্। হোলি বিগ আকৃতির।
দারুন!~
আপনের জন্য ভালোবাসা। যেটা আপনের কাছে পৌঁছুতে পৌঁছুতে একটা নীল রঙয়ের প্রজাপতি হয়ে উঠবে।
আসেন আপনার লগে হাত বদলা বদলি করি
হি হি ! আমিও করতাম চাই। তুমি বাম হাত নেও, আমি ডাইন হাত নিমুনে। ওকিজ ?
এক হাত-এক হাত করে নিয়ে লাভ নাই। আমি কোনোকাজই এক হাতে করতে পারি না। যে নিবেন দুইটা হাতই নিয়েন
এটা দুইটা আলাদা লেখা হলে আরো ভাল হত!
জ্যোতিপুর জন্য একবস্তা হিংসা!
আর আপনের জন্য এক বয়াম প্রজাপতি।
বর্ণ, হিংসা করা ভালু না। তোমার জন্য এক বস্তা ভালুবাসা।
আর মীরের জন্য এক বাটি কদবেল ভর্তা ।
কদবেল ভর্তা ভালো লাগলো। থ্যাংকুস জয়িতা'পু। কিন্তু এইটা বাটিতে করে খায় না, কদবেলের ভেতরেই ভর্তা করতে হয়, লাঠি দিয়ে খেতে হয়। লুকজন সবকিছু ভুলতেসে দিন দিন।
সুন্দর একটি লেখা, ভালো লাগলো।
তাহলে প্রজাপতি নিয়ে যান
আপনাকে দেখেও ভালো লাগলো আসমা'পু।
মীর ভাই ফাকিবাজ হইয়া গেছে।
মন্তব্য করুন