শুধু প্রতিটি নতুন দিনের অপেক্ষা...
শহরগুলোর প্রাণ আছে। চিটাগাং শহরের ইদানীং লাইব্রেরিটার কথা আজ মনে পড়ে গেলো অবন্তীর সঙ্গে কথা বলার সময়। আমিও ওর মতো লাইব্রেরীতে গিয়ে চাচা চৌধুরির একটা বই কেনার পাশাপাশি আরেকটা বই পড়ে চলে আসতাম। তখন মনে করতাম, দোকানদার বুঝতে পারছে না। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত জানি, দোকানদার খুব ভালোই বুঝতো। আমি হলেও ঠিকই বুঝে ফেলতাম। কিন্তু কাউকে এ কাজে বাধা দিতাম না। বই পড়তে বোধহয় পৃথিবীর কেউ বাধা দেয় না। প্রচলিত আউট বই টার্মটি মূলত মানুষের জীবনে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তারপর এ টার্মটিও একসময় অবান্তর হয়ে যায়।
আর বগুড়া, প্রিয় বগুড়া শহরের প্রত্যেকটা ব্রীজকে আমি মিস্ করি। রুশদী, ধ্রুব আর আমি যে কতদিন একসঙ্গে বেজোড়া ব্রীজের একটা নির্দিষ্ট স্প্যানের ওপর বসে সারা বিকেল আড্ডা মারতে মারতে কাটিয়ে দিয়েছি! আমাদের ওই স্প্যানটায় অন্য কেউ বসতো না। এলাকার সবাই এবং সেই এলাকায় যারা প্রাত্যহিক ভ্রমণে যেতো তারাও কখনো আমাদের স্প্যানে বসতো না। ওখানে শুধুই আমরা বসতাম। কিশোরবেলায়, সেই আমার নতুন গোঁফে তা দেয়ার বেলায় এবং সেই বাবা-মা'কে বুঝতে না পারার এবং বাবা-মা'এরও আমাকে বুঝতে না পারার বেলায় আমি বগুড়া শহরের অলি-গলিতে তৃষ্ণার্ত গলায় ঘুরে বেড়িয়েছি। শহরের প্রতিটি গলি চিনি, প্রতিটি বাড়িও হয়তো চিনি, প্রতিটি মাঠ, প্রতিটি পুকুর, প্রতিটি পুকুরের রূপ, ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে তাদের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, কৃষি অধিদপ্তরের সীমানা ঘেঁষা খাল, খালের গোলাপি রঙয়ের শাপলা ফুল; আমি আসলে বগুড়া শহর নিয়ে কথা বলতে গেলে অবসেসড্ হয়ে যাই।
একটা ভীষণ কিউট, বয়কাট চুল, ঝকঝকে সুন্দরী দুই বছরের বড় মেয়ে। যাকে আমি মনে মনে চিনি। কিন্তু কোনোদিন দেখি নি। কখনো তার সামনাসামনি হয়ে যাওয়া হয় নি। এখন পর্যন্ত যেটা ভেবে আমি নিজেকে একজন সুখী মানুষ মনে করি, সেটা হচ্ছে সেই মেয়েটি রাজধানী ঢাকায় বাস করে। কিন্তু আমার কাছে ঠিকানা নাই। কিন্তু আমি জানি শহরগুলোর প্রাণ আছে। আমার সঙ্গে সেই মেয়েটির এর মধ্য দিয়ে একটা সপ্রাণ যোগাযোগ আছে। আমি জানি এই ঢাকা শহরটা আমাকে একদিন খুব পছন্দের কোনো একটা জায়গায় পৌঁছে দেবে। সেই আশায় আমি এই শহরের প্রতিটি রাস্তায় ঘুরি-ফিরি এবং শহরময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আনন্দ আয়োজনে নিজেকে যতোটা বেশি সম্ভব সংযুক্ত করে রাখার জন্য অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে কাটাই।
বিবেচনাবোধটা সবসময়ই বয়সের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। চোখে অনেক সময় ক্লেদ আর পঙ্ক ধরা পড়ে। আবার পঙ্কে প্রস্ফুটিত পঙ্কজও আশপাশে কম চোখে পড়ে না। যাকে একসময় কাঁটা ভেবে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম তাকে যখন গোলাপের মতো সুরভিত হয়ে ফুটে থাকতে দেখি তখন মনটা ভালোলাগা মিশ্রিত এক ধরনের অনুভূতিতে ভরে যায়। আশাবাদ ছাড়া আর কোনো মতবাদেই আমার কখনো বিশ্বাস ছিলো না। কখনো আসবে বলে আজো মনে হয় না। শুধু প্রতিটি নতুন দিনের অপেক্ষা...





দিনের শূরুতেই স্নিগ্ধ একটা লেখা পড়লাম ।
এতদিন কোথায় ছিলেন ?
ইস্পিড না সার্চ
একটা মুভির গান মনে পড়ে গেল- এতদিন কোথায় ছিলে?!
ইয়াপ। গান্টা ভালু লাগে কিন্তু যারে জিজ্ঞেস করলাম সে কিছু বললো না
ভাল লাগলো লেখা।
বহুদিন পরে এলাম । ভিষণ মিস করেছি আপনাদের । কমপিউটার খারাপ হয়ে পড়ে আছে । লিখতে পারছিনে । আরেকজনের কমপিউটার ইউজ করে কমেনট দিচছি । আশা করি ভাল আছেন । নূতন দিনের জন্য আকুল হয়ে বসে আছি । আসবে কি সুদিন ?
ভাল্লাগসে আনেক ..!!!তার উপরে লেখায় চিটাগাং এর কথা আছে.. :)।আছেন কেমন??
লাইক,লাইক

বই পড়ার চালাকি সিস্টেমটা আমার খুবই পছন্দ।
সকালেই পড়ছিলাম কমেন্টও করছিলাম কিন্তু পিসি ডিসকানেক্ট হয়ে গেলো। ফেসবুকেও শেয়ার দিছিলাম।
লেখা অত্যন্ত ভালো। বিশেষ করে এই লাইনটা
আশাবাদ ছাড়া আর কোনো মতবাদেই আমার কখনো বিশ্বাস ছিলো না। কখনো আসবে বলে আজো মনে হয় না। শুধু প্রতিটি নতুন দিনের অপেক্ষা...
আপনের সঅব লেখাই আমার ভাল্লাগে
তবে এই লেখাটা কেন জানি মনে হইতাছে আরও বড় হওয়া উচিৎ ছিল।
লেখাটায় ঢুকতে ঢুকতেই শেষ!
এটার সিক্যুয়েল টাইপ একটা কিছু করা যায় না?
ভাইজান ইদানিং একটু ঘনঘন ডুব দিতাছেন, দেখা যায় না খুব একটা।
কাহিনী কি? ভাল আছেন তো?
মীর্বাইছাবে কি বৈদেশ গেসেনগৈ?
বাহ, কী সুন্দর করে বল্লেন। আপনি বলেই তা সম্ভব।
অবশ্যই কিছু না কিছু একটাতো আছেই। মানুষ কেন তার জন্মভূমির জন্য টান অনুভব করে? শুধু আত্নীয় স্বজনদের জন্য নয় হয়ত। চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহন জন্য বেশ কিছুর মালিকানা পেয়ে গেছি। যখনই সমুদ্রের পাড়ে যাই মনে হয় আরে সমুদ্রটা তো আমার, পাহাড়ের পাশে গেলে মনে হয় দূরের ঐ পাহাড়টা আমার...হয়ত ঐ পাহাড় সমুদ্র গুলোও ঠিক এটাই মনে করে, আরে ঐ মানুষটা তো আমাদের... আমরা পৃথিবীর।
ভালো লাগল মীর ভাই।
আশাবাদ ছাড়া আর কোনো মতবাদেই আমার কখনো বিশ্বাস ছিলো না। কখনো আসবে বলে আজো মনে হয় না। শুধু প্রতিটি নতুন দিনের অপেক্ষা...
মন্তব্য করুন