ইউজার লগইন

দু'টি বিষয় কি কোনোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব?

ব্লগে কমেন্ট কম আর লেখা বেশি দিচ্ছি বলে কেউ সেন্টু খায়েন্না প্লীজ। অনেক কিছু ঘটে আশপাশে, যেগুলার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ ছাড়তে মন চায় না কোনমতেই। তাই প্রজন্ম চত্বরে পড়ে থাকি দিনরাত। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করি। মানুষের মধ্যে বিলীন হই। আজ ক'দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে গেছে। লাখো মানুষের এক পরিবার হয়ে উঠেছে। প্রজন্ম চত্বর থেকে দূরে, হলে বা বাসায় গেলে কানের মধ্যে বাজতে থাকে স্লোগান। একটানা স্লোগানের মধ্যে থাকতে থাকতে এই অবস্থা হয়েছে বলে ধারণা করছি।

সময়গুলো এখন খুব অস্থিরভাবে কাটছে। হরতাল হচ্ছে না শহরের কোথাও সেভাবে। রাস্তায় প্রচুর রিকশা, বাস, প্রাইভেট কার। প্রজন্ম চত্বরের কাদাপানিও শুকিয়ে গেছে। রবিবার সারাদিন বৃষ্টির কারণে রাতে চার আঙ্গুল উঁচু কাদাপানি জমে গিয়েছিলো। ডিসিসি'র ক্লিনাররা অল্প সময়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলে। আর তারপরে রাতের আদ্র বাতাস, ভোরের সূর্য সবকিছু এখন অনবরত কাজ করে যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের জন্য পরিবেশটাকে একটু সহজ করে তুলতে।

প্রো-বাম আর প্রো-আওয়ামী লীগার এ দুই ক্যাটেগরি তৈরি করে ব্লগারদের মধ্যে বিভাজন রেখা টেনে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ফেসবুক, ব্লগ- এসবে যাদের দীর্ঘ নিয়মিত বিচরণ; তাদের কাছে কিন্তু ব্যপারটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আমাদের সবাইকে এখন আন্দোলনের স্বার্থে এক থাকতে হবে। বিভক্ত হওয়া যাবে না। এই কথাটা না বোঝার কোনো সুযোগ নাই। আগে-পিছে যা কিছু ঘটেছে, সব ভুলে ব্লগারদের ভেতরে অটুট ঐক্য গড়তে হবে। সেটাকে দৃশ্যমান করতে হবে। হায়েনারা সুযোগের অপেক্ষায় হন্য হয়ে আছে। তাদেরকে কোনো সুযোগ দেয়া যাবে না।

আর প্লীজ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাদের ভেতর ক্যামেরা-ফেস্ হয়ে ওঠার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তারা একটু বিরত থাকুন। আজকাল অনেক ছাত্রসংগঠনের নেতাকেই টিভিতে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য প্রজন্ম চত্বরে স্থাপিত চ্যানেলগুলোর পাটাতনে উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। টিভি চ্যানেল, পত্রিকা, অনলাইনগুলোকে এখন একটু কম সাক্ষাৎকার দেয়াই ভালো। এ কাজের জন্য পরে অনেক সময় পাওয়া যাবে। আর আন্দোলনের স্বার্থে এটা এখন অতীব জরুরি একটি বিষয়ও বটে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা মিলিয়ে আমাদের যে ষোল কোটি, তাদের কাছে একটা ভুল বার্তা পৌঁছুতে পারে যে- এই আন্দোলনকারীরা খ্যাতির জন্য এসব করছে। এ থেকে সচেতনভাবে নিজেদেরকে মুক্ত রাখুন।

এই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্র কারা, সেটা বাংলার মানুষ জানে। তারা যে কোনো খ্যাতি বা প্রাপ্তির কথা ভেবে এসব করছে না, তাও মানুষ এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করে। এ দেশের মানুষ অনেকদিন ধরে এই শক্তিটিকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলো। আজ তাদেরকে খুঁজে পেয়েছে, বড় আশায় বুক বেঁধে তাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

এখন কেবল আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনোরূপ বিভক্তি এবং নিজেকে জাহির করার প্রবণতা না দেখলেই মানুষ পাশে থাকবে। যেকোন সময় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে আন্দোলনকারীদের ডাকে। কিন্তু বিভক্তি বা সিদ্ধান্তহীনতা চলতে থাকলে, ষোল কোটির মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম নিতে বাধ্য। এ কথাটি ভুলে গেলে চলবে না কোনোমতেই।
---

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

উচ্ছল's picture


আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনোরূপ বিভক্তি এবং নিজেকে জাহির করার প্রবণতা না দেখলেই মানুষ পাশে থাকবে।

এটাই সবাইকে বুঝতে হবে.........

আরাফাত শান্ত's picture


ভালো বলছেন!

জ্যোতি's picture


আগে একটা বলি। শাহবাগে গেলে হঠাৎ মনে হয় মীরের সাথে দেখা হলে ভালো হতো।
নিজেকে জাহির করার প্রবণতা যাদের তাদের কথা শুনে যাই শুধু। আমি জানি, আমরা জানি আন্দোলনের আমরা অংশ। আমরা নিজেদের ভালোবাসার টানে, ভেতরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অংশ নেই, সব আন্দোলনকারীদের কাতারে দাঁড়াই।
তবে আমরা সাধারণ মানুষেরা দেশকে ভালোবাসি বুক ভরে, আমাদের মনে যত প্রশ্ন আসুক তবু আমরা প্রশ্নগুলো গিলে, অভিমান ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়াব। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।

টুটুল's picture


এই লেখাগুলোই এক সময় ইতিহাস হবে মীর... আপনার চোখে দেখা সব কিছু ব্লগে তুলে রাখেন....

লেখা বেশী মানে ঘটনা বেশী... তথ্য বেশী... সবাই তা জানতে চায়

শওকত মাসুম's picture


কত কি লিখতে ইচ্ছা করে.....কত ধরণের যে মানুষ দেখি

টুটুল's picture


বস.. লেখেন সব কিছু

মেসবাহ য়াযাদ's picture


এখন কেবল আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনোরূপ বিভক্তি এবং নিজেকে জাহির করার প্রবণতা না দেখলেই মানুষ পাশে থাকবে। যেকোন সময় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে আন্দোলনকারীদের ডাকে। কিন্তু বিভক্তি বা সিদ্ধান্তহীনতা চলতে থাকলে, ষোল কোটির মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম নিতে বাধ্য। এ কথাটি ভুলে গেলে চলবে না কোনোমতেই।

একজন মায়াবতী's picture


ব্লগে কমেন্ট কম আর লেখা বেশি দিচ্ছি বলে কেউ সেন্টু খায়েন্না প্লীজ। অনেক কিছু ঘটে আশপাশে, যেগুলার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ ছাড়তে মন চায় না কোনমতেই।

আমরা যারা প্রতিদিন যেতে পারি না তাদের জন্য আপ্নারাই ভরসা Smile

রাসেল আশরাফ's picture


হ। বেশী করে বেলুন ফুলাও আর আন্দোলন করো। Crazy

১০

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


জয় বাংলা, বিজয় নিশ্চিত

১১

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপনি দিনে দুইটা করে পোস্ট দিলেও কেউ কিছু মনে করব বলে মনে হয় না!

একদিন এবি'র আর সবার সাথে আপ্নাকেও দেখতে পেলে খুব ভাল লাগতো।

১২

তানবীরা's picture


এখন কেবল আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনোরূপ বিভক্তি এবং নিজেকে জাহির করার প্রবণতা না দেখলেই মানুষ পাশে থাকবে। যেকোন সময় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে আন্দোলনকারীদের ডাকে। কিন্তু বিভক্তি বা সিদ্ধান্তহীনতা চলতে থাকলে, ষোল কোটির মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম নিতে বাধ্য। এ কথাটি ভুলে গেলে চলবে না কোনোমতেই।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!