বীর শহীদেরা কথা দিলাম
বীর শহীদেরা, আপনারা জেনে রাখুন এটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই অসমাপ্ত অংশটা, যেটা শেষ করার আগেই হানাদারবাহিনীর নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন আপনারা। বেঁচে থাকলে আপনারাই এটা শেষ করতেন। শেষ করে ঘরে ফিরতেন। কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি। আপনারা একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছিলেন। আমরা সে দেশকে মুক্ত করবো। সব পেছনে টেনে ধরা শক্তির থপ্পর থেকে। আপনারা যে উন্নত দেশটির কথা ভেবেছিলেন, সেটি আমরা গড়বোই। বাঙালি বীরের জাতি। আপনারা প্রমাণ রেখেছেন। আমরাও রাখবো। সেই সুন্দর দেশটি গড়া যাচ্ছিলো না, অসমাপ্ত কাজটা মহাকালের গাএ বিঁধে ছিলো বলে। এবার কাঁটাটা উপড়ে ফেলবোই। আর তার আগে ঠিক আপনাদের মতোই আমরাও, মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কারণে ঘরে ফিরবো না। কথা দিলাম।
---





এর উপরে কথা নাই!
দারুন....
জয় বাংলা
এই স্পিরিটটা এখন যে, কি পরিমান প্রয়োজন ...
শাহবাগের জনসমুদ্রে টান পড়েছে। অপপ্রচার আর বিভ্রান্তির জাল থেকে কি আমরা আর কোনদিন বের হতে পারবো না? প্রশ্নটি মাথায় ঘুরপাক খায় আর আনমনে হাটি শাহবাগ চত্ত্বরে। মাথায় দুপুরের কড়া রোদ নিয়ে মিডিয়া সেন্টারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি স্কুলের ইউনিফর্ম ৭/ট টি কিশোর একটু আলাদা হয়ে নিজেরা নিজেরা জটলা করছে। হাতে কাগজ কলম। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম কি করছো। হেসে বললো ‘কিছুনা’, আমিও পাল্টা হেসে বললাম ‘কিছু তো’। বললো- ‘শহীদদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখবো, কে কি লিখবে তা নিয়ে আলাপ করছি’। আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো। জানতে চাইলাম কি লিখবে। বললো, ‘বৈষম্যহীন স্বাধীনতা চাই, শহীদরা যেনো আমাদের জন্য দোয়া করেন’। তার ছোট মুখে ‘বৈষম্যহীন স্বাধীনতা’ শুনে আমি বিস্মিত হলাম এই ভেবে শিখিয়ে দিলো নাকি। ওর নিজের নাম এবং স্কুলের নাম জানলাম-আসিফ, ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র। বললাম, ‘বৈষম্যহীন স্বাধীনতা’ আমি ঠিক বুঝলাম না। জবাব দিলো, এই যে আওয়ামলীগ বিএনপি এরাই তো সব সুবিধা পায়, কিন্তু এই যে শাহবাগে সবাইকে দেখেন, সব ধরনের মানুষ আছি। স্বাধীনতা তো সবার জন্য সমান হয় নাই।“ সাইফের বলার ধরনেই বুঝলাম এ ‘তোতাপাখি’ বুলি নয়। শাহবাগকে সে অন্তরে যেভাবে দেখেছে, সেই লুকানো কথা-ই জানিয়ে দিয়েছে এদেশের ত্রিশ লাখ শহীদকে।
শাহবাগে টান পড়েছে-ভেবে মনটা যতাটা খারাপ হয়েছিলো, এইটুকু মানুষের মুখে এতো গভীর জবাব শুনে মনটা কয়েকগুন ভালো হয়ে গেলো। এই জাগরন কোনও কিছুতেই বৃথা যাবেনা।শহীদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে বেলুনে ওড়ানো কর্মসূচিটি নিয়ে কেউ কেউ হাসাহাসি করেছে। সাইফের কথা শোনার পর থেকে পুরো বিষয়টি আমার কাছে অভাবনীয় মনে হলো। একজন দেশ নিয়ে তার চিন্তা প্রথম অন্তরে ধারন করে তা লিখে প্রকাশ করছে। মূল কথা হলো, এই দেশ, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ তার অন্তরে গ্রোথিত হয়ে যাচ্ছে। অসাধারন!
আসিফের মতো কতজন শহীদদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেছে? কি লিখেছে তারা? ছুটে গেলাম মিডিয়া সেন্টারে। বললো দুপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় শ’ চিঠি জমা পড়েছে। খুব জানার ইচ্চে হলো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কি লিখেছে শহীদদের? কিন্তু না, চিঠিগুলো ব্যক্তিগত, তাই দেখার অনুমতি নেই। কি আর করা, অনুরোধ করলাম, চিঠিগুলো যত্ন করে রেখে দিবেন, একদিন ইতিহাস হবে!
Sultana Rahman
জয়বাংলা
মন ছুঁয়ে গেলো কথাগুলো।
জয় বাংলা
হতাশ লাগে
---- শাহবাগের জনসমুদ্রে টান পড়েছে। অপপ্রচার আর বিভ্রান্তির জাল থেকে কি আমরা আর কোনদিন বের হতে পারবো না?
জয় বাংলা
মন্তব্য করুন