ব্লগার মানেই নাস্তিক নন
ব্লগ লিখছি কতদিন হয়? চার বছর চার মাস! এই দীর্ঘ সময়ে পড়া হয়েছে শত সহস্র ব্লগ। সবচাইতে প্রিয় ব্লগ কোনটা আমার, কেউ কোনোদিন জিজ্ঞেস করেনি। যদি জিজ্ঞেস করতো, তাহলে আমি বলতাম, ব্লগার 'জানালা'র একটি ব্লগের কথা।
ভেলরি টেইলরকে নিয়ে যখন আমরা পুরো ব্লগ দুনিয়ার লোকগুলো হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন জানালা নামে একজন ক্ষণজন্মা ব্লগার একটি ব্লগ লিখেছিলেন। আমি মাঝে মাঝে সেই লেখা পড়ি, চোখ জলে ভরে যায়। 'জানালা' লিখেছিলেন এক অসহায় মেয়ের গল্প। যে নিজের পায়ে হাঁটতে পারে না বলে মেলায় যেতে পারে না। অপেক্ষায় থাকে তার ভাই তাঁকে মেলায় নিয়ে যাবে। জানালা নামের ব্লগার তার মিহিদানা অক্ষরে সেই মেয়েটির গল্প লিখেন আমাদের জন্য।
"হঠাৎ খেয়াল করি, যেখানে যাই সে আসছে সাথে সাথে। এক ফাঁকে বোনকেও ফোন করে একবার; আমি না মেলায় যাচ্ছি। এমনকি অফিস রুমেও। তুমুল বিরক্তি নিয়ে বলি, কিছু চাই তোমার? সে বলে আবারো, তুমি মেলায় যাবে না? আমি একটু চিন্তায় পড়ে যাই। বৃষ্টি কমে যায় যদি! সে আমার সামনে একটা সোফায় বসে থাকে। চোখের আড়াল করে না। যদি তাকে ফেলে মেলায় চলে যাই।"
মেয়েটির শেষ পর্যন্ত আর মেলায় যাওয়া হয় না। তাঁর ভাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সারাদিন অপেক্ষার পর, কোনো অভিমান না করে মেয়েটি তাঁর পা টানতে টানতে ঘরের ভেতর চলে যায়। চলে যায়।
আহ্, কী কষ্ট!
উপরের লেখাগুলো ব্লগার আরিফ জেবতিকের একটি লেখার খন্ডাংশ। সাবরিনা নামের একজন ব্লগারের ব্লগ জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে’র ‘বেস্ট ব্লগ’ হিসাবে মনোনয়ন জিতেছিলো ২০১০ সালে। মনোনীত ব্লগগুলোর মধ্যে ভোটাভুটি চলার কালে সাবরিনার পক্ষে আরিফ জেবতিক লিখেছিলেন, ‘সাবরিনাকে সঙ্গে নিয়ে এবার আমরা উঠে দাঁড়াবো’। ২৩ মার্চ ২০১১-তে। এই একটি লেখার মাধ্যমেই সাবরিনার কথা পৌঁছে গিয়েছিলো ব্লগজগতের প্রতিটি সদস্যের কাছে।
এই ব্লগারেরই আরেকটি লেখার শিরোনাম হচ্ছে- ‘সাড়ে সাত হাজারের ভ্যালরি, আড়াই লাখের শফি সামি আর দুই পয়সার আমরা..'। ২৫ মে, ২০০ রাত ২টা ১৪ মিনিটে সামহোয়ারইন ব্লগে লেখাটি তিনি প্রকাশ করেছিলেন। যার শুরুর দিকের কয়েকটি লাইন ছিলো এমন-
তারুণ্যে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এই দেশ ঘুরে গিয়েছিলেন '৬৯ সনে। তারপর বোকা মহিলাটি আবার এদেশে ফিরে এসেছিলেন '৭২ সালে। রক্তাক্ত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের ফিজিওথেরাপি দিতে । কেউ তাকে ডেকে আনেনি। তবু তিনি চলে এসেছিলেন। পাগলী আর ফিরে যাননি। '৭৯ সনে অনেক চেয়ে চিন্তে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিত্যক্ত গুদাম ঘরখানি পেলেন। ঝেড়েমুছে শুরু করলেন একটা ছোট, খুবই ছোট ফিজিওথেরাপির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সি.আর.পি.।
তারপর সেই বোকা মেয়েটি তার সীমিত সাধ্যে একখান সাইকেল চেপে ঘুরতে লাগলেন দুয়ারে দুয়ারে। মাথা নিচু করলেন, হাত পাতলেন, অপমানিত হলেন, গঞ্জনা সইলেন, হতাশ হলেন তবু হাল ছাড়লেন না। নিজের জন্য নয়, সেই বোকা মানুষটি সব করলেন আমাদের জন্য। মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ে থাকা কিশোরী, বাবার কাঁধে ভর করে চলা চলৎ শক্তিহীন তরুণ, বাড়ি ফেরার পথে দূর্ঘটনায় পড়ে পঙ্গু হওয়া পরিবারের একমাত্র লোকটা...তাদের জন্য কেঁদে ফিরতে লাগলেন ...। তারপর এখানে সেখানে ভাঙা বাড়ি খুঁজে খুঁজে হয়রান হলেন, তবু তার মানব সেবা শেষ হলো না।
এভাবেই একদিন মহীরুহ হলো তার সংগঠনটি। সি.আর.পি. পরিনত হলো দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠানে যেখানে ঠাঁই হলো মেরুদন্ড ভাঙা অসহায় মানুষের, ক্রাচে ভর করে চলা, বুকে হেটে চলা, উবু হয়ে চলা, গড়িয়ে চলা অজস্র মানুষের। আমার দেশের মানুষের।
চলার পথে পিছু ফিরে একদিন সেই পাগলী দেখলেন পাগলী মেয়ে থেকে তিনি পাগলী প্রৌঢ়াতে রূপান্তরিত হয়েছেন, কিন্তু জীবনের পথে হয়নি সংসার...।
দুইটি মেয়েকে দত্তক নিলেন তিনি। পঙ্গু মেয়ে, পক্ষাঘাতগ্রস্থ মেয়ে। আর সবার মতোই তাদেরকে কাজ শেখালেন তিনি, তারপর চাকরি দিলেন সি.আর.পি.তে।
এদেশে এনজিও বলুন, কনসালটেন্সী ফার্ম বলুন আর যাই বলুন, সংগঠনের বড়কর্তার কিন্তু বেতনটা হয় ডলারে। টাকার অংকে সেই বেতন শুনে আমরা সাধারন মানুষ ভিমরি খাই। আমাদের কল্পনাতেও কোনদিন এতোটাকা ধরা দেয় না।
এই বিদেশীনি পাগলি কতো বেতন নেন জানেন? সাড়ে সাত হাজার ! না ডলার নয়, টাকা!! মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকায় চলে তার সংসার। বনানী গুলশানের যেকোন সাহেবের ড্রাইভারের বেতন থেকে দেড় হাজার টাকা কম!
সেই পাগলী মহিলার নাম ভেলরি এ. টেইলর।
এরপরের ঘটনা ইতিহাস। আরিফ জেবতিক লিখে দিয়েছিলেন, কিভাবে ভেলরি টেইলরকে সিআরপি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিলো। তিনি লিখে দিয়েছিলেন, কিভাবে শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার করেই এ অন্যায়ের খবরটি পাঠিয়ে সম্ভব জায়গামতো। আর তারপর পড়ে গিয়েছিলো সাড়া। দেশের সর্বস্তরের ব্লগার সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন এই ইস্যুতে। তাদের ক্রমাগত প্রতিবাদ পাঠানো এবং লেখালেখির কারণে এটা একসময় জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সারাদেশে। ভেলরি টেইলরকে সসম্মানে সিআরপি’তে তার প্রকৃত অবস্থান ফিরিয়ে দেয়া হয়।
প্রজন্ম চত্বরের সুসংগঠিত গণআন্দোলনটিকে নাস্যাৎ করে দিতে জামায়াত-শিবির-রাজাকারদের ঘৃণ্য চক্রটি অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, ব্লগার মাত্রই নাস্তিক। শাহবাগে যারা আন্দোলন করছে তারা ব্লগার, মানে নাস্তিক। তারা ইন্টারনেটে আল্লাহ-রাসূলকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মনে নাড়া দিয়েছে এ অপপ্রচারটি। মনেপ্রাণে আন্দোলনকে সমর্থন করেন, এমন মানুষও সংশয়ের দোলাচলে পড়ে গেছেন। আসলে কি ঘটছে? তারা কি তবে মরিচীকার পেছনে ছুটছেন? ব্লগার মানে কি কেবলই নাস্তিক?
এই জনতার অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নন। বাংলা ব্লগ ও তার ইতিহাস সম্পর্কে এদের ধারণা অনেক কম। ২০০৬-এর বাংলা ব্লগের আঁতুর ঘরের দিনগুলোতে ‘এ টিম’ নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একটি ব্লগার-দল কিভাবে জামায়াত-শিবিরের ব্লগারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো, সেই ইতিহাস জানেন না। তাদের এ সরলতার সুযোগ নিয়ে জামায়াতী গণমাধ্যমগুলো চেষ্টা করেছে পুরো ব্লগার সমাজকে নাস্তিকতাবাদের কালিমায় লেপে দিতে। সবাইকে নাস্তিক ও মুরতাদ ঘোষণা করে দিতে। সেই সঙ্গে ব্লগার রাজীবের (থাবা বাবা) হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে।
অথচ বাংলা ব্লগজগত সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারা একবাক্যে স্বীকার করবেন যে; ঘৃণ্য জামায়াত-শিবির-রাজাকার চক্রের পক্ষ থেকে ব্লগার ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চালানো এ অপপ্রচারের বস্তুনিষ্ঠতা বা শক্ত কোনো ভিত্তি প্রায় নেই বললেই চলে। যেটা আছে সেটা হচ্ছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মশলার মজুদ। বিভিন্ন সময় ওই ঘৃণ্য চক্রটি তাদের পেইড ব্লগারদেরকে (ছাগু) দিয়ে বাংলা ব্লগে রিভার্স গেইম খেলিয়েছে আস্তিক-নাস্তিক ইস্যুতে। সেখানে নিজেরাই এক নিকে ধর্মকে আঘাত করে বক্তব্য দিয়েছে, তারপর আরেক নিকে এসে তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। সাধারণ বিশেষ করে নবাগত ব্লগারদের মাঝে এভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজ তারা করে আসছে বহুদিন ধরেই। মূলত এই কাজের মধ্য দিয়েই বাংলা ব্লগে নাস্তিকতাবাদ ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি হারে। আজকে যে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন বা রাজীব হায়দারদের নাস্তিকতাবাদী লেখালেখির জন্য জাশি-রাজাকারদের গণমাধ্যমগুলো অভিযুক্ত করতে চাচ্ছে, সেগুলোতে কাজ করা কয়জন সংবাদকর্মী জানে ছাগুদের দ্বারা ঘটানো ব্লগের সেসব কুকীর্তির কথা? রিভার্স গেইমের নোংরামি চলাকালে ছাগুরা যত ধর্মবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে, তার শতভাগের একভাগও দেয়া হয় নি উল্লিখিত দুই ব্লগারের লেখায়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে ইসলাম রক্ষার ধুয়া তুলে রাজাকারেরা খুন-ধর্ষন-লুটপাট করেছিলো, ঠিক একই কায়দায় এবারও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে তারা মানুষের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চেষ্টা করছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যারাতে নিরীহ ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার নৃশংসভাবে খুন হলেন। এরপর থেকেই প্রথমে ফেসবুক ও ব্লগ এবং পরে গণমাধ্যমের দ্বারা ছড়ানো শুরু হলো, ব্লগার রাজীব ছিলেন একজন নাস্তিক। তিনি আল্লাহ-রাসূল বিরোধী কর্থা-বার্তা লিখতেন। ব্যক্তি রাজীবের লেখালেখি নিয়ে এর আগে কখনো কোনো গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে নি। কিন্তু সেই রাজীবই খবরের শিরোনাম হয়ে গেলেন মৃত্যুর পর, প্রজন্ম চত্বরে দাঁড়িয়ে রাজাকারদের ফাঁসি আর জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দিয়ে বাড়ি ফিরে খুন হয়ে যাবার পর।
আর ঠিক সেই মোক্ষম সময়টাতে, যখন সারাদেশের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন ধর্মব্যবসায়ী-যুদ্ধাপরাধী-বিশ্বাসঘাতক শক্তিটির বিরুদ্ধে; তখন ব্লগে ব্লগে ছড়িয়ে গেলো রাজীবের নাস্তিকতাবাদী লেখালেখির খবর। গেইম প্ল্যানটা চমৎকার ছিলো, তাই না?
তবে রাজাকারদের প্ল্যান। সেটাতে তো গলদ থাকবেই। থাকতে বাধ্য। গলদ ছিলো বলেই ওরা মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার হয়েছিলো। এবারের গলদটি হচ্ছে, রাজীবের লেখাসমৃদ্ধ 'নূরানী চাপা' নামে যে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগটির লিংক সর্বত্র ছড়ানো হয়েছে, সেটি ব্লগার রাজীব মারা যাবার আগ পর্যন্ত কোথাও দেখা যায় নি। রাজীব ফেসবুক বা ব্লগ কোনো জায়াগাতেই লিখেন নি- নূরানী চাপা নামে তার কোনো ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ আছে। এই ব্লগটির মালিক আসলেই কি রাজীব কিনা, তা নিয়ে রয়েছে ঘোরতর সংশয়।
কিন্তু অন্যান্য যেসব ব্লগার লেখালেখির মাধ্যমে বাংলা ব্লগে নিজেদেরকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন, তাদের লেখায় নাস্তিকতাবাদের ছিটেফোঁটাটি কোথায় চোখে পড়ে না। আরিফ জেবতিক সামহোয়ারইন ব্লগে ব্লগিং শুরু করেন ৬ বছর ৩ মাস আগে। অমি রহমান পিয়াল লেখা শুরু করেন ৭ বছর ৩ সপ্তাহ আগে। পরে সামহোয়ারইন ব্লগে লেখা বাদ দিয়ে দু’জনেই যুক্ত হন আমার ব্লগ নামের আরেকটি ব্লগে। আরিফ জেবতিক আমার ব্লগে আজ পর্যন্ত ২৬৩ টি লেখা লিখেছেন। যেগুলোর কোনোটিতেই ধর্মানুভূতিকে আক্রান্ত করে কিছু লেখা হয় নি। একইভাবে অমি রহমান পিয়াল আমার ব্লগে লিখেছেন ৮০৩ টি লেখা। সেগুলোও আল্লাহ-রাসূলের কটূক্তিমুক্ত।
সামহোয়ারইন ব্লগে সদ্যপ্রয়াত তরুণ ব্লগার ইমন জুবায়ের জীবদ্দশায় ১৫০০টি লেখা লিখেছেন। এর একটিতেও নাস্তিকতাবাদ নিয়ে কোনো কথা পাওয়া যায় নি। শুধু সামহোয়ারইন-ই নয়, পুরো বাংলা ব্লগজগতে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন ইমন জুবায়ের। সামহোয়ারইনে তার ব্লগটি এ পর্যন্ত ৬,৮৪,৪৩৭ বার দেখা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছিলো ব্লগ পরিমণ্ডলে। তিনি গল্প, ইতিহাস, সঙ্গীত, পৌরানিক কাহিনী নানাবিষয়ে লিখতেন। তার লেখা শেষ গল্প ‘অতিপ্রাকৃত গল্প: সতরই জুলাই’ পড়লে যেকোন পাঠকের চিত্ত উদ্বেল হয়ে উঠতে বাধ্য।
সামহোয়ারইন ব্লগে ১০ মে ২০০৬ ইং তারিখে প্রকাশিত অমি রহমান পিয়াল ‘প্রাপ্তির জন্য একরাশ ভালোবাসা কিংবা একটি ফুলকে বাঁচাতে যুদ্ধ করি’ লেখাটির মধ্য দিয়ে ক্যানসার আক্রান্ত শিশু প্রাপ্তির খবর উঠে এসেছিলো সর্বস্তরের ব্লগারদের সামনে। অসংখ্য ব্লগার তখন এগিয়ে এসেছিলেন প্রাপ্তিকে বাঁচতে সাহায্য করার জন্য। ব্লগের মধ্য দিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়ার সেটাই ছিলো প্রথম প্রচেষ্টা।
এমন অনেক আশাব্যঞ্জক ইতিহাস আছে বাংলা ব্লগের। এখানে গুটিকয় মানুষ কেবল সারাদিন বসে বসে আল্লাহ-রাসূলের কুৎসা রচনা করেন না। যারা করেন, তাদের সংখ্যা নিতান্তই অল্প। তাদের ভেতরেও আবার বড় একটা অংশ আছে, যারা অপপ্রচারকারীদের দলেরই লোক। এদের বাইরে একটি বিশাল গোষ্ঠী ব্লগস্ফিয়ারে মুক্তমত আদান-প্রদানের চর্চা করেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটান। একাত্তরের বিশ্বাসঘাতক ও তাদের অনুচরেরা সে কথা আজ স্বীকার করতে চাচ্ছে না। কিন্তু, একটা কথা তাদের প্রত্যেকের খুব ভালোভাবে জেনে রাখা দরকার।
অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ থাকে না। আজ যারা অন্ধ আর গোঁয়ারের মতো ব্লগার ও আন্দোলনকারীদের নাস্তিক বলে প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা একসময় ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। নিজেদের কলংকিত মানবজন্মের জন্য আফসোসের অন্তর্মুখী আগুনে পুড়বে। তাদের সন্তানেরা পর্যন্ত একদিন পিতৃপরিচয়ের কারণে লজ্জিত, দুঃখিত, ক্ষুব্ধ, অসুস্থ ও অভিশপ্ত জীবন যাপন করতে বাধ্য হবে। কিন্তু তখন আর ফেরার সময় থাকবে না।
---
(লেখায় উদ্ধৃত লিংকগুলিতে ক্লিক করে এ লেখার মূল বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ রইলো সবার প্রতি।)





ব্লগার মানে আসলে শুধুই ব্লগার। মানুষের সবরকমের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই যেমন মানুষ। ধর্ম নিয়ে যেটা হচ্ছে, বা যে কথাগুলো তোলা হচ্ছে, সেগুলো কুতসিত। মানুষ এতো সহজে চেতনা হারায় আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আপনার লেখাটা খুব ভালো লেগেছে। অনেক খাটাখাটনি করে লিখেছেন বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু তাতে যাদের টনক নড়ার, নড়বে কি? শুধু আশা করতে পারি শুভ বোধের উদয় হোক।
জনড়গণ সবসময় সঠিক। তাই যাদের টনক নড়ার, তাদের টনক অবশ্যই নড়বে বলে আমি আশাবাদী।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল একটি লেখা । সবারই পড়া উচিত । মীরকে ধন্যবাদ এত গুছিয়ে ব্লগারদের নিয়ে কিছু মানুষের কুৎসা করার সময়ে এমন একটি পোষ্ট লেখার জন্য ।
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি যে কত নোংরা !
ভালো নাই। আজ বিকালে বইমেলায় গেলে দেখা হবে।
আপনার কি খবর? দিনকাল কেমন যায়?
এরকম একটি লেখার প্রয়োজন ছিল। মীরকে অশেষ ধন্যবাদ।
এরকম একটি মন্তব্যেরও প্রয়োজন ছিলো। খুব ভীষণ।
লীনা আপুকে অসংখ্য
সময়ের সব চাইতে প্রয়োজনীয় লেখা!
আচ্ছা বুঝলাম। আছেন কেমন?
খুব দরকারী পোষ্ট, প্রিয়তে
ধন্যবাদ নিভৃতদা'। ভালো লাগলো খুব।
দূর্দান্ত মীর... স্যালুট
মীর আরো বড়ো পরিসরে লেখা চাই... হঠাৎ করে শেষ করছেন.... আপনার আরো অনেক কিছু বলার ছিল.... প্রয়োজনে ভাগ ভাগ করে লিখেন।
হ্যা, মীর সিরিজ করে হলেও এইটার আরো কিছু লিখুন, জানুক যারা ২দিন আগে জানতে পারা "ব্লগারা কেবল নাস্তিক" কথাগুলা দিয়ে ব্লগারদের এত্তো বছরের ভালো উদ্যোগগুলোকে হেয় করে!
@ টুটুল ভাই + জেবীন আপু,
আমি আসলে হাতের কাছে যে লিংকগুলো পেয়েছি সেগুলোকেই কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছি এই লেখাটা। অনেক ভালো এবং ওয়েভ ক্রিয়েট করা লেখা বাদ পড়েছে জানি। কিন্তু এখন সময়টা এমন যে, হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়ে লড়াই চালাতে হচ্ছে।
ভালো কথা, অনেক পুরোনো লেখা সামহোয়ারইন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে দেখলাম। জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় এক গার্মেন্টকর্মীকে ধর্ষণ করে ফেলে যাওয়া নিয়ে 'মানবী'র সেই বিখ্যাত লেখাটির লিংক কি কারো কাছে আছে?
আপনাদের যার কাছেই ঐতিহাসিক এক বা একাধিক লেখার লিংক আছে, তারা সেগুলি শেয়ার করেন। আমি পোস্টে যোগ করে দেবো।
স্যালুট, কমরেড।
স্যালুট স্যার।
খুব খুব দরকারি একটা পোস্ট, অনেক কিছু আমারও জানা ছিল না।
অনেক খাটুনির এই চমৎকার লেখাটার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ, মীর ভাই।
এমন অনেককিছু ছিল যা জানতাম না বলে জবাবদিতে পারতাম না কাউকে। আপনাকে ধন্যবাত এই বিষয়গুলোতে আলোকপাত করার জন্য।
ভাইরে আপনার এই লেখা সম্পর্কে একটা কথাই বলার আছে ........... অসাধারণ ।
হ্যাট'স অফ মীর।
আমি যেমন ইমন জুবায়েরের ভক্ত এবংআরিফ জেবতিক এর তেমনি ভক্ত মীরেরও।
সবাই যার যার ক্ষেত্রে নক্ষত্র।
লেখার সাথে পুরাই একমত।
মীর রকস এগেইন!
খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল একটি লেখা । সবারই পড়া উচিত । মীরকে ধন্যবাদ এত গুছিয়ে ব্লগারদের নিয়ে কিছু মানুষের কুৎসা করার সময়ে এমন একটি পোষ্ট লেখার জন্য ।
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি যে কত নোংরা !
প্রয়োজনীয় একটা লেখা। অনেক ধন্যবাদ মীর এই লেখাটির জন্য।
গতকাল এক ছেলের সাথে ভয়ানক কথা কাটাকাটি হয়েছে। সে শ্রীলঙ্কান এক ছেলেকে বোঝাচ্ছিল যে সকল ব্লগারই নাস্তিক। আর যেহেতু তারা আল্লাহকে অপমান করেছে তাই তাদেরকে দেখামাত্র কতল করার বিধান আছে। আমি তাকে বললাম আন্দোলন নিয়ে ভুল ইনফো দিচ্ছ কেন? তাতে তার আস্ফালন যদি দেখতেন!
অনেক ধন্যবাদ লেখাটার জন্য। এই লেখাটি খুব জরুরী।
অফটপিকঃ
মীর ভাই,
আপনের লেখা
বক পাখির ডানায়
গল্পটা পড়তে চাই।
লিংক দেন।
আর নাইলে আমারে মেইল করেন
নিচের ঠিকানায়।
outlaw_no88@yahoo.com
প্লিজ প্লিজ প্লিজ..
আমিও বিষণ্ণ এর লাইনে আছি
এত দিন যাদের আঃন্তর্জালিক দুনিয়া ফেইসবুকে সীমাদ্ধ ছিল, লেখাটি তাদের কিছুটা হলেও ব্লগ সম্পর্কে ধারনা দিবে। দারুন মীর ভাই। ভালো থাকবেন।
মীর, তোমাকে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম, তোমার বক পাকহির ডানায় লেখাটা ফিরিয়ে না আনলে, আমি আমার লেখাটাও সরিয়ে নেব। তুমি আমার কথা শোন নাই। তাই আমার লেখাটি সরিয়ে নিলাম।
ভালো থেক।
আমি ইন্টারনেটে ঢোকারই সুযোগ পাই নি একদিন। আলটিমেটাম দেখি নাই। যেই আলটিমেটাম তার লক্ষ্য-ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছায় না, সেটাকে বৈধ আলটিমেটাম হিসাবে গণ্য করা ঠিক না। দ্রুত আপনার পোস্ট ফিরিয়ে আনুন। নাইলে আপনার বিরুদ্ধে জনতাকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা-আলটিমেটাম দেয়া হবে এবার।
কথা ঘুরাইবেন না মিয়া!
লেখা ফিরায় আনেন!
বিষণ্ণ বাউন্ডুলে | মার্চ ১, ২০১৩ - ১০:৫৬ অপরাহ্ন
(নতুন মন্তব্য)
কথা ঘুরাইবেন না মিয়া!
লেখা ফিরায় আনেন!
জবাব
মন্তব্য করুন