ইউজার লগইন

সাগরের গভীর থেকে মাঝে মাঝে কান্না উঠে আসে

১.
আচ্ছা, আপনাদের কারও কি কখনো কারণ ছাড়া কান্না পায়? উথাল-পাতাল কান্না। অনুভবের গভীর থেকে আর্তনাদের মতো উঠে আসা কান্না। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলে রক্তজবা হয়ে গেলেও, গলায় আটকে থাকা কিসের যেন ওই দলাটা ঠিক একই জায়গায় রয়ে যায়। নিচে বা উপরে ওঠে না। এমন কি কখনো হয়?

আমার হয় না। সাধারণত। কারণ ছাড়া কাঁদার মতো দুঃখবিলাসী হওয়ার সুযোগ জীবন দেয় নি কখনোই। আর খানিকটা স্বাথর্পর প্রকৃতির মানুষ হওয়ার কারণে, অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়াটাও ধাতে পাই নি আমি। হয়তো খারাপ লাগে মাঝে মাঝে মানুষের জন্য। তবে তার মানে এই না যে, ভগবান বুদ্ধ বা শ্রীরামকৃষ্ণের মতো অন্তরে সারাক্ষণ মানুষের দুঃখের কথাই ঘুরে-ফিরে বাজে খালি। আমার বরং উল্টো স্বভাব। বেশিরভাগ সময় নিজের কোন সমস্যাটা কিভাবে সমাধান করে একটু আগে আগে থাকা যায়, সেইটাই মনের ভেতর চলতে থাকে। নাটক-সিনেমার আবেগী দৃশ্যগুলো চোখের কোণায় খানিকটা চিকচিকে ভাব আনে মাঝে মাঝে কিন্তু সেটাও সাময়িক। আমার কান্না পায় না সহজে। বড় বড় কান্নার মতো উপলক্ষ অনায়াসে পার করেছি যেন কিছুই হয় নি এমন ভাব করে।

সেবার যখন দ্বিতীয় দফায় হাতের অপারেশন হচ্ছিল, তখন ডাক্তার রিস্ক নেয় নি। প্রথম অপারেশনের সময় ডাক্তারদের ধারণা ছিল বেশিক্ষণ লাগবে না। তাই টৈটম্বুর অ্যানাসথেসিয়া দিয়ে আমাকে পুরো অচেতন করে কাজ শুরু করেছিল। এভাবে কাউকে শতভাগ অচেতন করে কাটাকুটি চালানোর ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা সর্বোচ্চ সময় পায় আড়াই ঘন্টা। এর চেয়ে বেশি সময় নেয়াটা ডাক্তারীবিদ্যা সমথর্নও করে না, রোগির জন্যও সেটা সুবিধাজনক না। আমার অপারেশন শুরুর পর দেখা গেল আড়াই ঘন্টায় কাজ শেষ হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। শেষ পর্যন্ত অপারেশন এক প্রকার অসমাপ্ত রেখেই ডাক্তারদের উঠতে হয়েছিল। কিছু কিছু স্ক্রু তারা জায়গামতো বসানোর সময়ই পায় নি। সপ্তাহান্তের এক্স-রে'তে দেখা গেল কিছু স্ক্রু এমন জায়গায় পড়ে গেছে যে, সেগুলো বের না করলে সমূহ বিপদ।

তাই দেখে নেয়া হলো দ্বিতীয় দফায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত। আগেই বলেছি, এইবার ডাক্তারেরা ঝুঁকি নেয় নি। লোকাল অ্যানাসথেসিয়া দিয়ে হাতটা অবশ করে উনারা কাজ শুরু করে দিলো। প্রথম দিকে সব ঠিকই ছিল। চামড়া, মাংস ইত্যাদি কেটে ডাক্তারেরা যখন হাড়ে পৌঁছলেন, তখন আমার সব এলোমেলো হয়ে গেল। জ্যান্ত মানুষের হাড়ের ওপর করাত চালালে কেমন লাগে, সে অভিজ্ঞতাও যে কোনোদিন পেতে হবে, আগে জানা ছিল না। মনে হচ্ছিল গনগনে লোহার শিক দিয়ে আমার হাতটা রুটি বেলার মতো বেলে ফেলা হচ্ছে। হাড়ের ওপর তো আর লোকাল অ্যানাসথেসিয়া চলে না। এক হতে পারতো যে, উনারা আমাকে পুরোপুরি অচেতন করে নিয়ে কাজ শুরু করতে পারতেন। তবে আগের বারের অভিজ্ঞতা ভাল না হওয়ায়, সেই সাহস এবার উনারা করেন নি। নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। ফলাফল হিসেবে, আমাকে এক বিভীষিকাময় ও নারকীয় অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিলো। অপারেশন শেষে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যখন রাস্তায় রিকশা খুঁজছিলাম তখন আম্মু জানতে চেয়েছিল, খুব কি বেশি ব্যাথা লেগেছে বাবা? আমি শুকনো হাসি দিয়ে বলেছিলাম, নাহ্ ব্যাথা আর কি। বাসায় এসে ঘন্টাখানেক শুধু গোঙানি বের হয়েছে আমার মুখ দিয়ে। অথচ কান্না পায় নি।

কান্না পায় নি যখন দুর্ঘটনার পর প্রথম তিনদিন আমরা নিশ্চিতভাবেই জানতাম যে, বাম হাতটা কনুইয়ের চার-পাঁচ ইঞ্চি উপর থেকে কেটে ফেলে দিতে হবে। নাহলে শরীরের কিছুই বাঁচানো যাবে না সংক্রমণের হাত থেকে। আমি শূন্য দৃষ্টিতে হাতের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর স্মৃতিতে ভেসে উঠতো, ওই হাতটা আমার কতকিছুর সাথেই না জড়িয়ে ছিল জীবনের শুরু থেকে। মনে মনে বিদায় নিচ্ছিলাম, হাতটার কাছ থেকে। সে সময় আমার পরিবারের কারও মুখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যেতো না। যার মুখের দিকে যে-ই তিন-চার সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুক না কেন, এক সময় দেখা যেতো দুই পক্ষের চোখ দিয়ে পানি ঝরা শুরু হয়েছে। শুধু আমার চোখে কেন যেন কোনো পানি ছিল না। কতোবার এমন হলো, আমার এলোমেলো চলাফেরা, বাউন্ডুলেপনা, কারও কোনো কথা না শোনা ইত্যাদি নিয়ে অভিযোগ করতে করতে এক সময় অভিযোগকারীই ঝর ঝর করে কেঁদে দিয়েছে, আর আমি মাথা নাড়তে নাড়তে বলেছি, চিন্তার কিছু নাই। সব ঠিক হয়ে যাবে। অবশ্যই হবে, দেখেন।

তিন দিন পর ডাক্তার কেবিনে এসে বললেন, মনে হচ্ছে তেমন কোনো সংক্রমণ নেই, এ যাত্রা হাতটা বেঁচে গিয়েছে। ডাক্তারের কথা শুনে আবার এক পশলা কান্নাকাটির রোল উঠলো। এবার খুশির কান্না। আমি তাতেও অংশ নিতে পারলাম না। কারণ আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয় না।

রিপোর্টার জীবনের একটা ঘটনা বলি। আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হচ্ছে বাবা। একদিন বিকেলে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে ক্যাম্পাসে বসে রিপোর্ট লিখছি, এমন সময় মোবাইলে আম্মুর ফোন আসলো। ধরলাম। আম্মু বললো, বাবা তোমার আব্বু তো কালকে সারারাত ঘুমাতে পারে নি। আজকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে শুনেছে তার নাকি কাল রাতেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে। এখন বারডেমে ভর্তি হয়ে আছে। তুমি কোথায়?

আমি বুঝতে পারছিলাম না, আম্মু আসলে কি বলছে। হার্ট অ্যাটাক? কেমনে? আজ সকালেও তো আব্বু অফিসে গেছে। আমি যদিও আমার রুমের বন্ধ দরজার ওপাশে ঘুমের মধ্যেই ছিলাম, তারপরও জানতাম সবকিছু ঠিকঠাক আছে। এখন শুনছি, আব্বু নাকি রাতেই হার্ট অ্যাটাক করেছে। সেই অবস্থা নিয়ে সারাদিন অফিস করেছে। তারপর শরীর ভাল না লাগায় কলিগদের চাপাচাপিতে হাসপাতালে এসে জেনেছে যে, এক রাত আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব?

হঠাৎ ক্ষনিকের জন্য ব্ল্যাক আউট হয়ে গেল সবকিছু। চোখের সামনে ভেসে উঠলো, অনেক ছেলেবেলার একটা কথা। কাপ্তাই লেক দেখতে গিয়েছিলাম আমরা। তখন আমার বয়স বড়জোর চার কি পাঁচ। আরও ছোট হবো হয়তো। তারপরও স্মৃতিটা খুব জ্বলজলে। আব্বু আমাকে শূন্যে ছুড়ে দিয়ে লুফে নিচ্ছিল আর আমি চিৎকার করে বলছিলাম, আরও জোরে আব্বু, আরও জোরে। আমি জানতাম, আব্বু কখনও আমাকে পড়ে যেতে দেবে না।

সম্বিত ফেরার সাথে সাথে ল্যাপটপ বন্ধ করে ছুট লাগালাম বারডেমের দিকে। সন্ধ্যা নাগাদ আব্বুকে দেখার সুযোগ হলো। দুই চোখের কোলে কালি জমেছে, গলার স্বর দুর্বল, শরীরে হাসপাতালের আকাশি রঙা অ্যাপ্রোন। অবস্থা দেখেই আম্মু আর ছোটবোন ঝরঝর করে কেঁদে দিল। আমি একপাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, যেন কিছুই ছোঁয় নি আমাকে।

এভাবে যদি পেছনের দিকে যেতে থাকি, তাহলে কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা দেয়া সম্ভব। কান্না আসে না আমার। বিরাট যন্ত্রণা। দেশ ছেড়ে চলে আসার পর নাকি সবার দেশের জন্য খারাপ লাগে, মা-বাবার জন্য খারাপ লাগে, দেশি খাবারের জন্য খারাপ লাগে। আমার কোনো কিছুর জন্য খারাপ লাগে নি।

একলা একলা নিজের মতো থাকতাম দেখে, আমার ক্লাসের সবাই ধরেই নিয়েছিল আমি একটা আস্ত ইন্ট্রোভার্ট। সম্ভবত দেশ ছেড়ে বিদেশে আসার বেদনায় বিপুলভাবে কাতরও। রাত-বিরাতে কেঁদে বালিশ ভাসাই কিনা এসব নিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে ওরা গসিপ করতো বলেও শুনেছি। পরে ওরাই আমার ভাল বন্ধু হয়েছে। নিজেদের ধারণা ভুল প্রমাণ হতে দেখে কেউ খুশি হয়েছে, কেউ বেজার আবার কেউ কিছুই হয় নি।

আমার সঙ্গের সবাই প্রথম সুযোগে অ্যাকাডেমিক প্রিপারেটরী কোর্স পাশ দিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে গেল, কিন্তু আমি হতে পারলাম না। ভেঙ্গে পড়েছিলাম ভালোভাবেই। আর আমরা সেমিস্টারের শেষ দিকে সবাই এত ক্লোজ হয়ে পড়েছিলাম যে, একজনের ব্যাথায় সবাই প্রায় সমান কষ্টই পেয়েছিল। সেদিন রাতে ওদের সবাইকে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় আবিস্কার করে খুব অবাক হয়েছিলাম। বিদেশ-বিভুইয়ে মানুষ থাকে চাচা আপন প্রাণ বাঁচা অবস্থায়। আমি জানি, আমার সঙ্গে পৃথিবীর কোনকিছু স্বাভাবিক নিয়মে ঘটে না।

সেই দুশ্চিন্তা যখন পরের সেমিস্টারে দূর হলো, তখন দেখা গেল বন্ধুরাই আমার চেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত। অথচ আমি নির্বিকার মনে তাদের পানাহারে সঙ্গই দিয়ে গেলাম শুধু। তারচেয়ে বেশি কিছু করতে পারলাম না।

২.
তবে জীবনের একটা সময় আমি নাকি খুব ছিঁচকাদুনে ছিলাম। সবক্ষেত্রে বা সবার ক্ষেত্রে না। একজন বিশেষ মানুষের ক্ষেত্রে মাত্র। তার দেয়া সামান্য দুঃখও একসময় সহ্য করতে পারতাম না। চোখ দিয়ে অটোম্যাটিক পানি চলে আসতো। মনে আছে, তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। যে মানুষটার কথা বলছিলাম, ওদের ডিপার্টমেন্টের কি যেন একটা প্রোগ্রাম হবে। সেই প্রোগ্রামে নাকি আবার নাচও হবে। সেই নাচের কোরিওগ্রাফার হলো ওই মানুষটা। তাই তাকে সারাদিন ডিপার্টমেন্টে থাকতে হয়, সবাইকে নিয়ে নাচের প্ল্যান-প্রোগ্রাম-প্র্যাকটিস ইত্যাদি করতে হয়। আমার দিকে তাকানোর তার সময় হয় না। একবার এসে 'কেমন আছো' জিজ্ঞেস করার সুযোগ হয় না। আমি পুরোনো খাতার ছিঁড়ে যাওয়া পৃষ্ঠার মতো এদিক-ওদিক ঘুরি।

ওরকম সময়ে একবার কলাভবনের চারতলায় একটা ফাঁকা ক্লাসরুমে গিয়ে তাকে টেক্সট করলাম, আমি তোমার জন্য ৪০২২-এ অপেক্ষা করছি। প্লীজ একটু দেখা করে যাও। প্রায় সাথে সাথেই উত্তর আসলো, এখন পারবো না। নাচের প্র্যাকটিস নিয়ে বিজি আছি। শেষের শব্দযুগল আমার হৃদয়ে কুঠারাঘাতের মতো পড়লো। স্থান-কাল-পাত্র ভুলে মোবাইল চোখের সামনে ধরে, হু হু করে কেঁদে উঠলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে চারপাশে লোক জমে গেল। অামার তখন প্রায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থা।

আরেকবার, ডিজুস সিম কেনা নিয়ে আমাদের তুমুল ঝগড়া হয়েছে। তিন দিন ধরে কথা বলা বন্ধ। আমি ফোনের পর ফোন করি। সে ফোন ধরে না। বুকের ভেতর সাইক্লোনের মতো তুফান চলে। কাউকে কিছু বলতে পারি না। একেকটা মুহূর্ত পার হতে অনন্তকাল সময় লাগায়। আর রাত নামলে তো কথাই নেই। ঘর অন্ধকার করে আমি এমনভাবে বসে থাকি যেন, কবরের ভেতর কোনো মৃত ব্যক্তি উঠে একপাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে।

সে সময় এক মধ্য রাতে, আমার ঘরের চারপাশ থেকে দরজা ধাক্কানোর শব্দ শুনতে পেয়ে খুব চমকে বাস্তব দুনিয়ায় ফিরে এসেছিলাম। কি হচ্ছিল বুঝতে পারছিলাম না। আমাদের শহীদবাগের বাসাটার একটা ভাল সিস্টেম ছিল। আমার রুমের একটা দরজা ছিল বাইরের দিকে, আরেকটা দরজা ছিল ভেতরের দিকে। দুই দিক থেকেই প্রবল বেগে কড়া নাড়ছিল মানুষজন। আমি তাড়াতাড়ি ভেতরের দরজা খুলে দিতেই আব্বু, আম্মু, ছোটবোন হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়লো। 'কি হয়েছে বাবা, কি হয়েছে?' জিজ্ঞস করতে করতে নিজেরাই অস্থির হয়ে পড়লো। বাইরের দরজায় তখনও কড়া নাড়ার শব্দ। বোন গিয়ে ওই দরজার খোলার পর দেখা গেল, সামনের ফ্ল্যাট, উপর তলার বাড়িওয়ালার ফ্ল্যাট এবং তাদের সামনের ফ্ল্যাটের সব মানুষ রাতের পোশাকেই বের হয়ে এসেছে। উৎসুক দৃষ্টিতে আমাদের দরজা দিয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি-ঝুঁকি মারার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারাও জানতে চায়, কি হয়েছে? আমি নাকি চিৎকার করে করে রাত সাড়ে তিনটায় পুরো মহল্লাকে জাগিয়ে দিয়েছি।

৩.
বিকেলের দিকে ইরিনা একটা টেক্সট পাঠিয়েছিল। লেখা ছিল, কালকের প্ল্যান কি? উত্তর দিয়েছিলাম, কোনো প্ল্যান নাই। সে পাল্টা উত্তর দিয়েছিল, জন্মদিনে কোনো প্ল্যান রাখো নি? আশ্চর্য! আমি আরও ভাবলাম, তোমার জন্মদিন উপলক্ষে ছাতার মাথা এই পেপার লেখার ডিউটি থেকে এক দিনের ছুটি নিয়ে নেবো। ইরিনার সাথে ওই কথোপকথনটা না হলে হয়তো জানাই হতো না, জন্মদিন প্রায় সন্নিকটে।

তারপর থেকে জন্মদিনের স্মৃতিগুলো মনে পড়া শুরু হয়ে গেল। একসময় যে মানুষটার জন্য আমি কাঁদতে পারতাম, দুই বছর আগে সে লুকিয়ে আমার জন্য 'হ্যাপী বার্থডে' লেখা একটা কেক নিয়ে এসেছিল। রাত ঠিক ১২টায় সে আর ছোটবোন মিলে আমাকে ভীষণ চমকে দিয়েছিল। আর আমাদের ছোট্ট বেড়ালছানাটা মাঝরাতে সবাইকে ঘুম থেকে উঠে কেক কাটাকাটি করতে দেখে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল।

৪.
মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি জানেন? স্মৃতিশক্তি। এই শক্তিটা না থাকলে মানবজাতি অনেক সমস্যা থেকে বড় সহজেই মুক্ত থাকতে পারতো। কিন্তু উপায় কি? ওস্তাদ এমনভাবে আমাদের গড়েছেন যে, না চাইলেও আমাদের প্রত্যেককে এক সুবিশাল স্মৃতিসাগরে জীবনযাপন করতে হয়। সেই সাগরের গভীর থেকে মাঝে মাঝে কান্না উঠে আসে। সেসময় শরীরের ভেতরের প্রত্যেকটা কোষ এবং সেসব কোষের ভেতরের নিউক্লিয়াস, নিউক্লিওলাস, মাইটোকনড্রিয়ন, লাইসোজমেরা উদভ্রান্তের মতো অস্থিরভাবে ছোটাছুটি করতে থাকে, কিন্তু মিস্টার মস্তিষ্ক আমাদের হাত, পা কিংবা অন্য কোনো অঙ্গকে কোনো সংকেত পাঠাতে পারে না। ফলে মানুষকে তৎক্ষণাৎ এক ভীষণ অচলাবস্থায় ঢুকে যেতে হয়। এমনকি হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে যে নিজের বন্যাকবলিত চোখ দু'টোকে নিজেই একটু মুছে নেবে, সেটাও পারে না।

আপনাদের কে কে এমন কোনো কারণ ছাড়া কান্নায় ভেসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, বলেন তো দেখি।

---

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

উচ্ছল's picture


“অনুভবের গভীর থেকে আর্তনাদের মতো উঠে আসা কান্না যা গলায় আটকে থাকা কিসের যেন একটি দলা ঠিক একই জায়গায় রয়ে যায়, কিছুতেই বের হতে চায় না, দম বন্ধ হয়ে যেতে চায়।”-------এ ধরনের নিঃশব্দের কান্না ভীষন ভীষন কষ্টের Sad

উচ্ছল's picture


মীর ব্রো ........... শুভ জন্মদিন, শুভ আর্বিভাব দিবস, শুভ হোক আগামী........ Party

মেসবাহ য়াযাদ's picture


" আচ্ছা, আপনাদের কারও কি কখনো কারণ ছাড়া কান্না পায়? উথাল-পাতাল কান্না। অনুভবের গভীর থেকে আর্তনাদের মতো উঠে আসা কান্না। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলে রক্তজবা হয়ে গেলেও, গলায় আটকে থাকা কিসের যেন ওই দলাটা ঠিক একই জায়গায় রয়ে যায়। নিচে বা উপরে ওঠে না। এমন কি কখনো হয়? "

হয়রে ভাই। কিন্তু, পারিপাশ্বিক কারণে সে কান্না আর কেউ দেখে না...

জন্মদিনে এমন সুন্দর একটি লিখা ! ভালো থাকুন, সুখে থাকুন, দুরে থাকুন...

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


তারপর থেকে জন্মদিনের স্মৃতিগুলো মনে পড়া শুরু হয়ে গেল। একসময় যে মানুষটার জন্য আমি কাঁদতে পারতাম, দুই বছর আগে সে লুকিয়ে আমার জন্য 'হ্যাপী বার্থডে' লেখা একটা কেক নিয়ে এসেছিল। রাত ঠিক ১২টায় সে আর ছোটবোন মিলে আমাকে ভীষণ চমকে দিয়েছিল। আর আমাদের ছোট্ট বেড়ালছানাটা মাঝরাতে সবাইকে ঘুম থেকে উঠে কেক কাটাকাটি করতে দেখে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল।

জীবনে এমন ছোট ছোট ঘটনার অনেক মূল্য, আমার কাছে অমূল্য সম্পদের মত। ঠিক এ'জন্যই অনেক সময় কারণ ছাড়া কান্না পায়। আর ঐ যে স্মৃতির কথা বললেন! এমন সুখের স্মৃতি রোমন্থন করার ভাগ্য ক'জনার হয়?
লেখায় সুপার লাইক।
জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ব্রো। Laughing out loud
পার্টি পার্টি

টুটুল's picture


থাউক আর কাইন্দেন না Wink

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ভয়ংকর একটা লেখা, এটা নিয়া কিছু বলার মত বড় মনে হয় না হইতে পারুম কখনো। গান শুনেন বরং একটা। ভালো থাকেন, সুপ্রিয় মীর ভাই।

মীর's picture


গানের জইন্য ধইন্যা পাতা

ফাহিমা দিলশাদ's picture


মন্তব্য করতে চাইলাম এখানে আর মন্তব্য চলে গেল অন্য লেখায় Shock ব্লগ তো ভয়াবহ অসুস্থ্য Laughing out loud ওহে ডাক্তার ভাইয়ারা আই মিন মডু সাহেবরা যদি এই অবলার কাহিনীটা একটু দেখিতেন তাহা হইলে ব্যাধিত থুক্কু বাধিত থাকিতাম Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!