কখনও রিকভার হবে বলে মনে হচ্ছে না
অথচ আমি খুব যে কষ্টে আছি তাও কিন্তু না। খালি মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা'র 'চোখটা এতো পোড়ায় কেন' গানটা শোনার জন্য অদ্ভুত এক অস্থিরতা অনুভব করি। ভেতরে ভেতরে। ধ্রুব সেদিন জানতে চাচ্ছিল, আপনি কি রিকভারি করে ফেলেছেন? আমি নিজের ভেতরে প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে যা পেয়েছিলাম তা হলো, না। এখনও রিকভারি করতে পারি নি। সারাটা দিন যতো হিহিঠিঠি-ই করি না কেন, বেলাশেষে কোথায় যেন একটা কষ্টের সুর বাজে, শুনতে পাই। মনে হয় অনেক দূর থেকে কোনো রাজকুমারীর কান্নাভেজা কণ্ঠের গান ভেসে আসছে। সেই সময়টায় ভীষণ অস্থির লাগে। একটার পর একটা সিগারেট পোড়াই। হুমায়ুন আজাদ স্যারের সেই কবিতাটার মতো,
"শুধু তোমার মুখের ছাঁয়ায় বুকটা কেঁপে উঠলে
রাতটা জেগেই কাটাই, বেশ ভাল লাগে
সম্ভবত বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই।"
ছোটবোনের বান্ধবীর ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে শুনে খারাপ লেগেছে। আশা করবো ঘটনাটা শেষ পর্যন্ত ঘটবে না। মানুষের সময় কখনোই সমান যায় না। আজ ভাল তো কাল খারাপ। এটাই নিয়ম। আমাদের সবার চেষ্টা করা উচিত সম্পর্কগুলোকে যথাযথ নার্সিং করার। উচ্চাভিলাষের পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময়ই আমরা প্রিয়জনদের কথা ভুলে যাই। তাদের মনে না বুঝেই কষ্ট দিয়ে ফেলি। অনেক সময় এমন সব বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যেগুলোর হয়তো ঠান্ডা মাথার দূরতম কল্পনাতেও আসার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। ক্রোধ এমন একটা জিনিস যেটা খুব কম সময়ই মানুষকে সাহায্য করে। নাইন আউট অব টেন টাইমস, মানুষের জন্য এটা ক্ষতিকর। অথচ তারপরও আমরা সচরাচর রাগ করি। রাগের মাথায় অনেক কিছু করে বসি। ঠিক না জানি, তারপরও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। যদি নিয়ন্ত্রণ করা যেতো, তাহলে ধ্রুবর প্রশ্নের উত্তরটা দিয়ে, মনভরা খুশি নিয়ে, হয়তো একটা কিছু লিখে ফেলতে পারতাম। এখন বাহির থেকে ভেসে আসা বাতাসের হু হু শব্দটাকেও, আমার জন্য কাস্টমাইজ করে পাঠানো বলে মনে হচ্ছে। ওস্তাদ বড়ই অদ্ভুত। সাত বিলিয়ন মানুষ এবং অগণিত সংখ্যক প্রাণীর প্রত্যেকের দিকে তার ব্যাপক নজর। ভাল লাগে, ওস্তাদকে।
দিন কাটছে বিদ্যুতের গতিতে। নতুন সেমিস্টার শুরু হলো। চারিদিকে প্রচুর নতুন নতুন ছেলেমেয়ে। দেশ, পরিবার-পরিজন, চেনাজানা গন্ডি আর কমফোর্ট জোন ছেড়ে আসা মানুষগুলোর, প্রথম দিনগুলি কাটছে প্রায় অজপাঁড়াগা- ইলমিনাউয়ে। আমি ওদের ভেতরে আমার নিজেকেই দেখতে পাই। এক বছর আগে আমার দিনগুলিও ঠিক একইভাবে কেটেছিল। সেমিস্টার শুরুর আগে ঠিক করেছিলাম, এবার নতুন আসা ছেলেপিলেদেরকে হেল্প করবো। আমাদের এখানে একটা সংগঠন আছে। নাম উই ফর ইউ। নাম শুনলেই বোঝা যায় সংগঠনটার মূল কাজ মানুষকে হেল্প করা। ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছি। প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক নবাগতকে কিভাবে রুমে ইন্টারনেটের লাইন নিতে হবে, কিভাবে ঠোসকা কার্ড অ্যাকটিভ করতে হবে, হেলথ ইনস্যূরেন্স কোনটা ভাল, কোন ফর্মটা কোথায় জমা দিতে হবে- ইত্যাদি শিখাই। খারাপ লাগে না।
সম্ভবত আগামী মাসে বিআই ক্লাবে একটা বাংলাদেশি নাইটের আয়োজন করবো। ইলমিনাউয়ে আমরা যে গুটিকয় রয়ের বেঙ্গল টাইগার আছি, সবাই মিলে। আইডিয়াটা ছিল শান্তনুদা'র। উনি একজন অত্যন্ত মাই ডিয়ার টাইপ জেন্টেলম্যান। এমন একজন মানুষ, যে আপনাকে সবসময় কমফোর্ট ফিল করায়। পাশে পেলেই। জেন্টেলম্যানদের প্রথম বৈশিষ্ট্যই বোধহয় এটা, তাই না? আহা আমিও যদি অমন হতে পারতাম! আমার মনে হয় না, মানুষ খুব বেশিক্ষণ আমার সাথে কমফোর্ট ফিল করে। যদিও ম্যারাথন আড্ডায় আমি একপ্রকার অপ্রতিদ্বন্দী (কথা বেশি বলি তো, তাই)। তারপরও, সত্যি সত্যি যদি কমফোর্ট ফিল করাতে পারতাম, তাহলে তুমি নিশ্চই চিরতরে চলে যেতে না আমাকে ছেড়ে, তাই না?
আজ শুধু কবিতা পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। জানি না কেন? মাঝে মাঝে এমন হয়। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'দিন যায়' কবিতাটা আমার খুব প্রিয়। সেটা দিয়ে এই লেখাটা শেষ করে দিই। নাহলে আরও অনেক কবিতা বের হয়ে আসতে পারে।
"সুখের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শীতের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
অর্ধেক কপাল জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শুধু ঝড় থমকে আছে গাছের মাথায়
আকাশমনির ।
ঝড় মানে ঝোড়ো হাওয়া, বাদ্ লা হাওয়া নয়
ক্রন্দনরঙের মত নয় ফুলগুলি
চন্দ্রমল্লিকার ।
জয়দেবের মেলা থেকে গান ভেসে আসে
সঙ্গে ওড়ে ধুলোবালি, পায়ের নূপুর
সুখের চট্ কা ভাঙে গৈরিক আবাসে
দিন যায় রে বিষাদে, মিছে দিন যায়।"
---





আরও অনেক কবিতা বের হয়ে আসলে ক্ষতি কি ছিল মীর?
হাহাহা, ক্ষতি ছিল রশীদা'পু। ব্লগগুলা যখন পুরোনো হয়ে যায়, তখন আবার পড়লে বোঝা যায়।
আবেগ, বিবেক কোনটাই যখন মানুষের ঠিকমত কাজ করে না তখন হয়ত শেষ পর্যন্ত সম্পর্কটা টেকে না। তারপর অনেক বছর পর কোন এক বিষণ্ণ একাকী বিকেলে হয়ত সেই মানুষটার কথা মনে পড়ে, হয়ত মনে হয় তখন যদি জেদ আর ইগো ধরে না রাখতাম তাহলে হয়ত আজ তাকে পেয়ে যেতাম। জীবনে কত মানুষ আসলো গেলো কিন্তু তার মত করে কেউ আসেনি। অথচ হায় সে যখন ছিল তখন তাকে চিনতে পারিনি!
মাঝে মাঝে আমারও ঠিক একই কথা মনে হয়। তার মতো করে কেউ আসে নি। পরে ভাবনাটা ব্যালান্স করার জন্য ভাবি, পৃথিবীতে কোনোকিছুই চিরস্থায়ী না।
এই কথাগুলো আপনারই
আমি শুধু আপনার মনের কথাগুলো অনুবাদ করেছি
এই পৃথিবীতে শুধু ভালোবাসা চিরস্থায়ী আর কোনকিছুই হয়ত না
বিষাদলোকে রাজ্যপাটে 'রিকভারি' বলতে কোন বস্তু আছে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। মন খারাপের লিস্টিতে একেকটা চ্যাপ্টার হয়তো শাফল মোডে প্রায়োরিটি লিস্টির সামনে আসা যাওয়া করবে একেক সময়, এই যা।
কথা ঠিক
মন্তব্য করুন