ইউজার লগইন

একটি মানুষের আত্মকাহিনী

আমার যে ভার্সনটা আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি সেটা ঘুরে ফিরে আসে। প্রতি দুই-তিন মাসে একবার। কয়েকটা দিন খুব মাজুল অবস্থায় কাটে। মার্ফি'জ ল-কে সত্য প্রমাণ করতে সেই দিনগুলো আসে সেমিস্টারের ব্যস্ততম সময়গুলোতে। পড়া-শোনা লাটে উঠে থাকে আর আমি বায়বীয় কষ্টের সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে অশরীরি মাথা নাড়িয়ে সিস্টেম অফ আ ডাউন শুনি।

চিঠির যুগ শেষ হয়ে গেছে। শুধু আমরা আমাদেরকে যেসব চিঠি লিখেছিলাম সেসব রয়ে গেছে। কি আশ্চর্যের বিষয়, তাই না? পাখি উড়ে যায়, রয়ে যায় ঝরা পালক। ভালবাসা মরে যায়, রয়ে যায় বিবর্ণ স্মৃতি।

ডাক্তার বলেছে সিঙ্গেল রুম চেঞ্জ করে জয়েন্ট অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে। একা থাকাটা নাকি এখন আমার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমি নাকি এখন খুবই ভালনারেবল। এ সময়টায় আমাকে নাকি সবসময় বন্ধু-বান্ধব অথবা জনমানুষের কাছাকাছি থাকতে হবে। যাতে একেবারে শেষ মুহূর্তে যদি ফিরে আসতে চাই, অন্তত যেন সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতে পারি।

মনে হয় না, আমি কখনও সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতে পারতাম। মানুষ সাহায্য করতে চাইলেও আমি তাদের সাহায্য নিই নি। শুধু মানুষের মহত্ব দেখে দেখে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছি। খুশি হয়েছি ভেবে যে, যে পৃথিবীটাতে আমি বাস করেছিলাম সে পৃথিবীটা ভরে ছিল চমৎকার সব মানুষে।

একটা পরিপূর্ণ জীবনের পথ পাড়ি দিয়ে ১৬২৬ সালের শেষ চন্দ্রমাসে আমি পৌঁছেছিলাম আননোন ল্যান্ডে। সে সময়ে আমরা ভাবতাম ওটাই পৃথিবীর শেষ প্রান্ত। সেখানে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে বরফের তৈরি। আর তারপর মহাশূন্য। আজ সেই ম্যাপের একটা পোস্টার ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে আমি তাকিয়ে থাকি। নিজের ফেলে আসা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে বলে- তোমার কোথাও যাবার দরকার নেই। অবশেষে তুমি তোমার ঠিকানায় এসে পড়েছো।

একটা ছোট্ট উকুলেলে হাতে সাগরপাড়ে বসে গান গাচ্ছিল ছেলেটা। মেয়েটি পাশে বসে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল ছেলেটার দিকে। দেখতে দেখতে জনমানুষের মাঝেই আমি একসময় হৃদযন্ত্র বন্ধের ওই পিলটা মুখে পুড়ে দিয়েছিলাম। ডাক্তারের চেম্বার থেকে চুরি করা একটা প্রেসক্রিপশনে আমি নিজের হাতেই পিলটার নাম লিখেছিলাম। মুখে পুড়ে দেবার পর একবারের জন্যও সেটাকে ফেলে দেয়ার ইচ্ছে হয় নি। একটু তিতকুটে ওই ওষুধটা চুষতে চুষতে ধীরে ধীরে আমার মন ফাঁকা হয়ে আসছিল। একসময় শুধু ওটার স্বাদই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিলাম। তারপর সৈকতের বালুকাবেলায় নির্জনমতো একটা জায়গায় বসে আমি শেষবারের মতো চারপাশটায় একবার চোখ বুলিয়েছিলাম।

স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করে নেবার সময়টা আমি যথাযথই বেছেছিলাম। যতক্ষণে আমার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছিল জোয়ার। সমুদ্রে সমাধিস্থ হওয়ার শেষ আশাটাও যখন আর অপূর্ণ থাকলো না, তখন বুঝে গিয়েছিলাম, আমাকে আরও অনেকবার জন্মাতে হবে। কোনো এক অমোঘ অভিশাপে প্রত্যেক জন্মে আমার সব ইচ্ছা পূর্ণ হবে, অথচ আমি সুখী হবো না। এরচেয়ে করুণ পরিণতি প্রাণীজগতে আর কারও হতে পারে না।

---

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেসবাহ য়াযাদ's picture


এটা এক ধরণের হাহাকার। দু:খবিলাস।
এমনটাই হবার কথা।
জীবন নিয়ে বেশি ভাবতে নেই।
জীবন তার গতিতে চলুক। কেবল স্টিয়ারিংটা ধরে
রাখুন ব্রাদার। যাতে পথ না হারায়।
" একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে..."

মীর's picture


থ্যাংকস্ ব্রো। হোপফুলি একদিন সব ঝড় থেমে যাবে।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপ্নের নামে মামলা করা উচিত,
এটেম্পট টু পারসুয়েড টু কমিট সুইসাইড। Stare

ফাহিমা দিলশাদ's picture


ইদানীং আমি আপনাকে অতি মাত্রায় অপছন্দ করা শুরু করেছি হয়ত এই কান্নাকাটি মার্কা লেখাগুলোর জন্যই। এমনিতে ছেলেরা খুব ভাব দেখায় যে দেখো কান্না আমাদের আসে না বা কান্না আমাদের মানায় না, ওটা মেয়েদের জন্য কিন্তু লিখতে গেলে মাশাল্লাহ্‌ এরা ফেইসবুক বা ব্লগ যেখানেই হোক না কেন ৮৮র ভয়াবহতম বন্যাকেও হার মানিয়ে দেয় কেঁদেকেটে। হে প্রভু দড়ি ফেল Big smile আরে না আমার জন্য না, এই ভাইয়ার জন্য Tongue

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপনার জইন্য তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা। চোখের জল যেনো মেয়েদের একক সম্পত্তি, হুহ! -_-

ফাহিমা দিলশাদ's picture


Shock এইভাবে বলতে পারলেন Sad( যান আপনার সাথে জনম জনমের আরি গুল্লি তবে তার আগে একটা কথা বলতে চাই- আমার নিজের একটা লেখা ছিল "মায়াবতীদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি" যে লেখাটা আমার নিজের খুব পছন্দ আর সেখানে আমি একটা মেয়ে হয়ে নারী জাতীকে এই অনুরোধ করছি যেন তারা পুরুষ জাতীর মন না ভাঙে আর আপনি আমাকে এভাবে অপেমান করলেন টিসু আপনার জন্য সমবেদনা আর করুনা Crazy আসলে আব্বুকে খুব ভালোবাসি তো তাই হয়ত সমগ্র পুরুষ জাতীর জন্য এক ধরনের শ্রদ্ধা কাজ করে যেমন আমার ভাই আম্মুকে খুব ভালবাসে তাই সে মেয়েদের খুব সম্মান করে Smile সে যাই হোক আপনার সাথে চির জীবনের কাট্টি মনে থাকে যেন Devil

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


পাথ্থর হৃদয় মহিলার কাট্টি গ্রহনযোগ্য নহে, তাহার পূর্বে আপনার গুল্লিতে শাহাদাতবরন করিলাম। যত দোষ আপনে ঘোষ!

ফাহিমা দিলশাদ's picture


আরে নাহ্‌ কি যে বলেন আমি আমার শত্রুরও মৃত্যু কামনা করি না এবং তারচেয়েও বড় কথা আমি কাউকে শত্রু মনে করিই না Big smile দীর্ঘজীবী হন এই কামনা করি Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!