শূন্যে আটকে যাওয়া চিৎকার
কম্পিউটারের স্পীকারটার ওপর চাপ ফেলতে ভাল লাগে। কাজ হচ্ছে না কোনকিছুতেই! কাকে যেন একবার বিপ্লবের ডাক শুনিয়ে কনভিন্স করেছিলাম। আজ আর মনে নেই, সে কে ছিল। কেন সে মাঝখানে কয়দিন বিপ্লবের স্বপ্ন চোখে নিয়ে দিন-রাত আমার সাথে সাথে ঘুরেছিল?
মানুষ কিসের আশায় জীবন যাপন করে? পৃথিবীতে নিজের উপস্থিতিকে অন্তত নিজের কাছে স্মরণযোগ্য করে রাখতে, নাকি নিজের লিগেসি টিকিয়ে রাখতে? আচ্ছা, যে সুপারহিরোর কোনো পাওয়ার নাই, সে যদি পৃথিবীর জন্য নিজেকে সন্তপর্ণে বিলিয়ে দিতে চায়; তার কি কোনো উপায় আছে? তার পক্ষে কি কোনভাবে নিজের ইচ্ছেপূরণ করার সুযোগ আছে?
ওসুওফিয়া ইন লন্ডন সিনেমায় মানুষের চরিত্রের খুব 'র' ভার্সনটা দেখানো হয়েছে। যেখানে কৌতুক, প্রেম, আর মহত্ব হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটে। অপর পাশে নীচতা আর ব্যর্থতার হাহাকার।
২৪২, আমার বক্সের নাম্বার। আজ লাইব্রেরিতে এত ভীড় ছিল যে, ফাঁকা বক্স পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেকক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করেছিলাম একটা বক্সের জন্য। ওসুওফিয়া ইন লন্ডন সিনেমাটা নাইজেরিয়ান। গতকাল নাইজেরিয়ান নাচের মুদ্রা দেখাচ্ছিল টোসিন।
কতোদিন পুকুর পাড়ে ঘুরি না, ভাসি না নদীর ওপর! খালি খালি একটা লাইব্রেরিতে বসে বসে কানে হেডফোন গুঁজে হিবিজিবি লিখি। আর পৃথিবীতে একটার পর একটা তারিখে চেঞ্জ আসে।
ধরা যাক, একদিন সব ধরনের প্রযুক্তিকে আমার ১২ দশমিক চার বর্গমিটারের কুঠুরিতে বন্দি করে পথে বেরিয়ে পড়লাম। কি হতে পারে? নৌকায় করে কোনমতে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রীস, কিংবা অস্ট্রেলিয়া? মহাবন আমাজনে পৌছুঁতে কি করতে হবে?
সব অবশ্য রেখে যাওয়া যাবে না। হার্ডডিস্কগুলো বোঝাই করে গান আর সিনেমা সঙ্গে রাখতে হবে। মাঝে মাঝে ওগুলোর দরকার অবশ্যই পড়বে। আর বেশি কিছু কিন্তু লাগবে না। লিখতে কি ইচ্ছে হবে মাঝে মাঝে? কিংবা ছবি তুলতে? ইচ্ছে হলেও সমস্যা নেই। লেখালেখি আর ছবি তোলায় কোনো ঝুঁকি নেই। কারও পক্ষে খুঁজে বের করে ফেলা সম্ভব না। কোথায় কাজগুলো করা হচ্ছে।
তারপর হয়তো একদিন একটা নির্জন হলুদ পাকা বাশেঁর তৈরি মাচায় ঘর বেঁধে জীবন যাপনরত অবস্থায় নিজেকে আবিস্কার করে ফেলবো। হয়তো ততোদিনে হার্ডডিস্কের সবগুলো সিনেমাই অনেকবার করে দেখা হয়ে যাবে। হয়তো সেখানেও দৈনন্দিন জীবনের একটা রুটিন দাঁড়িয়ে যাবে।
একই অবস্থা হতে পারে, যদি নাসার কোনো ক্যাম্পেইনে নাম লিখিয়ে মহাশূন্যে চলে যেতে পারি। এমন একটা প্লানেটের কথা ভাবছি যেখানে বাচ্চাদেরকে ছেলেবেলা থেকে অন্যকে মোটিভেট করার বিদ্যা শেখানো হয়। তারা সেই বিদ্যা কাজে লাগাতে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করে এবং জীবনভর তাকে মোটিভেশন দিতে থাকে।
নাসার ক্যাম্পেইনে নাম লিখিয়ে মহাশূন্যে চলে যাওয়ার সঙ্গে আমার কল্পনার এ গ্রহটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্টার ওয়ার্সের গ্রহ টাটুইনি-র সাথে চাইলে কিছুটা সম্পর্ক খুঁজে বের করা যেতে পারে।
আচ্ছা, সেই চিৎকারটা কোথায় কোন মহাশূন্যে আটকে আছে? কোন অশ্রু ভেজা সন্ধ্যে সেই কন্ঠচেড়া চিৎকারটাকে পরম আদরে নিজের বুকের ভেতর লুকিয়ে ফেলেছিল? কেন কাজটা করেছিল সে? কোন দরকার কি ছিল?
---





কিচছু বুঝলাম না
সেইম হিয়ার
অনেকদিন পর এবি'তে ঢুকে মীরের লেখা পড়লাম।
কেমন আছেন মীর?
ভাল আছি বস্। আপনের কি খবর?
এখনও হারাইয়া যাইতে ইচ্ছা করে?
হুম, আসলেই একদিন হারায় যাবো, নিশ্চিত
মন্তব্য করুন