মে দ্য ফোর্থ বি উইথ ইউ
আজকাল ফেইসবুকই সবচেয়ে ভাল বন্ধু হয়ে থাকছে আমার সাথে। সকালবেলা প্রতিদিন কোনো না কোনো উপায়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে সে। কোনোদিন বলে, মীর স্টে ড্রাই টুডে। রেইন ইজ দ্য ফোরকাস্ট; আবার কোনোদিন বলে, এনজয় দ্য সান। তবে আজ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। লিখেছে, মে দ্য ফোর্থ বি উইথ ইউ।
হাহাহ্। মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় আমার। মে দ্য ফোর্থ বি উইথ ইউ? সিরিয়াসলি? এরচেয়ে অদ্ভুত আসলে আর কিছুই হতে পারে না। কাল সন্ধ্যায়ই কথা হচ্ছিল জিমি আর টোসিনের সাথে। চৌঠা মে-তে 'মে দ্য ফোর্থ বি উইথ ইউ' বলা যায় পৃথিবীর সব স্টার ওয়ার্স ফ্যানকে। তারপর পাঁচ তারিখের জন্য আছে রিভেঞ্জ অফ ফিফথ্। যারা জানেন না এ বাক্যগুলোর অর্থ, তাদেরকে শুধু একটা কথাই বলা যায়। পৃথিবীতে সাতটা অসামান্য সিনেমা তৈরি হয়েছে স্টার ওয়ার্স শিরোনামে। এটা সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে পরিকল্পিত ফ্র্যাঞ্চাইজি। মার্ভেলের পরিকল্পনাও অসামান্য। সেই আয়রন ম্যান থেকে এ পর্যন্ত সবকিছু চাইলে একসূত্রে গেঁথে ফেলা যায়। তবে স্টার ওয়ার্সের মতো নয় কোনোটাই। সেই সত্তুর-আশির দশক থেকে শুরু হওয়া একটা পরিকল্পনা, এখন কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্ব; এমন আর কয়টা পরিকল্পনা চলছে পৃথিবীতে। হয়তো সিআইএ-এফবিআই বা মোসাদের আছে এমন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে সেগুলো সবই ডার্ক সাইডের জিনিসপত্র। ওরা পুরো পৃথিবীকে একটা ডেথ স্টার বানিয়ে ফেলতে চায় শুধু, আর কিছু না। এখনও লুক বা লিয়ার মতো কিছু মানুষ বেঁচে আছে বলে পারছে না। আর আছে চুইয়ি, আরটুডিটু, নতুন সংযোজিত বিবিএইট, সিথ্রিপিও, এবং আছে এক্সউইং, মিলেনিয়াম ফ্যালকনের মতো অসাধারণ কিছু স্পেইসশিপ। নাহলে অনেক আগেই এম্পায়ার সবকিছুকে গিলে ফেলতো। স্ট্রমট্রুপাররা টাই ফাইটার নিয়ে দখল করে ফেলতো পুরো গ্যালাক্সি। অ্যাটঅ্যাটরা ঘুরে বেড়াতো ইজিপশিয়ান মরুভূমিতে। পৃথিবীর কোথাও কোনো সিনেমা শুরু হতো না "লং এগো, ইন এ গ্যালাক্সি ফার ফার অ্যাওয়ে..." লেখা দিয়ে।
এই সুন্দর পৃথিবীটাকে কখনও আমরা ডার্ক লর্ডদের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। আমাদেরকে সবসময় এটাকে ধরে রাখতে হবে লাইট সাইডের দিকে। অলওয়েজ। আমরা এ দেশকে ছেড়ে দিতে পারি না মৌলবাদীদের হাতে। চাপাতির কোপের নিচে। আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে প্রমাণ করতে হবে। আমাদেরকে ইতুর জন্য ভোট দিতে হবে। ওকে জিতিয়ে আসলে আমাদের নিজেদেরকেই জিতিয়ে দিতে হবে। কিভাবে ভোট দিতে হবে এবং কতদিন পর্যন্ত, সে সবই ইন্টারনেটে সহজলভ্য। প্লীজ ডু ইট। প্লাস চলেন ঘুরে দাঁড়াই। কাল একটা জাপানী সংবাদপত্রে বাংলাদেশ নিয়ে খুব তাচ্ছিল্যভরা একটা কার্টুন দেখেছি। তারপর থেকে মনটা খারাপ হয়ে আছে।
আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, বাংলাদেশ ডুবে যাচ্ছে না। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, বাংলাদেশে মৌলবাদ নেই। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, অনেককিছু।
মে দ্য ফোর্থ বি উইথ ইউ। এবং অবশ্যই মে দ্য ফোর্স বি উইথ ইউ। উইথ আস। উইথ অল অফ আস।
---





আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, বাংলাদেশ ডুবে যাচ্ছে না। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, বাংলাদেশে মৌলবাদ নেই। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, অনেককিছু।
এই আমরা কারা, জনাব ??
হাহাহা, এই আমরা আমরাই জনাব, যারা একদিন জেগে উঠবে
"পরশু ভোর ঠিক আসবেই, এই আশাবাদ তুমি ভুলো না"
মন্তব্য করুন