গল্প: ইরাবতী ডলফিনদের সাথে এক মগ কফি সহকারে এক দুপুরে
আমরা বন্ধু। হাতে হাত রেখে চলো হারিয়ে যাই। আমাদের স্বপ্নের জাহাজে চেপে চলে যাই সেই মহাদেশে যেখানে গিয়ে আমরা সত্যিকার অর্থেই নিজেদের খুঁজে পাবো। ঠিক সেভাবে, যেভাবে আমরা একে অপরকে পেতে চাই। তুমি চাও একজন কুল পার্সন, যে কিনা একইসাথে তোমাকেও বুঝবে এবং আশপাশের পরিবেশটাও বুঝবে। আমি চাই একজন খুব সাধারণ মানুষ, যে শুধু ওখানে থাকবে আমার জন্য। ওই পরিবেশটায়। যার জন্য আমি শেষ মুহূর্তটায় গিয়ে আরেকবার চেষ্টা করার অাগ্রহটা খুঁজে পাবো। আর তারপর আমরা দু'জনে মিলে সার্ফিং করে আগামী গ্রীষ্মকালটা পার করবো ক্যারিবিয়ন দ্বীপপুঞ্জের কোনো একটা ছোট্ট দ্বীপে। চলো হারিয়ে যাই, যাবে?
-উম, এটা একটু ডিফিকাল্ট বলা, জানো? আমাদের দু'জনের জীবন দু'টো ভিন্ন। তাই না? তুমি আর আমি একটা পর্যায়ে এসে কাছাকাছি কোনো একটা জায়গায় থাকছি। একে অপরকে প্রতিদিন দেখছি। জানছি। সে কারণে একটা আগ্রহের জায়গা আমাদের দু'জনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, আমাদের দু'জনের গন্তব্যকে যদি আমরা এটা যে পথে আছে, সে পথেই থাকতে দিই; তাহলে আমরা খুব দ্রুতই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো। সো, এই পর্যায়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে সূর্যস্নানের স্বপ্ন দেখাটা ঠিক কতোটা কম হাস্যকর হবে, সেটা বোঝা সহজ হচ্ছে না।
ড্যাম, তুমি তো পুরাই কাঁচি চালিয়ে দিলে পরিকল্পনাটায়। কঠিন। তবে ঠিকই বলেছো, আমাদের এখনও সময়টা আসে নি। কিছু একটা নিয়ে ভাববার। তারচেয়ে বরং এই সময়টাকে এটার মতোই থাকতে দেয়া যাক। কি বলো?
-অথবা আমরা আরেকটা কাজ করতে পারি। এই যে এখন আমরা প্রতিদিন ফোন করে একে অপরের সাথে দেখা করছি, খেলছি, কফি পান করছি কিংবা লাঞ্চ করছি, এটা না করে কয়েকদিন একে অপরের সাথে দেখা না করার চেষ্টা করে দেখতে পারি। যদি সেটা কাজ করে তাহলে ধরো আমরা এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারি। কি বলো?
ব্যাড আইডিয়া। সুপার ব্যাড। আমাদের যদিও লাঞ্চটা করা উচিত যার যার বন্ধুমহলের সাথে, কিন্তু কিকার অবশ্যই একসাথে খেলা উচিত। তুমি যে বাজেভাবে হারবে জেনেও আমার দলে খেলার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকো, সেটা আমাকে অনেকটা দূর এগিয়ে নেয় এক মুহূর্তেই। আমার ধারণা তোমার ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই রকম, তাই না?
-ইয়া, সেদিন জিয়াদ আর মাহমুদের সাথে আমরা ছয়টা গোল হাঁকিয়েছিলাম যখন, তখন আমার মনে হচ্ছিলো যে আমরাতো এতো ভাল খেলি না। কি হলো হঠাৎ করে? ভাবছিলাম ওরা বোধহয় ইচ্ছে করে একটু স্বাভাবিকের চেয়ে কম গতিতে খেলছিল, কিন্তু পরে দেখলাম- না, ওরা ঠিকই মনোযোগ দিয়ে খেলছে। ওটা শুধু তোমার সাথে খেলার সময়ই হয়। আমি খেয়াল করে দেখেছি যখন সিরাজ,দাউদ বা অন্য কারো সাথে খেলি, তখন অমন কিছু ফিল করি না। জানি যে খেলার বেশিরভাগ সময় আমার কাজ থাকবে নিজের প্লেয়ারদেরকে ঊর্ধ্বমুখী করে রাখা যাতে ওদের লং শটগুলো গন্তব্য খুঁজে পেতে পারে সহজে। হাহাহা।
হুম, আসলে বড় হয়ে যাওয়ার অর্থ হয়তো এটাই। বুঝতে শেখা যে, আমরা কেউই এককভাবে সম্পূর্ণ নই। সবাইকেই নিজের জন্য আরেকজন মানুষ খুঁজে বের করতে হয়, যে পাশে থাকলে কাজগুলো যথাযথভাবে হয় সবসময়।
-বুঝি না তুমি মাঝে মাঝে এতো কঠিন করে কথা বলো কেন? কাজগুলো যথাযথভাবে হবে না কেন? অবশ্যই হবে। জাস্ট আরেকটু পুশ করো নিজেকে সবসময়। একসময় দেখবে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হয়ে যাচ্ছে। নিজে নিজেই। তোমার ইভেন কিছু করাও লাগছে না।
ভুল বলো নি হয়তো। আমার ভাবনাগুলোতো মুলত আমার নিজের জীবন চলার পথ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু এটা ঠিক যে, কিকার খেলার বিষয়টা আমিও খেয়াল করেছি। বেশি বেশি খেলার কোনো বিকল্প আপাতত আছে বলে মনে হচ্ছে না। অন্তত যে ক'টাদিন আমরা একসাথে থাকছি।
-ইয়াহ্। ঠিক বলেছো। চলো এখন ইরিনা বিচটার সাথে কিছুক্ষণ খেলি। ও সবসময় তোমাকে দেখে অমন হাসে কেন বলো তো? আমার না খুব গা জ্বালা করে ওকে ওটা করতে দেখলে।
হাহাহ ও অমনই। ভাবে সবাই কিছু একটা লুকাচ্ছে। আর ও সেটা জানে। মানুষ কি লুকাচ্ছে। তাই মুখটা সবসময় হাসি হাসি। এটার আসলে অন্য কোনো অর্থ নেই।
-বলেছে তোমাকে। বুদ্ধু একটা। ও আসলে প্রচণ্ড জেলী। সবার প্রতি। কোনো কারণ ছাড়াই। আচ্ছা তুমি যে এতো বুদ্ধু, আর ক'দিন পর যখন আমরা এক শহরে থাকবো না; তখন কিভাবে সামলাবে?
মানে কি?
-কিছু না। বাদ দাও। চলো খেলি।
---





গোলও তাহলে হাঁকানো যায়?
উমম, জানি না ঠিক। শব্দটা যুৎসই লেগেছে বলে ব্যবহার করেছি কিন্তু ভুলও হয়ে থাকতে পারে। পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ
খবর কি?
আছি টুটুল ভাই, মোটামুটি।
আপনার খবর কি? কেমন আছেন?
চলে যাচ্ছে আর কি
দেশে ফিরবেন কবে?
সামনের বছর যাবো একবার বস্, কিন্তু ঠিক কবে তা এখনও নিশ্চিত নই
মন্তব্য করুন