জুঁই ফুলেরা জুঁই তলায়
১.
আমি মনে হয় কোন একটা ছোটাখাটো জীবন কাটিয়ে খুব সাধারণভাবে একদিন মৃত্যুবরণ করবো। কথাটা মনে হলো সে সময়টায় যখন হঠাত মনসাগরের গভীর তলদেশ থেকে উঠে আসতে ধরেছিল সেইসব বুদবুদ, যারা দীর্ঘ একটা সময়, প্রায় অর্ধেক শতককাল, শুধু সেই তলদেশ থেকে সাগরের ঢেউয়ের চূড়াটিতে পৌঁছুতেই লাগিয়ে দিয়েছিল। ওরা পৌঁছেছিল গগনে নিশান উড়িয়ে নীল সাগরের ওপর ভাসমান মার্তণ্ড-টার এক মহাজাগতিক আলোকছটাকে নিজের বুকে ঝিকমিকিয়ে উঠতে দেখে মরে যেতে।
২.
সেদিন ভাবছিলাম গুরুত্বের আপেক্ষিকতার কথা। আমাদের সবার কাছে নিজের চলমান সমস্যাগুলোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই এবং একই সাথে সবার কাছেই অন্যের চলমান সমস্যাগুলোর কোনো মূল্য নেই। কিংবা আছে, বিভিন্নরকম মাত্রায়। কারও জন্য অনেক বেশি, কারও জন্য একটু বেশিই, কারও জন্য শুধু বেশি, কারও জন্য মোটেও না কিন্তু মেকি- এমন নানারকম মাত্রায়। কিন্তু নিজের চলমান সমস্যাটার অথবা সমস্যাগুলোর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু কি আছে?
৩.
'যদি' কথাটা দিয়ে একটা বই লিখে ফেলা সম্ভব। শুনলাম জিয়াদের কাছে সেইদিন। আমারও তাই মনে হয়। যদি নামক ফাঁদের ফাঁকিতে জীবনের স্বর্ণদুয়ারে মাথা কুটে মরে যাওয়া মানুষ নামের এই প্রাণীটি, বিবর্তনের স্বার্থে আত্মকেন্দ্রিকও। নিজের সমস্যাগুলোকে সমাধান করে সামনে এগুতে পারাই জীবন- এই সূত্রের কাঁধে ভর করে এগিয়ে চলা একটি প্রজাতির জীবনটা কাটে 'যদি'র ফাঁকিতে! যদি এই ফাঁকিটাকেই সুযোগ বানিয়ে মানবজাতিকে কোনো একটি সুতোয় কোনভাবে একবার গেঁথে ফেলা যেত, তাহলে পৃথিবীর সবাই একইভাবে ভাবতে পারতো। আহা, সবাইমিলে একসাথে পুরো দৃশ্যটা, সেখানে তার ভূমিকাটা, সেটা সবচে' ভালভাবে পালন করার উপায়টা একবার যদি মানবজাতি দেখে নিতে পারতো!
৪.
পুরোনো ব্লগ পড়তে পড়তে সময় পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতা হচ্ছিল। তাই আজ কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছিল। আগের একটুখানি লেখা নোট আকার সংরক্ষণ করে রাখা ছিল। সেটি নিয়েই আসলে কাটাকাটি করা। আমাদের জীবনটাও এমন হলে ভাল হতো। তিনশ' বা চারশ' বছরের জীবনকাল হলে, তখন হয়তো হতোও। কাটাকাটি করে একাধিকবার নতুন করে জীবনের গল্প লেখা যেতো। সেটা নেই তো নেই-ই, মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা-র মতো রয়েছে কিছু কিছু ফাঁদ আর শুভঙ্করের ফাঁকি। এই নিয়ে খাই-দাই, ঘুমাই, সুখে থাকি।
কিন্তু এই ছোট্ট জীবনটায় এরচেয়ে বেশি আর চাই-ই বা কি!
---





মন্তব্য করুন