নাইর ইকবাল'এর ব্লগ
শো-বিজে হাইব্রীড ‘তারকা’ ও আমাদের মিডিয়া
বাংলাদেশে এখন হাইব্রীড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সময়। বেশ ভালো সময় । গত একবছর ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক হাইব্রীড হিরো একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছে। ওই হাইব্রীড হিরো নাকি তাঁর অভিনীত ছবিগুলোর প্রযোজকও। ‘গাঁজাখরি’ গল্পের ওই ছবিগুলোতে ওই ‘হিরো’র ভুল উচ্চারণের সংলাপ শোনার জন্যই নাকি ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভেঙে পড়ছে। দুই আড়াইঘন্টা হলে ‘হো’ হো’ করে হেসে বেরিয়ে এসে জনতা আবার দেদার গালিও দিচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ওই হাইব্রীড হিরো বিভিন্ন টকশোতে উপস্থিত হয়ে দেশের মানুষকে চলচ্চিত্র ও অভিনয় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়াও শুরু করেছে। ওই টকশোগুলোও ইতিমধ্যে তাঁর উচ্চারণের ক্যারিশমায় দমফাটানো হাসির উেস পরিণত হয়েছে। হাইব্রীড ‘হিরো’কে নিয়ে চ্যানেল মালিক ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্যটা এই মুহূর্তে ঠিক পরিষ্কার নয়। যতদূর জানি, ওই হাইব্রীড হিরো অগাধ অর্থের মালিক ও সে ইতিমধ্যে এদেশের নিম্নরুচির শোবিজ জগতের মজা পেয়ে গেছে। তাঁর হিসেবহীন অর্থকে টার্গেট করে ‘মৌ-লোভী’রা তাঁর চারপাশে ভীড় করেছে কীনা-সেটা আমার কাছে পরিস্কার নয়। কিন্তু আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো এই হা
যোগাযোগমন্ত্রীর অভিযান ও বাস্তবতা
স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একটি হিন্দি ছবি প্রায়ই দেখানো হয়। অনিল কাপুর অভিনীত ওই ছবিতে দেখানো হয়, একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নায়ক অনিল কাপুর রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি দূর করতে উদ্যোগী হন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে অনিয়মকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনিল কাপুর ব্যবস্থা নেন। আমাদের মান্যবর যোগাযোগমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের বোধহয় ওই ছবি অনেকবারই দেখেছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নায়ক ছবির নায়কের মতোই কাজ দেখানোর চেষ্টা করছেন। এতে কতটা কী হচ্ছে, তা নিয়ে বিচার করার দায়িত্ব ভুক্তভোগীদের; কিন্তু এতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের যে লাভ হচ্ছে, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের সাংবাদিকেরা যোগাযোগমন্ত্রীর কল্যাণে প্রতিদিন একটি করে সংবাদ আইটেম পেয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এরচেয়ে আনন্দের ব্যাপার আর কী হতে পারে?
আমার প্রিয় মোহামেডান...

আমার প্রিয় দল..মোহামেডান। খুব ইচ্ছা করছে আপনাদের সবার সঙ্গে মোহামেডানের একটি স্বর্ণযুগের ছবি শেয়ার করতে। এই ছবিটি ১৯৮৬ সালের। মোহামেডানের অন্যতম সেরা বছর। বুকে এমএসসি লেখা এই জার্সি পড়া মোহামেডানের ছবি দেখতে দেখতেই আমাদের বড় হয়ে ওঠা। এই ছবিটির সঙ্গে মিশে আছে আমাদের প্রজন্মের বেড়ে ওঠাও।
যানজট নিরসনে কমিউটার রেল
ঢাকা শহরের যানজট দূর করা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন বেশি করে ফ্লাইওভার বানাতে। কেউ বলেন প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করতে। কেউবা বলেন রিকশা উঠিয়ে দিতে। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে , বাস ট্রানজিট বা বিআরটি ইত্যাদিও জনপ্রিয় সমাধান। কিন্তু এগুলো সবই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে ঢাকার যানজটের সমাধান থেকে যাচ্ছে অনেক দূরের বিষয়। কিন্তু ঢাকা নগরবাসীর তো যানজট নিয়ে হাপিত্যেশ অবস্থা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে সহজ সমাধানটা কী কেউ ভেবে দেখেছেন?
এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো। আমি যে সমাধানটির কথা বলব, সেটা যে আমিই প্রথম বলছি বা ভাবছি, এমনটা ভাবার কোনোই কারণ নেই। বরং এটা আগেও অনেকবার আলোচিত হয়েছে। কিন্তু মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা বিভিন্ন আকারের ফ্লাইওভার নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা, এটি নিয়ে তেমন একটা নেই। আমি মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিরোধী নই, কিন্তু আলোচ্য সমাধানটির ব্যাপারে সরকার বাহাদুর যদি একটু যত্নশীল হতেন, তাহলে ঢাকার অসহনীয় যানজট থেকে নগরবাসীকে খুব দ্রুতই নিস্তার দেওয়া যেতো। স্বল্প মেয়াদে ওটাই হতো সবচেয়ে ভালো সমাধান।