আমার প্রিয় মোহামেডান...

আমার প্রিয় দল..মোহামেডান। খুব ইচ্ছা করছে আপনাদের সবার সঙ্গে মোহামেডানের একটি স্বর্ণযুগের ছবি শেয়ার করতে। এই ছবিটি ১৯৮৬ সালের। মোহামেডানের অন্যতম সেরা বছর। বুকে এমএসসি লেখা এই জার্সি পড়া মোহামেডানের ছবি দেখতে দেখতেই আমাদের বড় হয়ে ওঠা। এই ছবিটির সঙ্গে মিশে আছে আমাদের প্রজন্মের বেড়ে ওঠাও।
১৯৮৬ সালে মোহামেডান প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে তিন বছর পর শিরোপা জিতেছিল। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫-এই তিনবছর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে লিগ শিরোপা হারানোর বেদনায় নীল মোহামেডান সেবারই জ্বলে উঠেছিল বাদল রায়ের নেতৃত্বে। ইলিয়াস, মনু, এমিলি, রনজিত, সালাম মুর্শেদী, কায়সার হামিদ, কানন, কাজী কামালরা নিজেদের সামর্থ্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। লিগের দুই ভাগেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়েছিল মোহামেডান। প্রথমবার অধিনায়ক বাদল রায় ছিলেন জয়ের নায়ক। পরের বার চার ভারতীয় খেলোয়াড় সমৃদ্ধ আবাহনীকে মোহামেডান হারায় ২-০ গোলে। গোলদাতা ছিলেন মনু ও ইলিয়াস। সেই ম্যাচে মনুর গোলটি হয়ত অনেকেরই মনের মণিকোঠায় চির জাগরুক। আবাহনীর ভারতীয় গোলরক্ষক ভাষ্কর গাঙ্গুলিকে অন্যমনষ্ক লক্ষ্য করে অনেক দূর থেকে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মনুর তুলে মারা বলটি সবাইকে অবাক করে দিয়ে জালে ঢুকেছিল। ওই গোলটিই পয়েন্টের দিক দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা আবাহনীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। ফুটবলের এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে আসলে ওই সময়ের উত্তেজনা লিখেও প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সত্যিই এদেশে ফুটবল হারিয়েই গেছে
বেশি কথা বলব না, প্রিয় পাঠক ছবিটি দেখুন। এই ছবিটি আপনাকে নস্টালজিক করতে বাধ্য। অনুধাবন করাবে, আমাদের ফুটবল কোথায় ছিল আর এখন কোথায় আছে....





ইয়ে, ছবি ছাড়া বাকী সব কিছুই দেখা যাচ্ছে ।
ছবি আপলোড হচ্ছে না...পরামর্শ চাই। আমি এই ব্লগে নতুন
এইবার ছবি দেখা যাচ্ছে ।
মাঠে যাইতেন?
হ্যাঁ টুটুল ভাই , মাঠে যেতাম। অনেক ছোটবেলা থেকেই...তবে একা না বড় কারোর সঙ্গে......
আমার এমন কোন বই ছিল না যার পেছনের পাতায় মোহামেডানের ফ্ল্যাগ আকা না থাকতো
অনেক দিন মাঠে গিয়েছি... মারামারি করেছি... একবার হাইরা যাওয়াতে নিজেদের ক্লাবই ভাংচুর করছি
... তখন মহল্লা মহল্লায় চলতো পতাকা উত্তোলনের মহোৎসব... কে কত বেশী পতাকা লাগাইতে পারে
..
কায়দা করে আবাহনীর লোগো আঁকা শিখেছিলাম, আর সব বই খাতায় এইটা এঁকে রাখতাম। মনে পরে, নিজের হাতে আবাহনীর লোগো দিয়ে ব্যাজ বানিয়েছিলাম...আহা সেই সব দিন...
~
ফুটবল ছোটবেলায় আসলেই অন্য এক উত্তেজনা ছিলো। স্কুলের পুরা ক্লাস মোহামেডানের সাপোর্টার ছিলো আমি আর আমার আরেক বন্ধু বাদে। কত সুন্দর সেই সব দিন।
ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা

বোয়াল মাছের দাঁড়ি,
মোহামেডান ভিক্ষা করে
আবাহনীর বাড়ি...
রায়েহাত শুভ....আপনার ক্ষোভের কারণটি বুঝতে পারছি..আপনার প্রিয় দল আবাহনীকে নিয়েও একটা পোস্ট দেব...আবাহনীরও কিছু ছবি আমার কাছে আছে। আসলে আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ ও রেষারেষি এদেশের ফুটবলকে একটা সময় সমৃদ্ধ করেছিল। আমি মোহামেডানের সমর্থক। কিন্তু, সত্যি বলছি, আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় মোনেম মুন্না। আমার একটা বড় আফসোস ছিল মোনেম মুন্ন কখনোই মোহামেডানে খেলেননি। অকাল প্রয়াত মোনেম মুন্নার প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধা......
ক্ষোভ না রে ভাই। ছোটকালে এইভাবেই মোহামেডানের সাপোর্টারদের উত্যক্ত করতাম। সেইটা মনে পইড়া গেসিলো
http://mukto-mona.net/Articles/talukder/football_football.htm
আবাহনীর সাপোর্টাররা ক্রিকেটে কোন দেশ সাপোর্ট করে আর মোহামেডানের সাপোর্টাররা কোন দেশ- এটা নিয়ে একটা গবেষণা করা যায়।
দারুন ছবি!
মীর ভাই....আপনি একটি বিশেষ বিষয়ের অবতারণা করেছেন। আপনি হয়ত বলতে চাচ্ছেন আবাহনীর সাপোর্টাররা ক্রিকেটে ভারত আর মোহামেডানের সাপোর্টাররা পাকিস্তানের সমর্থক। কিন্তু আমার কাছে অন্য উদাহরণও আছে। মোহামেডানের ঘরের ছেলে বাদল রায় ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছিলেন। বিএনপির এমপি আলী আসগর লবী আবাহনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। আমি অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে মোহামেডানের পাঁড় সমর্থক হতে দেখেছি। মোহামেডান আশির দশকেই তিনবার তিনজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী খেলোয়াড়কে অধিনায়ক নির্বাচিত করেছিল। ১৯৮৪ সালে স্বপন দাস, ১৯৮৬ সালে বাদল রায় এবং ১৯৮৭ সালে রনজিত সাহাকে অধিনায়ক নির্বাচিত করে মোহামেডান।
খেলাধুলার মধ্যে হিন্দু-মুসলমান ভারত-পাকিস্তান আওয়ামী লীগ-বিএনপি নিয়ে আসা অবান্তর..এটা আমি মনে-প্রাণেই বিশ্বাস করি
আমরা করি না।
আমরা কোন কারণেই পাকিস্তান সমরথন করি না
আমরা কোন কারণেই পাকিস্তান সমর্থন করি না...

পিচ্চি বেলায় কিছু না বুঝেই মোহামেডান সাপোর্ট করতাম।
খেলায় রাজনীতি আনাটা একান্তই অপছন্দের।
আমার মতে -
যারা ক্রিকেট খেলাটা আসলেই বোঝে আর নব্বই এর দশকে পাকিস্তানের খেলা দেখে বড় হয়েছে,
তাদের পক্ষে আর কোন দলকে পছন্দ করা অসম্ভব।
মন্তব্য করুন